ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক ব্যক্তির হাত গাড়ির জানালার সঙ্গে বেঁধে ছাদের ওপর তুলে প্রায় দেড় কিলোমিটার টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে তাঁর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুরোনো শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর রাতে কানপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম বিরু সিং (৩৭)। তিনি কানপুরের আররা এলাকার বাসিন্দা এবং একটি খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজবীর ও মেওয়ালাল নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে বিরু সিংয়ের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ঘটনার রাতে দশেরার মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মেওয়ালাল, রাজবীরসহ পাঁচজন তাঁর পথ আটকায় এবং মারধর করে। একপর্যায়ে বিরু সিং পালানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয়। পরে তাঁকে গাড়ির ছাদে তুলে হাত জানালার মাঝে বেঁধে ফেলা হয়। এ অবস্থায় প্রায় দেড় কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তাঁর ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয় অভিযুক্তরা।
ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেবেন্দ্র সিং চৌহান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বিরু সিংকে চিনতে পারেন। পরে তিনি তাঁর পরিবারকে খবর দেন। স্বজনেরা তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হ্যালেট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী রীনা সিং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁর অভিযোগ, পরিচিত ব্যক্তিরাই তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছেন। তিনি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে জড়িতদের শনাক্ত এবং বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে চলন্ত একটি গাড়ির ছাদে একজন ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কানপুরের নৌবস্তা এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনার অভিষেক কুমার রাহুল জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের বড় ভাই কুলদীপ সিং ভাদৌরিয়ার কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি গাড়ি বিরু সিংকে ধাক্কা দিয়েছিল। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
মতামত