ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবুও দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অন্যতম আলোচিত। কারণ, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জন্ম নিয়েছে এমন কিছু ঘটনা, যা ফুটবল ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের বিতর্কিত বহিষ্কার থেকে শুরু করে ১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’ কিংবা ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড—প্রতিটি অধ্যায়ই এই দ্বৈরথকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি। ভাষাগত সমস্যার কারণে তিনি সিদ্ধান্ত বুঝতে না পেরে দীর্ঘ সময় মাঠে অবস্থান করেন। পরে তাঁকে সরাতে নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তা নিতে হয়। সেই বিতর্কের পর ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড চালুর ধারণা আরও জোরালো হয়। ১৯৭৭ সালে একটি প্রীতি ম্যাচেও উত্তেজনা চরমে ওঠে। আর্জেন্টিনার দানিয়েল বার্তোনি ও ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরির সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনই লাল কার্ড দেখেন। সেই ম্যাচে চেরির দুটি দাঁতও ভেঙে যায়, যা ম্যাচটিকে দীর্ঘদিন আলোচনায় রেখেছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। ডিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বেকহাম মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ১০ জন নিয়েও ইংল্যান্ড ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জয় পায় আর্জেন্টিনা। চার বছর পর ২০০২ বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সে ম্যাচে পেনাল্টি থেকে ডেভিড বেকহামের করা একমাত্র গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে বিতর্ক তৈরি হয় এবং আর্জেন্টিনা শিবির থেকে সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে হাত দিয়ে করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেন। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই একক নৈপুণ্যে অসাধারণ আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২–১ ব্যবধানে জিতিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেই গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বছরের পর বছর ধরে নানা বিতর্ক, নাটকীয়তা ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের কারণে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড লড়াই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে।