ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
গোপনে শিবির, প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ করে বারুদ বজ্র কণ্ঠ অর্জন করা যায় না: রাশেদ খাঁন

গোপনে শিবির, প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ করে বারুদ বজ্র কণ্ঠ অর্জন করা যায় না: রাশেদ খাঁন

গোপনে শিবির ও প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতার মতো তেজস্বী কণ্ঠ অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, বিরোধী রাজনীতির বক্তব্যে তেজস্বী ভাব থাকতে হয়। জামায়াত-শিবির ও এনসিপি মিলিয়েও এমন কোনো নেতা নেই, যার বক্তব্য জনতার মধ্যে শিহরণ ও উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, জেল-জুলুম ও ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একজন নেতার কণ্ঠে এমন দৃঢ়তা তৈরি হয়। গোপনে শিবির এবং প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে সেই ‘বারুদ বজ্র কণ্ঠ’ অর্জন করা যায় না। একই পোস্টে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, বিরোধী রাজনীতিতে নুরের কণ্ঠে যে তেজ ছিল, সরকারে যাওয়ার পর তা অনেকটাই নমনীয় হয়ে পড়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার জামায়াত ও এনসিপির কথিত ভণ্ডামির বিরুদ্ধে আবারও সেই তেজস্বী নুরকে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ভিপি নুরকে ক্ষেপানোর পরিণতি জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে ভোগ করতে হবে। নুরের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা হিসেবে তাকে কাছ থেকে চেনেন উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘ভিপি নুর মানেই একটা বারুদ।’    

অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা আ.লীগের ‘চরিত্র’ উন্মোচিত করেছে: নাহিদ ইসলাম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেছেন। গত সোমবার নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হেয়ার’, ‘গো ব্যাক’সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই। দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলের গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে। বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ আরও বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তাঁদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্পচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তা–ই করা হবে।

অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা আ.লীগের ‘চরিত্র’ উন্মোচিত করেছে: নাহিদ ইসলাম

হান্নান শাহর জীবনী থেকে নতুন নেতাদের অনেক কিছু শেখার আছে: রিজভী

বিএনপিতে নতুন যোগ দেওয়া নেতাদের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর জীবনী থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রাজনীতি রাতারাতি বড়লোক হওয়ার জন্য নয়। বিএনপি লুটপাট করে বিদেশে চলে যাওয়ার দল নয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা নতুন করে দলে আসছেন, তাদের হান্নান শাহর জীবনী থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চায়, এমন শক্তি কারা, তা সবাই জানেন। তারা আগেও সক্রিয় ছিল, এখনো সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, কী পেলাম আর কী পেলাম না, তা নিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। ১৭ বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ সময় সরকারকে নানা সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিএনপির এই নেতা বলেন, একসময় দেশের মিল-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দলকেও সহযোগিতা করতে হবে। রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদী আচরণ নিয়ে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এখন কেউ ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে না। বিএনপি লুটপাট করে বিদেশে চলে যাওয়ার দল নয়। আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নানা ধরনের নাশকতা চলছে। পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতা করতে চায়, যাতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেতন থেকে দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

হান্নান শাহর জীবনী থেকে নতুন নেতাদের অনেক কিছু শেখার আছে: রিজভী

ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খাঁন

জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শহীদ ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ‘ব্যবসায় নেমেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, জীবদ্দশায় ওসমান হাদীর সঙ্গে বিরোধ থাকলেও হত্যাকাণ্ডের পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরছে দল দুটি। শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি। স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসনে ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের ওসমান হাদীকে ওই আসনে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন। রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, ওসমান হাদী তখন বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদীও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতের আমিরের পিএস জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কিনা। ওসমান হাদীর ভাইও তাকে সন্দেহ করে পোস্ট দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এনসিপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ওসমান হাদীর বিপরীতে সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা এবং পরে তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী না রাখার ঘটনাকে তিনি হাদীকে অপমান করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার অভিযোগ, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের পর সুজনকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও এ ধারণাকে জোরালো করে। জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি ওসমান হাদীকে নির্বাচন না করতে বা অন্য আসন থেকে নির্বাচন করতে চাপ দিয়েছিল। অথচ হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াত ও এনসিপি তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট ও জুলাইকে কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি তাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী যখন জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদীর লড়াইকে বেশি শক্তিশালী বলেন, তখন জামায়াত-এনসিপি হাদীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে মনে হয় তার। বিএনপি নেতাকর্মীরা যেন এ ধরনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হাদীকে কটাক্ষ না করেন, সেই আহ্বান জানান তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ওসমান হাদী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ মেনেই সংগ্রাম করেছেন। তার দাবি, জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামকে ওসমান হাদী জীবদ্দশায় যেভাবে তুলে ধরেছিলেন, তা অতুলনীয়। তাই তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়েও স্ট্যাটাসে কথা বলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরের একটি বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন মানুষের কবর দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী যমুনা ঘেরাও কর্মসূচিতে বলেছিলেন, তার মৃত্যু হলে যেন বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামের বিপ্লবী চেতনা ওসমান হাদী ধারণ করতেন উল্লেখ করে তাকে জাতীয় কবির ‘যোগ্য শিষ্য’ বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ। স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াত ও এনসিপি নিজেদের স্বার্থে ওসমান হাদীকে যত কম টানাহেঁচড়া করবে, তিনি তত বেশি সার্বজনীন ও প্রাসঙ্গিক থাকবেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে ওসমান হাদীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নুর আক্রান্ত হলে হাদী বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। পরে হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নুরও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খাঁন

স্থায়ী কমিটিকে নিয়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী, উপস্থিত রিজভী-সালাহউদ্দিনসহ শীর্ষ নেতারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।  বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন- বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

স্থায়ী কমিটিকে নিয়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী, উপস্থিত রিজভী-সালাহউদ্দিনসহ শীর্ষ নেতারা

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিপি ওয়ার্ল্ড: সম্ভাবনা নাকি ঝুঁকি?

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে৷ সরকারের দাবি, এতে বন্দরের সক্ষমতা ও রাজস্ব বাড়বে৷ বিরোধীরা বলছেন, লাভের চেয়ে ঝুঁকিই বেশি৷ বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তিটি নিয়ে বন্দরের শ্রমিক সংগঠন, বাম দলগুলো শুরু থেকেই বিরোধিতা করে এসেছে৷ চুক্তির প্রক্রিয়া, শর্ত এবং বিশেষ করে যে প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই ডিপি ওয়ার্ল্ড নিয়েই আপত্তি ও সমালোচনা ছিল নানা মহলে৷ তবে ৮ অক্টোবর ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে চুক্তিটি সই হয়েছে৷ এর আর্থিক ও পরিচালনাগত সুবিধার নানা দিক তুলে ধরছে সরকার৷ অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, বন্দরের ভবিষ্যৎ, শ্রমিকদের স্বার্থ এবং জাতীয় নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে৷ সরকারের হিসাব: বিনিয়োগ, রাজস্ব ও দক্ষতা বাড়বে সরকার বলছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রথম ১০ বছরে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে৷ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তিটি বাংলাদেশের ঝিমিয়ে পড়া বন্দর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের গতি আনবে৷ রাজস্ব বৃদ্ধি, বাণিজ্যে গতি ও সময় সাশ্রয়ের মতো বিষয়গুলোকেও সরকার এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে৷ বাংলাদেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সরাসরি কথা না বললেও তার দপ্তর থেকে ডয়চে ভেলেকে লিখিত বার্তা দেয়া হয়েছে৷ বলা হয়েছে, চুক্তির শুরুতেই প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি পরিশোধ করবে অপারেটর৷ এর ২৫ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ অপারেশন শুরু হওয়ার আগে পরিশোধ করতে হবে৷ এছাড়া প্রথম ১০ বছরের মধ্যে আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন বিনিয়োগ করবে৷ এর পাশাপাশি টার্মিনালের গড় আয়ের ভিত্তিতে প্রতি টিইইউতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব বা রয়্যালটি পাবে৷ পাশাপাশি বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফিও থাকবে৷ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও একে ‘‘বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত'' বলে উল্লেখ করেন৷ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সরকারের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন চুক্তির সবচেয়ে বড় সমালোচনাগুলোর একটি এসেছে এর প্রক্রিয়া নিয়ে৷ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘ডিপি ওয়ার্ল্ড কে দরপত্র এবং ছাড়পত্র ছাড়া চুক্তি করার জন্যে শেখ হাসিনাই প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিল৷ পরে অন্তর্বর্তী সরকার খুবই জোরজবরদস্তি করে এটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল৷ এখন এ সরকার এটা করছে৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘যে প্রক্রিয়ায় এত গুরুত্বপূর্ণ একটা চুক্তি করা হয়েছে তাতে সমস্যা আছে৷ মানে এত গোপনীয় এবং অস্বচ্ছভাবে এতবড় একটা চুক্তি হয়েছে, কেউ কিছু জানে না৷ কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয় নাই৷'' এই বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনও পরোক্ষভাবে প্রতিযোগিতার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন৷ তার মতে, বিশ্বের বহু বন্দরে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিয়ে সমালোচনাও কম নয়৷ কিন্তু এই কোম্পানিকেই বেছে নেবার কারণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন না, এমনটাই ডয়চে ভেলেকে বললেন ড. ফাহমিদা৷ চুক্তির অর্থনৈতিক প্রয়োজন কতটা ছিল? বন্দরের সক্ষমতা আর আয় বাড়ানোর পক্ষে সরকার যে যুক্তি দিচ্ছে তা-ও খণ্ডন করেন আনু মুহাম্মদ৷ তার হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দর ইতোমধ্যেই লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেখানে যথেষ্ট বিনিয়োগও করা হয়েছিল৷ সুতরাং, এই চুক্তির কোনো প্রয়োজন দেখন না এই অর্থনীতিবিদ৷ চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য ও শ্রমিক নেতা তপন দত্তও একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন৷ তিনি বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বছরে ১২ লক্ষ ৩৫ হাজার টিইইউ পরিমাণ মাল খালাস করার টার্গেট দেওয়া হয়েছে৷ অথচ বন্দর গত অর্থবছরেই ১৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টিইইউ পরিমাণ মাল খালাস করেছে৷ গেল বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন বাধাবিঘ্ন থাকার পরেও এই পরিমাণ কাজ হয়েছে৷ সুতরাং, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কিন্তু টার্গেট কম দেওয়া হলো দেড় লাখ টিইইউ এর মতো৷ ‘‘বিষয়টা তো কই এর তেলে কই ভাজার মতো হয়ে গেল!,'' বলেন এই শ্রমিক নেতা৷ এসবের বাইরে তপন দত্ত শ্রমিকদের চাকরির সুরক্ষা উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷ এবিষয়ে জোর দিচ্ছেন ড. ফাহমিদা খাতুনও৷ তার মতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোম্পানিকে কাজ দেওয়া ইতিবাচক হলেও সেটি করতে গিয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের স্বার্থ যেন ক্ষুণ্ন না হয়৷ সার্বভৌমত্বের ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, সরকারের ব্যাখ্যা  চুক্তির বিরোধীদের আরেকটি বড় যুক্তি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে ঘিরে৷ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের বলেন, ‘‘বঙ্গোপসাগর ঘিরে নানা রকম আন্তর্জাতিক তৎপরতা আছে৷ সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই বন্দরের উপর জাতীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাটা আমাদের কাছে মনে হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷'' সমালোচনা উপেক্ষা করে সরকারের চুক্তি এবং বিরোধীদলের নিশ্চুপ থাকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মনে হচ্ছে যে এই সরকার এবং তার সহযোগী বিরোধী দলগুলো এই ক্ষমতায় আসার আগে জনগণের প্রতি তাদের যে দায়বদ্ধতা, তার চাইতে অনেক বেশি দায় তাদের বেশি বিদেশি কিছু মাফিয়া গোষ্ঠীর কাছে৷'' তবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর দপ্তরের দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘‘চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ১৫ বছর৷ পরবর্তী মেয়াদ বৃদ্ধি নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও উভয় পক্ষের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল৷ নিরাপত্তা, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই থাকবে; চুক্তির আওতায় কোনো সার্বভৌম ক্ষমতা হস্তান্তর হবে না৷'' একইসাথে নিরাপত্তার নিয়ে শঙ্কা বা শ্রীলঙ্কার বন্দরের মতো ঋণের ফাঁদে পড়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তার বক্তব্যে৷ এই চুক্তিতে দেশের ব্যবসা খাতের ওপর কী প্রভাব তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ফাহমিদা খাতুন জানালেন, দক্ষতা বাড়লেও দক্ষতার সাথে কত খরচে কি সেবা পাওয়া যাবে তার হিসাব খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ তিনি বলেন, ‘‘অনেক সময় দেখা যায় যে, যদি প্রতিযোগিতা ঠিকমতো না হয়, তখন যদি একচেটিয়া ভাবে কোন কোম্পানি কাজ করে- তখন কিন্তু আর দরকষাকষির সুযোগ থাকে না৷'' ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ে যখন এই চুক্তি সই হচ্ছিল, তখন বাইরের সড়কে চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে সিপিবি, বাসদসহ বাংলাদেশের কয়েকটি বামপন্থি সংগঠন৷ একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়৷ চুক্তি সইয়ের পর চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ আরো কিছু শ্রমিক সংগঠন৷ চুক্তি বাতিলের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থান ধর্মঘটসহ নানা ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে শ্রমিকদের, এমনটাই জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা তপন দত্ত৷

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিপি ওয়ার্ল্ড: সম্ভাবনা নাকি ঝুঁকি?

‘অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে, তদন্তও করবে তারা’—প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কাদের

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। তার অভিযোগ, আমলাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আবারও একই মন্ত্রণালয়ের আমলাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের কারণে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। তবে অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব একই প্রশাসনিক কাঠামোর কর্মকর্তাদের হাতে থাকায় পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় রয়েছে তার। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তবে দেখলাম, আবারও গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় আমলাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বও একই মন্ত্রণালয়ের আমলাদেরকে দেওয়া হয়েছে! সব তারা তারাই। অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে, তদন্তও করবে তারা।’ তদন্তের ফলাফল নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ফাঁসাবে হয়তো জজমিয়া নামে যুগ্মসচিবের কোনো এক গাড়িচালক কিংবা কেয়ারটেকারকে।’ বিএনপি সরকারের প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে প্রকৃত সদিচ্ছা থাকলে আগের আমলের তদন্তপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হলে তদন্ত পরিচালনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। আব্দুল কাদের আরও বলেন, ‘বেশি কিছু বলার নাই, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের লিটমাস টেস্ট হবে; প্রশ্ন ফাঁস রোধে তারা কতটা আন্তরিক। আপাতত সেটার অপেক্ষায় আছি।’ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ এবং পরবর্তী তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, তদন্তের পদ্ধতি এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

‘অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে, তদন্তও করবে তারা’—প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কাদের

হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন তারেক রহমান, কী নিয়ে আলোচনা

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। এর মধ্যেই হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা হবে। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন। সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দু–এক দিন আগে বা অধিবেশনের মধে৵ সংসদীয় দলের সভা হয়; কিন্তু এবার সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ধারণা, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন, তিনি নিশ্চয়ই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দেবেন।’ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপির সংসদীয় দলের নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলোচনায় আসতে পারে। দলের সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনাটির পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে দলের অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ সামলানো, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই—সবই দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা তৃণমূলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার পর সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। কমিটি পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন তারেক রহমান, কী নিয়ে আলোচনা

ওসমান হাদির কবর নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্ট

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রাজনৈতিক লড়াই ও তার কবরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও দলটির শরিকদের একটি অংশের রাজনীতির সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির রাজনৈতিক লড়াই এবং তার কবরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও তার শরিকদের একটি অংশের যে নোংরা রাজনীতি আমরা দেখছি, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারছেন না, তার কবর নিয়ে কটাক্ষ করার আগে নিজেদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্বের কথা ভাবুন।’ পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কিছু বিষয় আপসের ঊর্ধ্বে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শহীদ ওসমান হাদির আজাদীর লড়াই ছিল তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান দিক।  তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার তার যথাস্থানে থাকুক, শহীদ ওসমান হাদির কবরও তার যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষিত থাকুক। কারো কবরকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা বিতর্কের হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।’ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কবর, স্মৃতিচিহ্ন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতীক ভাঙচুরের রাজনীতি দেখা গেছে। সেই রাজনীতির পুনরাবৃত্তি তারা চান না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যেন নতুন করে আরেকটি অন্যায়ের পথ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক আদর্শ, আজাদীর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ নিয়ে যুক্তিতর্ক হতে পারে। কিন্তু তার কবর নিয়ে কটাক্ষ কিংবা অসম্মান করা উচিত নয়। পোস্টের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘কবর নিয়ে নোংরা রাজনীতি নয়—শহীদের হত্যার বিচার চাই, ইতিহাসের মর্যাদা চাই, আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই।’

ওসমান হাদির কবর নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্ট

কারাবন্দি ইনুর ডিভিশন বাতিল, চিকিৎসা নিয়ে জাসদের উদ্বেগ

কারাবন্দি জাসদ সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ হাসানুল হক ইনুর ডিভিশন বাতিল এবং গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। শনিবার (১০ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, ৮০ বছর বয়সী হাসানুল হক ইনু দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত। তাঁর হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত আইসিডি যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত পোর্টেবল মনিটর বিচ্ছিন্ন থাকায় সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছে জাসদ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ৭ অক্টোবর ঢাকায় আদালতে হাজিরা দিয়ে কারাগারে ফেরার পর ইনু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর রক্তচাপ অস্বাভাবিক ও বুকে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এ ছাড়া গত ৬ অক্টোবর কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁর ডিভিশন-১ বাতিল করে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। জাসদ ইনুর জন্য উপযুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং কারাবিধি অনুযায়ী তাঁর ডিভিশন-১ পুনর্বহালের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

কারাবন্দি ইনুর ডিভিশন বাতিল, চিকিৎসা নিয়ে জাসদের উদ্বেগ

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অপসারণ দাবি ডাকসু ভিপির

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অপসারণসহ ৪ দাবি জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান।  সাদিক কায়েম পোস্টে বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসে জড়িত প্রতিটি সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস চিরতরে নির্মূল করা, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা, প্রশ্নফাঁসে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।’ প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুরে বাঙলা কলেজের মূল ফটকে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শাহবাগ, নীলক্ষেত মোড় ও সাতমসজিদ সড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অপসারণ দাবি ডাকসু ভিপির

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম সদস্যসচিব আটক

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াস। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। শাহবাগ থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল খালেক বলেন, শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে আয়াস নামে একজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরপর ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম সদস্যসচিব আটক

‘গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করে’ ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্য, প্রমাণ চায় জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০ অটোরিকশা আছে বলে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, সেই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ইঙ্গিত করে তার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০ অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করার আগে এর সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন কর্তৃক একটি রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার বিষয়ে প্রদত্ত বক্তব্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা এ ধরনের কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছ থেকে জনগণ দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ইঙ্গিত করে তার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করার আগে এর সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য। অথচ এ ধরনের বক্তব্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন না করে মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়। তিনি বলেন, অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের জীবিকা-সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা অবস্থানকে খণ্ডন করতে হলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা করা উচিত; কোনও নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে নয়। জামায়াতের এ নেতা আরও বলেন, আমরা ডিএনসিসি প্রশাসককে তার বক্তব্যের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছি। যদি প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন তাহলে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি। এর আগে শুক্রবার সকালে মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, একটা বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক, তিনি বললেন—‘অটোরিকশাওয়ালাদের যেই দাবি, সেটা সরকারকে মানা উচিত। এটা একটা হাস্যকর একটা বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টা অটোরিকশা আছে। আমরা মনে করি এই ধরনের— জনগণের কাছে খোলস বদলিয়ে বারবার পার পাওয়া যাবে না।

‘গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করে’ ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্য, প্রমাণ চায় জামায়াত

‘ছাত্রদলে কোনো ছাত্র নেই’-সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের জবাব দিলেন নাছির

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের ‘ছাত্রদলে কোনো ছাত্র নেই’ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেছেন, সালমান মুক্তাদিরের দেশের ছাত্ররাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নাও থাকতে পারে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের ভারিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন নাছির উদ্দিন নাছির। পোস্টে নাছির উদ্দীন নাছির লিখেন, ‘জনাব সালমান মুক্তাদিরের একটি বক্তব্য আমার গোচরীভূত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ছাত্রদলে কোনো ছাত্র নেই। তার এই মন্তব্য থেকে আমার মনে হয়েছে, দেশের ছাত্ররাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে হয়তো তার পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেই। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে যে রাজনীতিবিমুখতা সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রভাব হয়তো এমন ধারণার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমানে দেশের দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, এবং এসব প্রতিষ্ঠানে আমাদের নেতাকর্মীদের সিংহভাগই নিয়মিত শিক্ষার্থী। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন জানিয়ে নাছির বলেন, পরীক্ষার হল ও ক্লাসরুম থেকে ধরে নিয়ে অনেককে নির্যাতন করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এমনকি কারাগারে বন্দি অবস্থায়ও ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। শিক্ষা ও রাজনৈতিক অধিকার—দুটিই ধরে রাখার জন্য তাদের এই ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও ওয়াসিম আকরামসহ ছাত্রদলের অনেক নিয়মিত শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের আত্মত্যাগই প্রমাণ করে, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কতটা গভীর ও বাস্তব।তাই জনাব সালমান মুক্তাদিরের প্রতি আমার আন্তরিক আমন্ত্রণ—আপনি আপনার পছন্দমতো বাংলাদেশের যেকোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসুন।  আমাদের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা আপনাকে স্বাগত জানাবে মন্তব্য করে নাছির বলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলুন, খোঁজ নিন, বাস্তবতা নিজ চোখে দেখুন। আশা করি তখন আপনার ভুল ধারণার অবসান হবে এবং আপনি উপলব্ধি করবেন—ছাত্রদলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই সিংহভাগ।

‘ছাত্রদলে কোনো ছাত্র নেই’-সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের জবাব দিলেন নাছির

ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় করালেন জামায়াত আমির

ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় করালেন জামায়াত আমিরঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের দুই সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীকে প্রকাশ্যে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।উত্তরে সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে সাদিক কায়েমমোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি)।অনুষ্ঠানে সেলিম উদ্দিনকে ঢাকা উত্তরের মেয়রপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে শফিকুর রহমান তাঁর সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে খাল ও আবর্জনা পরিষ্কারের মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম তুলে ধরে জামায়াত আমির তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে যেভাবে সাজানোর কথা বলা হচ্ছে, একই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণকেও গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।সরকারের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্যঅনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান সরকারের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সরকারের কাজ হলো জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা; জনগণ যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারে, সে পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সরকারের।এ ছাড়া মিরপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে অনুদান দেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের উদ্যোগের কথা জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, অনুদানের অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে।রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে অভিযোগরাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তবে এসব অভিযোগ শফিকুর রহমানের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি হাম পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিশুদের হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।এ ছাড়া বিমানবন্দরে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করার অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাতেও নিন্দা জানান তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারাজামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বক্তব্য দেন।এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।দুই সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হিসেবে সেলিম উদ্দিন ও সাদিক কায়েমকে প্রকাশ্যে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজধানীর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে এলো।

ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় করালেন জামায়াত আমির

বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করেছে: জুনায়েদ আল হাবিব

বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করেছে: জুনায়েদ আল হাবিবব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তার অভিযোগ, জমিয়তের প্রার্থীকে জয়ী করতে বিএনপি প্রত্যাশিত আন্তরিকতা দেখায়নি। বরং দলটির কিছু নেতা-কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে ও আড়ালে কাজ করেছেন।সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, বিএনপি তার সঙ্গে ‘মুনাফেকি’ করেছে।বিএনপির সহযোগিতা নিয়ে অভিযোগজুনায়েদ আল হাবিবের ভাষ্য, সরাইল-আশুগঞ্জ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে এলাকায় ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোরও প্রভাব রয়েছে।তার দাবি, নির্বাচনের সময় বিএনপির একটি অংশ রুমিন ফারহানার পক্ষে সক্রিয় ছিল। অন্য একটি অংশ জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যাশিতভাবে মাঠে কাজ করেনি। এর ফলে নির্বাচনে জমিয়তের প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।রুমিন ফারহানাকে ঘিরে অভিযোগসাক্ষাৎকারে রুমিন ফারহানাকে নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ করেন জুনায়েদ আল হাবিব। তার দাবি, আওয়ামী লীগপন্থি প্রায় ৩০ শতাংশ নেতা-কর্মীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন আশ্বাসের মাধ্যমে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করেছিলেন রুমিন ফারহানা।এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন, জীবন্ত হাঁস নিয়ে মিছিল এবং প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তিনি করেন।তবে এসব অভিযোগ জুনায়েদ আল হাবিবের বক্তব্যের অংশ। প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পালটা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট বের করে দেওয়ার দাবিজুনায়েদ আল হাবিব আরও দাবি করেন, নির্বাচনের দিন তার বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল—এমন কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে জমিয়তের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়।তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে ভোটের মাঠে তার প্রার্থিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি।বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রসঙ্গবিএনপির সঙ্গে জোটের সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন জমিয়তের এই নেতা। তার ভাষ্য, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে কাজ করেছে।দেশের বিভিন্ন আসনে আলেম-ওলামাদের সমর্থনের কারণে বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।জুনায়েদ আল হাবিবের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেও বিএনপি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জমিয়তের প্রার্থীর পক্ষে আন্তরিকভাবে কাজ করত, তাহলে নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। তবে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিএনপি সেই ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ তার।ইসলামি দলগুলোর বৃহত্তর ঐক্যএদিকে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়েও কথা বলেছেন জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে।তার বক্তব্য, বৃহত্তর ইসলামি প্ল্যাটফর্ম যদি কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির সঙ্গে থাকা জোট থেকেও বের হয়ে আসতে প্রস্তুত রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।জুনায়েদ আল হাবিবের সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনী সহযোগিতা ও রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে জমিয়তের অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে।

বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করেছে: জুনায়েদ আল হাবিব
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream