ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

আইটি বিশ্ব

গিটারকে যাত্রী ভেবে মামলা, এআই ক্যামেরার ভুল শনাক্তকরণ

গিটারকে যাত্রী ভেবে মামলা, এআই ক্যামেরার ভুল শনাক্তকরণ

গিটারকে যাত্রী ভেবে মামলা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্তের ক্ষেত্রে এবার ঘটেছে বেশ অস্বাভাবিক এক ঘটনা। ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি এআই-চালিত ট্রাফিক ক্যামেরা স্কুটারচালকের পিঠে থাকা গিটারকে হেলমেটবিহীন পিলিয়ন যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করে ৫০০ রুপির চালান তৈরি করেছে।ঘটনাটি সামনে আসে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা সুভিক দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করার পর। তাঁর দাবি, তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন এবং মাথায় হেলমেটও ছিল। পিঠে শুধু একটি গিটার বাঁধা ছিল। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থায় সেটিকেই দ্বিতীয় একজন যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।কীভাবে ঘটল ভুল শনাক্তকরণপ্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর হেব্বাল থেকে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাওয়ার সময় দত্তের স্কুটারের ছবি একটি এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে তার স্ত্রীর মোবাইলে ট্রাফিক চালানের বার্তা আসে। চালানে অভিযোগ করা হয়, স্কুটারের পেছনে থাকা পিলিয়ন যাত্রী হেলমেট পরেননি।চালানের সঙ্গে যুক্ত ছবিটি দেখার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ছবিতে দত্তকে হেলমেট পরা অবস্থায় স্কুটার চালাতে দেখা যায়। তাঁর পিঠে বাঁধা ছিল গিটারের ব্যাগ। সেখানে অন্য কোনো যাত্রী ছিলেন না।চালানটি ছিল ৫০০ রুপির। দত্ত পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ ঘটনাটি তুলে ধরে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের কাছে চালানটি বাতিল বা সংশোধনের অনুরোধ জানান।ট্রাফিক পুলিশের প্রতিক্রিয়াঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ দত্তের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানায়। তাকে চালানটি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়।এর ফলে বিষয়টি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হাস্যরসের ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভুল শনাক্ত হলে সেটি কীভাবে যাচাই ও সংশোধন করা হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।এআই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরা ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিপুলসংখ্যক যানবাহন দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা এবং মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা। কিন্তু ছবি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ক্যামেরার কোণ, আলো, বস্তুর আকৃতি ও অবস্থানের কারণে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে ভুল শনাক্তকরণ ঘটতে পারে।বেঙ্গালুরুর ঘটনাটিও এমন একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাইয়ের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মানবিক যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাএআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত হওয়ার পর যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জরিমানা বা চালান তৈরি হয়, তাহলে ভুল শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য তা সংশোধনের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।বেঙ্গালুরুর ঘটনাটি সেই বিষয়টিই সামনে এনেছে। কোনো ছবি বা ভিডিওতে এআইয়ের শনাক্তকরণ এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য থাকলে মানবিক যাচাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন বলে এ ঘটনা থেকে প্রশ্ন উঠেছে।প্রযুক্তি যত বাড়বে, যাচাইও তত গুরুত্বপূর্ণবিশ্বের বিভিন্ন শহরে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ছে। হেলমেট, সিটবেল্ট, গতি, সিগন্যাল অমান্যসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্তে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।বেঙ্গালুরুর গিটার-কাণ্ড দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও সব পরিস্থিতিতে তার শনাক্তকরণ নিখুঁত নাও হতে পারে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ভুল শনাক্তকরণ চিহ্নিত, যাচাই ও সংশোধনের কার্যকর ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়ন্ত্রণহীন এআই শতকোটি মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে: বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়লে এর অপব্যবহারে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন বিল গেটস। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সরকার, আইনপ্রণেতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।এআই নিরাপত্তায় প্রয়োজন স্পষ্ট আইনবিল গেটসের মতে, এআই কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের নজরদারি প্রয়োজন—এসব বিষয়ে স্পষ্ট আইন থাকা জরুরি।তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নীতিমালা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি পর্যায়েও কার্যকর কাঠামো থাকা প্রয়োজন। নতুন নিয়মের কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কিছু বাড়তি প্রশাসনিক চাপ তৈরি হলেও এতে এআই উন্নয়নের গতি নাটকীয়ভাবে কমে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গেটসের আশঙ্কা, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যদি অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে এর অপব্যবহার ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তবে এটি তাঁর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।আগেও এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেছেনএআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিল গেটস এর আগেও সতর্ক করেছেন। গত আগস্টের শেষ দিকে প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রবন্ধে তিনি মানবজাতির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং এর নিরাপদ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কের নামও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।মাইক্রোসফটের এআই ব্যবহার নিয়েও বিতর্কএদিকে এআই ও সামরিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মাইক্রোসফটও সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে মাইক্রোসফটের চুক্তি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের কথা উঠে এসেছে।একটি অধিকারকামী সংগঠন মাইক্রোসফটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি সামরিক কার্যক্রম ও অভিবাসীদের ওপর নজরদারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এক নয়।সাক্ষাৎকারে এআই নিয়ে রসিকতাওসাক্ষাৎকারের শেষদিকে এআই নিয়ে কিছুটা রসিকতা করেন বিল গেটস। ব্যক্তিগত বিষয়ে তিনি এআইয়ের পরামর্শ নেন না জানিয়ে প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও হাস্যরস করেন তিনি।বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা, গবেষণা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা, অপব্যবহার, গোপনীয়তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। বিল গেটসের মন্তব্য সেই বিতর্কে এআই ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সরকারি নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।

নিয়ন্ত্রণহীন এআই শতকোটি মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে: বিল গেটস

১০ বছরে ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ম্যাকডোনাল্ডস, বদলাবে মেনু ও সেবা

১০ বছরে ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ম্যাকডোনাল্ডস, বদলাবে মেনু ও সেবাবিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফাস্টফুড ব্র্যান্ড ম্যাকডোনাল্ডস আগামী ১০ বছরে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ৮৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই অর্থ রেস্তোরাঁ সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মেনুতে নতুন খাবার যুক্ত করার কাজে ব্যয় করা হবে।গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেস্তোরাঁর পরিবেশ ও সেবার মান উন্নত করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ায় মেনুতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।প্রথম সাড়ে তিন বছরেই ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগম্যাকডোনাল্ডসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সাড়ে তিন বছরে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর একটি বড় অংশ ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচালিত রেস্তোরাঁগুলোকে মূলধনি সহায়তা দেওয়া এবং ভাড়াসংক্রান্ত চাপ কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগে ব্যয় করা হবে।কোম্পানিটি নতুন ব্যবসায়িক কৌশলের নাম দিয়েছে ‘নেক্সট’। ম্যাকডোনাল্ডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস কেম্পচিনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এই কৌশলের লক্ষ্য হলো আরও বেশি গ্রাহকের কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে পছন্দের রেস্তোরাঁ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং গ্রাহকদের নিয়মিত রেস্তোরাঁয় আসতে উৎসাহিত করা।একই সঙ্গে পরিচালন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।আধুনিক হবে রেস্তোরাঁর নকশাবিনিয়োগের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে রেস্তোরাঁগুলোর অবকাঠামো ও নকশা আধুনিকায়নে। কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজি রেস্তোরাঁগুলো সাধারণত ১০ বছর পরপর সংস্কার করা হয়।নতুন নকশায় গ্রাহকদের বসে খাওয়ার জায়গা আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের জন্য তুলনামূলক বড় খেলার জায়গা তৈরি এবং উন্নত আলোর ব্যবস্থা করার কথাও রয়েছে।এ ছাড়া রান্নাঘরও আধুনিকায়ন করা হবে। রান্নার কাজ দ্রুত ও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।ম্যাকডোনাল্ডসের হিসাব অনুযায়ী, প্রযুক্তির ব্যবহার পরিচালন ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে একটি রেস্তোরাঁর বার্ষিক নগদ প্রবাহ প্রায় ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।মেনুতে যুক্ত হবে নতুন খাবারফাস্টফুডের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় মেনুতেও পরিবর্তন আনতে চাইছে ম্যাকডোনাল্ডস। বিশেষ করে চিকেন নাগেট ও চিকেন টেন্ডারের মতো খাবারের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান শক্ত হওয়ায় নতুন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি।একই সঙ্গে গ্রাহকদের মধ্যে বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের চাহিদা বাড়ছে বলে মনে করছে ম্যাকডোনাল্ডস।প্রতিষ্ঠানটির ইউএসএ প্রেসিডেন্ট স্কাই অ্যান্ডারসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহকেরা খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প চান। এমন খাবারের প্রতিও তাঁদের আগ্রহ রয়েছে, যা তুলনামূলক হালকা হলেও খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।২০ লাখ কর্মীকে প্রশিক্ষণনতুন ব্যবসায়িক কৌশলের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ লাখ কর্মীকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ম্যাকডোনাল্ডস।আগামী ৫ অক্টোবর থেকে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি রেস্তোরাঁ পরিচালনা আরও কার্যকর করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।প্রতিযোগিতার মধ্যে শেয়ারে চাপবড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার পাশাপাশি ম্যাকডোনাল্ডসের শেয়ারের দামেও চাপ দেখা গেছে। চলতি বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্যদিকে ফাস্টফুডের বাজারে প্রতিযোগীরাও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। বার্গার কিংসহ বিভিন্ন ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান এবং নতুন পানীয় ব্র্যান্ড গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে নতুন পণ্য ও সেবার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।বদল আসতে পারে ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্রেম্যাকডোনাল্ডসের ১০ বছরের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় রেস্তোরাঁর অবকাঠামো, প্রযুক্তি, কর্মী দক্ষতা ও খাবারের মেনু—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত পরিচালনব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী মেনু পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবসার কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

১০ বছরে ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ম্যাকডোনাল্ডস, বদলাবে মেনু ও সেবা

যুক্তরাজ্যে সাইবার হুমকি বাড়ছে, পেছনে রাশিয়া-চীন-ইরান: এনসিএসসি

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে গুরুতর সাইবার হামলাগুলোর পেছনে রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের (এনসিএসসি) প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হর্ন। তাঁর ভাষ্য, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার এই সময়ে ব্রিটেনের সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।রিচার্ড হর্ন জানান, যুক্তরাজ্য বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে গড়ে চারটি বড় ধরনের সাইবার হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি এটিকে আধুনিক সময়ের সবচেয়ে অস্থির ও জটিল নিরাপত্তা বাস্তবতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বা সংঘাত বাড়লে ব্রিটেনকে আরও বড় পরিসরে সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হতে পারে।তিনি বলেন, শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বেসরকারি ব্যবসা ও শিল্পখাতকেও এখন থেকেই সাইবার প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের বড় হামলাগুলো সাম্প্রতিক র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের মতোই ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।হর্নের মূল্যায়নে, চীন সাইবার সক্ষমতায় অত্যন্ত দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং তাদের হামলার কৌশলে উচ্চমাত্রার জটিলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল হামলাকে এমনভাবে ব্যবহার করছে, যা বিদেশে অবস্থানরত ভিন্নমতাবলম্বী বা শাসনব্যবস্থার সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।রাশিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মস্কো এখন আরও পরিণত ও বিস্তৃত সাইবার কৌশল প্রয়োগ করছে। এর ফলে সাইবার হামলার ধরন ও পরিধি দুটোই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।ইউরোপের বিভিন্ন দেশও ইতোমধ্যে একই ধরনের হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুইডেন, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নরওয়ে অভিযোগ করেছে, রাশিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক সাইবার হামলা চালিয়েছে।এনসিএসসি প্রধানের মতে, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ডিজিটাল নির্ভরতা বৃদ্ধির ফলে সাইবারস্পেস এখন আরও অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক—সবারই সাইবার সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।তিনি আরও বলেন, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভবিষ্যতে সাইবার হামলাকে আরও জটিল ও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। তবে একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলার সুযোগও তৈরি করছে।

যুক্তরাজ্যে সাইবার হুমকি বাড়ছে, পেছনে রাশিয়া-চীন-ইরান: এনসিএসসি
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream