বঙ্গ রাজনীতিতে বড় ধাক্কা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। টানা ১৫ বছরের শাসনের পর এবার রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। বিপুল আসন জিতে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে বিজেপি। এই ফলের পর আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় কালীঘাটের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা এসেছে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান তৃণমূল নেত্রী। এই ফলকে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় মোড় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। শুধু ভবানীপুর নয়, রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেও ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান-সহ বেশ কিছু জেলায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। সামগ্রিক ফলাফলে ২০০-র গণ্ডি পেরিয়ে বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে যায়, আর তৃণমূল নেমে আসে অনেক নিচে। ফল ঘোষণার দিন বিকেলেই উত্তেজনা ছড়ায় একটি গণনাকেন্দ্রে। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের নির্বাচনী এজেন্টকে বের করে দেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, বহু আসনে ফল প্রভাবিত করা হয়েছে এবং ভোট গণনায় অনিয়ম হয়েছে।
এদিকে মমতার অভিযোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, একাধিক আসনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এবং তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিরোধী শিবিরের এই প্রতিক্রিয়া রাজ্যের ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে।