ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

ফুটবল

 ব্রাজিল কেন ঘুরে ঘুরে বিদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলে, নেপথ্যে যে অর্থনীতি

ব্রাজিল কেন ঘুরে ঘুরে বিদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলে, নেপথ্যে যে অর্থনীতি

ব্রাজিল কেন ঘুরে ঘুরে বিদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলেপাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে আন্তর্জাতিক বিরতিতে ঘরের মাঠের চেয়ে বিদেশের মাঠেই বেশি দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলা যেন দলটির নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিরতিতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলার পর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে কার্লো আনচেলত্তির দল। এরপর আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে সিঙ্গাপুরে স্বাগতিক দল ও জাপানের বিপক্ষে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সূচি রয়েছে।প্রশ্ন হলো—বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় দল হয়েও ব্রাজিল কেন এত বেশি বিদেশে গিয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলে?সংখ্যাতেই স্পষ্ট বিদেশমুখী প্রবণতাগত এক দশকের পরিসংখ্যান এ ক্ষেত্রে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বোলাভিআইপির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচসহ ব্রাজিল মোট ৪৭টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছে।এর মধ্যে নিজেদের দেশে হয়েছে মাত্র চারটি ম্যাচ। বাকি ৪৩টি ম্যাচই খেলেছে বিদেশের মাটিতে। অর্থাৎ এ সময়ের প্রীতি ম্যাচের প্রায় ৯১ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল দেশের বাইরে।তুলনায় উরুগুয়ের বিদেশে খেলা প্রীতি ম্যাচের হার ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউরোপের বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।মূল কারণ অর্থনীতিব্রাজিল ফুটবল দলের বিদেশ সফরের পেছনে সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হলো অর্থনীতি। ব্রাজিল শুধু একটি জাতীয় দল নয়, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি ফুটবল ব্র্যান্ড।ব্রাজিলকে নিজেদের দেশে নিয়ে একটি ম্যাচ আয়োজন করতে পারলে আয়োজকদের জন্য সেটি বড় বাণিজ্যিক আয়োজন হয়ে ওঠে। টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, করপোরেট আতিথেয়তা, পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসা—সব মিলিয়ে একটি ম্যাচ ঘিরে বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়।অন্যদিকে, ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনও এমন ম্যাচ থেকে অ্যাপিয়ারেন্স ফি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পায়।কলকাতার ম্যাচে বিপুল ব্যয়ের হিসাবভারতের কলকাতায় ব্রাজিলের সাম্প্রতিক ম্যাচটি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ‘মিন্ট’-এর প্রতিবেদনের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, ম্যাচটি আয়োজনের জন্য প্রায় ৫০ কোটি ভারতীয় রুপির বাজেট ধরা হয়েছিল।এর মধ্যে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনকে অ্যাপিয়ারেন্স ফি হিসেবে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি রুপি দেওয়ার কথা ছিল। প্রায় ৯০ সদস্যের ব্রাজিল দলের চার্টার্ড ফ্লাইটের পেছনে আরও প্রায় ৬ কোটি রুপি খরচ হতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন বা ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নিশ্চিত করেনি। ফলে সংখ্যাগুলোকে প্রকাশিত হিসাব বা অনুমান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অর্থ ছিল বড় প্রশ্নআগস্টের শেষ দিকে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছিল। তারা জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন।ওই সময় ৫ বা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার প্রস্তাবও দিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু দলটির সফর আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের সংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।বাংলাদেশ প্রস্তাবে সম্মতি দিলে ভারত সফরের পর ব্রাজিলের ঢাকায় আসার কথা ছিল।ব্রাজিলকে ঘিরে পর্যটনও বড় বিষয়বিদেশে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজন শুধু ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয় না। আয়োজক দেশগুলো এটিকে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও ব্যবহার করে।সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া সফর তার উদাহরণ। কুইন্সল্যান্ডে ব্রাজিলের দুটি ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল পর্যটন, স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরির লক্ষ্যেও।প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সিরিজের ৯০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল এবং টিকিটধারীদের বড় একটি অংশ আয়োজক অঞ্চলের বাইরের দর্শক ছিলেন। ফলে ম্যাচের সঙ্গে হোটেল, যাতায়াত, খাবার ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট খাতও লাভবান হওয়ার সুযোগ পায়।ইউরোপের বড় দলগুলো কেন ভিন্নব্রাজিলের সঙ্গে ইউরোপের বড় দলগুলোর আন্তর্জাতিক সূচিতে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ইউরোপের দলগুলো ফিফা উইন্ডোর বড় অংশে উয়েফা নেশনস লিগ, ইউরো বা ইউরোর বাছাইপর্বের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে।ফলে তাদের জন্য অতিরিক্ত প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।২০১৭ সাল থেকে ইতালি তাদের প্রায় ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রীতি ম্যাচ বিদেশে খেলেছে। স্পেনের ক্ষেত্রে হার ৩৬ শতাংশ, জার্মানির ৩৪ দশমিক ২, ইংল্যান্ডের ২৫ এবং ফ্রান্সের মাত্র ১৭ দশমিক ২ শতাংশ।দক্ষিণ আমেরিকার বাস্তবতা আলাদাদক্ষিণ আমেরিকায় ইউরোপের মতো নেশনস লিগ নেই। ফলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো দলগুলোর আন্তর্জাতিক সূচিতে প্রীতি ম্যাচের জায়গা তুলনামূলকভাবে বেশি।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাদের বিশাল বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা। ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন আয়োজক ব্রাজিলের মতো দলকে নিজেদের দেশে খেলাতে আগ্রহী। ফলে বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় প্রস্তাব এলে বিদেশ সফরের সুযোগ তৈরি হয়।মাঠের প্রস্তুতিতেও কাজে লাগেবিদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলার আরেকটি সুবিধা হলো দল গঠনের সুযোগ। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের চাপ ছাড়াই কোচ নতুন খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করতে পারেন এবং কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারেন।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক দুটি ম্যাচ এবং ভারতের বিপক্ষে কলকাতার ম্যাচেও ব্রাজিলের একাদশে একাধিক পরিবর্তন দেখা গেছে। এতে দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরখ করার সুযোগ তৈরি হয়।ব্রাজিলের নামই বড় বাণিজ্যিক সম্পদসবশেষে বিষয়টি দাঁড়ায় ব্রাজিলের বৈশ্বিক ফুটবল ব্র্যান্ডের কাছে। পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী এই দলকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ, তারকা খেলোয়াড়দের জনপ্রিয়তা এবং স্পনসরদের আগ্রহ—সব মিলিয়ে একটি প্রীতি ম্যাচও বড় বাণিজ্যিক ইভেন্টে পরিণত হতে পারে।তাই ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচের মানচিত্রে এখন শুধু রিও ডি জেনেইরো বা সাও পাওলোর মতো শহর নয়; কলকাতা, টাউনসভিল, ব্রিসবেন ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরও জায়গা করে নিচ্ছে।অর্থাৎ, বিদেশে ব্রাজিলের ঘন ঘন প্রীতি ম্যাচ খেলার পেছনে শুধু ফুটবলীয় কারণ নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক বাজার, বাণিজ্যিক আয়, পর্যটন এবং দলের প্রস্তুতির সমন্বিত হিসাব।

ক্রোয়েশিয়ার জালে ৭ গোল ইংল্যান্ডের

৮ মিনিটে হ্যারি কেইনের গোল। ২১ মিনিটে জুড বেলিংহামের। ৩৯ মিনিটে স্কোরশিটে নাম তুললেন অ্যান্থনি গর্ডন, ৪৫ মিনিটে বুকায়ো সাকা। বিরতির আগেই ইংল্যান্ড ৪: ০ ক্রোয়েশিয়া। এই ম্যাচ আসলে ওখানেই শেষ। এরপর ক্রোয়েশিয়া ঘুরে দাঁড়াতে পারলে সেটা অবিশ্বাস্য কিছু হতো। সে রকম কোনো সুযোগই দেয়নি টমাস টুখেলের দল। উল্টো ক্রোয়েশিয়াকে স্রেফ দর্শক বানিয়ে রেখে বিরতির পর আরও তিনবার বল পাঠায় ওদের জালে। ৭-০ গোলে ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড। ম্যাচটা দেখে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এই দলটা কি আসলেই ইংল্যান্ড? এত দুর্দান্ত! বিশ্বকাপের পর ব্রিটিশ মিডিয়া বারবার প্রশ্ন করে গেছে, ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলের পরিকল্পনা ঠিক কী। স্পেনের বিপক্ষে হার, চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয়, কোনোটাতেই পুরো উত্তর মেলেনি। উত্তর মিলল আজ উয়েফা নেশনস লিগে, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এসে। ‘টুখেল-বল’খেলেই ক্রোয়েশিয়াকে সেভেন আপের স্বাদ দিলেন হ্যারি কেইনরা। ভাবা যায়, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা একটা দলকে এভাবে ভেঙেচুরে দিয়েছে ইংল্যান্ড! ৭-০ গোলের এই হার ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসেও সবচেয়ে বড় পরাজয়। নিজেদের মাঠে এত বড় লজ্জায় আর কখনো ওদের পরতে হয়নি। হ্যারি কেইন জোড়া গোল করে জাতীয় দলে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেলেন ৮৯-এ। বুকায়ো সাকাও করেছেন জোড়া গোল। জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডনও গোল করেছেন। আলাদা করে নজর কাড়লেন অ্যালেক্স স্কটও। ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁকে সরানো সহজ হবে না। ক্রোয়াট কিংবদন্তি লুকা মদরিচের জন্য এমন রাত বিরল। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খুব কম ম্যাচেই এত নিষ্প্রভ ছিলেন। ৫৭ মিনিটে, স্কোরলাইন যখন ৫-০, তাঁকে তুলে নেওয়া হলো। মাথায় হেডব্যান্ড, মুখে হতাশা। হতাশা আসলে শুধু মদরিচের নয়, পুরো ক্রোয়েশিয়া দলেরই। এই হার ভুলতে অনেকে সময় লাগবে ওদের।

ক্রোয়েশিয়ার জালে ৭ গোল ইংল্যান্ডের

মেসিকে ছাড়াই বলিভিয়াকে ৪ গোল দিল আর্জেন্টিনা

মেসিকে ছাড়াই বলিভিয়াকে ৪ গোল দিল আর্জেন্টিনালিওনেল মেসিকে ছাড়া নতুন অধ্যায়ের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কর্ডোবার মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ধরে রাখে লিওনেল স্কালোনির দল।মেসির অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পাশাপাশি বল দখল ও সুযোগ তৈরিতেও বলিভিয়ার চেয়ে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।প্রথমার্ধেই দুই গোলম্যাচের ১৯তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে বলিভিয়ার জালে বল পাঠান তিনি।এর ১০ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ। এক আক্রমণ থেকে বলিভিয়ার গোলরক্ষক গুইলারমো ভিসকারা কিছুটা এগিয়ে এলে তাঁকে লক্ষ্য করে দারুণ চিপ শটে বল জালে পাঠান পাজ। ফলে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।বিরতির পর আরও দুই গোলদ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে নিকো পাজের ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে হেডে গোল করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এতে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।শেষদিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামা হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে চতুর্থ গোল করেন। এনজো ফার্নান্দেজের তৈরি করা আক্রমণের পর বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল লোপেজের প্রথম গোল।পরিসংখ্যানেও পরিষ্কার আধিপত্যম্যাচে প্রায় ৬৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের গোলমুখে তারা ১৩টি শট নেয়, যার কয়েকটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে বলিভিয়া পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক পরিসংখ্যান—দুই দিক থেকেই আর্জেন্টিনার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।মেসিবিহীন নতুন অধ্যায়ের শুরুমেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণার পর এটিই আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্কালোনি আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজকে একসঙ্গে খেলান। পাশাপাশি নিকো পাজসহ তরুণদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।ম্যাচে নিকো পাজ বিশেষভাবে নজর কাড়েন। গোল করার পাশাপাশি রোমেরোর গোলেও সহায়তা করেন তিনি। ফলে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার নতুন দলীয় সমন্বয়ের আলোচনায় তরুণ এই মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্সও গুরুত্ব পেয়েছে।সামনে আরও দুই ম্যাচএই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।বেনিনের বিপক্ষে ৬ অক্টোবরের ম্যাচটি মেসির জাতীয় দলের বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসিকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায় জানানোর জন্য তিনি তাঁকে ফেরাতে চেষ্টা করেছেন।

মেসিকে ছাড়াই বলিভিয়াকে ৪ গোল দিল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড: ইতিহাসের প্রতিটি লড়াই কেন এত আলোচিত

ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবুও দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অন্যতম আলোচিত। কারণ, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জন্ম নিয়েছে এমন কিছু ঘটনা, যা ফুটবল ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের বিতর্কিত বহিষ্কার থেকে শুরু করে ১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’ কিংবা ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড—প্রতিটি অধ্যায়ই এই দ্বৈরথকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি। ভাষাগত সমস্যার কারণে তিনি সিদ্ধান্ত বুঝতে না পেরে দীর্ঘ সময় মাঠে অবস্থান করেন। পরে তাঁকে সরাতে নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তা নিতে হয়। সেই বিতর্কের পর ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড চালুর ধারণা আরও জোরালো হয়। ১৯৭৭ সালে একটি প্রীতি ম্যাচেও উত্তেজনা চরমে ওঠে। আর্জেন্টিনার দানিয়েল বার্তোনি ও ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরির সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনই লাল কার্ড দেখেন। সেই ম্যাচে চেরির দুটি দাঁতও ভেঙে যায়, যা ম্যাচটিকে দীর্ঘদিন আলোচনায় রেখেছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। ডিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বেকহাম মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ১০ জন নিয়েও ইংল্যান্ড ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জয় পায় আর্জেন্টিনা। চার বছর পর ২০০২ বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সে ম্যাচে পেনাল্টি থেকে ডেভিড বেকহামের করা একমাত্র গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে বিতর্ক তৈরি হয় এবং আর্জেন্টিনা শিবির থেকে সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে হাত দিয়ে করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেন। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই একক নৈপুণ্যে অসাধারণ আরেকটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২–১ ব্যবধানে জিতিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেই গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বছরের পর বছর ধরে নানা বিতর্ক, নাটকীয়তা ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের কারণে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড লড়াই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে।

আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড: ইতিহাসের প্রতিটি লড়াই কেন এত আলোচিত

নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিল দলে নতুন দুশ্চিন্তা

দীর্ঘ সময় ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করার পর মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার Neymar। তবে ফের নতুন করে চোটের সমস্যায় পড়ায় তাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে ব্রাজিল ফুটবল দলে।সাম্প্রতিক অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড। জানা গেছে, পায়ের কাফ মাংসপেশিতে অস্বস্তি ও ফোলাভাব অনুভব করায় তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। বিষয়টি প্রথমে গুরুতর মনে না হলেও চিকিৎসকরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।নেইমারের শারীরিক অবস্থার কারণে তার ক্লাব Santos FC–এর আসন্ন ম্যাচগুলোতে খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে সামনে থাকা আন্তর্জাতিক সূচি ও বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে ব্রাজিল দলকে।ব্রাজিল জাতীয় দলের নতুন কোচ Carlo Ancelotti অবশ্য এখনই হতাশ নন। তিনি ও দলের মেডিকেল বিভাগ নেইমারের ফিটনেস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি বুঝে তাকে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে নেইমার পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশি সময় নিলে বিকল্প খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখার কাজও শুরু করেছে ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তরুণ কয়েকজন আক্রমণভাগের ফুটবলারকে নিয়ে ইতোমধ্যে আলাদা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।বিশ্বকাপের আগে নেইমারের ফিটনেস এখন ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই এখনও অনেকটা নির্ভর করছে সেলেসাওদের আক্রমণভাগের কৌশল।

নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিল দলে নতুন দুশ্চিন্তা

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবার ওপরে ব্রাজিল, শীর্ষ পাঁচে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে ধারাবাহিক সাফল্য, ম্যাচজয় ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে শীর্ষস্থান দখল করেছে । ১৯৩০ সাল থেকে ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিভিন্ন দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে ব্রাজিল ১১৪ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৭৬টি জয় পেয়েছে। ড্র করেছে ১৯টি ম্যাচে এবং হেরেছে সমান সংখ্যক ম্যাচে। সব মিলিয়ে তাদের সংগ্রহ ২৪৭ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানেও অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে সেলেসাওরা।তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে । চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ১১২ ম্যাচ খেলে সংগ্রহ করেছে ২২৫ পয়েন্ট।বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রয়েছে তৃতীয় স্থানে। দলটি বিশ্বকাপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ১৫৮ পয়েন্ট অর্জন করেছে। অন্যদিকে চারবারের চ্যাম্পিয়ন আছে চতুর্থ স্থানে।পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে । সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে ফ্রান্স নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখাই এই র‍্যাংকিংয়ের মূল ভিত্তি। বিশেষ করে ব্রাজিল একমাত্র দল হিসেবে বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়ার কৃতিত্ব ধরে রেখেছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবার ওপরে ব্রাজিল, শীর্ষ পাঁচে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স

নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে যাচ্ছে না পাকিস্তান, সাফ নারী ফুটবলেও অনুপস্থিতি

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন ক্রীড়া আসর থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তান। এর ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশ নিচ্ছে না দেশটি।আগামী ২৫ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আয়োজক দেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দলগুলো অংশ নিলেও পাকিস্তান এই আসরে থাকছে না।বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিজেদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। ফলে এবারের প্রতিযোগিতা ছয়টি দল নিয়ে আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ড্রয়ে অংশ নেওয়া দলগুলোকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে তিনটি করে দল।এই আসরে স্বাগতিক ভারতের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ। পাকিস্তানের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক দিক কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিশেষ করে পাকিস্তানের নারী ফুটবল দলের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হলো তাদের।উল্লেখ্য, এর আগেও ভারতে অনুষ্ঠিত কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেয়নি পাকিস্তান। গত নভেম্বরে তামিলনাড়ুতে আয়োজিত জুনিয়র হকি বিশ্বকাপ এবং রাজগীরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিল তারা। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে ভারত এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে যাচ্ছে না পাকিস্তান, সাফ নারী ফুটবলেও অনুপস্থিতি
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream