ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন বন্ধে মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড ব্লকের নির্দেশ; বিলম্বের অর্থ দাতব্য হিসাবে দেওয়ার নিয়ম

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে মদ-জুয়া ও নাইটক্লাবের বিল দেওয়া যাবে না


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

 ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে মদ-জুয়া ও নাইটক্লাবের বিল দেওয়া যাবে না

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে মদ-জুয়া ও নাইটক্লাবের বিল দেওয়া যাবে না

ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নীতিমালায় কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়াহসম্মত ও নিষিদ্ধ খাতগুলো স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অ্যালকোহল, জুয়া, নাইটক্লাব, প্রচলিত বিমা, অবৈধ ডেটিং বা ম্যাচমেকিং এবং শূকরের মাংসসংক্রান্ত ব্যবসার পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে সোমবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটি দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শরিয়াহভিত্তিক লেনদেনের কাঠামো আরও সুসংগঠিত করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

যেসব খাতে কার্ড ব্যবহার করা যাবে না

নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শরিয়াহবিরোধী বা বেআইনি পণ্য ও সেবা কেনাকাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের লেনদেন ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে তাদের কার্ড ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (MCC) ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিষিদ্ধ খাতের মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, জুয়া, নাইটক্লাব, প্রচলিত বিমা প্রতিষ্ঠান, অবৈধ ডেটিং বা ম্যাচমেকিং এবং শূকরের মাংসের ব্যবসা।

কোনো গ্রাহক নিষিদ্ধ বা বেআইনি লেনদেন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে কার্ড বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেসব মাশুল নিতে পারবে ব্যাংক

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কার্ড ইস্যু, নবায়ন, প্রতিস্থাপন, নেটওয়ার্ক সুবিধা ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ব্যাংক ‘উজরাহ’ বা সেবামূলক মাশুল নিতে পারবে।

তবে এ মাশুল গ্রাহকের বকেয়া অর্থ, ঋণসীমা কিংবা বিল পরিশোধে দেরির ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তন করা যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বিলম্বজনিত অর্থ ব্যাংক নিজেদের আয় হিসেবে নিতে পারবে না। এ অর্থ আলাদা দাতব্য হিসাবে সংরক্ষণ করে শরিয়াহ কমিটির তত্ত্বাবধানে দান করতে হবে।

সুদমুক্ত কাঠামোয় পরিচালিত হবে কার্ড

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মূল কাঠামো হিসেবে ‘কর্জে হাসানা’—অর্থাৎ সুদমুক্ত ঋণ এবং ‘উজরাহ’—অর্থাৎ সেবামূলক মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের মতো গ্রাহকের ঋণের ওপর নির্ভর করে ব্যাংকের আয় করার ব্যবস্থা রাখা যাবে না। একই সঙ্গে গ্রাহক যাতে তাঁর আর্থিক সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় না করেন, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

গ্রাহকের নিরাপত্তায় একাধিক নির্দেশনা

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড চালুর আগে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের (OTP) মাধ্যমে গ্রাহকের সম্মতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্ড-সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যাংকগুলোকে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

কার্ড হারানো বা চুরি হওয়ার পর সেটি ব্লক করার অনুরোধ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে অননুমোদিত লেনদেনের অর্থ গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কারা ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড দিতে পারবে

বাংলাদেশ ব্যাংকে নিবন্ধিত যেকোনো ইসলামি ব্যাংক ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। পাশাপাশি প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো বা ইসলামি ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমেও এ ধরনের কার্ড চালু করা যাবে।

বিদেশি মুদ্রা বা দ্বৈত মুদ্রার ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হিসেবে অনুমোদিত থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালার ফলে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনে শরিয়াহসম্মত কাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

বিষয় : ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নগদ বার্তা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে মদ-জুয়া ও নাইটক্লাবের বিল দেওয়া যাবে না

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে মদ-জুয়া ও নাইটক্লাবের বিল দেওয়া যাবে না

ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নীতিমালায় কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়াহসম্মত ও নিষিদ্ধ খাতগুলো স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অ্যালকোহল, জুয়া, নাইটক্লাব, প্রচলিত বিমা, অবৈধ ডেটিং বা ম্যাচমেকিং এবং শূকরের মাংসসংক্রান্ত ব্যবসার পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে সোমবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটি দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শরিয়াহভিত্তিক লেনদেনের কাঠামো আরও সুসংগঠিত করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

যেসব খাতে কার্ড ব্যবহার করা যাবে না

নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শরিয়াহবিরোধী বা বেআইনি পণ্য ও সেবা কেনাকাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের লেনদেন ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে তাদের কার্ড ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (MCC) ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিষিদ্ধ খাতের মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, জুয়া, নাইটক্লাব, প্রচলিত বিমা প্রতিষ্ঠান, অবৈধ ডেটিং বা ম্যাচমেকিং এবং শূকরের মাংসের ব্যবসা।

কোনো গ্রাহক নিষিদ্ধ বা বেআইনি লেনদেন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে কার্ড বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেসব মাশুল নিতে পারবে ব্যাংক

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কার্ড ইস্যু, নবায়ন, প্রতিস্থাপন, নেটওয়ার্ক সুবিধা ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ব্যাংক ‘উজরাহ’ বা সেবামূলক মাশুল নিতে পারবে।

তবে এ মাশুল গ্রাহকের বকেয়া অর্থ, ঋণসীমা কিংবা বিল পরিশোধে দেরির ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তন করা যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বিলম্বজনিত অর্থ ব্যাংক নিজেদের আয় হিসেবে নিতে পারবে না। এ অর্থ আলাদা দাতব্য হিসাবে সংরক্ষণ করে শরিয়াহ কমিটির তত্ত্বাবধানে দান করতে হবে।

সুদমুক্ত কাঠামোয় পরিচালিত হবে কার্ড

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মূল কাঠামো হিসেবে ‘কর্জে হাসানা’—অর্থাৎ সুদমুক্ত ঋণ এবং ‘উজরাহ’—অর্থাৎ সেবামূলক মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের মতো গ্রাহকের ঋণের ওপর নির্ভর করে ব্যাংকের আয় করার ব্যবস্থা রাখা যাবে না। একই সঙ্গে গ্রাহক যাতে তাঁর আর্থিক সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় না করেন, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

গ্রাহকের নিরাপত্তায় একাধিক নির্দেশনা

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড চালুর আগে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের (OTP) মাধ্যমে গ্রাহকের সম্মতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কার্ড-সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যাংকগুলোকে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

কার্ড হারানো বা চুরি হওয়ার পর সেটি ব্লক করার অনুরোধ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে অননুমোদিত লেনদেনের অর্থ গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কারা ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড দিতে পারবে

বাংলাদেশ ব্যাংকে নিবন্ধিত যেকোনো ইসলামি ব্যাংক ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। পাশাপাশি প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো বা ইসলামি ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমেও এ ধরনের কার্ড চালু করা যাবে।

বিদেশি মুদ্রা বা দ্বৈত মুদ্রার ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হিসেবে অনুমোদিত থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালার ফলে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনে শরিয়াহসম্মত কাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।


নগদ বার্তা

সম্পাদক: মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু)
সহ-সম্পাদক: মেহজাবীন মাহবুব পাভেল
প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ) 

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে মদ-জুয়া ও নাইটক্লাবের বিল দেওয়া যাবে না
0:00 0:00
1.0x
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream