ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
সাংবাদিক আলিফ হত্যা: ময়নাতদন্তে ৬ গুলির আঘাতের চিহ্ন, ভেদ করে বেরিয়েছে ৫টি

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: ময়নাতদন্তে ৬ গুলির আঘাতের চিহ্ন, ভেদ করে বেরিয়েছে ৫টি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। অপর একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল, যা ময়নাতদন্তের সময় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে এসব তথ্য জানান নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানান, আলিফের বুকে তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। অপরটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ছাড়া একটি গুলি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। বাকি দুটি গুলির একটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, শরীরে গুলির প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল থেকে গুলি করা হয়েছে। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর উপজেলায় একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ। তিনি বেসরকারি আইপি টেলিভিশন রূপসী বাংলা টিভির নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এদিকে, সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতা-কর্মী অংশ নেন। তাঁরা আলিফ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

বগুড়ার শেরপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে মো. সিরাজ (৬৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের নাকুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪৩) বাদী হয়ে আজ শুক্রবার শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটক কাওসার আলী (২৬) ও তাঁর বাবা তোজাম সরকারকে (৫৫) আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি পাশের ধুনট উপজেলার গোয়ালভাগ গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোজাম সরকারের কাছ থেকে সিরাজের ছোট ভাই ছানোয়ার হোসেন (৫০) সুদে টাকা নিয়েছিলেন। সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছানোয়ারকে তাঁর ঘর থেকে বের করে বাড়ির আঙিনায় মারধর করতে থাকেন তোজাম ও তাঁর ছেলে কাওসার। এ সময় ছানোয়ারের চিৎকার শুনে বড় ভাই সিরাজ এগিয়ে আসেন। তখন তাঁকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত সিরাজ বাড়ির আঙিনায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মারধরে ছানোয়ারও আহত হন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে সিরাজের লাশ উদ্ধার করে। তাঁর বুকের ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে লাশটি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

মাদকাসক্ত ছেলেকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করার অভিযোগ, পলাতক বাবা

নরসিংদীর রায়পুরায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা অলিউর রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তারেক রহমান (২৮) ওই গ্রামের অলিউর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। সেখানে মাদক সেবনের কারণে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। দেশে ফিরে আবারও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই বাবা-মাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতে মাদকের টাকার জন্য বাড়িতে ভাঙচুর করেন তারেক। এক পর্যায়ে তাঁর বাবা অলিউর রহমান তাঁকে হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যান। সেখানে মারধরের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তারেকের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেশার জন্য এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিহতের মাথার পেছনে ও ডান কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মাদকাসক্ত ছেলেকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করার অভিযোগ, পলাতক বাবা

মোংলায় ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

মোংলায় এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ইকরামুল শেখ (৪০) ও মীর আলী (৪৮)। বুধবার দুপুরে তাদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মোংলা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট মোংলার ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে এক নারীকে খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে নিয়ে যান ইকরামুল ও মীর আলী। পরে ইকরামুলের বাড়িতে পরিবারের অন্য কেউ না থাকার সুযোগে তারা ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরদিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই নারীকে হত্যা করা হয়।  ঘটনার ছয় দিন পর, ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা থানার কাজীবাছা নদী থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। মরদেহের গহনা, কাপড়চোপড় ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মোংলা থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর মঙ্গলবার বিকেলে খুলনার দাকোপ থেকে ইকরামুলকে এবং মোংলা থেকে মীর আলীকে গ্রেফতার করে মোংলা থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ড ও এর আগে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার ইকরামুল শেখ খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার মৃত নুরুল শেখের ছেলে। অপর আসামি মীর আলী মোংলার ছাড়াবাড়ী এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা। তিনি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দেলুটিয়া গ্রামের মৃত মোজাফফর হাওলাদারের ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান, ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হানিফ উপস্থিত ছিলেন। সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, মোংলা থানা পুলিশ অপরাধ দমনে পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধ উদ্‌ঘাটন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিডি-প্রতিদিন/এআইডি

মোংলায় ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

রহস্যজনক ভাবে বারান্দা থেকে পড়ে গেলেন প্রেমিক, চালকের সঙ্গে হাসপাতালে পাঠালেন ইনফ্লুয়েন্সার প্রেমিকা

ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে বারান্দা থেকে পড়ে শিবা শর্মা (২৮) নামে এক ক্যাফে মালিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার প্রেমিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা দুবের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন নিহতের মা রঞ্জনা শর্মা। তার অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে শিবাকে অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে লক্ষ্ণৌর হজরতগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রঞ্জনা। এ ঘটনায় শ্রদ্ধা দুবে, তার বোন রশ্মি দুবে, দানিশ নামে এক গাড়িচালক, আদিল নামে এক সহযোগীসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে হত্যা মামলা হয়েছে। রঞ্জনা শর্মার অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে শ্রদ্ধা তাকে ফোন করে জানান, শিবা তার বারান্দা থেকে পড়ে গেছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে আবার ফোন করলে শ্রদ্ধা তাকে জানান, তার গাড়িচালক শিবাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। এ সময় চালকের ফোন নম্বরও দেওয়া হয়। রঞ্জনা জানান, লক্ষ্ণৌর কিং জর্জেস মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (কেজিএমইউ) জরুরি বিভাগে পৌঁছে তিনি একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। সেখানে দানিশ নামে এক যুবক নিজেকে শ্রদ্ধার গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দেন। ছেলের কী হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেন রঞ্জনা। পরে শিবাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মায়ের দাবি, প্রায় চার মাস ধরে শ্রদ্ধা তার ছেলেকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। শিবার অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হতো। তাদের সম্পর্কের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। রঞ্জনা আরও জানান, এর আগে একাধিকবার ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবা এড়িয়ে যেতেন। শ্রদ্ধার দাবি মেনে না নিলে তাকে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ তার। ছেলের মৃত্যুর প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে হজরতগঞ্জের একটি হনুমান মন্দিরে শিবা ও শ্রদ্ধার দেখা হয়েছিল বলে জানান রঞ্জনা। তার ভাষ্য, শিবার উদ্যোগে ওই বৈঠক হয়। সেখানে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রদ্ধা সম্মতি জানিয়েছিলেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে ছোট পরিসরে বিয়ের আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। তবে এ আলোচনার পর শ্রদ্ধার আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন রঞ্জনা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে বাড়িতে আসার পর শ্রদ্ধা শিবাকে বারবার ফোন করেন। তার কাছে ফিরে না গেলে চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। রঞ্জনা শর্মার দাবি, মৃত্যুর আগে শিবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার পাঁজর, কাঁধ, বাহু ও উরুতে সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া ছেলের চোয়ালে গুরুতর আঘাত এবং চোখ, কান ও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের কথাও উল্লেখ করেন রঞ্জনা। এসব কারণে মৃত্যুর আগে শিবাকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করছেন তিনি। তবে বারান্দা থেকে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগে কী ঘটেছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। শিবকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা। সূত্র: এনডিটিভি

রহস্যজনক ভাবে বারান্দা থেকে পড়ে গেলেন প্রেমিক, চালকের সঙ্গে হাসপাতালে পাঠালেন ইনফ্লুয়েন্সার প্রেমিকা

রংপুরে ৪ খুন: একাধিক আলামতে মিলল মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের ডিএনএ

দেশজুড়ে বহুল আলোচিত রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার তদন্তে অগ্রগতি হওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ খেজুর, শসা, সিগারেটের নমুনায় দুই অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।  তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও এর আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চার হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ল্যাবে। এর মধ্যে ছিল সিগারেটের অংশ, খেজুর, শসা, ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, বেসিনের দাগসহ অন্তত ৩৫টি আলামত। এসব আলামতের একটি অংশ ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। ঘটনার পর গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঘটনাস্থলের আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তাদের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি ডিবি জিনাত আলী জানিয়েছিলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুই আসামির সংশ্লিষ্টতা আরও বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হবে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের পরও মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ কিছুসময় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে অবস্থান করেছিল। তারা গোসল করে এবং ঘরের ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা বের করে খায়। পরে তারা ঘরের বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পাওয়া কামড় দেওয়া শসা ও খেজুরের বিচি শুরু থেকেই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। পরে সিগারেটের অংশসহ অন্যান্য জৈব ও বস্তুগত আলামতও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এই মামলায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।  পুলিশ জানায়, ওই জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা তাদের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেন। তদন্তের এই পর্যায়ে ডিএনএ মিলকে এককভাবে চূড়ান্ত অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না তদন্তসংশ্লিষ্টরা। আদালতে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে ডিএনএ ফলাফলের পাশাপাশি জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের অন্যান্য আলামত, লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারের তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনায় আসবে। গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় এবং সামাজিক সম্মানের ভয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।  এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জানায় পুলিশ।

রংপুরে ৪ খুন: একাধিক আলামতে মিলল মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের ডিএনএ
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream