ইলিশ খেলে মন ভালো রাখার হরমোন বাড়ে, তবে সতর্ক থাকতে হবে যাঁদের
ইলিশ শুধু স্বাদের জন্যই জনপ্রিয় নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও এটি বাঙালির খাদ্যতালিকায় বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। এই মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান।
তবে ইলিশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সবার জন্য একই পরামর্শ প্রযোজ্য নয়। বিশেষ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে পরিমাণ ও রান্নার ধরন নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ইলিশে রয়েছে ওমেগা-৩ ও প্রোটিন
ইলিশে থাকা ডিএইচএ (DHA) ও ইপিএ (EPA) ধরনের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হৃদ্স্বাস্থ্যসহ শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া ইলিশে ভালো পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ২০ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। পেশি, কোষ ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন।
হাড় ও রোগ প্রতিরোধে পুষ্টি উপাদান
ইলিশে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে। এসব উপাদান হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া মাছটিতে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, জিংক ও সেলেনিয়াম রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ভূমিকা রাখে।
মন ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে
ইলিশে আরজিনিনসহ কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইলিশ খাওয়ার সঙ্গে মেজাজ ভালো রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু হরমোনের নিঃসরণের সম্পর্ক থাকতে পারে।
তবে খাবার হিসেবে ইলিশ একাই মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা সমাধান করে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে ইলিশ রান্না করলে ভালো?
ইলিশের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি রান্নার পদ্ধতির দিকেও নজর দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত তেলে ভাজলে মাছের ক্যালরির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম বেক করা ইলিশে প্রায় ২৫০ ক্যালরি থাকতে পারে। অতিরিক্ত তেলে ভাজলে ক্যালরির পরিমাণ ৩৫০-এর বেশি হতে পারে।
তাই বেশি তেলে ডুবিয়ে ভাজার পরিবর্তে ভাপে, বেক করে, গ্রিল করে অথবা অল্প তেলে রান্না করে খাওয়া তুলনামূলকভাবে ভালো পদ্ধতি হতে পারে।
যাঁদের ইলিশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন
সামুদ্রিক খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ইলিশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদেরও ইলিশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। মাছটিতে ফসফরাস ও সোডিয়াম থাকায় এ ধরনের রোগীদের ব্যক্তিগত খাদ্যচাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা
মাছের উৎস ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে এতে পারদ বা অন্যান্য দূষক পদার্থের উপস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা ও শিশুদের মাছ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে উৎস, পরিমাণ ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইলিশের ডিম কারা এড়িয়ে চলবেন?
ইলিশের ডিম অনেকের কাছে প্রিয় খাবার হলেও এতে চর্বি ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ইলিশের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো।
পরিমিত ইলিশ হতে পারে পুষ্টিকর খাবার
ইলিশে প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। তাই পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে রান্না করে খেলে এটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
তবে অ্যালার্জি, কিডনি সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইলিশ খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
মতামত