ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাধা কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাধা কোথায়?

কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন চললেও কৌশলগত অংশীদার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছেন। সফরে দুই দেশের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, রুবিও ভারতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে আগামী সপ্তাহে তার এ সফরে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি বাদ পড়ছে। পরিবর্তে তিনি ভারতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাই এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র জামনগর সফর করবেন। জামনগরে রয়েছে ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স। বিশেষজ্ঞদের মতে, সফরে আলোচনার আড়ালে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে থাকবে দুই দেশের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে না পারার বিষয়টি। আরও পড়ুনআরও পড়ুনমাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপ, জ্বালানি আমদানি নিয়ে মতবিরোধ এবং ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উষ্ণতর সম্পর্কসহ বেশ কয়েকটি কারণে আলোচকদের পক্ষে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও শনিবার ছয় দিনের বিদেশ সফর শুরু করবেন। প্রথমে তিনি উজবেকিস্তান যাবেন, এরপর ভারত সফর করবেন। দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির পথে প্রধান বাধা এবং সামনে কী সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে এএফপির প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। শুল্ক নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। এর আওতায় ওয়াশিংটন ভারতের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার এবং ভারত বিভিন্ন শিল্পপণ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর কথা ছিল। তবে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং স্বাক্ষরিতও হয়নি। এর একটি কারণ হলো, ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনা নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা। আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পাল্টা শুল্কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রস্তাবিত চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাণিজ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অজয় শ্রীবাস্তব এক নোটে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির কাঠামোতে ভারতের জন্য পাল্টা শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার বিনিময়ে ভারতকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হতো। কিন্তু ওই শুল্কব্যবস্থা আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের মূল্য কতটা, তা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনস্বর্ণ নিয়ে বিশ্ববাজারে দুঃসংবাদ এ ছাড়া ওয়াশিংটনের নতুন কিছু বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশে কথিত অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে প্রণীত একটি নতুন আইন রয়েছে। তবে শুক্রবার ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে ওই হুমকির মুখে থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর না করার নির্দেশ দেন। আলোচনায় অগ্রগতি থমকে গেছে চলতি বছরের বেশির ভাগ সময় দুই দেশের সরকারই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছে। জুনে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছিলেন, আলোচকেরা চুক্তির ‘শেষ এক শতাংশ’ নিয়ে কাজ করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে সতর্কতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গত সপ্তাহে বলেন, আলোচনা ‘একটি পর্যায়ে এসে থেমে গেছে’ এবং আরও ছাড় দেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও বলেছিলেন, চুক্তি নিয়ে ঘোষণা ‘অবিলম্বে’ আসছে না।

ইয়েমেনে হুতিবিরোধী অভিযান কি মুখ থুবড়ে পড়ছে?

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী হুতিদের দখলে থাকা অঞ্চল পুনরুদ্ধারে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান চালাচ্ছে। তবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ দখল এবং সরকারপন্থী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এ অভিযানকে কঠিন করে তুলেছে। সৌদি আরবের সামরিক সহায়তা অব্যাহত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ আল-মাশিকের কাছে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। হামলার সময় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি প্রাসাদে উপস্থিত থাকলেও তিনি অক্ষত ছিলেন। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তাদের অভিযানের লক্ষ্য ছিল একটি সামরিক সদর দফতর। সৌদি আরব-সমর্থিত যোদ্ধা ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তাকারী সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েজের আশপাশে তাদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সরকারপন্থী বাহিনীর সরবরাহব্যবস্থাকে চাপে ফেলেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হুতিদের কাছ থেকে ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারই সরকারের ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের মূল লক্ষ্য। তবে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় অভিযানের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারপন্থী যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল ওয়াদাহ আল-দুবাইশ আল-জাজিরাকে বলেন, হুতিরা নিয়মিতভাবে সরকারি বাহিনীর সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। তবে এতে সরবরাহ বন্ধ হয়নি, ফলে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও চলবে। তিনি বলেন, হামলার কারণে কোনও কোনও ফ্রন্টে সরঞ্জাম পৌঁছাতে দেরি হতে পারে কিংবা ব্যয় বাড়তে পারে। কিন্তু আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ এখনও ব্যবহারযোগ্য থাকায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তায়েজ কার্যত অবরুদ্ধ সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তায়েজ শহরে। হুতিরা শহরটির সঙ্গে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এডেনের প্রধান সড়কটি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। পার্বত্য এলাকার বিকল্প পথগুলোও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শহরটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক হুতি অগ্রযাত্রার পর তায়েজে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে সেখানে পেট্রলের দাম তিন গুণ বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ হারানোয় সরকারি বাহিনীর কাছে গোলাবারুদ, অতিরিক্ত সেনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দর দখল করে হুতিরা। পশ্চিম তায়েজ অঞ্চলে সরকারপন্থী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র ছিল বন্দরটি। পরে পাল্টা অভিযানে কিছু এলাকা পুনর্দখল করতে পারলেও মোখার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়নি সরকারি বাহিনী। ইয়েমেনের উপপ্রতিমন্ত্রী ফয়সাল আল-মাজিদি বলেন, বিচ্ছিন্ন ফ্রন্টগুলোর মধ্যে সরবরাহ সচল রাখতে সরকারপন্থী বাহিনী বিকেন্দ্রীকরণ ও বিকল্প রুট ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে। শাবওয়া, মারিব, তায়েজের হুতিমুক্ত এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোকে কেন্দ্র করে সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সুরক্ষিত রাখতে কৌশলগত উঁচু এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সৌদি সহায়তা ও সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরুর পর ইয়েমেনের সরকার ও মিত্র বাহিনীর প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন বেড়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার বিষয়টিও স্বীকার করেছে রিয়াদ। আল-দুবাইশের মতে, ইরানের সরবরাহ করা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ উন্নত সামরিক সক্ষমতা এবং বিপুলসংখ্যক যোদ্ধার কারণে হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, অক্টোবরের শুরু থেকে চালানো বিমান হামলায় হুতিদের শত শত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে অভিযান সফল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সরকারপন্থী বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা। ভিন্ন ভিন্ন কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালিত এসব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে গত সেপ্টেম্বরে লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো যায়নি বলে মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারিতে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল সব হুতিবিরোধী সামরিক ইউনিটকে একক কমান্ডের আওতায় আনতে সুপ্রিম মিলিটারি কমিটি (এসএমসি) গঠন করে। তবে বাহিনীগুলোর অর্থায়ন ও নেতৃত্ব কাঠামোয় দীর্ঘদিনের পার্থক্য এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। ইয়েমেনের সামরিকবিষয়ক গবেষক আদনান আল-জাবারনি অবশ্য মনে করেন, বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে। তার মতে, হুতিরা সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকারকে চাপে ফেলতে বেসামরিক স্থাপনা ও সরবরাহপথে হামলা চালালেও এতে হুতিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হতে পারে। তবে তায়েজের অবরোধ ভাঙা, সরবরাহপথ পুনরুদ্ধার এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সরকারপন্থী বাহিনীর অগ্রযাত্রা ধরে রাখা কঠিন হবে। ফলে সৌদি সহায়তার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ই ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের সাফল্যের প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

ইয়েমেনে হুতিবিরোধী অভিযান কি মুখ থুবড়ে পড়ছে?

যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেলবে, ফেললে কী হবে

ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় নিজেদের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা দিয়ে হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসে এই বোমার কার্যকারিতা নিয়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনেই সংশয় রয়েছে। এমন হামলার জবাবে ইরানই–বা কী করতে পারে, তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি আবার সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন, তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক প্রকল্পগুলোয় নিজেদের অস্ত্রাগারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত থাকার এ সময়ে ‘মাদার অব অল বম্বস’ (শাব্দিক অর্থে ‘সব বোমার মা’) নামে পরিচিত ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি)’ বোমার ব্যবহার চলমান সংঘাতকে অনেক বড় আকারে উসকে দিতে পারে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামরিক পরিকল্পনা–সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা সিএনএন ও আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনে এ বোমার ব্যবহার সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, এ বোমা ব্যবহারেও ইরানের মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে এমন হামলা একধরনের ‘রাজনৈতিক নাটক’ মঞ্চস্থ করা ছাড়া আর কিছুই হবে না। কী এই ‘এমওএবি’ বোমা এমওএবি হলো সাড়ে ৮ হাজার কেজি (১৮ হাজার পাউন্ড বা সাড়ে ৮ টন) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক–সমৃদ্ধ এক বড় মারণাস্ত্র। ৯ হাজার ৮০০ কেজি (২১ হাজার ৬০৫ পাউন্ড বা প্রায় ১০ টন) ওজনের এ বোমা সাধারণ চারটি প্রাইভেট কারের সমান ভারী এবং এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের কিছু বেশি (প্রায় ৩০ ফুট), যা একটি ছোট ইয়টের আকৃতির সঙ্গে তুলনীয়। আকারে অত্যন্ত বড় হওয়ায় কোনো স্টিলথ বোমারু বিমানে এ বোমা ধরে না। ফলে সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস কার্গো বা মালবাহী বিমান থেকে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়। ২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রথম তৈরি হওয়া এ বোমার এ পর্যন্ত ১২ বার বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বোমাটির এ নামকরণের পেছনে একটি ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ‘মাদার অব অল ব্যাটেলস’ বা ‘সব যুদ্ধের মা’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। মূলত তাঁর সেই মন্তব্যের অনুকরণ করেই এ বোমার নাম রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আগে মাত্র একবারই এ বোমা ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’–এর (আইএসকেপি) গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সে সময় আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, হামলায় আইএসের ৯৪ জন যোদ্ধা নিহত হন। তবে স্থানীয় কিছু অসমর্থিত সূত্রে বেসামরিক লোকজনের হতাহত এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কেমন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে এ বোমা মাটি থেকে মাত্র কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই এমওএবি বোমা। ফলে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে এটি চারদিকে আগুনের মারাত্মক মরণঘাতী তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয় এবং যেকোনো ভবন, গুহার মুখ ও শক্ত পৃষ্ঠের অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, একটি নির্দিষ্ট ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরণ ঘটানোই এ বোমার মূল উদ্দেশ্য। আরেক সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল নিদাল আবু জাইদ আল-জাজিরাকে জানান, এ বোমা বিস্ফোরণের জন্য মাটিতে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। এর তীব্র বিস্ফোরণ তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের (দশমিক ৬ মাইল) মধ্যের সবকিছু ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। নিদাল আবু জাইদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হতে পারে, এ উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরক ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের স্থলবাহিনীর অবস্থানগুলো ধূলিসাৎ করে দেওয়া। একই সঙ্গে ট্রাম্প আগে যে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, সেখানকার ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোয় আঘাত হানার উদ্দেশ্যও যুক্তরাষ্ট্রের থাকতে পারে। অবশ্য বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার মনে করেন, এ বোমার ধ্বংসক্ষমতা ও বিস্তৃতি কোন ধরনের ভূপ্রকৃতি বা কতটা জনবহুল এলাকায় এটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। মাটির অনেক গভীরে লুকিয়ে থাকা লক্ষ্যের বিরুদ্ধে এটি খুব একটা কার্যকর না–ও হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চায়, তার মধ্যে ফোরদো প্রকল্প ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত। এলিজাহ বলেন, এ বোমার বিশাল বিস্ফোরক অংশটি উন্মুক্ত স্থানে থাকা সেনাদল, সামরিক সরঞ্জাম ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। আফগানিস্তানের অভিযানটি মূলত গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এ বোমার কার্যকারিতা প্রমাণ করে; তবে সব ধরনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার সক্ষমতা এর আছে কি না, তা নিশ্চিত করে না। এমওএবির বিস্ফোরণ মাটির নিচে পৌঁছাতে পারলেও, পাহাড়ি শিলা বা গভীর কংক্রিট ভেদ করার জন্য বোমাটি বিশেষভাবে তৈরি নয়, যা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা করে থাকে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাংকার বাস্টার হলো, জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর। ১৩ হাজার ৬০০ কেজির (৩০ হাজার পাউন্ড বা প্রায় সাড়ে ১৩ টন) এ নিখুঁত নিশানাযোগ্য বোমা তৈরিতে অত্যন্ত শক্তিশালী ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিস্ফোরণের আগে মাটির প্রায় ২০০ ফুট (৬১ মিটার) গভীর পর্যন্ত ভেদ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই এ বোমা ব্যবহার করবে আগেই বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে এ বোমার ব্যবহার করেছে। তবে এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যে সফলভাবে আঘাত হানার অনিশ্চয়তা ছাড়াও ইরানের যেসব অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে, সেখানে এ বোমা বহনের উপযোগী বিমান মোতায়েন করা বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ, ওই ধরনের ভৌগোলিক পরিবেশের জন্য উপযোগী স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো এত বড় আকৃতির বোমা বহন করতে পারে না। এ সামরিক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, বোমাটি ব্যবহার করে অবকাঠামো ধ্বংস করা হলেও ইরানকে কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করা না–ও যেতে পারে। তাঁর মতে, বোমাটি ব্যবহার করলে এমন একটি ‘দৃষ্টিনন্দন ঘটনা’ ঘটতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে খুব সামান্য ফলই বয়ে আনবে। এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, ‘এ বোমা ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করা যেকোনো কমান্ডারের কাছে আমার প্রশ্ন হবে অত্যন্ত সহজ—অস্ত্রটি এমন কী অর্জন করবে, যা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে সম্ভব নয় এবং এ বোমা ব্যবহারের ফলাফল কীভাবে একটি রাজনৈতিক সমঝোতাকে এগিয়ে নেবে?’ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার আরও বলেন, ‘যদি উত্তরটি শুধু বিস্ফোরণের ‘‘নাটকীয় দৃশ্যের’’ ওপরই কেন্দ্র করে হয়, তবে এ প্রস্তাব সামরিক কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক নাটকের জন্যই বেশি উপযুক্ত।’ এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগত আলোচনাগুলোয় চলমান যুদ্ধের একটি ‘চূড়ান্ত’ সমাপ্তি খুঁজছেন, যেটি প্রমাণ করবে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই রয়ে গেছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এমওএবি বোমা দিয়ে হামলা চালানো হলে ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এর জবাবে তেহরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, এমন প্রতিবেশী দেশগুলোও আক্রমণ করতে পারে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য বেশ কয়েক মাস ধরেই কুয়েতের মতো দেশগুলোয় সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করে আসছেন। এর মূল লক্ষ্য হবে মার্কিন সেনাদের বন্দী করে ওয়াশিংটনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। এর আগে গত মে মাসে সংঘাত সাময়িকভাবে থামার সময় কুয়েত অভিযোগ করেছিল, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ সেনারা তাদের বুবিয়ান দ্বীপে অনুপ্রবেশ করেছেন। সে সময় ইরানি ও কুয়েতি বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় এক কুয়েতি নাগরিক আহত ও ইরানের চার সেনাকে বন্দী করা হয়। অবশ্য ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নৌ সেনাদের নেভিগেশন বা দিকনির্ণয় ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ার ফলেই এ ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে গত মঙ্গলবার আইআরজিসির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাগদি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি স্থলপথে কোনো হামলা চালায়, তবে ইরান বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাকে বন্দী করতে পারে। যদিও ইরানের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের স্থল অভিযানের হুমকিকে বরাবরই নাকচ করে এসেছেন। রেজা নাগদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা শুরু করে, তবে তাদের এত সেনা বন্দী হবে যে তারা শেষ পর্যন্ত সাদা পতাকা ওড়াতে (আত্মসমর্পণ করতে) বাধ্য হবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান অস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে, গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো আরও সুরক্ষিত করে এবং মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে পরবর্তী দফা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যদি আবারও শুরু হয়, তবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এই অঞ্চলের ডিজিটাল অবকাঠামোগুলোয় আঘাত হানবে। এর মধ্যে যোগাযোগ কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনা মূল নিশানা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেলবে, ফেললে কী হবে

ইরানের নিখুঁত হামলায় ভীষণ চাপে যুক্তরাষ্ট্র: রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক নিখুঁত হামলা চালিয়েছে ইরান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।  এসব হামলায় তেল রফতানি, গ্যাস উৎপাদন, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানিশোধন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলও জটিল হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত সাতটি দেশে ৮৪টি অবকাঠামোগত স্থাপনায় কমপক্ষে ১৩৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলাগুলোর অনেকগুলোই ছিল নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো। এতে কিছু ক্ষেত্রে পুরো স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, আর কোথাও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তেল ও গ্যাস স্থাপনায় বড় ক্ষতি ইরানের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর। হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত এই বন্দরটি ইরানের অবরোধ এড়িয়ে তেল রফতানির গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্দরটিতে অন্তত ১৯ বার হামলা হয়েছে বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। হামলায় তেল স্থানান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মে মাসের একটি ড্রোন হামলার পর পরিশোধিত জ্বালানি রফতানি প্রায় এক মাস বন্ধ ছিল। পরে কার্যক্রম পুনরুদ্ধার হলেও বারবার হামলায় বন্দরটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। এতে গ্যাস তরল করার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শীতলীকরণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতারএনার্জির প্রধান সাদ আল-কাবির মতে, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রফতানির এই বিকল্প পথে সেপ্টেম্বরের এক হামলার পর অপরিশোধিত তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়ে। বিমানবন্দর, ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হামলা শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। কুয়েতের বিমানবন্দরে আটবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনের একটি স্থাপনায় হামলার ছয় মাস পরও সেবা পুরোপুরি চালু করা যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। আবুধাবির এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়ামের আল তাওয়েলা কারখানায় হামলায় ১ হাজার ২৬২টি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন সেলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আগস্টের শেষ নাগাদ সেগুলোর মাত্র এক-চতুর্থাংশ চালু করা সম্ভব হয়েছিল। স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানিশোধন স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে। মরুভূমিপ্রধান দেশটি পানীয় জলের প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার স্থাপনাগুলোর ওপর নির্ভরশীল। রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে দেশটির আটটি যৌথ বিদ্যুৎ ও পানিশোধন স্থাপনার অন্তত চারটিতে হামলা হয়েছে। সৌদি আরবের তেল উৎপাদনে ধাক্কা সৌদি আরবের নয়টি বৃহত্তম শোধনাগারের পাঁচটি এবং তিনটি বড় তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসের বেশির ভাগ সময় দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ৭০ লাখ ব্যারেলের নিচে ছিল। যুদ্ধের আগে উৎপাদন ছিল দৈনিক এক কোটির বেশি ব্যারেল। এতে বর্তমান দরে সৌদি আরবের ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব হারানোর হিসাব দিয়েছে রয়টার্স। দেশটির জাজান শোধনাগারেও জুলাইয়ের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত অন্তত চারবার হামলা হয়। হামলার পর শোধনাগারটির উৎপাদন শূন্যে নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের নিখুঁত লক্ষ্যভেদ নিয়ে উদ্বেগ রয়টার্স ৩৬ জনের সাক্ষাৎকার, স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও এবং সরকারি বিবৃতি বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধানটি তৈরি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর শিল্পবিশেষজ্ঞ ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জনের মূল্যায়ন ছিল, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতি কেবল আকাশ থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়ে হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকার অনেক ঘটনায় দাবি করেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি দেশে হামলার পরের ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংবেদনশীল স্থাপনার নকশা ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিল বলে কয়েকজন কর্মকর্তা ধারণা করছেন। রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও মার্কিন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন; তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এই ধারাবাহিক হামলা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। ফলে সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, তা নতুন করে সামনে এসেছে। সূত্র: রয়টার্স

ইরানের নিখুঁত হামলায় ভীষণ চাপে যুক্তরাষ্ট্র: রয়টার্স

ওপেনএআইয়ে আড়ি পাতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সৌদি প্রকৌশলী

ওপেনএআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে গোপনে আড়ি পাতার অভিযোগে অভিযুক্ত সৌদি নাগরিক আবদুলরহমান আলফোজান গ্রেপ্তারের আগে সৌদি আরবে যাওয়ার একমুখী টিকিট কেটেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা আদালতে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার প্রকাশ করা আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল আলফোজানের। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ও পরিবারের আরেক সদস্যেরও যাওয়ার কথা ছিল। ৩৫ বছর বয়সী আলফোজান ওপেনএআইয়ের প্রকৌশলী ছিলেন। প্রায় ১৫ মাস কাজ করার পর গত সপ্তাহে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকোর প্রধান কার্যালয়ের একটি সম্মেলনকক্ষে গোপন শ্রবণযন্ত্র পাওয়া যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এরপর ৯ অক্টোবর আলফোজানকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। আলফোজানের বিরুদ্ধে গোপনে মানুষের কথোপকথন শোনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কাজে তিনি ইলেকট্রনিক, যান্ত্রিক বা অন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহার করেছেন কিংবা তা করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ৮ অক্টোবর আলফোজানের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি অভিযোগটি গোপন রাখার আবেদন করেন কৌঁসুলিরা। এ সময় তাঁরা বিচারককে সৌদি আরবে যাওয়ার টিকিট কাটার বিষয়টি জানান। তাঁদের যুক্তি, আলফোজানের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালানোর ‘সামর্থ্য আছে এবং পালানোর প্রণোদনাও তৈরি হতে পারে’। আলফোজানের আইনজীবী উইলিয়াম পারনিক বলেছেন, তাঁর মক্কেল আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন। তাঁকে আটক রাখার সিদ্ধান্তও চ্যালেঞ্জ করবেন। পারনিক আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে নানা বয়ান সত্ত্বেও আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা আমাদের মক্কেলের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করবে। আমাদের মক্কেল একজন সম্মানিত পেশাজীবী। এই সমাজের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।’ পারনিক আরও বলেন, ‘আইন অনুযায়ী, আলফোজান নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ন্যায়সংগত আচরণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকারও তাঁর আছে।’ আইনজীবীর অভিযোগ, আলফোজানের জাতীয় পরিচয়কে সামনে রেখে তাঁকে অবিশ্বস্ত বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এ প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘অন্ধকার অধ্যায়গুলোর’ কথা মনে করিয়ে দেয়। এ ধরনের ধারণার বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতে লড়বেন। আলফোজানের গ্রেপ্তারের ঘটনা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান গুপ্তচরবৃত্তি ও শিল্পগুপ্তচরবৃত্তির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) এগিয়ে থাকার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে এ উদ্বেগ সামনে এসেছে। লিংকডইনে আলফোজানের নামে থাকা একটি প্রোফাইল অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মেটায় সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে মাইক্রোসফটেও ইন্টার্নশিপ করেছেন। রিয়াদভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান রায়েদ ভেঞ্চারসেও আলফোজানকে ভেঞ্চার পার্টনার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্য অংশীদারদের মধ্যে সৌদি রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স খালিদ বিন বাদার আল সৌদও রয়েছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলফোজানের নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল রায়েদ ভেঞ্চারস। তখন প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে প্রযুক্তি স্টার্টআপ খাতে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবী হিসেবে বর্ণনা করে। রায়েদ ভেঞ্চারস জানায়, সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বের করা হবে আলফোজানের কাজ। পাশাপাশি স্টার্টআপগুলোকে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতেও সহায়তা করবেন তিনি।

ওপেনএআইয়ে আড়ি পাতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সৌদি প্রকৌশলী

তিন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করলো আমেরিকান এয়ারলাইন্স

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যাত্রী মন্দার কারণে এ বছর তিনটি প্রধান গন্তব্যে ফ্লাইট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইন্স। এই তালিকার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম দীর্ঘতম দূরত্বের নন-স্টপ ফ্লাইটও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক এই এয়ারলাইন্সটি চলতি বছরে তাদের অভ্যন্তরীণ একটি এবং আন্তর্জাতিক দুটি রুটে সেবা বন্ধের ঘোষণা দেয়। বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়া (এসএমএক্স) এবং গত আগস্টে মেক্সিকোর টিজুয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালানো বন্ধ করে সংস্থাটি। তবে তাদের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল কাতারের দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেবা স্থগিত করা। মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং আশানুরূপ ব্যবসা না হওয়ায় গত মার্চে ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দোহার ১৪.৫ ঘণ্টার দীর্ঘ নন-স্টপ সেবাটি বাতিল করে সংস্থাটি। ৬ হাজার ৭৯৮ মাইলের এই রুটটি ফিলাডেলফিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া দীর্ঘতম ফ্লাইট ছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের জোট সঙ্গী কাতার এয়ারওয়েজ আগস্ট থেকে ফিলাডেলফিয়া-দোহা রুটে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। মূলত ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক রুট বন্ধে একা আমেরিকান এয়ারলাইন্সই নয়; সেবা স্থগিত করেছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর থেকে তাবিভগামী ফ্লাইট বন্ধ করেছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্স, যা ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক অলাভজনকতার কারণে ফিনিক্স থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়ায় অভ্যন্তরীণ রুট দুটি বন্ধ করা হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত চলা সান্তা মারিয়া রুটটি পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তিনটি রুট বন্ধ করলেও ২০২৭ সাল থেকে নতুন সাতটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট শুরুর কথা জানিয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে ফিলাডেলফিয়া থেকে পর্তুগালের পোর্তো, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক রুটে নতুন করে সেবা যুক্ত হতে যাচ্ছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

তিন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করলো আমেরিকান এয়ারলাইন্স

ইরানের হয়ে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, জার্মানিতে দু’জনের কারাদণ্ড

ইসরায়েলপন্থী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করার দায়ে দুই ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দিয়েছেন জার্মানির একটি আদালত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে তারা জার্মানিতে এসব হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দু’জনের একজন ডেনমার্কের নাগরিক আলী এস। তাকে আট বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সহযোগী আফগানিস্তানের এক নাগরিককে চার বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গুপ্তচরবৃত্তি ও হত্যাচেষ্টার দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। জার্মানির কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেনমার্কের নাগরিক আলী এস ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অভিজাত শাখা কুদস ফোর্সের নির্দেশে কাজ করতেন। তবে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা এবং ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইরানের কথিত গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ রায় এল। ইউরোপের একাধিক দেশ অভিযোগ করেছে, তাদের ভূখণ্ডে বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনার পেছনে তেহরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে ইরান অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগে চলতি মাসেই যুক্তরাজ্যে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে উত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনাও ইউরোপে ইহুদি সম্প্রদায় ও ইসরায়েলপন্থী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জার্মানির এ রায় এমন এক সময়ে এল, যখন ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের কথিত গোয়েন্দা তৎপরতা ও সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং তেহরানের অস্বীকৃতি- দুই বিষয়ই কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের হয়ে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, জার্মানিতে দু’জনের কারাদণ্ড

ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের হাতে আর কী কী সামরিক বিকল্প আছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক শক্তি পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে দুই দেশের সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক উত্তেজনা কমার লক্ষণ নেই। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের সঙ্গে অচলাবস্থা ভাঙতে ট্রাম্পের হাতে সামরিক বিকল্প কী রয়েছে এবং প্রতিটি পদক্ষেপের সম্ভাব্য মূল্য কতটা? কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে সামরিক বিশেষজ্ঞদের বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে প্রধানত তিনটি পথ রয়েছে- ইরানের ওপর নৌ অবরোধ ও চাপ অব্যাহত রাখা, নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করা এবং সীমিত স্থল অভিযান চালানো। তবে প্রতিটি বিকল্পেরই রয়েছে উল্লেখযোগ্য সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি। যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে পরবর্তী মাসগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলো ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অন্তত ২০ শতাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। যুদ্ধ শুরুর আগের দিন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার। পরে তা বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। গত বৃহস্পতিবার দাম ছিল প্রায় ১০৪ ডলার। জুনে হওয়া যুদ্ধবিরতি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে ভেঙে পড়ে। এরপর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা চললেও গত মাসে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্যের লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সাবেক কর্মকর্তা আফজাল আশরাফ আল-জাজিরাকে বলেন, সামরিক সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের তুলনা চলে না। কিন্তু সেই বিপুল সক্ষমতা কাজে লাগিয়েও ওয়াশিংটন কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। বিকল্প এক: নৌ অবরোধ ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত এ পথেই এগোনোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজকে নৌবাহিনীর পাহারা দিতে পারে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। এগুলোতে গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। মার্চে প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই চলাচল ভেঙে পড়ে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় সেপ্টেম্বরে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল পরিবহন যুদ্ধপূর্ব মাত্রার ৮১ শতাংশের বেশি হয়েছিল। তবে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর প্রণালি দিয়ে মাত্র ২৯ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়, যা ওই মাসের সর্বনিম্ন। বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ন্যাটোর সাবেক গবেষণা বিশ্লেষক প্যাট্রিক বুরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে টহল ও নজরদারি বাড়িয়ে জাহাজগুলোকে কিছুটা নিরাপত্তা দিতে পারে। ড্রোনের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও হামলা চালানোয় ব্যয় তুলনামূলক কম হচ্ছে। তবে ইরানও কৌশল বদলেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে জাহাজে ১৫টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম খরচে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারছে তেহরান। বিকল্প দুই: নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নির্বাচনের পর ইরানে বোমা হামলা বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি ট্রাম্প। পরিস্থিতির অবনতি হলে ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও দেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে নতুন হামলা চালানো হতে পারে বলে মনে করেন প্যাট্রিক বুরি। তবে আগের হামলার তুলনায় এবার কম ফল পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আফজাল আশরাফের মতে, ইরান অস্ত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনলেও সেগুলো আরও ভালোভাবে আড়াল করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে এসেছে। ইরানের তুলনামূলক সস্তা একটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি দামের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। যুদ্ধ চলাকালে ইরানের বিরুদ্ধে এক হাজারের বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের (সিএসআইএস) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের মজুত পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে ২০৩০ সালের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত আগের পর্যায়ে ফেরাতেও তিন থেকে চার বছর লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন প্যাট্রিক বুরি। নতুন হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত মাসে ঘোষণা করেন, ‘সমানুপাতিক জবাবের’ যুগ শেষ হয়েছে। এছাড়া নতুন সংঘাতের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিকল্প তিন: খার্গ দ্বীপে সীমিত স্থল অভিযান ইরানের তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয় খার্গ দ্বীপ দিয়ে। দেশটির উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপ দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প। সাবেক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডপ্রধান জোসেফ ভটেল বলেছেন, ৮০০ থেকে ১ হাজার সেনা দিয়ে দ্বীপটি দখল করা সম্ভব হতে পারে। তবে মূল ভূখণ্ড থেকে ইরানি বাহিনীর হামলার মুখে মার্কিন সেনারা অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়বেন। আশরাফের মতে, ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে অভিযান শুরু করা সম্ভব। কিন্তু দ্বীপ দখলের পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের হামলার ঝুঁকি থাকবে। পাল্টা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অবকাঠামোতেও হামলা চালাতে পারে তেহরান। ইতোমধ্যে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঝুঁকি রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে। এ কারণে খার্গ দ্বীপ দখলকে অত্যন্ত অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন আশরাফ। পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধের সম্ভাবনা কম বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা আরও কম। ট্রাম্পও স্থলযুদ্ধের বিষয়টি অনেকটাই নাকচ করেছেন। মার্চে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, লক্ষ্য অর্জনে স্থলসেনার প্রয়োজন হবে না। প্যাট্রিক বুরির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এমন অভিযান চালানো বাস্তবসম্মত নয়। বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের ব্যয় ও ঝুঁকি ওয়াশিংটনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। নির্বাচনের হিসাব ও আঞ্চলিক অস্থিরতা যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় নতুন সামরিক অভিযানের রাজনৈতিক মূল্যও তাকে বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদে শক্তি পুনরুদ্ধার করাও বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিও তত বাড়বে। রবিবার ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে পরিচালিত জাহাজ চলাচলের উদ্যোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতেই হামলা চালাচ্ছে তেহরান। তার ভাষায়, “আপনারা চোরাচালান করছেন, কিন্তু প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে।” তাই বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সামরিক চাপ বাড়ানোর একাধিক পথ থাকলেও কোনওটিই সহজ সমাধান দিচ্ছে না। নৌ অবরোধে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে, নতুন হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও চাপে পড়তে পারে, আর স্থল অভিযান ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি ও রাজনৈতিক সংকট। ফলে ট্রাম্পের জন্য সামরিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের হাতে আর কী কী সামরিক বিকল্প আছে?

১৪ বছরের কম বয়সীদের স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করলো ফ্লোরিডা

ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা রাজ্য আইন কার্যকর করার অনুমতি ফ্লোরিডাকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। আইনটি মার্কিন সংবিধানের বাক্স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করে বলে প্রযুক্তি শিল্প সংগঠনগুলোর দাবি খারিজ করেছেন আদালত। বুধবার এ রায় প্রদান করা হয়। আটলান্টাভিত্তিক ১১তম যুক্তরাষ্ট্র সার্কিট আদালতের তিন বিচারকের প্যানেল সর্বসম্মত রায়ে নিম্ন আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে। এই নিষেধাজ্ঞায় এইচ.বি. ৩ নামে পরিচিত আইনটি আটকে ছিল। আদালত বলেছে, আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাইটে থাকা বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করে না, তাই এটি প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া সার্কিট বিচারক কেভিন নিউজম রায়ে লেখেন, এইচবি৩ প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর প্রযোজ্য হয়, সেখানে আলোচিত বিষয় বা প্রকাশিত ধারণা ও বার্তা বিবেচনায় না নিয়েই। ইনস্টাগ্রামের মতোই ট্রুথ সোশ্যালও এইচবি৩-এর আওতায় পড়ার সম্ভাবনা রাখে। আইনটির পক্ষে লড়া ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ারের প্রতিনিধিরা মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি। আইনটিতে ভিডিও অটোপ্লে ও ইনফিনিট স্ক্রলের মতো তথাকথিত আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচার থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট খুলতে দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেটা প্ল্যাটফর্মস, টিকটক ও স্ন্যাপকে সদস্য হিসেবে পাওয়া প্রযুক্তি শিল্প সংগঠন নেটচয়েস এবং কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ২০২৪ সালে আইনটি আটকাতে মামলা করেছিল। বুধবারের রায়ের পর এক বিবৃতিতে নেটচয়েস লিটিগেশন সেন্টারের পরিচালক পল বলেন, ফ্লোরিডাবাসীর অনলাইনে মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এবং পরিবারের সিদ্ধান্তে অভিভাবকেরা যেন নিয়ন্ত্রণে থাকেন তা নিশ্চিত করতে লড়াই চালিয়ে যেতে তারা সব বিকল্প বিবেচনা করছেন।

১৪ বছরের কম বয়সীদের স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করলো ফ্লোরিডা

ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের: সিএনএন

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে ‘মাদার অফ অল বোম্বস’ (সব বোমার মা) ব্যবহারের সম্ভাবনা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন, তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলে এই বিষৎয়ে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হলে তা পরিস্থিতির এক চরম অবনতি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি ঘটাবে। তবে অভ্যন্তরীণ সামরিক পরিকল্পনা ও আলোচনা বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন বা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে এই শক্তিশালী বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে খোদ সামরিক বাহিনীর ভেতরেই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আমেরিকান জনগণের কাছে গভীরভাবে অপ্রিয় হয়ে ওঠা এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইতি টানতে ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র মানসিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। টানা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের পরও দুই দেশ কোনো সমঝোতামূলক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে, এমন কোনো স্পষ্ট আলামত মিলছে না। এদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বা অসন্তোষ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্রাম্পকে ইরানের বিভিন্ন দূরবর্তী ও অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নতুন নতুন বিকল্প পথ বাতলে দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু হোয়াইট হাউসের কাছে এমন কোনো সুস্পষ্ট বা সমন্বিত কৌশল আছে কি না, যা এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে; তা নিয়ে কিছু সামরিক কর্মকর্তা আড়ালে সংশয় প্রকাশ করে চলেছেন। তারা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যুদ্ধ থামানোর চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল প্রেসিডেন্টের হাতেই নিবন্ধিত। মাসের পর মাস ধরে ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা এমন কিছু বিকল্প খুঁজছেন যা অন্তত প্রচারণার দিক থেকে যুদ্ধের এক চূড়ান্ত এবং সম্মানজনক সমাপ্তি এনে দেবে। যুদ্ধের তীব্র জনপ্রিয়তা হ্রাসের বিষয়টি তারা স্পষ্ট অনুধাবন করতে পারছেন। যদিও প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দাবি করছেন যুদ্ধ মূলত যুক্তরাষ্ট্রই জিতেছে, তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে ট্রাম্পকে কিছুটা সতর্ক দেখা গেছে। তিনি সরাসরি পূর্ণ বিজয়ের ঘোষণা না দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়ে গেছে। পর্দার আড়ালে ট্রাম্প তার সেই সব বাইরের মিত্রদের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যারা তাকে অবিলম্বে মার্কিন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিষয়টির ইতি টানার পরামর্শ দিচ্ছেন। ট্রাম্পের যুক্তি, কোনো চূড়ান্ত ফল ছাড়া এভাবে সেনা প্রত্যাহার করে নিলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরাজয়ের শামিল বলে মনে হবে। গত কয়েক সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা ইরান পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক বৈঠক করেছেন। যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপে যাবেন না, তবে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগের এই ঘোষণার ওপর কতটা ভরসা রাখা যায় বা নির্বাচনের দিনটির আগেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলে যাবে কি না, তা নিয়ে তারাও নিশ্চিত নন। সূত্র: সিএনএন বিডি প্রতিদিন/এনএইচ  

ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের: সিএনএন

অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা আ.লীগের ‘চরিত্র’ উন্মোচিত করেছে: নাহিদ ইসলাম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেছেন। গত সোমবার নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হেয়ার’, ‘গো ব্যাক’সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই। দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলের গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে। বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ আরও বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তাঁদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্পচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তা–ই করা হবে।

অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা আ.লীগের ‘চরিত্র’ উন্মোচিত করেছে: নাহিদ ইসলাম

ইলহান ওমরের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ফেডারেল অপরাধ তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইলহান ওমর বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে তাকে ‘চুপ করানো যাবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে ওমরের বাড়ির বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) সদস্যদের দেখা গেছে। বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বিচার বিভাগের নেওয়া অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এটি চলমান একটি কেন্দ্রীয় অপরাধ তদন্তের অংশ। তবে কী অভিযোগে তল্লাশি পরোয়ানা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিচার বিভাগ। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে। শৈশবে তার প্রয়াত বাবা এসব কাগজপত্র পূরণ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনইরানকে সহায়তা করছে চীন-রাশিয়া, বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইলহান ওমরের পরিবারের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার এবং নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর কথাও বলেছেন তারা। তবে ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সোমবার তল্লাশি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তদন্তের বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ার। ওমর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাকে খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে ওমরকে ‘অসৎ’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ওমর বলেন, ‘আমি ভালো আছি। ভুল বুঝবেন না, রাজনৈতিক শত্রুদের নিশানা করা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা এটি।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তাকে নিশানা করেছেন। ওমরের ভাষায়, ‘এটি তার রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের প্রচারণার সর্বশেষ ধাপ। আমাকে চুপ করানো যাবে না।’ গত কয়েক মাসে ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা কথা বলেছেন। গত শনিবার এক সমাবেশে ওমরকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ওমর তার ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া উচিত। অভিযোগটি ছিল, ওমর তার সাবেক স্বামীকে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র পেতে সহায়তা করার জন্য ভুয়া বিয়ে করেছিলেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ওমর দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত মার্চে ভ্যান্স ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমের এক ব্যক্তিত্বকে বলেছিলেন, তাদের ধারণা ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের সঙ্গে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলার কথাও জানান তিনি। গত মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেন, তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে কিছু একটা ঘটবে। মুলিন অভিযোগ করেন, ওমর তার ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে বিয়ে করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তদন্তের বিষয়ে বক্তব্য দিলেও তদন্তের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তল্লাশির ভিত্তি এখনো স্পষ্ট নয়। ইলহান ওমর ২০১৯ সালে রাশিদা তালিবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হিসেবে দায়িত্ব নেন। সোমালি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের আক্রমণের মুখে পড়েছেন।

ইলহান ওমরের বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশি

যুক্তরাষ্ট্রে রোলারকোস্টার দুর্ঘটনায় নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া বিনোদন পার্কে সোমবার রোলারকোস্টার দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটলান্টা থেকে প্রায় ১৫ মাইল বা ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পার্কটিতে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কব কাউন্টি পুলিশ বিভাগ। বিবিসির সংবাদ সহযোগী সিবিএসের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাননি। পুলিশ কোন রাইডে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা-ও নিশ্চিত করেনি। তবে সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ফুটেজে ‘গোলিয়াথ’ নামের রোলারকোস্টারটি মাঝপথে থেমে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় কর্মীরা আরোহীদের নিচে নামতে সহায়তা করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিকে রাইড থেকে ছিটকে পড়তে দেখেছেন। তবে এ তথ্য বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১১অ্যালাইভের প্রতিবেদনে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি রোলারকোস্টার থেকে পার্কের একটি ভৌতিক বাড়ির ছাদের ওপর পড়ে গিয়েছিলেন। সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পার্কে এক দর্শনার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত। নিহত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পার্কের এক মুখপাত্র বলেন, তাদের কর্মী দল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে সাড়া দিয়েছে। ঘটনার তদন্তে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছেন। ম্যাবলটনের মেয়র মাইকেল ওয়েনস জানিয়েছেন, শহরের জননিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক স্থানীয় পুলিশ ও পার্কের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।  পার্কের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০০৬ সালে চালু হওয়া গোলিয়াথ রোলারকোস্টারটির উচ্চতা ২০০ ফুট বা ৬০ মিটার। এতে রয়েছে ১৭০ ফুটের খাড়া পতন, ৫৪০ ডিগ্রির স্পাইরাল এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ মাইল বা ১১২ কিলোমিটার গতিতে চলার সক্ষমতা। সিক্স ফ্ল্যাগসের রোমাঞ্চের মাত্রা নির্ধারণী ‘থ্রিল স্কেল’-এ রাইডটিকে পাঁচের মধ্যে চার নম্বর স্তরে রাখা হয়েছে। সিক্স ফ্ল্যাগস উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ বিনোদন পার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে প্রতিষ্ঠানটির ২০টি বিনোদন পার্ক, ১৪টি ওয়াটার পার্ক ও নয়টি রিসোর্ট রয়েছে। এ ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সিক্স ফ্ল্যাগসের একটি পার্কে জনপ্রিয় ‘এক্স২’ রোলারকোস্টার বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই রাইডে চড়ার পর শতাধিক ব্যক্তি মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। সিক্স ফ্ল্যাগস জানিয়েছিল, রাইডটি বিভিন্ন নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সেটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের বিবেচনায় এটিই ছিল সঠিক পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রে রোলারকোস্টার দুর্ঘটনায় নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় মাস্কের

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জুলাইয়ের পর থেকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এ নিয়ে চলতি নির্বাচনী চক্রে তার মোট রাজনৈতিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনাও বেড়েছে। নির্বাচনী অর্থায়নের নথিপত্র অনুযায়ী, মাস্কের এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের খবর আগেই প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি বছরের নির্বাচনী লড়াইয়ে এককভাবে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দাতা হিসেবে তার নাম উঠে এসেছে। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পাওয়া সরকারি চুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। ফলে মাস্কের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থও আলোচনায় এসেছে। মাস্কের সুপার প্যাক আমেরিকা প্যাকের একজন মুখপাত্র তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের হিসাব নিশ্চিত করেছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্বাচনী চক্রে জুলাইয়ের পর থেকে দেওয়া ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সিনেটে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী জয়ে সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত এই সুপার প্যাকটি সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর ও সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের সহায়তায় গঠিত কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার। এটি লুইজিয়ানার রিপাবলিকান ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মাস্কের নিজস্ব আমেরিকা প্যাক পেয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার। টেক্সাসে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মার্কিন সিনেট নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্যাক্সটনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার অনেক সুপার প্যাকের তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় মাস্কের নতুন অনুদানের তথ্যও জনসমক্ষে আসবে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করে না—এমন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমেও অর্থ দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্রের ভাষ্য, চলতি নির্বাচনী চক্রে ব্যয় করা প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ আগের নির্বাচনের কার্যক্রম বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উইসকনসিন সুপ্রিম কোর্টের এক ব্যর্থ প্রার্থীর জন্য সহায়তা এবং বিতর্কিত একটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বাক্‌স্বাধীনতা ও বন্দুক রাখার অধিকারের সমর্থনে পিটিশনে স্বাক্ষরকারী নিবন্ধিত ভোটারদের ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর আগের নির্বাচনী চক্রে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সময় মাস্ক প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় মাস্কের

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে ড. ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তোপের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে লক্ষ্য করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও মন্তব্য করেন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসী। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। সোমবার কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে নানা মন্তব্য করছেন কয়েকজন প্রবাসী। তাদের মুখে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’, ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’ এবং ‘ইউ কিল্ড থাউজেন্ডস অব পুলিশ’—এ ধরনের বক্তব্য শোনা যায়। ভিডিওতে দেখা যাওয়া ঘটনার পর নিরাপত্তাকর্মীরা ড. ইউনূসকে দ্রুত সেখান থেকে নিয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদও দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে চলে যান বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি। তবে এ ঘটনায় জড়িত প্রবাসীদের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিডি-প্রতিদিন/শআ

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে ড. ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। সোমবার সকালে একটি চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। তবে তদন্তের সুনির্দিষ্ট বিষয় এবং তল্লাশির পর কী পাওয়া গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) বিচার বিভাগের অনুমোদন নিয়ে আদালতের জারি করা তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেছে। এটি একটি চলমান কেন্দ্রীয় তদন্তের অংশ। ফক্স নিউজের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এইচএসআই লেখা জ্যাকেট পরা কয়েকজন কর্মকর্তাকে ইলহান ওমরের বাসভবন বলে চিহ্নিত একটি স্থানে দেখা যায়। তল্লাশির বিষয়ে ইলহান ওমরের কার্যালয়, বিচার বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ সাড়া দেয়নি। শৈশবের অভিবাসন নথি নিয়ে তদন্ত ফক্স নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের বাবা তার শৈশবে যে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র পূরণ করেছিলেন, সেগুলো পরীক্ষা করছেন। তবে তদন্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ইলহান ওমরের পরিবারের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। এমনকি তার মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল এবং তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইলহান ওমর বরাবরই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। তিনি ২০১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন। একই বছর রাশিদা তালিবের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তদন্ত নিয়ে আলোচনা ইলহান ওমরকে তদন্তের আওতায় আনার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরেই ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। শনিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে ইলহান ওমরকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের লোকজন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। এ সময় তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কথাও উল্লেখ করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, ইলহান ওমর তার ভাইকে বিয়ে করেছিলেন। তার দাবি, ওই বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল সাবেক স্বামীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ করে দেওয়া। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। এর কয়েক দিন পর ট্রাম্পের সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যান বলেন, ইলহান ওমরকে ঘিরে নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, অভিবাসনসংক্রান্ত সম্ভাব্য জালিয়াতির বিষয়টি এইচএসআইয়ের একজন তদন্তকারী খতিয়ে দেখবেন। গত মার্চে ভ্যান্স ডানপন্থী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বেনি জনসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাদের ধারণা ইলহান ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলারের সঙ্গে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলার কথাও জানান তিনি। গত মাসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েন মুলিনও বলেন, ইলহান ওমরকে নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি হোম্যান। তিনি বলেন, চলমান ফৌজদারি তদন্ত নিয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়; এইচএসআইকে তদন্ত চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত। সাবেক স্বামীকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ ইলহান ওমরকে নিয়ে বিতর্কের অন্যতম বিষয় তার সাবেক স্বামী আহমেদ নুর সাইদ এলমিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ। ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের দাবি, এলমি আসলে ইলহান ওমরের ভাই এবং তাকে অভিবাসনের সুবিধা দিতে বিয়ের নাটক করা হয়েছিল। ইলহান ওমর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইলহান ওমর ও এলমির বিচ্ছেদ হয় ধর্মীয় রীতিতে কয়েক বছর আগে। পরে ২০১৭ সালে তাদের আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসন জালিয়াতি গুরুতর অপরাধ হলেও এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচ বছরের তামাদি মেয়াদ রয়েছে। গত মাসে নিউইয়র্ক পোস্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ অভিবাসন কর্মকর্তার বরাতে জানায়, ইলহান ওমর বা তার বাবা অভিবাসন আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকলে পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রশাসন তার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। ইলহান ওমরের বয়স এবং তার বাবার পেশাগত পরিচয় নিয়েও ওই প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশির ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগ আরও জোরালো হতে পারে। ট্রাম্পের সমালোচকদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের অভিযোগ তার দ্বিতীয় মেয়াদে বারবার সামনে এসেছে। সোমবারের তল্লাশি সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে। তবে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর হওয়া মানেই ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তের ফলাফল এবং কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপরই বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে। সোমালি-আমেরিকানদের নিয়েও ট্রাম্পের আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রে সোমালি বংশোদ্ভূত সবচেয়ে পরিচিত রাজনীতিকদের একজন ইলহান ওমর। তাকে ঘিরে ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তার মন্তব্যও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবারের সমাবেশে ট্রাম্প সোমালিয়াকে অপরাধ ও দুর্দশায় পূর্ণ দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ইঙ্গিত দেন, মার্কিন সংবিধান ইলহান ওমরের জন্য নয়। এর দুই দিন আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, মিনেসোটা সোমালি অভিবাসীদের দখলে চলে যাচ্ছে। অথচ ওই অঙ্গরাজ্যের সোমালি-আমেরিকানদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গত ডিসেম্বরে সোমালি বংশোদ্ভূতদের ‘আবর্জনা’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে বলেছিলেন। এসব বক্তব্যের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মনোভাব উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এখন ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশির ঘটনায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তদন্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream