ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
২৫০ শয্যার মাগুরা হাসপাতালে রোগী ছাড়িয়েছে ৭০০, মেঝেতেও ঠাঁই নেই

২৫০ শয্যার মাগুরা হাসপাতালে রোগী ছাড়িয়েছে ৭০০, মেঝেতেও ঠাঁই নেই

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন গুণে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এর সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, ডেঙ্গু, হাম, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন শিশু এবং ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মেঝেতেও জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অসুস্থ শিশুদের কান্না, স্বজনদের উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে হাসপাতালজুড়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডগুলোতে গরমের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের কষ্ট বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা জানান, শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। কোনো কোনো রোগীকে একাধিক তলায় ঘুরে মেঝেতে জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা পেলেও শয্যাসংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রোগীর স্বজন তানিয়া খাতুন বলেন, 'এত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। তারপরও কিছু করার নেই। বাচ্চাকে সুস্থ করতে হলে এই কষ্ট মেনে নিয়েই থাকতে হচ্ছে।' মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহোসিন উদ্দীন ফকির বলেন, হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে ২৫০টি। কিন্তু বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৭০০ জনেরও বেশি। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় প্রায় তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরপরও রোগীদের শতভাগ সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৬ রোগী

হবিগঞ্জে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হাম আক্রান্ত ১১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অথচ হাম ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ২০টি। ফলে শয্যার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ রোগী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩ হাজার ৯৮৭ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৬১ জন। গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে ১০৩ জনকে। হঠাৎ হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও সিঁড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। অনেককে মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। এ ছাড়া সময়মতো চিকিৎসক ও নার্সদের পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। রোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়। নার্সদের কাছে কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে অনেক সময় তাঁরা যথাযথ সাড়া দেন না। কেউ কেউ রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার বলেন, হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক সময় তা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

হবিগঞ্জে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৬ রোগী
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream