খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় আইসিটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে সার্ভার কক্ষে রাখা ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় আইসিটি কক্ষে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ রানা বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তদন্ত ছাড়া আগুনের সূত্রপাতের কারণ বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে জানতে খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের ওষুধ উৎপাদন কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়ম বুধবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একই কর্মস্থলে একটানা তিন বছরের বেশি চাকরি করলে কর্মচারীরা বদলিযোগ্য হবেন। তবে প্রশাসনিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না। গত ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নি-১ শাখা থেকে ‘অগ্নি নির্বাপণ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের কর্মচারীগণের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ২০২৩ সালের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা (সংশোধিত ২০২৪) রহিত করা হয়েছে। অধিদপ্তরের অস্থায়ী ও স্থায়ী পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অন্যত্র প্রেষণ বা লিয়েনে নিয়োজিত কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এর শর্ত প্রযোজ্য হবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক, আউটসোর্সিং বা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নীতিমালার শর্ত মানার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। নীতিমালায় বলা হয়েছে, পঞ্চম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন মন্ত্রণালয় নিষ্পত্তি করবে। ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ দায়িত্ব পালন করবে অধিদপ্তর। বদলির আবেদন বিবেচনায় জ্যেষ্ঠতা, শৃঙ্খলা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ১২তম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো কর্মচারীকে নিজ জেলায় বদলি বা পদায়ন করা যাবে না। তবে ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিজ উপজেলা বাদে নিজ জেলার মধ্যে স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি দপ্তর বা স্টেশনে পদায়ন করা যাবে। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে, নিজ বিভাগের অন্য জেলায় এবং সেখানে সম্ভব না হলে পার্শ্ববর্তী বিভাগের স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি দপ্তর বা স্টেশনে বদলি করা যাবে। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি কর্মরত থাকলে সাধারণভাবে বদলিযোগ্য হবেন কর্মচারীরা। এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং হাওর, দ্বীপ ও চর উপজেলায় স্থায়ী অধিবাসী নন, এমন কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ দুই বছরের বেশি হলে বদলি বা পদায়নের বিধান রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে এসব মেয়াদসংক্রান্ত শর্ত প্রযোজ্য হবে না। স্টেশন অফিসার বা সমমানের পদ থেকে তদূর্ধ্ব পদের কর্মচারীদের নিজ জেলায় বদলি বা পদায়ন করা যাবে না। তবে মহানগর বা সিটি করপোরেশন এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে সমগ্র চাকরিজীবনে একজন কর্মচারীকে সর্বোচ্চ দুইবার এ ধরনের বদলি বা পদায়ন করা যাবে। জনস্বার্থে বদলির ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় যেকোনো দপ্তর বা স্টেশনে কর্মচারীকে বদলি বা পদায়ন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ বদলির শর্ত প্রযোজ্য হবে না। তবে প্রশাসনিক কারণে বদলি করা হলে তিন বছরের মধ্যে বদলি বা পারস্পরিক বদলির জন্য আবেদন করা যাবে না। নিজস্ব স্বার্থে বদলির ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সুবিধাও রাখা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুজন চাকরিজীবী হলে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই কর্মস্থলে বা কাছাকাছি জেলা কিংবা উপজেলায় পদায়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। কর্মচারী নিজে অথবা তার বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী কিংবা সন্তানের দুরারোগ্য ব্যাধির ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুবিধার্থে উপযুক্ত স্থানে বদলি বা পদায়নেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অবসরোত্তর ছুটি শুরু হতে ১৩ মাসের কম সময় বাকি থাকলে জনস্বার্থ বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে অত্যাবশ্যক না হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী দায়িত্ব পালনে অনুপযুক্ত বা অক্ষম বিবেচিত না হলে আবেদন ছাড়া অন্য কর্মস্থলে বদলি করা যাবে না। পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধার জন্য অবসরোত্তর ছুটি শুরুর ১৩ মাস আগে নিজ জেলা বা আবেদিত জেলায় বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জনস্বার্থ ব্যাহত হওয়ার বা প্রশাসনিক অসুবিধা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে এসব সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। মানবিক বা অন্য কোনো কারণে বদলি বা পদায়নের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য মহাপরিচালকের কাছে সমগ্র চাকরিজীবনে অবসর ব্যতীত সর্বোচ্চ দুইবার আবেদন করা যাবে। একই পদে কর্মরত দুজন কর্মচারীর সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড ও উভয়ের সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকলে পারস্পরিক বদলির সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ বদলি ও পদায়নের শর্তও অনুসরণ করতে হবে। নবনিযুক্ত কর্মচারীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে জনবলস্বল্পতাসম্পন্ন বিভাগে পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পদায়নের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে হবে। অন্যদিকে, লিয়েন, প্রেষণ বা শিক্ষাছুটি শেষে অধিদপ্তরে যোগদান করলে পূর্বের কর্মস্থল ছাড়া অন্যত্র পদায়ন করতে হবে। শিক্ষাছুটি থেকে ফেরা কর্মচারীদের অর্জিত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অধিদপ্তরের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা, বিশেষায়িত ইউনিট পরিচালনা এবং অপারেশনাল ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে কোনো কর্মচারীকে এক বছরের জন্য সংযুক্ত করা যাবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ এ মেয়াদ আরও সর্বোচ্চ এক বছর বাড়াতে পারবে। তবে প্রশাসনিক শৃঙ্খলাজনিত কারণে বদলি হওয়া কর্মচারীকে তিন বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা উন্নয়নের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো সংযুক্তি দেওয়া যাবে না। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বদলি ও পদায়নের প্রস্তাব অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)-এর মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। বিডি প্রতিদিন/এনইউ
বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে অপর একটি ট্রাকের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ফ্লাইওভারের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, ফ্লাইওভারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে পেছন দিক থেকে আরেকটি ট্রাক এসে ধাক্কা দিলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।উদ্ধারকাজ চলার কারণে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে। কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।