ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ ও দারিদ্র্য: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চাপে থাকলেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ড. তিতুমীর বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এসব চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে। ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। অন্যদিকে, যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়। তিনি বলেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। সরকারের এসব কর্মসূচি কোনো কল্পনাপ্রসূত পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারও জরুরি। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে। আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন পূর্বাভাসের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সেই প্রেক্ষাপটেও দেখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সংস্কারের মাধ্যমে তা দূর করতে চায়। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। আমানত উত্তোলনের পাশাপাশি অনেকেই অর্থ জমা রাখছেন, যা আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও আর্থিক খাতে পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংকটের কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয়ের হিসাব করলেই অর্থনীতির ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝা যাবে না। কৃষকদের ওপর চাপ কমাতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করছে। তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করা। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক খাতের সংস্কার সভার আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ সভা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন ও নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত ঝিনাইদহের কৃষক, দাম ভালো পেলেও উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। কোথাও সারি সারি ফুলকপি ও বাঁধাকপি, আবার কোথাও শোভা পাচ্ছে শিম, মূলা, লাউ ও পুঁইশাক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং অসময়ে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। ইতিমধ্যে বাজারে আগাম সবজি উঠতে শুরু করেছে। এতে ভালো দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না তাঁদের। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের আগেই বাজারে সবজি তুলতে পারলে সাধারণত চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে। এ কারণে প্রতি বছরই ঝিনাইদহ অঞ্চলে আগাম সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের কৃষক আকিদুল ইসলাম এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুরারিদহ মাঠে কর্মরত কৃষক জহির উদ্দিনসহ অনেকে জানান, এবার আগাম সবজির ফলন বেশ ভালো হচ্ছে। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তবে সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের দাম আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তাঁরা বলেন, এবার আগাম সবজির ফলন বেশ ভালো হচ্ছে এবং বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি। কিন্তু সার, কীটনাশক আর তেলের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। সরকার যদি কৃষি উপকরণের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখে, তবে আমরা আরও বেশি লাভবান হতে পারব। সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মফিজ উদ্দিন এবং সাগান্না ইউনিয়নের ফেরদৌস হায়দার জুয়েলসহ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে বাড়তি উৎপাদন খরচ মিটিয়েও কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার অনেক এলাকার জমি তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় তা সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আগাম সবজি আবাদে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জানান, চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৬ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। ঝিনাইদহের মাটি ও উঁচু জমি সবজি চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় এ অঞ্চলে সবজি উৎপাদনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের আগাম সবজি চাষে সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিডি-প্রতিদিন/এমএল

আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত ঝিনাইদহের কৃষক, দাম ভালো পেলেও উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা

তিস্তার পানি ওঠানামায় ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা

তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। এতে ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উত্তরের পাঁচ জেলার তিস্তা-বেষ্টিত ১৮০টি চরাঞ্চলের কৃষকেরা। পানি হঠাৎ বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা আমন ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর এসব চরাঞ্চলে এবার প্রায় ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত তিস্তার পানির ওঠানামা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে কৃষকদের। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক জমির ধান কাটার উপযোগী হবে। এর মধ্যে তিস্তার পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদের। চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু হওয়ায় পানি বাড়লে দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার ফসল ঘরে তোলার সময় পানি বাড়লে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।’ গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’ ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান বলেন, গত বছর তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছিল। এবার তিনি সাত বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নদীর পানি ওঠানামা করায় এবারও ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। চর গড্ডিমারীর কৃষক মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, তার জমিতে তিস্তার পানি উঠেছে। পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। রংপুরের আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে। আগের বছরগুলোতে নদীর পানি বেড়ে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবারও চরাঞ্চলের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষকদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। পানি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক করা হলে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিডি-প্রতিদিন/এআইএস

তিস্তার পানি ওঠানামায় ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা

হাসিল দেওয়ার পরও কৃষককে মারধর, ইউএনও কার্যালয় ও হাট অফিস ঘেরাও

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নির্ধারিত হাসিল দেওয়ার পরও এক কৃষকের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা কলেজ বাজারের হাট ইজারাদারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আক্কেলপুর পৌর এলাকার কলেজ বাজারের দুই নম্বর গেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে।পণ্য বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে বাধাস্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজকান্দা গ্রামের কৃষক রনি হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান (১৯) কলেজ বাজারে প্রায় ৪৫ কেজি কচুর মুখি বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজারের দুই নম্বর গেটের কাছে পৌঁছালে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তাকে থামিয়ে ৪০ টাকা হাসিল দাবি করেন।রাকিবের দাবি, তিনি ২৫ টাকা হাসিল পরিশোধ করে সেখান থেকে চলে যান। কিছুদূর যাওয়ার পর প্লাবন তাকে আবার ধরে নিয়ে এসে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন মাটিতে পড়ে ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।ইউএনও কার্যালয়ের সামনে কৃষকদের অবস্থানঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজকান্দা এলাকার বাসিন্দা ও বাজারে আসা কয়েকজন কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।এরপর ক্ষুব্ধ কৃষকদের একটি দল কলেজ বাজারে গিয়ে হাট ইজারাদারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।ভুক্তভোগীর অভিযোগমারধরের শিকার রাকিব হাসান বলেন, তিনি পণ্য বিক্রি করে হাসিল বাবদ ২৫ টাকা পরিশোধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তার কাছে ৪০ টাকা দাবি করেন এবং পরে তাকে ধরে মারধর ও মোবাইল ফোন ভেঙে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।রাকিব বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।মারধরের অভিযোগ অস্বীকারঅভিযুক্ত হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, পণ্য বিক্রির পর রাকিব কম টাকা দিয়ে গালিগালাজ করে চলে যাচ্ছিলেন। টাকা চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, তবে মারধর করা হয়নি।অন্যদিকে কলেজ বাজার হাটের ইজারাদার বাবলু চৌধুরী দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন হাট অফিসে হামলা চালিয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং আদায়ের টাকার ব্যাগ নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন বলেও জানান।অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশেরআক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ জানান, হাটে হাসিল আদায়কে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধে নির্দেশউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ শোনা হয়েছে। হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় বা কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।তিনি হাট ইজারাদারকে বাজারের দৃশ্যমান সব স্থানে সরকার নির্ধারিত হাসিল আদায়ের মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে নিয়ে দ্রুত বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

হাসিল দেওয়ার পরও কৃষককে মারধর, ইউএনও কার্যালয় ও হাট অফিস ঘেরাও
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream