ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

তিস্তার পানি ওঠানামায় ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তার পানি ওঠানামায় ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা

তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। এতে ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উত্তরের পাঁচ জেলার তিস্তা-বেষ্টিত ১৮০টি চরাঞ্চলের কৃষকেরা। পানি হঠাৎ বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা আমন ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর এসব চরাঞ্চলে এবার প্রায় ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত তিস্তার পানির ওঠানামা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে কৃষকদের।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক জমির ধান কাটার উপযোগী হবে। এর মধ্যে তিস্তার পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদের। চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু হওয়ায় পানি বাড়লে দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার ফসল ঘরে তোলার সময় পানি বাড়লে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।’

গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’

ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান বলেন, গত বছর তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছিল। এবার তিনি সাত বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নদীর পানি ওঠানামা করায় এবারও ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।

চর গড্ডিমারীর কৃষক মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, তার জমিতে তিস্তার পানি উঠেছে। পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

রংপুরের আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে। আগের বছরগুলোতে নদীর পানি বেড়ে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবারও চরাঞ্চলের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষকদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। পানি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক করা হলে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বিডি-প্রতিদিন/এআইএস

বিষয় : কৃষক তিস্তা পানি আমন চাষ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নগদ বার্তা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


তিস্তার পানি ওঠানামায় ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। এতে ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উত্তরের পাঁচ জেলার তিস্তা-বেষ্টিত ১৮০টি চরাঞ্চলের কৃষকেরা। পানি হঠাৎ বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা আমন ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর এসব চরাঞ্চলে এবার প্রায় ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত তিস্তার পানির ওঠানামা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে কৃষকদের।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক জমির ধান কাটার উপযোগী হবে। এর মধ্যে তিস্তার পানির উচ্চতা ওঠানামা করায় উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদের। চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু হওয়ায় পানি বাড়লে দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার ফসল ঘরে তোলার সময় পানি বাড়লে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।’

গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’

ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান বলেন, গত বছর তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছিল। এবার তিনি সাত বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নদীর পানি ওঠানামা করায় এবারও ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি।

চর গড্ডিমারীর কৃষক মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, তার জমিতে তিস্তার পানি উঠেছে। পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

রংপুরের আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে। আগের বছরগুলোতে নদীর পানি বেড়ে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবারও চরাঞ্চলের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষকদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। পানি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক করা হলে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বিডি-প্রতিদিন/এআইএস


নগদ বার্তা

সম্পাদক: মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু)
সহ-সম্পাদক: মেহজাবীন মাহবুব পাভেল
প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ) 

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
তিস্তার পানি ওঠানামায় ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা
0:00 0:00
1.0x
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream