ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইনের আঘাতে দুই ট্যাংকারে আগুন

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইনের আঘাতে দুই ট্যাংকারে আগুন

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের পেতে রাখা নৌমাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ইরানের সামরিক বাহিনীর এই অভিজাত ইউনিট। আইআরজিসির দাবি, ট্যাংকার দুটি ইরানের অনুমোদনহীন সামুদ্রিক এলাকা দিয়ে চলাচল করছিল। এ সময় সেগুলো নৌমাইনের সংস্পর্শে আসে। তবে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর অভিযোগ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে ইরানি বাহিনী সরাসরি বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিতীয় ট্যাংকারটিতে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। জাহাজটি নেভিগেশন ব্যবস্থা ও রাডার বন্ধ রেখে অনুমোদনহীন পথে চলার চেষ্টা করছিল। এ সময় মাইনের আঘাতে এর ইঞ্জিনকক্ষে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ট্যাংকারটি তখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এর আগে শুক্রবার দুটি ট্যাংকারে হামলার খবর জানিয়েছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড। শনিবার সকালে একটি সুপার ট্যাংকারে আগুন লাগার কথা জানানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ট্যাংকারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য দেয় বাহিনীটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কার্যত আরও জটিল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো থেকে তেল নিয়ে কয়েকটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে গত কয়েক দিন ধরে সেখানে জাহাজ চলাচলে আবারও বাধা সৃষ্টি করছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।

গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ইসরায়েলের

গাজা ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়ার পূর্ব কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া ছাড়াই বেসামরিক বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ভারী বোমা ফেলার নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন চারজন ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সদস্য। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সামরিক গোয়েন্দা সদস্যদের প্রদত্ত জবানবন্দিতে দেখা গেছে, গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানো এবং সংঘাত চলাকালে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর হার বা পারপার্শ্বিক ক্ষতি বিবেচনা করার নীতিমালায় চরম শিথিলতা আনা হয়েছিল। হামাসের একজন মাঠপর্যায়ের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইব্রাহিম বায়ারিকে হত্যার উদ্দেশ্যে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে করা হামলায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন, যেখানে তাদের সরে যাওয়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6acdd372447a4" ) ); অন্য এক জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, হামাস কমান্ডার আলী কাদীকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একটি পরিবারের সব সদস্য মারা গেলেও সেই কমান্ডার অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এছাড়া ড্রোন দলের সেনা সদস্য ও অন্য গোয়েন্দা কর্মীরা জানান, প্রায় ২০ জন পর্যন্ত বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই ড্রোন আক্রমণের অবাধ অনুমোদন ছিল এবং ২৪ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডে সেনা নিরাপত্তার অজুহাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করা হয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক নাদাব ওয়েইম্যান সামরিক বাহিনীর এই আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বা ট্রাক চালককে মারার জন্য শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না এবং ঊর্ধ্বতনদের এই অপরাধের দায় নেওয়া উচিত। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6acdd372447ca" ) ); উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।  এই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলার শুনানি চলছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ইসরায়েলের
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream