ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
নিজ বাসা থেকে আটক ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

নিজ বাসা থেকে আটক ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

ভারতের দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা ওড়াও) মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজ বাড়ি থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এনডিটিভি জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দীপকের দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে আটক করা হয়েছিল। এবারের মিছিল আয়োজনের অন্যতম কারণ ছিল সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেপ্তার। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে তাঁরা দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। এর এক দিন আগে ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মিছিলের আগে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে কর্মসূচি পালন না করার বিষয়ে একটি নোটিশ দেয়। এরপর তাঁকে আটক করা হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারায় জারি করা নোটিশে বলা হয়—দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের আশপাশে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র জন্য নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় ককরোচ জনতা পার্টি মিছিল নিয়ে এগোলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। নোটিশে আরও বলা হয়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো আইনবিরুদ্ধ নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা এবং জনসমাগম ঘটানো নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে ‘ফ্ল্যাগ কোড’-এর বিধিনিষেধ সম্পর্কেও ৩১ বছর বয়সী এই নেতাকে অবহিত করা হয়। গায়ে গান্ধীর ছবি আঁকা সাদা টি-শার্ট ও জিনস পরা দীপকের কাঁধে ছিল ছোট একটি জাতীয় পতাকা। নিজের বসার ঘরে হলুদাভ রঙের সোফায় বসে পুলিশের দেওয়া নোটিশের কাগজপত্র পরীক্ষা করার সময় তিনি পুলিশের এক সদস্যকে প্রশ্ন করেন, ‘ক্যা আরোপ লাগা দিয়া হ্যায় আপনে মেরে ওপর?’ অর্থাৎ, ‘আপনারা আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এনেছেন?’ জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের এই পদক্ষেপের পর দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের স্বাধীনতা এবং জনসমাবেশের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ইমরানের পাশে কিরণ, সাবা

ভারত ছাড়ার নির্দেশ পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে ভারত ছাড়তে বলেছে দেশটির ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী ও ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডের অধিকারী এই অভিনেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন নির্মাতা কিরণ রাও ও অভিনেত্রী সাবা আজাদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ইমরানকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় কিরণ লিখেছেন, ‘বাহ, এবার মুম্বাই পুলিশও?’ এরপর ইমরানের জীবনের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘৪৩ বছর বয়স। এর মধ্যে ৪০ বছরই ভারতে। এখানে পড়াশোনা করেছে, কাজ করেছে, সফল হয়েছে, ব্যর্থ হয়েছে, ভালোবেসেছে ও লড়াই করেছে।’ ইমরান খান অভিনেতা আমির খানের ভাগনে। আর কিরণ রাও আমির খানের সাবেক স্ত্রী। সেই সূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ইমরানকে চেনেন কিরণ। ইমরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অভিনেত্রী সাবা আজাদও। বলিউড তারকা হৃতিক রোশনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এই অভিনেত্রী খবরটি দেখে লিখেছেন, ‘কী! এটা পুরোপুরি বাজে কথা।’ কেন ভারত ছাড়ার নির্দেশবিতর্কের সূত্রপাত ১০ অক্টোবর। সেদিন মুম্বাইয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত ওই বিক্ষোভে ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম—স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর—নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশনের এই কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে। ওই কর্মসূচিতে ইমরানের সঙ্গে তাঁর প্রেমিকা লেখাও ওয়াশিংটনও অংশ নিয়েছিলেন। পরে দুজনকেই আটক করে মুম্বাই পুলিশ। আটক হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করেন ইমরান। ছবির ক্যাপশনে রসিকতা করে লেখেন, ‘দেখা যাচ্ছে, আমাকে গাড়িতে ঘোরাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ বিজেপি নেতার অভিযোগের পর পদক্ষেপহিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করে এফআরআরও। নোটিশে ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকবিষয়ক আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা কিরিট সোমাইয়া অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ও ওসিআই কার্ড থাকা সত্ত্বেও ইমরান ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এফআরআরওর পক্ষ থেকেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ইমরানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতিএফআরআরওর নির্দেশের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইমরান। তাঁর আইনজীবী জুলফিকার মেমন জানিয়েছেন, নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করা হবে। শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যে আবেদনটি জমা পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমরানের আইনজীবী দলের যুক্তি, ওসিআই কার্ডধারীদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ—এমন কোনো নির্দিষ্ট বিধান আইনে নেই। তাঁদের মতে, ভারত ছাড়ার নির্দেশটি অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ। বিদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যা বলেছিলেন ইমরানভারতের নাগরিকত্ব ও বিদেশি পাসপোর্ট নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। এই ঘটনা সামনে আসতেই আলোচনায় এসেছে ১৫ বছর আগের একটি সাক্ষাৎকার, যেখানে ইমরান জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০১১ সালে ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ সিনেমার প্রচারের সময় নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে কথা বলেছিলেন ইমরান। ক্যাটরিনা কাইফ ও আলী জাফর অভিনীত ওই সিনেমার প্রচারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট থাকলেও তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছি। এ–সংক্রান্ত সরকারি প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, শিগগিরই পাসপোর্ট পেয়ে যাব। সামনে বড় কিছু কাজ রয়েছে।’ ইমরানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসনে। তাঁর বাবা অনিল পাল ও মা নুহা খানের বিচ্ছেদের পর মায়ের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বেড়ে ওঠেন তিনি। মায়ের পদবি গ্রহণ করে পরিচিত হন ইমরান খান নামে। ‘জানে তু...ইয়া জানে না’, ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’ ও ‘দিল্লি বেলি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে হিন্দি চলচ্চিত্রে পরিচিতি পান তিনি। তবে ভারতীয় সিনেমায় কাজ করলেও সে সময় তিনি ওয়ার্কিং ভিসায় দেশটিতে অবস্থান করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন ইমরান। সে সময় তাঁর স্ত্রী ছিলেন ভারতীয় নাগরিক অবন্তিকা মালিক। ইমরান বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, নিজের দেশের সেবা করা আমার দায়িত্ব। আমি এখানকার নাগরিক নই বলে ভোট দিতে পারি না। তবে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিই। কারণ, নিজেকে এই দেশেরই একজন মনে করি।’ এর আগে মহারাষ্ট্রে বৈধভাবে মদ্যপানের বয়সসীমা নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা করার উদ্যোগ নিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন ইমরান। তবে বিদেশি নাগরিক হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতার মুখে পড়েছিলেন তিনি। হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

ইমরানের পাশে কিরণ, সাবা

তিরঙ্গা মার্চ ঘিরে দিল্লির সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ, ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন

ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক শুক্র ও শনিবারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পার্কটিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিরঙ্গা মার্চ বা পতাকা হাতে পদযাত্রা কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে সেন্ট্রাল পার্ক ও রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দলটি তিরঙ্গা মার্চের ডাক দিয়েছে। এ ছাড়া, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি কর আসছে সংগঠনটি। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেন্ট্রাল পার্ককে বেছে নিয়েছে সিজেপি। শুক্রবার সেখানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা ও আম আদমি পার্টির নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা। নতুন এই কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে সেন্ট্রাল পার্ক শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকবে। সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে বৃহস্পতিবার পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আপাতত মেট্রো পরিষেবা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একেবারে শেষ পর্যায়ে মেট্রোর কথা ভাবা হবে। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, তারা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে উপযুক্ত স্থানে পতাকা বহন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 

তিরঙ্গা মার্চ ঘিরে দিল্লির সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ, ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন

হাসপাতাল থেকে সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। সেখানে ফিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে সার্কিট হাউসে ফেরেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপাচার্য আজ সন্ধ্যা ৬টায় সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন। ভার্চ্যুয়ালি এই সভা হবে। আমি ছুটিতে আছি। যোগ দিতে পারব কি না নিশ্চিত নই।’ সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশলের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি মেসেজ পাঠিয়েছেন। মেসেজ পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কি না বা এটা নিয়মের মধ্যে কি না—তা জানি না। সাধারণত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার চিঠি আসে।’ সিন্ডিকেট সভার বিষয়ে জানতে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি সাড়া দেননি। মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে দেন তাঁরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের মধ্যেই গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। তবে বিষয়টি জানতে পেরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেন তাঁরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর তাঁরা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ভেতরে ১১ জন আটকে পড়েন। পরদিন অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান উপাচার্য। তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যান দুই চিকিৎসক। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতাল থেকে সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল আলবেনিয়া, পদত্যাগে নারাজ প্রধানমন্ত্রী

হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও সরকারি ভবনে আগুনের ঘটনাও ঘটেছে। দুর্নীতি, শিক্ষার নিম্নমান ও ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত একটি বিতর্কিত প্রকল্প বাতিলের দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে। তবে চলমান তীব্র আন্দোলনের মুখেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানী তিরানার রাজপথে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনের জানালা ভাঙচুর করেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভের কারণে আজও দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশনও বাতিল করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় প্রকৃতি ধ্বংস করে জ্যারেড কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি। এর আগে স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছিলেন, কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের জমি জবরদস্তি বিক্রি করা হয়েছে। তবে কুশনারের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে পদত্যাগের দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো জনগণের কথা শোনা, তাদের যেকোনো সমস্যার সমাধান করা এবং আলবেনিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর অন্যথা করা মানে আলবেনীয়দের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা, যারা আমাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনের আলোচনা সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছেন।’ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে রামা বলেন, ‘শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি বা অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য আমার দরজা খোলা। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা, জনসম্পদ ধ্বংস করা এবং জননিরাপত্তা বিপন্ন করার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলবেনিয়ার ইইউ সদস্যপদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেশ ও বিদেশের কিছু অপশক্তি এই সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে। সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে এই বিক্ষোভ। তিরানার রাজপথে পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া ময়লার পাত্র, ভাঙা বাস স্টপ ও ট্রাফিক সিগন্যাল। আজকেও স্ক্যান্ডারবেগ স্কয়ারে পর্যটকদের উপস্থিতিতেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে এবং লাঠিপেটা করেছে।আলবেনিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মিশন এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘গঠনমূলক সংলাপই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ।’ উল্লেখ্য, গত বছর চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী এদি রামার জন্য এই ছাত্র আন্দোলন অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা আলবেনিয়ায় এই রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল আলবেনিয়া, পদত্যাগে নারাজ প্রধানমন্ত্রী

নেহা বোরার বয়স, জন্মস্থান থেকে শিক্ষাজীবন—গুগলে যা খুঁজছে মানুষ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির প্রতিবাদ ও গণবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে এসে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসার জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা। গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়া এই তরুণ নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে রাতারাতি ইন্টারনেটের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। নেহা বোরার এই আকস্মিক উত্থানের পর তাঁর বয়স, জন্মস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পারিবারিক পরিচয় জানতে গুগলে সার্চ করছেন সাধারণ মানুষ। ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরার আদি বাড়ি ভারতের উত্তরাখণ্ডের খাটিমা অঞ্চলে। তবে তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য রাজধানীতে পাড়ি জমান। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ড. বি আর আম্বেদকর ইউনিভার্সিটি দিল্লি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিষয়ে ডক্টরাল বা পিএইচডি গবেষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। থিয়েটারের প্রতি অনুরাগ এবং পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরেই মূলত রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন নেহা। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে (আইসা) যোগদানের পর তিনি ধাপে ধাপে সংগঠনের জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত শনিবার যখন দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয় এবং তাঁকে আটক করে, তখন এক ভিডিওবার্তায় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমি আটক হলেও, আন্দোলন থেমে থাকবে না।’ পুলিশের বাধা এড়িয়ে দিল্লি হাটসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন পুনর্বিন্যাস করতে তাঁর ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মৃদুভাষী হলেও মাইক্রোফোনের সামনে হিন্দি ও ইংরেজিতে তাঁর সাবলীল ও জোরালো বক্তব্য এবং সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার অবস্থান তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁকে পরিচিত করে তুলেছে।

নেহা বোরার বয়স, জন্মস্থান থেকে শিক্ষাজীবন—গুগলে যা খুঁজছে মানুষ

বিক্ষোভে ব্যবহারের ইউনিফর্ম কোথা থেকে এল, বিজেপি সরকারকে প্রশ্ন অভিজিৎ দীপকের

বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জে ব্যবহারের জন্য আনা ইউনিফর্মের উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিজেপি সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুলসংখ্যক ইউনিফর্ম কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং একটি গাড়িতে সেগুলো বহনের উদ্দেশ্য কী। এসব ইউনিফর্মের উৎস ও ব্যবহারের পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বিজেপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান দীপকে। পোস্টে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে।

বিক্ষোভে ব্যবহারের ইউনিফর্ম কোথা থেকে এল, বিজেপি সরকারকে প্রশ্ন অভিজিৎ দীপকের

ধ্রুব রাঠি ‘গৃহবন্দি’, বাড়ির বাইরে মোতায়েন ৫০ পুলিশ

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, বাসার সামনে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাইরে বের হলেই সাদা পোশাকের পুলিশ পেছন পেছন অনুসরণ করছে। এমনকি কোনো ধরনের বিক্ষোভে যোগ দিতে গেলে তাকে আটকের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধ্রুব রাঠি জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখী পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ধ্রুব রাঠি বলেন, আমি প্রতিবাদে যোগ দিতে চাই। কিন্তু আমার বাড়ির বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আমি যেখানেই যাই, তারা আমাকে অনুসরণ করেন। কোনো বিক্ষোভের কাছে গেলেই আমাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার আরও দাবি, তিন-চারটি গাড়িতে করেও পুলিশ তাকে অনুসরণ করছে। সম্ভাব্য ভিসা তদন্তের বিষয়টি নাকচ করে তিনি বলেন, আমি ভারতীয় নাগরিক। আমার ক্ষেত্রে ভিসার কোনো প্রশ্নই নেই। এর আগে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছিল পুলিশ। রোববার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ভিডিওবার্তায় ধ্রুব রাঠি বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে তার বাড়ির বাইরে ৫০ জনের বেশি লোক জড়ো হন। তার মা দরজা খুললে সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন তাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা সরাসরি তার শোবার ঘরে চলে যান। তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে কথা বলা বা কিছু করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তার মা চিৎকার করছিলেন। ধ্রুব রাঠির অভিযোগ করেন, তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নিজের ও তার বাবা-মায়ের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে এক থানা থেকে অন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ফোন ব্যবহার করতেও দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, তাকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছিল এটি কোনো গ্রেপ্তার বা আটক নয় এবং শিগগিরই ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন এই ধরনের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?

ধ্রুব রাঠি ‘গৃহবন্দি’, বাড়ির বাইরে মোতায়েন ৫০ পুলিশ

নেহা বোরাকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট দিয়ে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। মুক্তি পাওয়ার পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেহা বোরা জানান, পুলিশ তার মুঠোফোন নিয়ে গিয়েছিল। পরে তিনি সেটি ফেরত পেয়েছেন। থানা থেকে আটক অন্য নারীদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে তাকে আটক করা হয়েছিল।  নেহা বোরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই আন্দোলন চলছে। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে নেহা বোরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

নেহা বোরাকে ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ

সবাই পুরুষ জেনেও উড়োজাহাজে সিজেপি নেতাদের ধরতে কেন নারী পুলিশ পাঠানো হলো

ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ শনিবার এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট অবতরণের পরপরই ভেতরে ঢুকে দলের শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে এই বিশেষ অভিযানে পুলিশের একটি বড় নারী দলকে উড়োজাহাজে পাঠায় স্থানীয় প্রশাসন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে আসছিলেন সিজেপি নেতারা। তবে কর্মসূচিটির কোনো অনুমতি না থাকলেও তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় শহরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে মোদি সরকার। পুলিশ সদস্যরা বিমানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই উইন্ডো সিটে বসে থাকা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। তাঁর পাশে মাঝের আসনে বসেছিলেন সৌরভ দাস এবং অন্য পাশে আশুতোষ রাঙ্কা। পুলিশ দেখেই তাঁরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অন্তত এক ডজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের ঘিরে রেখেছেন। বিমানেই এভাবে কেন আটক করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। বিমান থেকে সরাসরি আমাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছে পুলিশ। ইন্দিরা গান্ধীর আমলেও এমন ঘটনা ঘটেনি। এটা স্রেফ একনায়কতন্ত্র।’ তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘আমি এখানে গ্রেপ্তার হতেই এসেছি, আমাকে গ্রেপ্তার করুন।’ এ সময় নারী পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সংযতভাবে দীপকে ও তাঁর সঙ্গীদের শান্ত থাকার এবং সহযোগিতার অনুরোধ জানান। পরে তাঁদের আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। উড়োজাহাজের ভেতরে পুরুষ কর্মকর্তাদের বদলে নারী সদস্য পাঠানোর পদক্ষেপকে পুলিশের অত্যন্ত কৌশলগত একটি চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে ইন্ডিয়া টুডে। প্রথমত, সংকীর্ণ স্থানে সংঘর্ষ এড়ানো। বিমানের ভেতরের চলাচলের পথ বা আইল অত্যন্ত সংকীর্ণ। পুরুষ পুলিশ সদস্যরা গেলে হাতাহাতি বা সামান্য বাগ্‌বিতণ্ডাও দ্রুত বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারত। ধাক্কাধাক্কি বা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই নারী পুলিশ সদস্যদের সামনে রাখা হয়। দ্বিতীয়ত, জুলাইয়ের বিতর্কের নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটানো। গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর সিজেপির অভিযোগ ছিল—পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলনকারী তরুণী ও কিশোরীদের বেধড়ক মারধর করেছেন এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলেছেন। তৃতীয়ত, জেন-জিদের সহানুভূতি ঠেকানো। সিজেপির সমর্থকগোষ্ঠীর সিংহভাগই তরুণ ও জেন-জি প্রজন্মের। তাই পুরুষ পুলিশ দিয়ে তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগের নেতিবাচক ছবি ছড়াক, তা চায়নি প্রশাসন। নারী সদস্যদের দিয়ে অভিযান চালানোয় আন্দোলনকারীদের সেই প্রচারণার ধার অনেকটাই কমে গেছে। দিনের শুরুতে সিজেপির আইনি সেলের প্রধান রত্না সিং এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। রত্না সিং দাবি করেন, তিনি গাড়িতে ওঠার পরপরই পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি তাঁকে ঘিরে ফেলে। সব মিলিয়ে দিল্লিজুড়ে ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি মানুষকে প্রতিরোধমূলক হিসেবে আটক করা হয়েছে। এদিকে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে গোটা দিল্লি রাতারাতি একটি সুরক্ষিত দুর্গে পরিণত হয়েছে। পুরো রাজধানীতে মেট্রো রেল ও ট্রেন চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দিল্লির অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান গেট বন্ধ করা হয়েছে এবং নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যাতায়াত ব্যবস্থা ও ট্রেন বন্ধে সরকারের বিরুদ্ধে নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, সিজেপির এই বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে বেশ কয়েকজন দলীয় সংসদ সদস্যসহ আটক করা হয়। পুলিশের বাধার মুখে তিনি একটি বাস স্ট্যান্ডেই ধরনায় বসে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনসহ অন্য এমপিদের সঙ্গে তাঁকে একটি পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেন্ট্রাল সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৩ হাজারের বেশি সদস্য রাজধানী জুড়ে মোতায়েন রয়েছে। এর আগে সিজেপির জুলাই মাসের আন্দোলন কিংবা ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের চেয়েও এবার বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই আগাম আটকের কারণে এবার শহরে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি দিল্লি পুলিশের।

সবাই পুরুষ জেনেও উড়োজাহাজে সিজেপি নেতাদের ধরতে কেন নারী পুলিশ পাঠানো হলো

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে প্রথমবারের মতো ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ফ্রান্স সরকার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৩ হাজার বাড়তি বদলি শিক্ষক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ প্রস্তাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের আরও একদিনের সহিংস বিক্ষোভ শেষে এ ঘোষণা এল। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে আরও বেশি বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ৮৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের ৮৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম। ছাত্র ইউনিয়নগুলো তিন সপ্তাহের এই আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব বলে অভিহিত করা বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে সারা দেশে প্রায় ৭১ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। প্যারিসের বাস্তিলে জড়ো হন ২৪ হাজার মানুষ। পুলিশের ওপর পাথর ও হাতে তৈরি আতশবাজি নিয়ে হামলা চালানো দলগুলোকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। বোর্দোতে বিক্ষোভকারীরা একটি হাইস্কুলে ভাঙচুর চালায়। মার্সেইয়ে একজন উপপ্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়। শুক্রবার ৩ হাজার ৫০০ হাইস্কুলের মধ্যে প্রায় ১৪০টি পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিলো, যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেক কম। তবে আগামী মঙ্গলবার আবার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের বিষয়ে জেফ্রের ঘোষণাই প্রথম বাস্তব ছাড়। শিক্ষকের অনুপস্থিতি এবং বদলি কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাদের জায়গায় কাউকে না দেওয়ায় অনেক ক্লাসের সময় নষ্ট হচ্ছে। ফরাসি শিক্ষাঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবাই দীর্ঘদিন ধরেই এটি স্বীকার করে আসছেন। মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে নতুন সফটওয়্যার চালু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের তালিকায় থাকা প্রায় ৫০০ হাইস্কুলে ৩ হাজার বদলি শিক্ষক পাঠানো সম্ভব হবে। এর অনেকগুলোই অভিবাসী-অধ্যুষিত শহরতলিতে, যেখানে শিক্ষকের সংকট সবচেয়ে তীব্র। জেফ্রে আরও জানান, ঘাটতি পূরণে যেসব শিক্ষক বাড়তি সময় কাজ করতে চান, তাদের জন্য বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় আরও অর্থ বরাদ্দ করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ২০২৭ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটে শিক্ষাখাত নিয়ে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হবে। শিক্ষার্থী নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অন্তত সতর্ক। তিনটি প্রধান হাইস্কুল ইউনিয়নের সবচেয়ে মধ্যপন্থী রনুভো স্কুলের প্রতিনিধি নাথানায়েল কমবারি বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কীভাবে পালিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন শিক্ষার্থীরা। তার ভাষ্য, আমাদের দাবির একটি অংশের সঙ্গে মেলে, এমন কিছু ঘোষণা এসেছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ অর্থ ও আরও সুনির্দিষ্ট ফল দেখতে চায়। কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সে এটিই সবচেয়ে গুরুতর শিক্ষার্থী অন্দোলন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ ও কৃষি খাতের দুর্দশাও বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, এমন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন চলছে। আগামী শনিবার ১৭ অক্টোবর পুনরুজ্জীবিত ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন বিক্ষোভের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

সাত শতাধিক আটকের পরও থামেনি আন্দোলন, ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ

ভারতের দিল্লিতে সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটকের একদিনের মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার মুম্বাইয়ে বড় সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আর দিল্লির পাশাপাশি আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।  বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন। দিল্লিতে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। গান্ধী জয়ন্তীর দিন যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরও আম আদমি পার্টি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মীরা সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সাত শতাধিক মানুষকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিং, বামপন্থি নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও ছিলেন। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে মধ্য দিল্লির ১২টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দিল্লির বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কমিশন নতুন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এসআইআর শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও বিষয়টি জানানো হয়। এ ছাড়া এসআইআর শেষ হওয়া রাজ্যগুলোতে অনলাইনে ভোটার হওয়ার ফর্ম-৬ থেকে এসআইআর-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ঘোষণাটিও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আগে ওই ফর্মে নতুন আবেদনকারীর সঙ্গে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদির আগের ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। এই বিতর্ক আরও জোরালো হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য- সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য পরে বলা হয়েছে, এসআইআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। এদিকে আন্দোলন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, গোয়া, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুসহ আরও কয়েকটি শহরে কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সাত শতাধিক আটকের মধ্য দিয়ে দিল্লিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা এখন ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নাগরিক বিতর্কের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে কমিশনের নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগও পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তথ্য সূত্র- এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

সাত শতাধিক আটকের পরও থামেনি আন্দোলন, ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream