ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

গাবতলীতে রিকশাচালককে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে তর্কে জড়ায় তিন কিশোর; ডিবির দাবি, একপর্যায়ে সুইচগিয়ারের আঘাতে মৃত্যু

জন্মদিনের পার্টির পর রিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর


| প্রিন্ট সংস্করণ

 জন্মদিনের পার্টির পর রিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর

জন্মদিনের পার্টির পর রিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর


রাজধানীর গাবতলীতে রিকশাচালক হত্যার ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের একজনের ১৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত পার্টির পর তিনজন মদ্যপ অবস্থায় বাইরে বের হয়। পরে এক রিকশাচালককে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর পর হামলার ঘটনা ঘটে।

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একপর্যায়ে ওই রিকশাচালকের ঘাড়ে সুইচগিয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জন্মদিনের পার্টির পর বাইরে বের হয় তিন কিশোর

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, সাঈদের ১৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তার চাচাতো ভাই রুয়েল একটি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে সাঈদ, জিহাদ ও ফারদিন অংশ নেয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পার্টিতে তারা গাবতলী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বাংলা মদ পান করে। পরে রাতে চা খাওয়ার জন্য তিনজন বাইরে বের হয়।

গাবতলী এলাকায় যাওয়ার পথে এক রিকশাচালককে দেখে তাদের সন্দেহ হয়, তিনি ছিনতাইকারী হতে পারেন। এ সময় নিজেদের মোবাইল ফোন ও টাকা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে রেখে তারা ওই রিকশাচালকের কাছে তার বাড়িঘর সম্পর্কে জানতে চায়।

প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে ফের মুখোমুখি

ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে রিকশাচালকের সঙ্গে তিন কিশোরের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রিকশাচালক সেখান থেকে চলে যান।

কিছুক্ষণ পর সাঈদ ঘটনাটি জানতে পেরে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় আল আমিন রেস্টুরেন্টের সামনে ওই রিকশাচালকের সঙ্গে তাদের আবার দেখা হয়।

সেখানে ফের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রিকশাচালক হোটেলের ভেতরে গিয়ে পানি পান করে বাইরে বের হন। তখন সাঈদ তাকে আটকে আগের ঘটনার বিষয়ে জানতে চান।

সুইচগিয়ারের আঘাতে মৃত্যু

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ফের তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সাঈদ ও জিহাদ ওই রিকশাচালককে মারধর করেন। পরে সাঈদ সঙ্গে থাকা সুইচগিয়ার বের করে তার ঘাড়ে আঘাত করেন।

আঘাতে রিকশাচালকের ঘাড়ের রক্তনালি কেটে যায়। তিনি রিকশার ওপর লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর তিন কিশোর দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

হত্যার পর ঢাকা ছাড়ে তিনজন

ডিবির দাবি, ঘটনার পর তিনজনই ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাঈদ, জিহাদ ও ফারদিন। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দাবি, ঘটনার কয়েকদিন আগে এলাকায় ভয়ভীতি দেখানো ও ‘মাস্তানি’ করার উদ্দেশ্যে সাঈদ একটি সুইচগিয়ার কিনেছিল। কিশোর গ্যাংয়ের মতো ভাব তৈরি করতেই অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল বলে তাদের ধারণা।

পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি নিহত রিকশাচালকের

এর আগে বুধবার ভোরে গাবতলীর আল্লাহর দান হোটেলের সামনে একটি রিকশার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় ওই রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন পার হলেও নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়েও তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে হাজির করা নিয়ে যা জানা গেল

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বয়স কম। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলেও সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই দিন তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা, অস্ত্র ব্যবহারের বিষয় এবং তিন কিশোরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নগদ বার্তা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


জন্মদিনের পার্টির পর রিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জন্মদিনের পার্টির পর রিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর




রাজধানীর গাবতলীতে রিকশাচালক হত্যার ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের একজনের ১৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত পার্টির পর তিনজন মদ্যপ অবস্থায় বাইরে বের হয়। পরে এক রিকশাচালককে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর পর হামলার ঘটনা ঘটে।

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একপর্যায়ে ওই রিকশাচালকের ঘাড়ে সুইচগিয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জন্মদিনের পার্টির পর বাইরে বের হয় তিন কিশোর

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, সাঈদের ১৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তার চাচাতো ভাই রুয়েল একটি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে সাঈদ, জিহাদ ও ফারদিন অংশ নেয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পার্টিতে তারা গাবতলী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বাংলা মদ পান করে। পরে রাতে চা খাওয়ার জন্য তিনজন বাইরে বের হয়।

গাবতলী এলাকায় যাওয়ার পথে এক রিকশাচালককে দেখে তাদের সন্দেহ হয়, তিনি ছিনতাইকারী হতে পারেন। এ সময় নিজেদের মোবাইল ফোন ও টাকা শরীরের ভেতরে লুকিয়ে রেখে তারা ওই রিকশাচালকের কাছে তার বাড়িঘর সম্পর্কে জানতে চায়।

প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে ফের মুখোমুখি

ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে রিকশাচালকের সঙ্গে তিন কিশোরের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রিকশাচালক সেখান থেকে চলে যান।

কিছুক্ষণ পর সাঈদ ঘটনাটি জানতে পেরে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় আল আমিন রেস্টুরেন্টের সামনে ওই রিকশাচালকের সঙ্গে তাদের আবার দেখা হয়।

সেখানে ফের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রিকশাচালক হোটেলের ভেতরে গিয়ে পানি পান করে বাইরে বের হন। তখন সাঈদ তাকে আটকে আগের ঘটনার বিষয়ে জানতে চান।

সুইচগিয়ারের আঘাতে মৃত্যু

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ফের তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সাঈদ ও জিহাদ ওই রিকশাচালককে মারধর করেন। পরে সাঈদ সঙ্গে থাকা সুইচগিয়ার বের করে তার ঘাড়ে আঘাত করেন।

আঘাতে রিকশাচালকের ঘাড়ের রক্তনালি কেটে যায়। তিনি রিকশার ওপর লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর তিন কিশোর দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

হত্যার পর ঢাকা ছাড়ে তিনজন

ডিবির দাবি, ঘটনার পর তিনজনই ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাঈদ, জিহাদ ও ফারদিন। তাদের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দাবি, ঘটনার কয়েকদিন আগে এলাকায় ভয়ভীতি দেখানো ও ‘মাস্তানি’ করার উদ্দেশ্যে সাঈদ একটি সুইচগিয়ার কিনেছিল। কিশোর গ্যাংয়ের মতো ভাব তৈরি করতেই অস্ত্রটি কেনা হয়েছিল বলে তাদের ধারণা।

পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি নিহত রিকশাচালকের

এর আগে বুধবার ভোরে গাবতলীর আল্লাহর দান হোটেলের সামনে একটি রিকশার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় ওই রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন পার হলেও নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়েও তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে হাজির করা নিয়ে যা জানা গেল

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বয়স কম। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলেও সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই দিন তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা, অস্ত্র ব্যবহারের বিষয় এবং তিন কিশোরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


নগদ বার্তা

সম্পাদক: মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু)
সহ-সম্পাদক: মেহজাবীন মাহবুব পাভেল
প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ) 

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
জন্মদিনের পার্টির পর রিকশাচালক হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর
0:00 0:00
1.0x
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream