ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা

মান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধারে ৮৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প; দুই সিটির ৫৫ খালের পাড়ে ওয়াকওয়ের পরিকল্পনা

খাল পুনরুদ্ধারে জোর, বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

খাল পুনরুদ্ধারে জোর, বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি

ঢাকার জলাবদ্ধতা কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং নগরবাসীর চলাচলের সুযোগ বাড়াতে খাল পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।

খাল সচল হলে কমবে জলাবদ্ধতা

মীর শাহে আলম বলেন, খালগুলো পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সেগুলোর পানিপ্রবাহ সচল রাখতে হবে। খালের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং নগরবাসীর হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি জানান, খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ঢাকার পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশনের ৫৫টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

চার খাল পুনরুদ্ধারে ৮৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প

মান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের ৭০ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে সরকার এবং ৩০ শতাংশ অর্থায়ন করছে ডিএসসিসি।

২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে মান্ডা খালের কাজ ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এগিয়েছে।

থাকছে পুনঃখনন, ওয়াকওয়ে ও সবুজায়ন

প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ করা হবে। একই সঙ্গে খালের সীমানা নির্ধারণ ও স্লোপ প্রটেকশনের কাজও থাকবে।

এ ছাড়া ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। খালের আশপাশে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে আটটি ইটিপি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা

খালের জায়গা দখলমুক্ত করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ড অনুসারে ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১ হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অচল কালভার্ট অপসারণ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকার চারপাশের নদীতেও গুরুত্ব

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। মহানগরীর পয়ঃবর্জ্য শোধনাগারের মাধ্যমে পরিশোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

নদী ও খালের পানিপ্রবাহ এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ধাপে ধাপে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার লক্ষ্য

মীর শাহে আলম বলেন, একদিনে ঢাকা বা দেশকে সিঙ্গাপুর, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো করে দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি সরকার দিতে চায় না। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নদী-খাল রক্ষা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

নাগরিক সহযোগিতার আহ্বান

খাল ও নদী রক্ষার পাশাপাশি নগরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারের নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন অংশগ্রহণ থাকলে এসব উদ্যোগের সুফল আরও কার্যকরভাবে পাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জিরানী খাল পরিদর্শনের সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নগদ বার্তা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


খাল পুনরুদ্ধারে জোর, বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


ঢাকার জলাবদ্ধতা কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং নগরবাসীর চলাচলের সুযোগ বাড়াতে খাল পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।

খাল সচল হলে কমবে জলাবদ্ধতা

মীর শাহে আলম বলেন, খালগুলো পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সেগুলোর পানিপ্রবাহ সচল রাখতে হবে। খালের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং নগরবাসীর হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি জানান, খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ঢাকার পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশনের ৫৫টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

চার খাল পুনরুদ্ধারে ৮৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প

মান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের ৭০ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে সরকার এবং ৩০ শতাংশ অর্থায়ন করছে ডিএসসিসি।

২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে মান্ডা খালের কাজ ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এগিয়েছে।

থাকছে পুনঃখনন, ওয়াকওয়ে ও সবুজায়ন

প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ করা হবে। একই সঙ্গে খালের সীমানা নির্ধারণ ও স্লোপ প্রটেকশনের কাজও থাকবে।

এ ছাড়া ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। খালের আশপাশে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে আটটি ইটিপি নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা

খালের জায়গা দখলমুক্ত করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ড অনুসারে ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১ হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অচল কালভার্ট অপসারণ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকার চারপাশের নদীতেও গুরুত্ব

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। মহানগরীর পয়ঃবর্জ্য শোধনাগারের মাধ্যমে পরিশোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত কমিটি মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

নদী ও খালের পানিপ্রবাহ এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ধাপে ধাপে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার লক্ষ্য

মীর শাহে আলম বলেন, একদিনে ঢাকা বা দেশকে সিঙ্গাপুর, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো করে দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি সরকার দিতে চায় না। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নদী-খাল রক্ষা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

নাগরিক সহযোগিতার আহ্বান

খাল ও নদী রক্ষার পাশাপাশি নগরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারের নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন অংশগ্রহণ থাকলে এসব উদ্যোগের সুফল আরও কার্যকরভাবে পাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জিরানী খাল পরিদর্শনের সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নগদ বার্তা

সম্পাদক: মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু)
সহ-সম্পাদক: মেহজাবীন মাহবুব পাভেল
প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ) 

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
খাল পুনরুদ্ধারে জোর, বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি
0:00 0:00
1.0x
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream