দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় গাফিলতি বরদাশত করা হবে না
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেছেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পূজার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপে বাড়ানো হবে নিরাপত্তা
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা যায়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
গোয়েন্দা নজরদারি ও মহড়া জোরদার
প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পরিস্থিতি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজা শুরুর আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া বাড়ানোর পাশাপাশি ভোররাতের নিরাপত্তা ও পাহারাও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরার নির্দেশ
পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজ নিজ মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব
পূজামণ্ডপে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। নারী ও পুরুষের চলাচল ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনে পৃথক ব্যবস্থা বিবেচনার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রাখার কথা জানানো হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে আসছে।
এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের পরিবর্তে সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় কাজ করার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
বিসর্জনে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের নির্দেশ
দুর্গাপূজার বিসর্জন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনসহ কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত