ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ধরন নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাময়িক বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী
সাময়িক বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আব্দুর রউফ ও মোসাব্বির হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের পর তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাসে কথাকাটাকাটি থেকে বিরোধ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়াগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোধূলী’ বাসে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বুধবার ক্যাম্পাসে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যও হেনস্তা ও আঘাতের শিকার হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জরুরি বৈঠকের পর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত
ঘটনার পর বুধবার দুপুরে প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্র-উপদেষ্টা এবং বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র-উপদেষ্টার সমন্বয়ে আরও একটি বৈঠক হয়।
সভাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর করা অফিস আদেশে ওই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ দিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দকে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার মো. সালাউদ্দিন মোল্লা।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ এবং সহকারী প্রক্টর জাকির হোসেন। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্ত কমিটিও গঠন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলা বিভাগও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির কাজ হবে সংঘর্ষে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই, ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় শাস্তির সুপারিশ করা।
এদিকে সংঘর্ষের পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত