ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। গণিত: অধ্যায় ৮—পরিমাপ নিয়ে গণিতের দরকারি শূন্যস্থান পূরণ

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। গণিত: অধ্যায় ৮—পরিমাপ নিয়ে গণিতের দরকারি শূন্যস্থান পূরণ

গণিত: শূন্যস্থান পূরণ করো অধ্যায়–৮ ১. ১ কিলোমিটার =         মিটার। ২. ১ হেক্টর =         বর্গমিটার। ৩. ১ সপ্তাহে         ঘণ্টা। ৪. মে মাস         দিনে। ৫. বাংলা সালে         টি মাস ৩১ দিনের। ৬. ১ ঘণ্টায়         সেকেন্ড। ৭. ১ লিটার =         ঘন সেন্টিমিটার। ৮. গাড়ির ওজন প্রকাশের একক        । ৯. ৫ মিটার         সেমি।  ১০. ২ কেজি =        . গ্রাম।   ১১. ১৯০১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত         শতাব্দী।       ১২. একটি ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল ২১৬ বর্গমিটার এবং উচ্চতা ৩০ মিটার হলে ভূমি         মিটার।       ১৩. মনীষা ১ ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার হাঁটতে পারে। সে ২ ঘণ্টায়         মিটার হাঁটতে পারবে।       ১৪. ১০০ সেন্টিমিটার =         মিলিমিটার।       ১৫. ৮ কিমি. =         মিটার। ১৬. ৮ কেজি ৯ ডেকাগ্রাম ৫ গ্রাম =         গ্রাম। ১৭. ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস         দিনে ছিল। ১৮. ২৪ ঘণ্টায় ঘড়িতে ঘণ্টা শুরু হয়         থেকে। ১৯. ২৪ ঘণ্টায় ঘড়িতে পূর্বাহ্ন এবং         ব্যবহার করা হয় না। ২০. ১ ঘনমিটার =         লিটার। ২১. ১ কুইন্টাল=         কেজি। ২২. ৮৪০ কেজি =         মেট্রিক টন। ২৩.         গ্রাম = ১ কেজি। ২৪. ২ লিটার         ঘন সেমি। ২৫. ৬০০০ মিটার =         কিমি। ২৬.         ঘন সেন্টিমিটার = ২ লিটার। ২৭. ৬ লিটার পানি ২৫০ মিলি–এর         টি বোতলে রাখা যাবে। ২৮. তরল পদার্থ পরিমাপের মূল একক        । ২৯. একটি বইয়ের ওজন ৭৮ গ্রাম হলে এরূপ        টি বইয়ের মোট ওজন ১ কিলোগ্রাম ৪০৪ গ্রাম। ৩০.         লিটার = ১ ঘনমিটার। ৩১. ৭ কেজি ৩২ ডেকাগ্রাম ৭৩ গ্রাম সমান         গ্রাম। ৩২. ২৩৪ কেজি থেকে ১৭৭ কেজি ৮০ গ্রাম বিয়োগ করলে         কেজি হবে। ৩৩. ৩ ডেকামিটার +         ডেসিমিটার = ২৫০ মিটার । ৩৪. ১১ কিমি–কে ডেকামিটারে প্রকাশ করলে         ডেকামিটার হয়। ৩৫. রাইন ১ মিনিটে হাঁটে ৮০০ সেমি। সে ১০ মিনিটে         মিটার হাঁটবে। ৩৬. ৮ কেজি ৮ গ্রামকে হেক্টোগ্রামে প্রকাশ  করলে         হেক্টোগ্রাম হয়। ৩৭. দৈর্ঘ৵ পরিমাপের একক        । ৩৮.         কুইন্টাল ১ মেট্রিক টন। সঠিক উত্তর ১) ১০০০, ২) ১০০০০, ৩) ১৬৮, ৪) ৩১, ৫) ৬, ৬) ৩৬০০, ৭) ১০০০, ৮) মেট্রিক টন, ৯) ৫০০, ১০) ২০০০, ১১) বিংশ, ১২) ১৪.৪, ১৩) ৬০০০, ১৪) ১০০০, ১৫) ৮০০০, ১৬) ৮০৯৫, ১৭) ২৯, ১৮) শূন্য, ১৯) অপরাহ্ণ, ২০) ১০০০, ২১) ১০০, ২২) ০.৮৪, ২৩) ১০০০, ২৪) ২০০০, ২৫) ৬, ২৬) ২০০০, ২৭) ২৪, ২৮) লিটার, ২৯) ১৮,  ৩০) ১০০০, ৩১) ৭৩৯৩, ৩২) ৫৬.৯২,  ৩৩) ২২০০, ৩৪) ১১০০ ৩৫) ৮০, ৩৬) ৮০.০৮, ৩৭) মিটার, ৩৮) ১০। মো. ফারুক হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা

তালা ভেঙে ভিসির দপ্তরে নতুন উপাচার্য, উত্তপ্ত চুয়েট ক্যাম্পাস

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের নিচে অবস্থান নিলে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর দপ্তরে প্রবেশের প্রতিবাদ জানান এবং চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে উপাচার্য ভবনের ফটকে লাগানো তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্যের এভাবে দপ্তরে প্রবেশের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ কবির বলেন, তাঁদের এক দফা দাবি হলো সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মো. সায়েমকে পুনর্বহাল করা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলবে। তালা ভেঙে নতুন উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের ঘটনাও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা সাবনাম বলেন, কোনো পদে নিয়োগ পাওয়া এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় তিনি নিন্দা জানান। এদিকে উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসি ভবন ছেড়ে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন না ছাড়লে ভবনটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে পুনরায় তালা দেওয়া এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করছেন। নিয়োগের পর ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এত দিন তিনি সরাসরি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দপ্তরে অবস্থানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ এবং চলমান অচলাবস্থা নিরসনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

তালা ভেঙে ভিসির দপ্তরে নতুন উপাচার্য, উত্তপ্ত চুয়েট ক্যাম্পাস

রাবিতে সাংবাদিকদের মারধর: হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব বাতিলে শিবিরের ক্ষোভ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতমূলক দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে রাবি শাখা ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দায়মুক্তির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। রোববার (১১ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব ক্ষোভ জানান। যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল ও সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষার ব্যবহার সমর্থনযোগ্য নয়। তবে কারও মন্তব্যের জেরে তার কক্ষে সশস্ত্র হামলা ও ভাঙচুর চালানো এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক তদন্তে মূল ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তারা আরও বলেন, বাকস্বাধীনতার চর্চার ক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সমালোচনার জেরে একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিশোধমূলক। প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, হলকক্ষে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেরই পড়াশোনা শেষ হয়েছে অথবা তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের সক্রিয় ছাত্রত্ব নেই, তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের ঘোষণা দিয়ে কার্যত লোকদেখানো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।  সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনার নিন্দা আগেই জানিয়েছে ছাত্রশিবির। তবে প্রশাসনের একপেশে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আড়ালে হামলায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে সংগঠনটির অভিযোগ। ক্যাম্পাসে সক্রিয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সাবেক ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের শাস্তির তালিকায় রাখা এবং মূল ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত গুরুত্ব আড়াল করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।  বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দলীয় পক্ষপাত পরিহার করে ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলামের কাছে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের তিনজন নেতাকর্মী ও হল সংসদের জিএস-এর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া আরও চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিন জনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়। প্রসঙ্গত, গত রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রাবিতে সাংবাদিকদের মারধর: হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব বাতিলে শিবিরের ক্ষোভ 

প্যারেন্টিং শিক্ষায় বিনিয়োগ প্রয়োজন

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করি বলে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হয়। তাঁদের অনেককেই সন্তান বড় করা নিয়ে সংকটে পড়তে দেখি। সম্প্রতি গাইবান্ধায় ১০-১২ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলছিলাম। একজন বললেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে মুঠোফোন কিনে দিয়েছেন। এখন পড়াশোনায় তার একেবারেই মনোযোগ নেই। জানতে চাইলাম, এত অল্প বয়সে মুঠোফোন দিলেন কেন? তিনি বললেন, মুঠোফোন না দিলে সে স্কুলে যাবে না বলে জেদ করছিল। এ ধরনের ঘটনা অনেক পরিবারেই ঘটছে।  সন্তান চাইলেই কি তাকে সবকিছু দিতে হবে? যেসব সিদ্ধান্ত শিশুর জীবনকে প্রভাবিত করে, সেসব বিষয়ে মতামত প্রকাশ করা তার অধিকার। কিন্তু তার কথা শোনার অর্থ সব চাওয়া মেনে নেওয়া নয়। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের একটি মূলনীতি হলো ‘শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ’। কোনো কাজে শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বড়দের দায়িত্ব তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। তার মতামত শোনার পরও কেন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না, তা বুঝিয়ে বলতে হবে।  এই ভারসাম্য বজায় রাখতেই অনেক মা-বাবা হিমশিম খান। কেউ সন্তানের জন্য কোনটি ভালো, তা বিবেচনা না করেই সব আবদারে ‘হ্যাঁ’ বলেন। আবার কেউ তার মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন এবং প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করতে চান। কোনোটিই কার্যকর প্যারেন্টিং নয়। সন্তান পালনের ওপর গত প্রায় ৪০ বছরে সম্পাদিত শতাধিক গবেষণার সারাংশ থেকে দুটি বিষয় উঠে আসে—শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন ভালোবাসা ও উষ্ণতায় ঘেরা পরিবেশ এবং শেখার যথাযথ কাঠামো। উষ্ণতা বলতে বোঝায় শিশুর প্রতি আস্থা ও সম্মান দেখানো এবং যোগাযোগ রাখা। আর শেখার কাঠামোর মধ্যে রয়েছে তথ্য, নির্দেশনা ও শিক্ষা দেওয়া। এটি শাস্তি বা নিয়ন্ত্রণনির্ভর কঠোর সন্তান পালনের পদ্ধতি থেকে আলাদা। এই দিকনির্দেশনা দিতে শিশুর বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। বয়সের সঙ্গে শিশুর চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি বদলায়। তাই সন্তানের মেজাজ ও আচরণ বোঝার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও মা-বাবার সচেতন হওয়া দরকার। যথাযথ যত্ন ও দিকনির্দেশনার অভাবে শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সম্ভাবনার বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়ে সমাজে। তবে প্রয়োজনীয় কৌশল শেখার সুযোগ পেলে মা-বাবা পরিবর্তন আনতে পারেন। বাংলাদেশ, লাইবেরিয়া ও পাপুয়া নিউগিনিতে কাজের সূত্রে দেখেছি, প্রশিক্ষণের পর অনেক মা-বাবা সন্তানের সঙ্গে নিজেদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। বয়সভিত্তিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজন বিশেষভাবে স্পষ্ট হয় কৈশোরে। এ সময় সন্তানকে নিয়ে অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন থাকেন এবং বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন অনুভব করেন। বাংলাদেশে বর্তমানে এই উদ্বেগ বেড়েছে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা স্বাধীনভাবে চলতে ও নিজের সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বন্ধু ও সমবয়সীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ তখনো সম্পূর্ণ হয় না। ফলে সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ঝুঁকি তারা সব সময় বুঝে উঠতে পারে না। এ অবস্থায় তত্ত্বাবধান প্রয়োজন, কিন্তু সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখলে তারা খোলামেলা আলোচনা করতে দ্বিধা বোধ করতে পারে। একে অতিরিক্ত খবরদারি মনে করে মা-বাবার পরামর্শও অগ্রাহ্য করতে পারে। তত্ত্বাবধান সম্মানজনক হলে সন্তান কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়। তাই কৈশোরে উষ্ণ, স্থিতিশীল ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখা জরুরি। এই আস্থার সম্পর্ক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন। অনেক মা-বাবা মনে করেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে সন্তানেরা তাঁদের চেয়ে বেশি জানে। ফলে দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে তাঁরা অসহায় বোধ করেন। কিন্তু সন্তানকে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রযুক্তিবিদ হতে হয় না। প্রয়োজন নিয়মিত কথা বলা, আগ্রহ নিয়ে তার জীবনের গল্প শোনা এবং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা। এসব অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সন্তান জন্ম দিলেই কার্যকর প্যারেন্টিংয়ের দক্ষতা তৈরি হয় না। শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রয়োজন বোঝা, তার কথা শোনা, শাস্তি ছাড়া সীমারেখা তৈরি, রাগ বা হতাশার সময়ে আচরণ সামলানো এবং কৈশোরে আস্থা ধরে রাখা—এসব শিখতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেই সুযোগ কতটুকু? প্যারেন্টিং শিক্ষাকে শুধু মা-বাবার ব্যক্তিগত আগ্রহ বা সামর্থ্যের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সঙ্গে এই শিক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। কাজাখস্তান ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে শিশুর বিকাশ, ইতিবাচক যোগাযোগ, খেলাধুলা, পুষ্টি ও নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও স্বাস্থ্যব্যবস্থা হতে পারে কার্যকর মাধ্যম। গর্ভকালীন সেবা, শিশুর টিকাদান, পুষ্টি ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের সময় মা-বাবার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগাযোগ হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবায় বয়সভিত্তিক প্যারেন্টিং পরামর্শ যুক্ত করলে পরিবারগুলোর কাছে এসব বার্তা পৌঁছানো সম্ভব। এ জন্য একেবারে নতুন করে শুরু করারও প্রয়োজন নেই। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে ২০২৩ সালে শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের মা-বাবা ও যত্নকারীদের জন্য সমন্বিত প্যারেন্টিং এডুকেশন প্যাকেজ তৈরি হয়। ২০২৪ সালে সরকার সেটি অনুমোদন করে। এর বহু খাতভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও তৈরি হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্যারেন্টিং সহায়তা দেওয়ার কিছু পরীক্ষিত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। এখন প্রয়োজন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিদ্যমান সরকারি সেবার মাধ্যমে প্যাকেজটির কার্যকর বাস্তবায়ন ও দেশব্যাপী সম্প্রসারণ। পাশাপাশি স্কুল, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকেও কাজে লাগাতে হবে। আমরা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কথা বলি। সেই ভবিষ্যতের ভিত তৈরি হয় পরিবারে—প্রতিদিনের আচরণ, কথোপকথন ও সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। তাই মা-বাবাকে কার্যকর প্যারেন্টিং শেখার সুযোগ দেওয়া বিলাসিতা নয়। শিশুর অধিকার ও পরিপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে, সহিংসতা প্রতিরোধে এবং সুস্থ সমাজ গঠনে এটি রাষ্ট্রের জরুরি বিনিয়োগ। ● লায়লা খন্দকার উন্নয়নকর্মী

প্যারেন্টিং শিক্ষায় বিনিয়োগ প্রয়োজন

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর ২০২৬ সালের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছেন। একই গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়নে বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায়ও প্রথম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার যৌথভাবে বুধবার (৭ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এ তালিকা প্রকাশ করে। বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকা তৈরিতে গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহ-লেখকদের গবেষণাগত প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার মান ও প্রভাব মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে এ তালিকাকে বিবেচনা করা হয়। এবারের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পাওয়া ২২ শিক্ষক ও গবেষক হলেন মো. রাকিবুল হক, আবদুস সালাম, মো. মাহবুবুর রহমান, তসলিম উর রশিদ, মুহাম্মদ ইব্রাহিম শাহ, এম. রেজাউল ইসলাম, সুবর্ণ বড়ুয়া, নেপাল চন্দ্র রায়, মো. কাওসার আহমেদ, সৈকত মিত্র, এম. এ. বি. এইচ. সুসান, মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম, মো. আবদুস সালাম, খন্দকার সামাহের সালেম, মোহাম্মদ ফেরদৌস, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, মো. আব্দুর রাজ্জাক, এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল, মো. আবদুর রশীদ এবং অর্ক জ্যোতি চক্রবর্তী। এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক ও গবেষকের অন্তর্ভুক্তি আনন্দ ও গর্বের বিষয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। উপাচার্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টিতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা করছেন এবং তাদের কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গবেষণার পরিধি ও মান বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে একই মূল্যায়নের আওতায় প্রকাশিত বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক

ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তি কলেজশিক্ষার্থীদের জন্য, মাসে পাবে ৫,০০০ টাকা

ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তিতে আবেদন শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীরা এই মেধাবিকাশ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এককালীন ৮ হাজার টাকা এবং মাসে ৫ হাজার টাকা বৃত্তি পাবে। আবেদনের শেষ সময় ২০ অক্টোবর ২০২৬। ব্র্যাক মেধাবিকাশ বৃত্তিসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্না বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে বৃত্তি প্রদানের উদ্দেশে মেধাবিকাশ বৃত্তি কার্যক্রম। * আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি–বেসরকারি কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত বিবেচিত হতে হবে। * পরিবারের মাসিক আয় ২০ হাজার টাকা বা কম হতে হবে। বৃত্তির পরিমাণ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীকে এককালীন ৮ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করবে ব্র্যাক। মাসে মাসে ৫ হাজার টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থী নির্বাচনের মানদণ্ড ক. শিক্ষার্থীকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হতে হবে খ. শিক্ষার্থীকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবার থেকে আসতে হবে গ. সরকারি–বেসরকারি কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে হবে ঘ. ব্র্যাক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ঙ. শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্র্যাক গ্র্যাজুয়েট ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর (যেমন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী) শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত শিথিলযোগ্য। * শিক্ষাবর্ষ/সেশন: এ বৃত্তি শুধু সেই শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে (Session: 2026-27) সরকারি বা বেসরকারি কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছেন। * সঠিক তথ্য প্রদান: আবেদনের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার জিপিএ এবং কলেজে ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। * ডকুমেন্ট স্ক্যানিং: প্রয়োজনীয় সব মূল সার্টিফিকেট, নম্বরপত্র এবং কলেজে ভর্তি নিশ্চিতকরণের কপির পরিষ্কার স্ক্যান কপি (পিডিএফ/জেপিইজি ফরম্যাটে) আপলোড করতে হবে। ঝাপসা বা অস্পষ্ট ছবি আবেদনের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। * পারিবারিক আয়ের বিবরণ: পরিবারের মাসিক বা বার্ষিক আয়ের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সত্যতা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে এর সাপেক্ষে প্রমাণাদি যাচাই করা হতে পারে। * যোগাযোগের মাধ্যম: ফর্মে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এবং ই–মেইল ঠিকানাটি অবশ্যই সচল থাকতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে যেকোনো প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। * সতর্কীকরণ: ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করলে যেকোনো পর্যায়ে আবেদনটি বাতিল বলে গণ্য হবে। * আবেদন করুন এখানে: আবেদনের আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে ভিজিট করুন:

ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তি কলেজশিক্ষার্থীদের জন্য, মাসে পাবে ৫,০০০ টাকা

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের তথ্য মাসে ২ বার পাঠানোর নির্দেশ

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোপণকৃত গাছপালার সঠিক হিসাব ও হালনাগাদ তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অধ্যক্ষদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে বোর্ডের অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানে ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে পূর্বেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে, প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বোর্ডে পাঠায়নি। এ অবস্থায় বোর্ডের দেওয়া সুনির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী রোপণকৃত বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, তারিখ, জিওগ্রাফিক্যাল কোঅর্ডিনেটসহ সুনির্দিষ্ট স্থান, পরিচর্যাকারী ও মনিটরিং কর্মকর্তার নাম-ফোন নম্বরসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১৫ ও ৩০ তারিখের মধ্যে ই-মেইলে ([email protected]) প্রেরণের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/জেডআর

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের তথ্য মাসে ২ বার পাঠানোর নির্দেশ

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি, কোথাও টানা ১৬ দিন

এবার শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে শিক্ষার্থীদের জন্য মিলছে দীর্ঘ ছুটি। সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক বন্ধ যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানভেদে টানা ছুটির মেয়াদ হতে পারে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৬ দিন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছুটির সময় নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর।  ২০২৬ সালের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার এবং পরে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে। এ ছাড়া ২৫ অক্টোবর রোববার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে ছুটি থাকলে ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিনের বিরতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তে ছুটির সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে চূড়ান্ত সময়সূচির জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ছুটির আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি এবং পরে ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের শুক্র ও শনিবারের ছুটি যুক্ত হবে। ফলে কলেজের শিক্ষার্থীরা ১৬ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১৬ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ পাবেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটিও এবার দীর্ঘ হচ্ছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ী মাদরাসায় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটি ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের কারণে ছুটির মোট সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্গাপূজার ছুটির সময়সূচি একরকম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে ছুটি দিতে পারে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে। একইভাবে ক্লাস, পরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলের সময়সূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্গাপূজার ছুটির সঠিক সময় জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করতে হবে। সব মিলিয়ে, এবারের দুর্গাপূজায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ১০ দিন এবং কলেজে ১৬ দিন পর্যন্ত ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে চূড়ান্ত ছুটির সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি, কোথাও টানা ১৬ দিন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কারকুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ধরন নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাময়িক বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থীসাময়িক বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থী হলেন বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আব্দুর রউফ ও মোসাব্বির হোসেন।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের পর তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।বাসে কথাকাটাকাটি থেকে বিরোধবিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়াগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোধূলী’ বাসে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বুধবার ক্যাম্পাসে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যও হেনস্তা ও আঘাতের শিকার হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।জরুরি বৈঠকের পর বহিষ্কারের সিদ্ধান্তঘটনার পর বুধবার দুপুরে প্রক্টরিয়াল বডি, ছাত্র-উপদেষ্টা এবং বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র-উপদেষ্টার সমন্বয়ে আরও একটি বৈঠক হয়।সভাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর করা অফিস আদেশে ওই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ দিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দকে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার মো. সালাউদ্দিন মোল্লা।কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ এবং সহকারী প্রক্টর জাকির হোসেন। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।বিভাগীয় তদন্ত কমিটিও গঠনবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলা বিভাগও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির কাজ হবে সংঘর্ষে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই, ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় শাস্তির সুপারিশ করা।এদিকে সংঘর্ষের পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

ময়মনসিংহে অনশনের পর ২০ জনের নিয়োগপত্র, বঞ্চিত দুজন

ময়মনসিংহে অনশনের পর ২০ জনের নিয়োগপত্র, বঞ্চিত দুজনসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে দিনভর অনশনের পর ময়মনসিংহে ২০ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর তাঁদের নিয়োগপত্র জারি করা হয়। তবে একই দাবিতে অনশনে থাকা আরও দুজন প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি।ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জেলার ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ছিলেন না। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে ইতোমধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে ২২ জন প্রার্থীর নিয়োগ এতদিন স্থগিত ছিল। নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে বুধবার দিনভর ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান নিয়ে অনশন করেন তাঁরা। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর তাঁদের মধ্যে ২০ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ২০ জনের নিয়োগময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর ২০ জন প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি করা হয়েছে।তিনি বলেন, বাকি দুজন প্রার্থীর বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তাঁদের নিয়োগপত্র কেন দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বিস্তারিত জানাতে পারবে।দিনভর অনশনের পর মিলল নিয়োগপত্রনিয়োগপত্র পাওয়া ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ফুলপুর উপজেলার মহদীপুর গ্রামের কাজী অনিক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পাওয়ার সময় তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে নকশাকার পদেও নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের আশায় তিনি ওই চাকরিতে যোগ দেননি।পরে প্রাথমিকের নিয়োগ কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হলে তিনিও অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়োগের দাবিতে অনশনে অংশ নেন। রাতের দিকে নিয়োগপত্র পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।কাজী অনিক জানান, বুধবার দিনভর অনশনের পর রাত প্রায় একটার দিকে ওয়েবসাইটে তাঁদের নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।কেন নিয়োগ পেলেন না, জানেন না দুই প্রার্থীনিয়োগপত্র না পাওয়া দুজনের একজন গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর গ্রামের জাহিদ হাসান। তিনি জানান, ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও তাঁকে কেন বাদ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কারণ তাঁকে জানানো হয়নি।জাহিদ হাসানের দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতা ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে বুধবার দিনভর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় অফিসে অবস্থান করেও তিনি নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি।মেধাতালিকায় থেকেও নিয়োগের অপেক্ষায় আরেকজননিয়োগপত্র না পাওয়া অন্য প্রার্থী মাশরুর হাসান ধোবাউড়া সদরের বাসিন্দা। তিনি জানান, উপজেলা মেধাতালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ২২তম।মাশরুর হাসানের দাবি, তাঁর উপজেলায় তিনিই একমাত্র প্রার্থী, যিনি এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তবে তাঁকে কেন নিয়োগের আওতায় আনা হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ তিনি জানতে পারেননি।বাকি দুজনের নিয়োগ এখনো অনিশ্চিত২২ জন প্রার্থীর নিয়োগ স্থগিত থাকার পর বুধবার তাঁদের অনশন এবং দিনভর অবস্থানের পর ২০ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার আপাতত অবসান হলেও বাকি দুজন এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, ওই দুজনের বিষয়ে এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর।নিয়োগবঞ্চিত দুই প্রার্থী দ্রুত বিষয়টি পরিষ্কার করে তাঁদের নিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহে অনশনের পর ২০ জনের নিয়োগপত্র, বঞ্চিত দুজন
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream