ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নগদ বার্তা

অপরাধ

১৯৬১ সালে সূচনা, স্বাধীনতার পর সব সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগে রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন; শেষ পর্যায়ে এসে উৎপাদন বিলম্ব, ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে হাসিনা আমল

রূপপুর: এক সরকারের নয়, ছয় দশকের পথচলার ফসল—বিতর্কে কৃতিত্ব, সামনে দুর্নীতির প্রশ্ন

রূপপুর: এক সরকারের নয়, ছয় দশকের পথচলার ফসল—বিতর্কে কৃতিত্ব, সামনে দুর্নীতির প্রশ্ন

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের সংকট, বকেয়া বিল এবং উৎপাদন ঘাটতির বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। একই সঙ্গে বিদ্যুৎখাতে বকেয়া বিল পরিশোধ, রূপপুর প্রকল্পের দীর্ঘ ইতিহাস, বিলম্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎখাতে জমে থাকা প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বকেয়া বিল পরিশোধ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই অর্থ পরিশোধের ফলে বিদ্যুৎখাতের আর্থিক চাপ কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বিদ্যুৎখাতের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় এখনো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ইতিহাস নতুন নয়; এর সূচনা আজকের নয়, বরং ছয় দশকেরও বেশি পুরোনো। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে প্রথমবারের মতো রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় জমি অধিগ্রহণও করা হয়েছিল। পরে ১৯৬৯-৭০ সালে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের আগেই বাতিল হয়ে যায়।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে রূপপুরে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এরপর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পালাবদল হলেও প্রকল্পটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; বরং ধাপে ধাপে পরিকল্পনা, সমীক্ষা ও কারিগরি মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে এটি টিকে ছিল।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোফরাটম রূপপুর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। ওই সমীক্ষায় রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে সম্ভাবনাময় ও বাস্তবসম্মত বলে বিবেচনা করা হয়। এই সময়ের একটি বড় অংশে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ফলে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রযাত্রায় স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক ভূমিকা ছিল বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।

পরবর্তীতে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন সরকারের সময়েও রূপপুর প্রকল্পটি নীতিগতভাবে বহাল রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে অনেক পরে। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা এগোয় এবং ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশিয়ার রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মধ্যে মূল নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সালের এই চুক্তি হঠাৎ করে সম্ভব হয়নি। ১৯৬১ সালের সূচনা, স্বাধীনতার পর ধারাবাহিক পরিকল্পনা, জমি সংরক্ষণ, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নীতিগত প্রস্তুতির ভিত্তিতেই রূপপুর প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। ফলে এই প্রকল্পকে শুধু একটি সরকারের একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক পরিকল্পনার ফল।

তবে প্রকল্পটির শেষ পর্যায়ে এসে বড় প্রশ্ন উঠেছে বাস্তবায়ন ব্যয়, সময়ক্ষেপণ ও দুর্নীতি নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বড় বড় মেগা প্রকল্পের মতো রূপপুরেও অস্বচ্ছতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। রূপপুর প্রকল্প ঘিরে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

এই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের নামও রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় এসেছে। বিরোধী মহল দাবি করছে, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম, অতিমূল্যায়ন ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও রয়েছে বড় প্রশ্ন। নির্মাণসূচি অনুযায়ী, প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৩ সালে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২০২৪ সালে আরও ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি তিন বছরের বেশি পিছিয়ে গেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো রূপপুর চালু হলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত। একটি ইউনিট চালু হলেই বছরে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় সম্ভব ছিল। কিন্তু বিলম্বের কারণে সেই সম্ভাব্য সাশ্রয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশ।

এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপও বহন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্পে সময়ক্ষেপণের কারণে রাশিয়ার ঋণের সুদ বাবদ প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ফলে প্রকল্প বিলম্বের দায় এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সব বিতর্কের মধ্যেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন চালুর দ্বারপ্রান্তে। এটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।

তবে রূপপুরকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো—এটি কোনো একক সরকারের কীর্তি নয়, বরং পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ পর্যন্ত ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বহু সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আর সেই দীর্ঘ যাত্রাপথের শেষ অধ্যায়ে এসে দুর্নীতি, বিলম্ব ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছে শেখ হাসিনা সরকার।

Image

আপনার মতামত লিখুন

নগদ বার্তা

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


রূপপুর: এক সরকারের নয়, ছয় দশকের পথচলার ফসল—বিতর্কে কৃতিত্ব, সামনে দুর্নীতির প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের সংকট, বকেয়া বিল এবং উৎপাদন ঘাটতির বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। একই সঙ্গে বিদ্যুৎখাতে বকেয়া বিল পরিশোধ, রূপপুর প্রকল্পের দীর্ঘ ইতিহাস, বিলম্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।


সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎখাতে জমে থাকা প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বকেয়া বিল পরিশোধ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই অর্থ পরিশোধের ফলে বিদ্যুৎখাতের আর্থিক চাপ কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বিদ্যুৎখাতের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় এখনো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।


বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ইতিহাস নতুন নয়; এর সূচনা আজকের নয়, বরং ছয় দশকেরও বেশি পুরোনো। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে প্রথমবারের মতো রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় জমি অধিগ্রহণও করা হয়েছিল। পরে ১৯৬৯-৭০ সালে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের আগেই বাতিল হয়ে যায়।


স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে রূপপুরে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এরপর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পালাবদল হলেও প্রকল্পটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; বরং ধাপে ধাপে পরিকল্পনা, সমীক্ষা ও কারিগরি মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে এটি টিকে ছিল।


১৯৭৭ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোফরাটম রূপপুর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে। ওই সমীক্ষায় রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে সম্ভাবনাময় ও বাস্তবসম্মত বলে বিবেচনা করা হয়। এই সময়ের একটি বড় অংশে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ফলে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রযাত্রায় স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক ভূমিকা ছিল বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।


পরবর্তীতে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন সরকারের সময়েও রূপপুর প্রকল্পটি নীতিগতভাবে বহাল রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে অনেক পরে। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা এগোয় এবং ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশিয়ার রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মধ্যে মূল নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সালের এই চুক্তি হঠাৎ করে সম্ভব হয়নি। ১৯৬১ সালের সূচনা, স্বাধীনতার পর ধারাবাহিক পরিকল্পনা, জমি সংরক্ষণ, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নীতিগত প্রস্তুতির ভিত্তিতেই রূপপুর প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। ফলে এই প্রকল্পকে শুধু একটি সরকারের একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক পরিকল্পনার ফল।


তবে প্রকল্পটির শেষ পর্যায়ে এসে বড় প্রশ্ন উঠেছে বাস্তবায়ন ব্যয়, সময়ক্ষেপণ ও দুর্নীতি নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বড় বড় মেগা প্রকল্পের মতো রূপপুরেও অস্বচ্ছতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। রূপপুর প্রকল্প ঘিরে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।


এই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের নামও রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় এসেছে। বিরোধী মহল দাবি করছে, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম, অতিমূল্যায়ন ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।


রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও রয়েছে বড় প্রশ্ন। নির্মাণসূচি অনুযায়ী, প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৩ সালে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২০২৪ সালে আরও ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি তিন বছরের বেশি পিছিয়ে গেছে।


জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো রূপপুর চালু হলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত। একটি ইউনিট চালু হলেই বছরে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় সম্ভব ছিল। কিন্তু বিলম্বের কারণে সেই সম্ভাব্য সাশ্রয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশ।


এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপও বহন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্পে সময়ক্ষেপণের কারণে রাশিয়ার ঋণের সুদ বাবদ প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ফলে প্রকল্প বিলম্বের দায় এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।


সব বিতর্কের মধ্যেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন চালুর দ্বারপ্রান্তে। এটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।


তবে রূপপুরকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো—এটি কোনো একক সরকারের কীর্তি নয়, বরং পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ পর্যন্ত ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বহু সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আর সেই দীর্ঘ যাত্রাপথের শেষ অধ্যায়ে এসে দুর্নীতি, বিলম্ব ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়েছে শেখ হাসিনা সরকার।


নগদ বার্তা

সম্পাদক :মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু) ll প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ)

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত