ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
নগদ বার্তা

সারাদেশ

জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ, দ্বিতীয় রিফাইনারির অভাব নিয়ে সেনাপ্রধানের উদ্বেগ

জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ, দ্বিতীয় রিফাইনারির অভাব নিয়ে সেনাপ্রধানের উদ্বেগ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পার হলেও দেশে দ্বিতীয় কোনো তেল শোধনাগার গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) আয়োজিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান জানান, দেশে বর্তমানে একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত। ফলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে অনিশ্চয়তা—জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও পড়ে।

প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের বড় অংশই সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটকে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, বরং কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। “আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিই, যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যেই”—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, এনডিসি ভবিষ্যতে এ ধরনের কৌশলগত কোর্সের পরিসর আরও বাড়াবে এবং অংশগ্রহণকারীরা অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অবদান রাখবেন।

গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। এতে সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন খাতের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এই কোর্স বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এবং একটি অভিন্ন জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

নগদ বার্তা

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ, দ্বিতীয় রিফাইনারির অভাব নিয়ে সেনাপ্রধানের উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পার হলেও দেশে দ্বিতীয় কোনো তেল শোধনাগার গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) আয়োজিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান জানান, দেশে বর্তমানে একমাত্র ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত। ফলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে অনিশ্চয়তা—জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও পড়ে।

প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের বড় অংশই সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটকে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে না, বরং কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। “আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিই, যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যেই”—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, এনডিসি ভবিষ্যতে এ ধরনের কৌশলগত কোর্সের পরিসর আরও বাড়াবে এবং অংশগ্রহণকারীরা অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অবদান রাখবেন।

গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। এতে সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন খাতের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এই কোর্স বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এবং একটি অভিন্ন জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নগদ বার্তা

সম্পাদক :মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কবির (মঞ্জু) ll প্রকাশক: জাহিন ফয়সাল (শুভ)

২০২৬ © নগদ বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত