ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একাধিক আবাসিক হলে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিজয় ৭১ হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে বুধবার রাতে পৃথকভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
দেয়াললিখন ঘিরে উত্তেজনা
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে বিজয় ৭১ হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘প্রতিবাদী দেয়াললিখন’ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় হল সংসদ কক্ষের দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়। এতে আপত্তি জানান ছাত্রশিবিরের এক নেতা। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়, যা পরে উত্তেজনায় রূপ নেয়।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের এক কর্মীকে গালিগালাজ করা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি শুধু হলের দেয়াল নষ্ট না করার জন্য বাধা দিয়েছিলেন।
এ ঘটনার জেরে ছাত্রদলের কর্মীরা হল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলও করেন।
অন্য হলগুলোতেও একই পরিস্থিতি
একই রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান লেখা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হল প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে এবং দেয়াললিখন মুছে ফেলার প্রস্তাব দেয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি এক পক্ষ।
এদিকে গভীর রাতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলেও দেয়াললিখন করা হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিরা এসব কর্মকাণ্ডকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন বলে মন্তব্য করেছেন।
সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ
ঘটনাগুলোর কভারেজ করতে গিয়ে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজয় ৭১ হলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিককে বাধা দেওয়া হয়। তাদের পরিচয় দেওয়ার পরও ভিডিও করতে না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরও কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে গভীর রাতে একটি বৈঠকের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তিন সাংবাদিককে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। পরে কয়েকজন তাদের দিকে তেড়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুঃখ প্রকাশ ও প্রতিক্রিয়া
বিজয় ৭১ হলের ঘটনার পর ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।
অন্য ঘটনার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট নেতারা দাবি করেছেন, পরিস্থিতির ভুল বোঝাবুঝির কারণেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং পরে তারা ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিকদের দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো পক্ষের প্রতিপক্ষ নন। তাদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া এবং হেনস্তার ঘটনাকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
সংগঠনটি এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একাধিক আবাসিক হলে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিজয় ৭১ হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে বুধবার রাতে পৃথকভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
দেয়াললিখন ঘিরে উত্তেজনা
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে বিজয় ৭১ হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘প্রতিবাদী দেয়াললিখন’ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় হল সংসদ কক্ষের দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়। এতে আপত্তি জানান ছাত্রশিবিরের এক নেতা। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়, যা পরে উত্তেজনায় রূপ নেয়।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের এক কর্মীকে গালিগালাজ করা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি শুধু হলের দেয়াল নষ্ট না করার জন্য বাধা দিয়েছিলেন।
এ ঘটনার জেরে ছাত্রদলের কর্মীরা হল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলও করেন।
অন্য হলগুলোতেও একই পরিস্থিতি
একই রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান লেখা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হল প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে এবং দেয়াললিখন মুছে ফেলার প্রস্তাব দেয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি এক পক্ষ।
এদিকে গভীর রাতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলেও দেয়াললিখন করা হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিরা এসব কর্মকাণ্ডকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন বলে মন্তব্য করেছেন।
সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ
ঘটনাগুলোর কভারেজ করতে গিয়ে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজয় ৭১ হলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিককে বাধা দেওয়া হয়। তাদের পরিচয় দেওয়ার পরও ভিডিও করতে না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরও কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে গভীর রাতে একটি বৈঠকের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তিন সাংবাদিককে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। পরে কয়েকজন তাদের দিকে তেড়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুঃখ প্রকাশ ও প্রতিক্রিয়া
বিজয় ৭১ হলের ঘটনার পর ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।
অন্য ঘটনার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট নেতারা দাবি করেছেন, পরিস্থিতির ভুল বোঝাবুঝির কারণেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং পরে তারা ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিকদের দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো পক্ষের প্রতিপক্ষ নন। তাদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া এবং হেনস্তার ঘটনাকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
সংগঠনটি এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন