ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়া এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে বিলম্বসহ চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন পৃথক দুটি পরিবারের স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা সদরের শরৎনগরে অবস্থিত ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে পৃথক এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে দুই পরিবারে সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মাসুদ রানা (৪০) ও তাঁর স্ত্রী অন্তরা খাতুনের (২৫) ক্ষেত্রে। স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার ভোরে অন্তঃসত্ত্বা অন্তরার প্রসবব্যথা শুরু হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে নাজিম উদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মা ও সন্তান সুস্থ আছেন জানানো হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসক না থাকায় সকাল ১০টার দিকে তাঁকে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্তরার স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক আসার আশ্বাস দিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়। এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর একজন নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। কিন্তু সন্তান জন্মের পর নবজাতকের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উম্মে হুরাইরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। সন্তান হারিয়ে শোকাহত অন্তরা খাতুন ও তাঁর ভাই কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রসবের মতো জরুরি সময়ে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা এ ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রসবব্যথা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন উপজেলার চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার তারেক আলীর স্ত্রী মুসলিমা আক্তার মনা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করা হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সার্জন না থাকায় তাঁকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে চিকিৎসক এসে অস্ত্রোপচার করলেও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর শিশুটিকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়। দ্বিতীয় নবজাতকের চাচা মাসুদ রানা আক্ষেপ করে বলেন, রক্তের ব্যবস্থা করার পরও চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সময়মতো সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা গেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তাঁদের ধারণা। এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার হাসপাতালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের হাসপাতালে নিয়ম মেনেই স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অবহেলার ঘটনা ঘটেনি। ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি আগে অবহিত ছিলাম না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দিনাজপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, হাসপাতালে ভর্তি ৩৪

দিনাজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন নারী-পুরুষ। তবে এসব রোগী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরে চিকিৎসা নিতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এদিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন অনেক রোগী। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক তিনটি ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রোগীদের মশারির ভেতরে রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, খুলনা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাঁদের ভর্তি করা হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি ও বহির্বিভাগেও জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীর ও মাথাব্যথার কারণে অনেকের খাবারে অরুচি দেখা দিচ্ছে। রোগীর স্বজনেরা জানান, তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ঢাকা থেকে দিনাজপুরে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট বলেও জানান। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সাকলাইন সাঈদ সরন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে সঠিক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। শনিবার হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। এসব রোগী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ৬৭৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬২৯ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দুজন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫ জন।

দিনাজপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, হাসপাতালে ভর্তি ৩৪
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream