ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
আরও ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল সৌদি আরব

আরও ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল সৌদি আরব

সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি আরবে পাঁচ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, দণ্ডিত পাঁচজন একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী, নিরাপত্তা সদর দপ্তর এবং যানবাহনে হামলা চালানোর দায়েও তারা দোষী সাব্যস্ত হন। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও জীবন্ত গুলি রাখার পাশাপাশি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন এবং হামলা পরিচালনায় সহায়তা করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানানো হয়। আজ শনিবারই পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনবিক্ষোভ-জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের মুখে যুবক মন্ত্রণালয় বলেছে, আদালতের দেওয়া বিচারিক বিবেচনাধীন মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুযায়ী তাদের সাজা কার্যকর করা হয়েছে। তবে দণ্ডিত ব্যক্তিদের পরিচয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থান কিংবা তারিখ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি। সৌদি আরবে ২০২৫ সালে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির আধুনিক ইতিহাসে এক বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক।

ওপেনএআইয়ে আড়ি পাতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সৌদি প্রকৌশলী

ওপেনএআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে গোপনে আড়ি পাতার অভিযোগে অভিযুক্ত সৌদি নাগরিক আবদুলরহমান আলফোজান গ্রেপ্তারের আগে সৌদি আরবে যাওয়ার একমুখী টিকিট কেটেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা আদালতে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার প্রকাশ করা আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল আলফোজানের। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ও পরিবারের আরেক সদস্যেরও যাওয়ার কথা ছিল। ৩৫ বছর বয়সী আলফোজান ওপেনএআইয়ের প্রকৌশলী ছিলেন। প্রায় ১৫ মাস কাজ করার পর গত সপ্তাহে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকোর প্রধান কার্যালয়ের একটি সম্মেলনকক্ষে গোপন শ্রবণযন্ত্র পাওয়া যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এরপর ৯ অক্টোবর আলফোজানকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। আলফোজানের বিরুদ্ধে গোপনে মানুষের কথোপকথন শোনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কাজে তিনি ইলেকট্রনিক, যান্ত্রিক বা অন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহার করেছেন কিংবা তা করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ৮ অক্টোবর আলফোজানের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি অভিযোগটি গোপন রাখার আবেদন করেন কৌঁসুলিরা। এ সময় তাঁরা বিচারককে সৌদি আরবে যাওয়ার টিকিট কাটার বিষয়টি জানান। তাঁদের যুক্তি, আলফোজানের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালানোর ‘সামর্থ্য আছে এবং পালানোর প্রণোদনাও তৈরি হতে পারে’। আলফোজানের আইনজীবী উইলিয়াম পারনিক বলেছেন, তাঁর মক্কেল আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন। তাঁকে আটক রাখার সিদ্ধান্তও চ্যালেঞ্জ করবেন। পারনিক আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে নানা বয়ান সত্ত্বেও আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা আমাদের মক্কেলের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করবে। আমাদের মক্কেল একজন সম্মানিত পেশাজীবী। এই সমাজের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।’ পারনিক আরও বলেন, ‘আইন অনুযায়ী, আলফোজান নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ন্যায়সংগত আচরণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকারও তাঁর আছে।’ আইনজীবীর অভিযোগ, আলফোজানের জাতীয় পরিচয়কে সামনে রেখে তাঁকে অবিশ্বস্ত বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এ প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘অন্ধকার অধ্যায়গুলোর’ কথা মনে করিয়ে দেয়। এ ধরনের ধারণার বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতে লড়বেন। আলফোজানের গ্রেপ্তারের ঘটনা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান গুপ্তচরবৃত্তি ও শিল্পগুপ্তচরবৃত্তির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) এগিয়ে থাকার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে এ উদ্বেগ সামনে এসেছে। লিংকডইনে আলফোজানের নামে থাকা একটি প্রোফাইল অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মেটায় সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে মাইক্রোসফটেও ইন্টার্নশিপ করেছেন। রিয়াদভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান রায়েদ ভেঞ্চারসেও আলফোজানকে ভেঞ্চার পার্টনার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্য অংশীদারদের মধ্যে সৌদি রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স খালিদ বিন বাদার আল সৌদও রয়েছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলফোজানের নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল রায়েদ ভেঞ্চারস। তখন প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে প্রযুক্তি স্টার্টআপ খাতে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবী হিসেবে বর্ণনা করে। রায়েদ ভেঞ্চারস জানায়, সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বের করা হবে আলফোজানের কাজ। পাশাপাশি স্টার্টআপগুলোকে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতেও সহায়তা করবেন তিনি।

ওপেনএআইয়ে আড়ি পাতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সৌদি প্রকৌশলী

সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে?

বহু বছর ধরেই ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়ে আসছে। দেশটির তেল অবকাঠামো থেকে শুরু করে রাজধানী রিয়াদ—কোনো কিছুই তাদের হামলার বাইরে থাকেনি। তবে রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা সৌদি আরবের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ৬ অক্টোবর থেকে চালানো এসব হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানায় জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে ইয়েমেনের রাজধানী। প্রশ্ন হচ্ছে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলাগুলো বারবার কীভাবে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে পারছে? আর দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলো সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা সম্পর্কে এসব হামলা কী বার্তা দিচ্ছে? সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সম্ভাব্য এমন হামলা ঠেকানোর জন্যই এসব ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। এ ছাড়া সৌদি আরবের কাছে আরও উন্নত টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থাও রয়েছে। এই দুই ব্যবস্থাই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রেও এগুলো নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। সৌদি আরবের বিমানবাহিনীতেও রয়েছে উন্নত এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও ইউরোফাইটার টাইফুন। এগুলো ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম। তারপরও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বারবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে যাচ্ছে বা তা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এতে বিশাল ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখার কঠিন বাস্তবতা সামনে এসেছে। ‘পরিকল্পিতভাবে সংঘাত বাড়ানো’ প্রায় এক দশক ধরে দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে হুতিদের। ২০১৭ সালেও তারা রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। ইউরোপীয় নীতি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের (সিইপিএ) প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফেদেরিকো বোরসারি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, এরপর থেকে ইরানের সহায়তায় হুতিদের অস্ত্রভান্ডারে আরও উন্নত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হয়েছে। তবে নতুন কোনো সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ নেই। তাঁর মতে, আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত লক্ষ্যবস্তুতে বারবার এবং সমন্বিতভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা হুতিদের রয়েছে। বোরসারি আরও বলেন, হামলার সময় দেখে মনে হচ্ছে, ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে। হুতিরা দেখিয়েছে যে সৌদি রাজধানীর ওপর সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি ও চাপ তৈরির সক্ষমতা এবং সদিচ্ছা—দুটিই তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়াতে হুতিরা বহু বছর ধরে কাজ করছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে হুতিরা তাদের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা আরও উন্নত করেছে। যেসব হামলাকে ব্যর্থ বলে মনে হয়েছে, সেগুলো থেকেও তারা শিখেছে এবং নিজেদের কৌশল বদলেছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে হামলার অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে হুতিরা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা বাড়িয়ে থাকতে পারে। আল-বাশা বলেন, সৌদি আরব প্যাট্রিয়ট, থাডসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু দেশটির বিশাল ভূখণ্ডের সর্বত্র কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের পুরো প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়া হুতিদের জন্য জরুরি নয়। একটি সফল হামলাই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে। বারবার হামলার ঘটনা আরেকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চলতে থাকলে তা মোকাবিলার জন্য সৌদি আরবের হাতে পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না। প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক এবং নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস হেরাস বলেন, সৌদি আরবের বড় একটি অংশ মরুভূমি। বিশাল দূরত্বের কারণে এই ভূখণ্ডের প্রতিটি জায়গায় কার্যকর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এমন এলাকায় আগাম সতর্কতাব্যবস্থা পরিচালনার জন্য কর্মী নিয়োগ ও তা সচল রাখতেও বেশি খরচ হয়। তবে এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে, ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সময় সৌদি আরবের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। ফলে মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। একই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বোরসারির মতে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালানোর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া। তবে একে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি গত মাসের কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। বোরসারি বলেন, এসব খবর সত্য হলে আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোন হামলা ঠেকানো হবে, কোন লক্ষ্যবস্তুর জন্য কতটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একসঙ্গে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে পারে হুতিরা। এর মধ্যে রয়েছে একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। অত্যাধুনিক ও বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও দীর্ঘ সময় ধরে চলা ব্যাপক হামলার ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র বা উড়ে আসা অস্ত্র ধ্বংস করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা দিতে পারে না। বোরসারি বলেন, রিয়াদে হামলার ঘটনা সৌদি আরবের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বারবার হামলার মুখে স্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব প্রশ্ন অস্বীকার করা হবে সরলীকরণ। ব্যয়বহুল পাল্টাপাল্টি কৌশল বোরসারি বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনো জানা যায়নি। একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের ওপর। তিনি বলেন, শুধু প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র কতটা উন্নত, তার ওপর প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে না। রাডার ও অন্যান্য সেন্সরের আওতা, বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দক্ষতা এবং পর্যাপ্ত গোলাবারুদের মজুতও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসবের যেকোনো একটির দুর্বলতা কিংবা একাধিক সমস্যার সম্মিলিত প্রভাবে হামলা ঠেকানো ব্যর্থ হতে পারে। সৌদি আরবের ভৌগোলিক অবস্থানও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। দেশটির বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর ও সামরিক ঘাঁটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব স্থাপনায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যয়বহুল এবং কঠিন। বোরসারি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শত্রুর হামলা শনাক্ত করা। এ জন্য আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এমন নজরদারি বজায় রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে সরঞ্জাম ও জনবলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ড্রোন মোকাবিলায় তুলনামূলক কম খরচের কিছু বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে আছে স্বয়ংক্রিয় অ্যান্টি-ড্রোন টারেট, যেখানে ভারী মেশিনগান ব্যবহার করা হয়। স্বল্পপাল্লার কম খরচের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি। বোরসারি বলেন, আশঙ্কা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ড্রোন প্রবেশের ঘটনা চলতে থাকবে। ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেনের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষক ফ্রেডি খুয়েরির মতে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে শুধু ভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে হামলাকারীরা নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে, এসব ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ইরান ও তাদের সহযোগীরা বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে কীভাবে অভিযান চালাতে হয়, তা শিখছে বলে মনে হচ্ছে। হামলার পথ ও কৌশল পরিবর্তন করে তারা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হামলা ঠেকাতে প্রতিপক্ষের ব্যয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। খুয়েরির মতে, সৌদি আরবসহ পুরো অঞ্চলের জন্য শিক্ষা হলো—আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যত উন্নতই হোক, কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিস্তৃত নজরদারি, পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং পরিবর্তনশীল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলানো জরুরি। পল ইডন ইরাকি কুর্দিস্তানের একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস, রাজনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালিখি করেন। মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ

সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে?

সৌদি শ্রমবাজারে সংকট: সামনে বিকল্প কী

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাসংকট বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতির গভীর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। এখন প্রশ্ন শুধু কতজন কর্মী বিদেশে পাঠানো যাবে তা নয়; প্রশ্ন হলো, তাঁদের জীবন, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা, ফ্লাইট বাতিল, শ্রমিকদের আটকে পড়া কিংবা ভিসার অনিশ্চয়তা—এসব শুধু সাময়িক ভ্রমণ বিঘ্ন নয়; বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতির জন্য সতর্কসংকেত। সৌদি আরব লাখ লাখ বাংলাদেশির কর্মস্থল, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেখানকার অস্থিরতার অভিঘাত এসে পড়ে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি ও জাতীয় আয়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে কর্মসংস্থানের ছাড়পত্র গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কমেছে; সৌদি আরবে কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক যাত্রীর যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এ সংকটের জন্য সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই একমাত্র দায়ী করা যাবে না। বরং এই পরিস্থিতি আমাদের এমন কিছু দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা দেখিয়ে দিচ্ছে, যেগুলো স্বাভাবিক সময়ে সংখ্যার আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে। বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতি বড় হয়েছে, কিন্তু তার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কি একইভাবে পরিপক্ব হয়েছে? বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থানের সাফল্য সাধারণত কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন এবং কত রেমিট্যান্স এল—এই দুই সূচকে বিচার করা হয়। এই হিসাবের আড়ালে একটি মৌলিক প্রশ্ন উপেক্ষিত থাকে, কর্মসংস্থানের এত বড় অংশ যদি শুধু কয়েকটি দেশ ও একটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে সেই সাফল্য কতটা টেকসই? প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬২ শতাংশ। এ তালিকায় সৌদি আরবের গুরুত্ব বিশেষ। দেশটির নিরাপত্তা, নিয়োগনীতি বা শ্রমবাজারে পরিবর্তন ঘটলে তার অভিঘাত পড়বে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে। এই নির্ভরতা এক দিনে তৈরি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক পাঠানো সহজতর হয়েছে; অন্যদিকে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সনদের স্বীকৃতি এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে এগিয়েছে। ফলে সৌদি আরবে নিয়োগের সুযোগ বাড়লে আমরা স্বস্তি পেয়েছি আর সেখানে সংকট দেখা দিলে বিকল্প খুঁজতে ব্যস্ত হয়েছি। এটি কেবল বাজারের ব্যর্থতা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনারও দুর্বলতা। কোনো দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার কখনো স্থায়ী অধিকার নয়। সৌদি আরবও তার অর্থনৈতিক রূপান্তর, শ্রমনীতি, জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং বেসরকারি খাতের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের ধরন বদলাবে। বাংলাদেশের জন্য সেই পরিবর্তন অনুমান করা এবং তার সঙ্গে তাল মেলানো জরুরি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা দরকার, বর্তমান নিরাপত্তাসংকটের অর্থ এই নয় যে সৌদি আরবের শ্রমবাজার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি শ্রমের চাহিদা থাকতে পারে। কিন্তু চাহিদা থাকলেই বাংলাদেশের কর্মীরা আগের মতো কাজ পাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে বাংলাদেশের কৌশল হওয়া উচিত সৌদি আরবের বাজারের সুযোগ ধরে রেখে একক বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানো। বাংলাদেশের অভিবাসন সাফল্য মাপা হয় কত শ্রমিক বিদেশে গেলেন, কত রেমিট্যান্স এল, তা দিয়ে। কিন্তু বেতন, চুক্তি, নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার হিসাব কোথায়? ফ্লাইট বাতিল হলে কর্মস্থলে ফিরতে না পারা শ্রমিকের চাকরি ও ভিসা ঝুঁকিতে পড়ে; নতুন কর্মীর যাত্রা আটকে গেলে বাড়ে ঋণের বোঝা। সংঘাতের কারণে কর্মসংস্থান ব্যাহত হলেও ক্ষতির ভার পড়ে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের ওপর। প্রতারণা, অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয় ও বেতনবঞ্চনার প্রতিকারও জটিল। সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় তাই শুধু নিয়োগ বাড়ানো নয়, বকেয়া বেতন আদায়, চুক্তি বাস্তবায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আইনি সহায়তা ও সংকটে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু শ্রমিক রপ্তানি নয়, তাঁদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা। অভিবাসনের সাফল্য শ্রমিকের সংখ্যায় নয়, তাঁদের সুরক্ষা ও মর্যাদায়। সৌদি আরবের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ নীতির ফলে অর্থনৈতিক রূপান্তরে সুযোগের ধরন বদলাতে পারে। নির্মাণ, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকসে চাহিদা বাড়লেও নিয়োগে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, ভাষাজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত যোগ্যতার গুরুত্ব বাড়বে। একই সঙ্গে সৌদিকরণ নীতি, নিয়োগ ব্যয়, বেতন ও কর্মপরিবেশ বিদেশি শ্রমিকদের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করবে। তাই বিপুলসংখ্যক সাধারণ শ্রমিক পাঠানোর পুরোনো কৌশল যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে কোন পেশায় কত কর্মী, কী যোগ্যতায়, কত বেতনে নিয়োগ পাবেন—তা দিয়ে। বাংলাদেশের প্রস্তুতিই হবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মূল শর্ত। বাংলাদেশের সামনে দুটি পথ। পুরোনো নিয়োগনির্ভরতা ও দক্ষতাভিত্তিক রূপান্তর। প্রথম পথে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা বাড়বে, কিন্তু সংকট ও অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। দ্বিতীয় পথে সৌদি আরবের চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি কাজ, পর্যটন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন মানসম্মত প্রশিক্ষণ, ভাষাশিক্ষা, স্বীকৃত সনদ ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপসহ বিকল্প শ্রমবাজারে প্রবেশের বাস্তব বাধা দূর করতে হবে। শ্রমবাজার বৈচিত্র্য ও দক্ষতা উন্নয়নই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কৌশলের ভিত্তি হওয়া উচিত। সংকট সামলাতে এখনই সরকারের কী করা উচিত? সৌদি আরবের বর্তমান সংকটকে সরকারকে একই সঙ্গে জরুরি মানবিক পরিস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সতর্কসংকেত হিসেবে দেখতে হবে।  প্রথমত, সৌদি আরবে আটকে পড়া, দেশে ফিরে কর্মস্থলে ফিরতে না পারা এবং যাত্রার অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের তালিকা করে ভিসা, চাকরি, বকেয়া বেতন ও আর্থিক ক্ষতির সমাধানে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনায় শুধু ফ্লাইট ও নিয়োগ নয়; চাকরির বৈধতা, বেতন, ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, বিকল্প শ্রমবাজার, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও ভাষাশিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সংকটের পরীক্ষা শুধু শ্রমিক ফিরিয়ে আনা নয়; এমন ব্যবস্থা গড়া, যাতে পরবর্তী সংকটে তাঁদের ভাগ্য অনিশ্চয়তার হাতে ছেড়ে দিতে না হয়। সবশেষে সরকারকে একটি অস্বস্তিকর সত্য স্বীকার করতে হবে: বিদেশে কর্মী পাঠানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু বিদেশে পাঠানোর ওপর নির্ভর করে কর্মসংস্থানের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। দেশে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, কারিগরি শিক্ষা শক্তিশালী করা এবং তরুণদের এমন দক্ষতা দেওয়া জরুরি, যা দেশেও কাজে লাগবে, বিদেশেও কাজে লাগবে। সৌদি আরবের বর্তমান সংকট কবে পুরোপুরি কাটবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। দেশটির শ্রমবাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে; নতুন খাতেও সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে আসল প্রশ্নটি হলো, আমরা কি সংকট দেখা দিলে সাময়িক ব্যবস্থা নেব, নাকি সংকটের আগেই নিজেদের প্রস্তুত করব? এখন সরকারের সামনে তাই দুটি দায়িত্ব—আজ যাঁরা বিপদে পড়েছেন, তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া; আর আগামী দিনের কর্মীরা যেন একই অনিশ্চয়তা ও অসহায়তার মুখে না পড়েন, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ● ড. সেলিম রেজা সহযোগী অধ্যাপক ও সমন্বয়ক, সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (সিএমএস), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। * মতামত লেখকের নিজস্ব

সৌদি শ্রমবাজারে সংকট: সামনে বিকল্প কী

শ্রীলংকান সেই যুবকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আরব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মন্তব্যের জেরে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল ২৭ বছর বয়সি শ্রীলঙ্কান অভিবাসী কর্মী অনোজন শিবারসার। তবে শ্রীলংকা সরকারের টানা কূটনৈতিক প্রয়াস এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবির মুখে অবশেষে সেই চরম সাজা রদ করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। শ্রীলংকার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র এই স্বস্তিদায়ক খবর নিশ্চিত করে দুই দেশের আইনি দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ঘটনাটির সূত্রপাত চলতি বছরের জুনে। তখন একটি স্পর্শকাতর ভিডিও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে এক মুসলিম যুবককে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের পেছনে থাকা একটি কুকুরকে লাথি মারতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট জগতে শুরু হয় তীব্র ধর্মীয় তর্ক-বিতর্ক। সেই উত্তপ্ত আলোচনার এক পর্যায়ে অনোজন শিবারসা তামিল ভাষায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অবমাননা করে এক মন্তব্য করে বসেন। চাপের মুখে অনোজন সাথে সাথেই সেই কমেন্টটি ডিলিট করে দেন এবং একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ক্ষমা চান। তবে তার আগেই ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিয়ে অনোজনের নিয়োগকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেয়। ফলে জুলাই মাসে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শুরুতে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট অনোজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে আপিল আদালত সেই রায় বদলে সরাসরি তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুন‘সৌদি আরবে হামলার জন্য ইরাকের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না’ মৃত্যুদণ্ডের খবর শ্রীলংকায় পৌঁছানোর পর দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে অনোজনের পরিবারও তার সাথে আর কোনো সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছিল না। এমন পরিস্থিতিতে তার জীবন বাঁচাতে তৎপর হয়ে ওঠে শ্রীলংকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সাথে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়ে দাবি তোলে, বাকস্বাধীনতার মতো ইস্যুতে অভিবাসী কর্মীদের ওপর যেন এ ধরনের নির্মম সাজা আরোপ করা না হয়। সব আইনি ও কূটনৈতিক চেষ্টার ফল হিসেবে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ড বাতিলের রায় দেয়। শ্রীলংকার আইনপ্রণেতা ফাইজার মুস্তাফা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত আদেশটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছেন। অনোজনকে কবে নাগাদ মুক্তি দেওয়া হবে বা তাকে কত দিন আটকে থাকতে হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়, তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে তার জীবনের ওপর আসা এক চরম অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।

শ্রীলংকান সেই যুবকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আরব

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলায় ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি রাজধানী রিয়াদে দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। খবর আল আরাবিয়ার।  ইরাকের সরকারি বিবৃতির বরাতে দেশটির সংবাদ সংস্থা আইএনএ জানায়, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এ ছাড়া সৌদি আরব ও ইরাকের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন তারা। বৈঠকে আল-জাইদি বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে বাগদাদের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলারও সমালোচনা করেন তিনি। আল-জাইদি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সংলাপ এগিয়ে নিতে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বড় শহরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এর আগে জুলাইয়ে আল-জাইদির পরিকল্পিত রিয়াদ সফর বাতিল করা হয়েছিল। পরে আগস্টে বাগদাদে সৌদি গোয়েন্দাপ্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদানের সঙ্গে বৈঠকেও ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশে হামলা চালাতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন আল-জাইদি। ওই বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার নিয়েও আলোচনা হয়।    আরও পড়ুনআরও পড়ুনশ্রীলংকান সেই যুবকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আরব অর্থনৈতিক সহযোগিতায়ও গুরুত্ব নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণও আল-জাইদির সফরের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। মঙ্গলবার আশরাক আল-আওসাত পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে সৌদি আরব ও ইরাকের মধ্যে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে যৌথ পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। নিবন্ধে ইরাকের ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্প এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে পরিবহন সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন আল-জাইদি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইরাকের ভূমিকা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, দুর্নীতি দমন এবং ব্যবসাবান্ধব আইনি পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং নৌপথ ও অবকাঠামোর ওপর বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে নিজেদের তেল রপ্তানি সুরক্ষিত রাখতে চায় ইরাক। রিয়াদ সফর শেষে উপসাগরীয় দেশগুলোতে সফরের অংশ হিসেবে কুয়েত যাওয়ার কথা রয়েছে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর।

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলায় ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না

রিয়াদে ফের হামলার চেষ্টা, ইয়েমেনের সানায় ‘অভিযান’ চালাবে সৌদি জোট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবারও হামলার চেষ্টা হয়েছে। তবে এ দফায় রিয়াদ শহরের উত্তরে তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। পাশাপাশি জোটটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজধানী সানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে। গত কয়েক দিন ধরে রিয়াদের বিমানবন্দরে কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। আজ মঙ্গলবারও হামলার চেষ্টা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এদিকে হুতিদের উপর্যুপরি হামলার মুখে সানায় ‘বিশেষ অভিযানের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামরিক জোটটি। অভিযানের আগে ওই এলাকার বেসামরিক বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য শিগগির সতর্কবার্তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ওই এলাকায় ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনার জন্য এ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

রিয়াদে ফের হামলার চেষ্টা, ইয়েমেনের সানায় ‘অভিযান’ চালাবে সৌদি জোট

টানা তৃতীয় দিনের মতো রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

টানা তৃতীয় দিনের মতো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হুতিদের ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। গত কয়েক দিনে রিয়াদে একের পর এক হামলা হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান। তুর্কি আল-মালিকি বলেন, হুতিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

টানা তৃতীয় দিনের মতো রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস। সোমবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এতে দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সৌদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস। এ ছাড়া, এসব ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দূতাবাসের কয়েকটি হটলাইন নম্বরও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রমসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর : ৮০০১০০০১২৫ পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর : ৮০০১০০০১২৬ ডিপ্লোমেটিক উইং : ৮০০১০০০১২৪ মৃত্যুসংক্রান্ত হটলাইন : +৯৬৬৫৭০২১২১৮০ সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস

নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ও বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন প্রাসাদের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করছেন। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি দল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুবরাজ নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছেন। রিয়াদে একের পর এক হামলায় জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজের সর্বশেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল মঙ্গলবার। সেদিন তিনি একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রক্তদান করেন। শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালাও ছিলেন। হামলায় তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারও হামলা অব্যাহত ছিল। বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ আঘাত হানে বলে খবর পাওয়া যায়। এতে টার্মিনাল ৪-এ আগুন ধরে যায় এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ক্রমবর্ধমান হামলায় রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হচ্ছে। শহরের আর্থিক অঞ্চলে কর্মরত ব্যক্তিদের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী ও কূটনীতিকদেরও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে কিংবা আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আকাশে প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ও একটি চিকিৎসাকেন্দ্র কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও বেসামরিক স্থাপনা যে ঝুঁকিমুক্ত নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে আসার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি থাকায় রাজপ্রাসাদ ও জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচিও চাপে পড়েছে। পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিওমের মতো ভবিষ্যৎনির্ভর নগর প্রকল্প এবং রিয়াদে একাধিক বড় উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করতে পারে সৌদি আরব। পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও হুতিদের হুমকি দেশটির অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। হামলার কারণে আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যাহত হওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে এবং দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত হয়েছে অথবা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় এসেছে। সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন যুবরাজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপদেষ্টা দিলেও ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে সরাসরি সহায়তার সৌদি অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহান্তে বলেছেন, হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ চলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। বিমানবন্দরে হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যা করেছে, তা খুবই খারাপ।’ এদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছেও সহায়তা চেয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানও খতিয়ে দেখছে দেশটি। সব মিলিয়ে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের রাজধানীর নিরাপত্তা এবং দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তর—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছানো, বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত এবং যুবরাজের নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনা আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সূত্র: ওয়াইনেট, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ

সৌদি ও ইয়েমেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংলাপে সহায়তার প্রস্তাব ইরানের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আরাগচি। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) টেলিগ্রামে এক বার্তায় আরাগচি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানের পথ বাদ দিয়ে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান আরাগচি। এর আগে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেন নিয়ে ওয়াশিংটনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন। ইরানের ওপর আবার হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানান তিনি। যদিও বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা হবে না। নতুন বক্তব্যে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে রাজি হয়। এর আগে সাত বছর ধরে তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই যুদ্ধের পর ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানকে গত মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি আর অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা হবে না। তিনি তেহরানকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সূত্র: আলজাজিরা

সৌদি ও ইয়েমেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংলাপে সহায়তার প্রস্তাব ইরানের

এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারি ইয়েমেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর 

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এবার সৌদি আরবের আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহার না করার জন্য এয়ারলাইনস, শিপিং কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, সৌদি আকাশসীমা বা বিমানবন্দর ব্যবহার করলে তারা হুতি বাহিনীর সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সারি এয়ারলাইনস, জাহাজীকরণ প্রতিষ্ঠান, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সৌদি আরবে কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মী এবং পর্যটকদের উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সারি দাবি করেছেন, গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিরা কয়েকটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং এটি এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই হামলার দায় স্বীকার করেন। একইসঙ্গে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মাম বিমানবন্দর এবং আরামকোর দুটি স্থাপনায়ও হামলার দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে হুতিদের টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহ জানিয়েছে, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে রোববারও সারি একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এগুলো তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু। তবে মক্কা ও মদিনাকে এই হুমকির বাইরে রাখার কথা তিনি নিশ্চিত করেন। সে সময় ওই দুই পবিত্র শহর ছাড়া অন্যান্য স্থানে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এবারের বার্তায় সৌদি আকাশসীমা পুরোপুরি এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। হুতিদের এই হুমকির প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের আকাশ অনেকটাই ফাঁকা। উড়োজাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। রোববার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত ফ্লাইটের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করা হয়। সোমবার দেশজুড়ে নির্ধারিত ফ্লাইটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি চলাচল না করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর হিসাবে রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৭৮ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। রোববারের হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হওয়ার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়। এর আগের দিন হুতিদের দাবি করা আরেকটি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন বলে জানা গেছে। এসব ঘটনার জেরে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি এয়ারলাইনস ইতোমধ্যে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) দেশটির এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আরবে যাওয়া বা আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ানের সময় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম সৌদি রাজধানীতে যাওয়া-আসার ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়িয়ে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত করেছে।

এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারি ইয়েমেন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর 

ঢাকা থেকে ৫১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৫১টি ফ্লাইটে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। আজ সোমবার বিকেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ৫১টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট ১২টি। বাকি ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের তিনটি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি ফ্লাইট রয়েছে। বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব এখন শুধু সরাসরি ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এর আওতায় এসেছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলা হওয়ার পর এ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য দিয়ে রয়টার্স বলেছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থাও যাচাই করতে বলা হয়েছে। বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের নম্বর বিএস ৩৮১ ও বিএস ৩৮২। ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সৌদি আরবের যাত্রীদের আপাতত বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইউএস-বাংলা। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, পুনরায় টিকিট বুকিং ও অন্যান্য তথ্য জানতে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। আজ বেলা ২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল আবুল হোসেনের। সেই ফ্লাইট ধরতে নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তিনি। এসে জানতে পারেন তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করেন বলে জানালের আবুল হোসেন। রিয়াদে এখন টাইলস মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। তাই ছুটি অনুযায়ী তিন মাস আগেই ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন। এখন ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নিজের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন আবুল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছুটি শেষ হয়েছে। এখন যাইতে না পারলে চাকরি বাঁচানো যাবে না। সব কিছু অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।’ আবুল হোসেনের মতোই ফ্লাইট বাতিল হয়েছে মো. মোসলেম তালুকদারের। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর রিয়াদগামী ফ্লাইট ছিল। সেই ফ্লাইট ধরতে সকাল ১০টা থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানতে পারেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মোসলেম তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপুর ১২টায় ফ্লাইট ছিল, যেতে পারিনি, বিমান বন্ধ, ফ্লাইট ক্যান্সেল (বাতিল) হয়েছে। এখন দেখছি, অন্য কোনো ফ্লাইটে যেতে পারি কি-না। নইলে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।’ রিয়াদের একটি দোকানে তাঁর কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি। আজ বেলা একটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য আসা ১৫ জনেরও বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাদের বেশিরভাগই জানতেন না ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয়টি। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যেতে।

ঢাকা থেকে ৫১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী

ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ‘ভিয়েতনামে’ পরিণত হবে?

১৯৬৭ সালে মিসরের প্রভাবশালী নেতা গামাল আবদেল নাসের কায়রোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে এক বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ইয়েমেনে একটি কোম্পানি (প্রায় ২০০ সেনা) পাঠিয়েছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার সেনা পাঠাতে হয়েছিল।’ মিসরীয় যুদ্ধবিমান, ট্যাংক এবং এক-তৃতীয়াংশ সামরিক শক্তি পাঠিয়েও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জয়ী হতে পারেনি মিসর। প্রায় ছয় দশক পর পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে মিসরের সেই ‘ভিয়েতনাম’-এর ইতিহাস নতুন করে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। তার মিত্র সৌদি আরব ১৯৯০ সালে কুয়েত দখলের পর সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি তেলের সরবরাহ পঙ্গু করে দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক ঝটিকা অভিযানে লোহিত সাগরের পুরো উপকূল দখল করে বাব আল মানদেব প্রণালিতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে তারা। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ৬ লক্ষাধিক সেনা রয়েছে এবং দুটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে তারা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং চলতি বছরের ৭ আগস্ট তুরস্কসহ স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত হলো, ‘একজনের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ’ হিসেবে গণ্য হবে। গত ৫ অক্টোবর মক্কা প্যাক্টের অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের ৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান তথ্য মন্ত্রণালয় এই রিপোর্টকে ‘ভুয়া ও বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, হুমকি পর্যবেক্ষণ করে নিজস্ব ম্যান্ডেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসিম মুনির নিজেও দেশের ভেতরে মারাত্মক সংকটে রয়েছেন। দেশটিতে দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। ইমরান খানের সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সরকার স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান বেঁচে থাকার জন্য আইএমএফের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রিয়াদের ক্ষমতায় থাকা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন হুথিদের হামলায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর জবাবে পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই গত ৮ অক্টোবর সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন মুনির। তবে হুথিদের মূল পৃষ্ঠপোষক ইরানকে ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকিতে কতজন সেনা পাঠানো হয়েছে তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন যেকোনও হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। আবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে হুথিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘পাকিস্তান যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাদের সঙ্গেও সৌদির মতো আচরণ করা হবে।’ হুথিদের কাছে থাকা ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘ফিলিস্তিন-২’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের আওতায় রয়েছে পাকিস্তানের ভূখণ্ড এবং আরব সাগরে পাকিস্তানি পণ্যবাহী জাহাজ। ১৯৬০-এর দশকে মিসরের জনপ্রিয় নেতা নাসেরের ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা অপ্রতিরোধ্য গেরিলা যোদ্ধাদের হাতে। ইয়েমেন যুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ক্ষয়ক্ষতি ও ১০ হাজারের বেশি সেনা হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল মিসরের অর্থনীতি। দুর্বল হয়ে পড়া মিসরীয় সামরিক বাহিনী ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে পরাজিত হয়। নাসেরের চেয়েও সাধারণ সামরিক অর্জনের অধিকারী আসিম মুনির ইয়েমেনের এই ইতিহাসের পূর্বাভাসে কান দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ‘ভিয়েতনামে’ পরিণত হবে?

ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ‘ভিয়েতনামে’ পরিণত হবে?

১৯৬৭ সালে মিসরের প্রভাবশালী নেতা গামাল আবদেল নাসের কায়রোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে এক বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি ইয়েমেনে একটি কোম্পানি (প্রায় ২০০ সেনা) পাঠিয়েছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার সেনা পাঠাতে হয়েছিল।’ মিসরীয় যুদ্ধবিমান, ট্যাংক এবং এক-তৃতীয়াংশ সামরিক শক্তি পাঠিয়েও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জয়ী হতে পারেনি মিসর। প্রায় ছয় দশক পর পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে মিসরের সেই ‘ভিয়েতনাম’-এর ইতিহাস নতুন করে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। তার মিত্র সৌদি আরব ১৯৯০ সালে কুয়েত দখলের পর সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি তেলের সরবরাহ পঙ্গু করে দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক ঝটিকা অভিযানে লোহিত সাগরের পুরো উপকূল দখল করে বাব আল মানদেব প্রণালিতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে তারা। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ৬ লক্ষাধিক সেনা রয়েছে এবং দুটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে তারা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং চলতি বছরের ৭ আগস্ট তুরস্কসহ স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত হলো, ‘একজনের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ’ হিসেবে গণ্য হবে। গত ৫ অক্টোবর মক্কা প্যাক্টের অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের ৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান তথ্য মন্ত্রণালয় এই রিপোর্টকে ‘ভুয়া ও বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, হুমকি পর্যবেক্ষণ করে নিজস্ব ম্যান্ডেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসিম মুনির নিজেও দেশের ভেতরে মারাত্মক সংকটে রয়েছেন। দেশটিতে দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। ইমরান খানের সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সরকার স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান বেঁচে থাকার জন্য আইএমএফের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রিয়াদের ক্ষমতায় থাকা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন হুথিদের হামলায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর জবাবে পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই গত ৮ অক্টোবর সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন মুনির। তবে হুথিদের মূল পৃষ্ঠপোষক ইরানকে ক্ষুব্ধ করার ঝুঁকিতে কতজন সেনা পাঠানো হয়েছে তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন যেকোনও হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। আবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে হুথিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘পাকিস্তান যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাদের সঙ্গেও সৌদির মতো আচরণ করা হবে।’ হুথিদের কাছে থাকা ২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘ফিলিস্তিন-২’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের আওতায় রয়েছে পাকিস্তানের ভূখণ্ড এবং আরব সাগরে পাকিস্তানি পণ্যবাহী জাহাজ। ১৯৬০-এর দশকে মিসরের জনপ্রিয় নেতা নাসেরের ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা অপ্রতিরোধ্য গেরিলা যোদ্ধাদের হাতে। ইয়েমেন যুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ক্ষয়ক্ষতি ও ১০ হাজারের বেশি সেনা হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল মিসরের অর্থনীতি। দুর্বল হয়ে পড়া মিসরীয় সামরিক বাহিনী ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে পরাজিত হয়। নাসেরের চেয়েও সাধারণ সামরিক অর্জনের অধিকারী আসিম মুনির ইয়েমেনের এই ইতিহাসের পূর্বাভাসে কান দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ইয়েমেন কি পাকিস্তানের ‘ভিয়েতনামে’ পরিণত হবে?

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি অভিযানে যোগ দিতে পারেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন বিবেচনা করছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে হামলার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যুক্ত হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যোগ দিতে পারি। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব। আমরা এইমাত্র সর্বশেষ হামলার খবর পেয়েছি। তাই সিদ্ধান্ত নেব। আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিব।” ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১২, আহত তিন শতাধিক সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি; সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আহতের সংখ্যা ৩০৯। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চার সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি বাংলাদেশের দু’জন নাগরিকও রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রিয়াদগামী উড়োজাহাজ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আহত ব্যক্তিদের অনেককে অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এ হামলার পর সৌদি আরবে থাকা নিজ দেশের নাগরিকদের বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনা নিরীহ মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার পরিচয় দেয়। একই সপ্তাহে একাধিক হামলা রিয়াদের বিমানবন্দরে শনিবারের হামলাটি ছিল ওই সপ্তাহে সেখানে তৃতীয় হামলা। এর আগে হওয়া দুটি হামলায়ও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগের হামলাগুলোতে চারজন নিহত হন এবং বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা সৌদি আরবের একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী চলাচল ও উড়োজাহাজের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কয়েকটি এর আগেই রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত বা বাতিল করেছিল। হুতিরা আগের কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করলেও শনিবারের প্রাণঘাতী হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে এবং কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইয়েমেনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবের ওপর হামলাও বেড়েছে। গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের যুদ্ধেও পড়েছে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা বেড়েছে। সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে তা ভেঙে পড়ে। এরপর দুই পক্ষের লড়াই আবার তীব্র হয়ে ওঠে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী সম্প্রতি হুতিদের দখলে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানে সৌদি আরব আকাশপথে সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, হুতিদের হামলা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে বাড়তে পারে উত্তেজনা সৌদি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে এখনও সামরিক অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করছে সৌদি আরবের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ এবং হুতিদের পরবর্তী অবস্থানের ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা বিডি প্রতিদিন/একেএ

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি অভিযানে যোগ দিতে পারেন ট্রাম্প
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream