পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা বাতিল করেনি সৌদি, গোয়েন্দা নথিতে তথ্য
পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি সৌদিসৌদি আরব ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি গ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি—এমন মূল্যায়ন করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাঠানো গোপন নথিতে এমন মূল্যায়নের কথা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।তবে এসব নথিতে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন কোনো তথ্য নেই। বরং দেশটি ভবিষ্যতে এমন কর্মসূচির দিকে যাওয়ার সুযোগ খোলা রেখেছে কি না, সেটিই গোয়েন্দা মূল্যায়নের মূল বিষয়।বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগযুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই গোয়েন্দা মূল্যায়নের এই তথ্য সামনে এসেছে। সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পারমাণবিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সহযোগিতার উদ্দেশ্য সৌদি আরবের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিস্তাররোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।ওয়াশিংটনের যুক্তি হলো, সৌদি আরবকে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় রাখা গেলে দেশটির অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি নেওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্কসম্ভাব্য চুক্তিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হলো সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী নয়। তবে অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধির দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ধাপ। এ কারণেই সৌদি আরবকে সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতার মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।কংগ্রেসে আপত্তিসম্ভাব্য পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটি বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতার আশঙ্কা, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একদল সিনেটর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।সৌদি আরবের অবস্থানমার্কিন গোয়েন্দা নথিতে উঠে আসা মূল্যায়ন নিয়ে সৌদি সরকার সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটি এর আগে জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হবে।সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানের আগের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ২০১৮ সালের একটি বক্তব্যও এ বিতর্কে আলোচনায় আসে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে সৌদি আরবও একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের পথে যেতে পারে। ওই বক্তব্যের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।চুক্তির বাস্তবায়ন হবে গুরুত্বপূর্ণপ্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে দেশটি ভবিষ্যতে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেয়নি বলে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।চুক্তির চূড়ান্ত কাঠামো, সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নজরদারি—এসব বিষয় ভবিষ্যতে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।