সোনাইমুড়ীর সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, দলিল সম্পাদনে ঘুষ দাবি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও নির্ধারিত ঘুষ না দিলে দলিলে স্বাক্ষর না করে নানা ত্রুটি দেখিয়ে তা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম।সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর থেকে সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহে তিন দিনের বেশি অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।অভিযোগ রয়েছে, যারা দাবিকৃত অর্থ দিতে রাজি হন, তাদের দলিলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে এজলাসে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে ঘুষ দিতে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে দলিল ফেরত দেওয়া হয়। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেককে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।দলিল গ্রহীতা দীন মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, ঘুষ না দেওয়ায় কাগজে ত্রুটি দেখিয়ে তাদের দলিল ফেরত দেওয়া হয়েছিল। প্রায় সাত দিন হয়রানির পর মঙ্গলবার অফিসের সাইফুল আলমের কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা দেওয়ার পর দলিলটি জমা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।বারাইপুর গ্রামের শাহাদাতের অভিযোগ, সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম যোগ দেওয়ার পর থেকে সাব-কবলা দলিলের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং হেবার ঘোষণা দলিলের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে অতিরিক্ত আরও ৬০০ টাকা দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তার দাবি, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানো কয়েকজন দলিল লেখককে অপমান করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসের একজন সহকারীর মাধ্যমে এসব অর্থ নেওয়া হয়।এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির সম্পাদক বলেন, ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে-অর্ডারের বাইরে ২ শতাংশ অর্থ হাতে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ নগদ নেওয়ার নিয়ম নেই। তবে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ বা জাল কাগজপত্রের মাধ্যমেও দলিল সম্পাদনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলা রেজিস্ট্রারকে অবগত করেই তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।