ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
সিলেট মহানগরে সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকাদান কর্মসূচি শুরু

সিলেট মহানগরে সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকাদান কর্মসূচি শুরু

সিলেট মহানগর এলাকার সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৪২টি ওয়ার্ডে আগামী ১৫ দিন চলবে এই কার্যক্রম। তবে এরপরও প্রয়োজন হলে কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। সোমবার নগরীর মির্জা জাঙ্গালের জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। কর্মসূচিতে অর্থায়নে করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এর আগে ২০১৮-১৯ মওসুমে সর্বশেষ সিলেটে বেওয়ারিশ কুকুরদের জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছিল। সেবার ৩ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়া হলেও এবার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার। সিলেট মহানগর এলাকায় কুকুরের উৎপাত নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন এলাকায় তারা দলবেঁধে ঘুরে বেড়ায় এবং প্রায়ই হামলা করে নিরীহ নগরবাসীর উপর। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপর। বাণিজ্যিক এলাকার হোটেল রেঁস্তোরাগুলোর ফেলে দেওয়া খাবারের লোভে তারা রাতে ক্ষুদার্থ দৈত্যের মতো রাজপথে নামে। ওই সময়টাতে রাস্তায় চলাচলকারীদের চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। তবে কুকুরকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর সিলেটে এই রোগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তবে গরুসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু এবং সাধারণ নাগরিকদের জলাতঙ্ক রোগ থেকে মুক্ত রাখতে আবারও কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি কর্পোরেশন। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সিলেট জেলা জেলা কার্যালয়। প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোমবার থেকে পরবর্তী ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে তাদের ৪টি টিম ভ্যাকসিন প্রয়োগ করবে। প্রতিটি টিমে সদস্য আছেন ৫ জন। তাদের মধ্যে ৩ জন ডগ কেচার, একজন টিকাদাতা ও একজন থাকবেন স্থানীয় প্রতিনিধি। তিনি টিকা দেওয়া কুকুরটিকে চিহ্নিত করতে রঙ দিবেন। একেকটি টিম প্রতিদিন অন্তত ১০টি ওয়ার্ডে কাজ করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিলেট নগরীকে সুন্দর ও নিরাপদ করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কুকুরের টিকাদান। প্রাণী নিধন করা যাবে না। তাই কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি এ কর্মসূচি সফলে সবার সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোনায়েদ কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম, ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এক্সপার্ট ডা. হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কো-অর্ডিনেটর ডা. কামরুল ইসলাম ও হাসান সাইয়েদুল মুরসালিন। উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আবু সালমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আরজুমান বানু, ডা. আব্দুস শহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও ডা. শারমিন আক্তার।

সিলেটের বিশ্বনাথে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে এই আদেশ কার্যকর শুরু হয় এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলবে। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরে সকাল ৯টা থেকে পুলিশের টহল অব্যাহত আছে। পৌর শহরে যান ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ বিন কাসেমের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ জারি করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়, জনশৃঙ্খলার স্বার্থে বিশ্বনাথ পৌরসভার কলেজ রোডস্থ ডাকবাংলো এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, লাঠি বা অস্ত্র বহন এবং পাঁচ বা ততধিক ব্যক্তির গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। সিদ্ধান্তটি কার্যকরের লক্ষ্যে বুধবার রাত থেকেই পৌর শহরে মাইকিং করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লামাকাজী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষ এবং ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী সফির মিয়ার (৬৫) পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই আজ বিকেল ৩টায় বিশ্বনাথ পৌর শহরের একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক দেয়। চেয়ারম্যান ধলা মিয়ার পক্ষে উপজেলা ও পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ব্যানারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। অপরদিকে হাজী সফির মিয়ার সমর্থনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। মুখোমুখি এসব কর্মসূচির কারণে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কায় প্রশাসন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, একই এলাকায় একই সময়ে দুই পক্ষের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডাকবাংলো ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি লাঠিসোঁটা ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির যেকোনো ধরনের গণজমায়েতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এদিকে ১৪৪ ধারা জারির পর বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে বিশ্বনাথে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারার আদেশ কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সকাল থেকেই মাঠে থাকবে।  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান ওসি।

সিলেটের বিশ্বনাথে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream