ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
 মুম্বাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভ, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মুম্বাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভ, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মুম্বাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভ, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলামুম্বাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভভারতের মুম্বাইয়ে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ আয়োজনের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–এর কয়েকজন নেতা এবং প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ অজ্ঞাতনামা অংশগ্রহণকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) শহরের শিবাজি পার্ক এলাকায় ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ওই কর্মসূচির আয়োজন করে। পুলিশের অনুমতি না থাকলেও বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন।যেসব অভিযোগে মামলামুম্বাই পুলিশের শিবাজি পার্ক থানায় দায়ের করা মামলায় সিজেপির সংগঠকদের পাশাপাশি ৪০০–৫০০ জন অজ্ঞাতনামা বিক্ষোভকারীর নাম রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া সমাবেশ, স্লোগান দেওয়া এবং জনসাধারণের চলাচলের এলাকায় কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৮৯ ও ২২৩ ধারা এবং মহারাষ্ট্র পুলিশ আইনের ৩৭(১)(৩) ও ১৩৫ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে বেআইনি সমাবেশ এবং সরকারি কর্মকর্তার আদেশ অমান্যের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সিজেপির যেসব নেতার বিরুদ্ধে মামলাপুলিশের মামলায় সিজেপির কয়েকজন সংগঠকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, অজিঙ্ক্য শিন্দে, প্রণয় আহিরে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস, আফরিন নওয়াজ, সৌম্যা কোরডে, অঙ্কিত ভারতদ্বাজ, বিজয় মালাঙ্গি ও যোগেশ ইংলে।তবে এখন পর্যন্ত মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।কেন অনুমতি দেয়নি পুলিশশিবাজি পার্ক এলাকায় বিক্ষোভের অনুমতি আগে থেকেই দেওয়া হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় সমাবেশের বিধিনিষেধ, যান চলাচল এবং জরুরি পরিষেবার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।এরপরও সিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হন। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন এবং পূর্বানুমতি ছাড়া লাউডস্পিকার ব্যবহার করেন।বিক্ষোভের মূল দাবিশুক্রবারের কর্মসূচিতে সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায়। ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়েও তারা আপত্তি জানিয়েছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজস্ব অবস্থান জানিয়েছে এবং ভোটার তালিকায় যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।তদন্ত চলছেবিক্ষোভ শেষ হওয়ার পর পুলিশ মামলা দায়ের করলেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্তের ওপর নির্ভর করবে। মামলায় থাকা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।শিবাজি পার্কে অনুমতি ছাড়া সমাবেশের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও সংগঠকদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ-মাদ্রাসা টার্গেট করে উচ্ছেদ অভিযান

রাজ্য সরকারের দাবি, সরকারি জমিতে তৈরি সেসব মাদ্রাসা ও ধর্মীয় স্থান সিল করে দেওয়া বা ভেঙে ফেলা হচ্ছে, যাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।ওই রাজ্যের সাত জেলায় চালানো এই অভিযানের ফলে বহু মাদ্রাসায় পড়াশোনাও থমকে গেছে বলে অভিযোগ।রাজ্য সরকার নেপাল সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ধর্মীয় স্থান ও মাদ্রাসা পরিদর্শন করছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১৪ মে পর্যন্ত ২২৫টা মাদ্রাসা, ৩০ মসজিদ, ২৫টি মাজার ও ছয়টি ঈদগাহের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।উত্তরপ্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বিবিসিকে বলেছেন, মাদ্রাসা খুললে সেখানে শিক্ষাদান করেন, সেটাকে হোটেল বা আবাসস্থল বানিয়ে ফেলবেন না। সেখানে বিদেশিরা এসে বাস করলে আশঙ্কা তো সৃষ্টি হবেই।শিক্ষাদানের পরিবর্তে সেখানে অন্য কাজ করা হলে তার তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। যারা নিরপরাধ, যারা সেখানে শুধু শিক্ষকতা করছেন, তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন।কী বলছে উত্তরপ্রদেশ সরকার?উত্তর প্রদেশ সরকার সন্দেহ করছে, যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া যেসব মাদ্রাসা চালানো হচ্ছে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কাজ হয়।সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বলেছেন, এই রাজ্যের দু-একটা মাদ্রাসায় জাল নোট ছাপানো হচ্ছিল। সেগুলো পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে।তবে মাদ্রাসা সঞ্চালনকারীদের দাবি, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তী জেলার বাঙ্গাইয়ের মাদ্রাসার সঞ্চালক মেরাজ আহমেদ বলেন, এই এলাকায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোটামুটি। তবে দারিদ্র্য খুব বেশি। মাদ্রাসায় বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে লোকে লেখাপড়া করতে পারে। কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য ভিন্ন।অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ- শুধু রাজনৈতিক কারণে সংখ্যালঘুদের নিশানা করছে সরকার।সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র ফখরুল হাসান বলেন, যেখানেই বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানেই সংখ্যালঘু এবং তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে। এটা সংবিধানের লঙ্ঘন।সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন।কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র না থাকলে তার সমাধান অন্যভাবে হতে পারত।পাশাপাশি, তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যেসব মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজ নেই বলে এখন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যখন সেগুলো নির্মাণ হচ্ছিল সেই সময় কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন?বাহরাইচে চিহ্নিত ৪৯৫টি স্থাননেপালের সঙ্গে কয়েকশ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে উত্তর প্রদেশের। এটা উন্মুক্ত সীমান্ত যা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর ওপর।প্রতিদিন নেপাল ও ভারতের হাজার হাজার মানুষ এই সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া আসা করেন।উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রূপাইডিহা সীমান্ত থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ নেপালগঞ্জে (নেপালের একটি শহর) যাতায়াত করেন। এখানে এসএসবির তরফে শুধু পরিচয়পত্র দেখে এবং তল্লাশির পর প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।এই এলাকায় ৪৯৫টি জবরদখল করা জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১২টার বেশি মাদ্রাসা সিল করে দেওয়া হয়েছে।নানপাড়ার তহশিলদার অম্বিকা চৌধুরি বলেন, রাজস্ব বিভাগের দল জমির মাপঝোঁক করছে। সরকারি জমিতে যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছিল, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাজস্ব ও সংখ্যালঘু বিভাগের দল প্রতিদিন পরিদর্শনের জন্য গ্রামে গ্রামে যাচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে মাদ্রাসাগুলো সিল করে দেওয়া হচ্ছে।রূপাইডিহা থেকে থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে রয়েছে রঞ্জিতবোঝা গ্রাম। এই গ্রাম নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ-মাদ্রাসা টার্গেট করে উচ্ছেদ অভিযান
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream