ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
যুবদল নেতার বাড়িতে নিয়ে বাবা-ছেলেকে বেঁধে নির্যাতন

যুবদল নেতার বাড়িতে নিয়ে বাবা-ছেলেকে বেঁধে নির্যাতন

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বাবা-ছেলেকে ডেকে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে একটি চক্র। আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নকিপুর গ্রামে অবস্থিত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন– কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের প্রভাষক মো. শামছুজ্জামান রানা ও তাঁর ছেলে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সজীব হোসেন। তাদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, যুবদল নেতা আঙ্গুরের নেতৃত্বে তাঁর কথিত দেহরক্ষী আব্দুল্লাহ ও আলমগীর; সহযোগী আকিমউদ্দিন, আব্দুর রহমান রানা, রফিকুল ও আরিয়ান বাবা-ছেলের ওপর নির্যাতন চালায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।  আহত কলেজ শিক্ষক সামছুজ্জামান রানার ভাই মো. আরিফুজ্জামান শ্যামনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। তিনি জানিয়েছেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি। পরে ভাই-ভাতিজাকে উদ্ধার করেন। র্যা ঞ্চের আঘাতে তাঁর ভাতিজা সজীবের মাথা ফেটে গেছে। এ বিষয়ে তারা যুবদল নেতা আঙ্গুর, দুই দেহরক্ষীসহ নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানিয়েছেন, সজীবের মাথায় তিনটি সেলাই পড়েছে। গলায় নির্যাতনের বড় চিহ্ন পেয়েছেন।  চিকিৎসাধীন সামছুজ্জামান রানা বলেন, তাদের প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রহমান রানা এলাকায় মাদকদ্রব্য বিক্রিতে জড়িত। গত শুক্রবার রাত দুইটার দিকে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের ১০-১২ জন সদস্যকে নিয়ে সে এলাকায় মাদকের আসর বসায়। তারা এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এর জেরে গতকাল শনিবার সকালে যুবদল নেতা আঙ্গুর তাঁর কথিত দেহরক্ষী আব্দুল্লাহ ও আলমগীরকে পাঠিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। এর একপর্যায়ে তাঁর ছেলে সজীব ও তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর ভাষ্য, এ সময় গামছা দিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে তাদের মাথা ও মুখে পানি ঢালা হয়। এমনকি চিৎকার করায় রশি দিয়ে সজীবের গলা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে নির্যাতনকারীরা।  বক্তব্যের জন্য উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের মোবাইল ফোন নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তাঁর কথিত দেহরক্ষী আব্দুল্লাহ বলেন, ‘লিডারের বাড়িতে বসে উচ্চবাচ্য করার কারণে সামান্য শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।’ শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের পক্ষে কেউ অবস্থান নিলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

সাতক্ষীরায় মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাহত হয়ে তরুণের মৃত্যু

সাতক্ষীরা শহরে দোকানদারের সঙ্গে কয়েকজন তরুণের মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাহত হয়ে এক তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল মোড়ে একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকারিয়া খান (১৯) সাতক্ষীরা সদরের বেকারি ব্যবসায়ী আবদুল গফুরের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাছুম বিল্লাহর মামাতো ভাই। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে জাকারিয়া তাঁর মামার দোকানে গিয়েছিলেন। দোকান বন্ধ হওয়ার পর মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল মোড়ে একটি জটলা দেখতে পান। সেখানে কয়েকজন তরুণকে এক দোকানদারের সঙ্গে মারামারি করতে দেখে জাকারিয়া তাঁদের থামাতে যান। এ সময় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় জাকারিয়াকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ বলেন, ‘একজন মানুষ অন্যায় থামাতে গিয়ে যদি জীবন হারায়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ অন্যায় দেখেও এগিয়ে আসতে ভয় পাবে। শহরটা দিন দিন অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানান সাতক্ষীরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শহীদুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে। ময়নাতদন্তের জন্য জাকারিয়ার মরদেহ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাহত হয়ে তরুণের মৃত্যু
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream