ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
বাজারে দুই মেয়েকে রেখে যান মা, পরে স্বজনদের জানান যে সঙ্গে রাখতে চান না

বাজারে দুই মেয়েকে রেখে যান মা, পরে স্বজনদের জানান যে সঙ্গে রাখতে চান না

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিজের কাছে রেখেছিলেন মা। পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি থাকতেন। পরে তিনি বিয়ে করেন। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে দুই মেয়েকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে চলে যান ওই মা। পরে ওই শিশুদের চাচি তাদের বাড়ি নিয়ে যান। গত রোববার দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। দুই শিশুর বাবা পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক। তিনি কুমিল্লা নগরে অটোরিকশা চালান। শিশুদের মায়ের বাড়ি বরুড়া উপজেলায়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাজারে দুই শিশুকে ঘোরাফেরা ও কান্না করতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির কাছ থেকে জানতে পারেন, মা চিপস আনতে তাদের সেখানে রেখে গেছেন। পরে দুই শিশুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দুই শিশুর চাচি বাজারে গিয়ে তাদের দেখতে পান। তিনি শিশুদের চিনতে পেরে নিজের বাড়ি নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনে তাদের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মা তাঁকে বলেন, তিনি কুমিল্লা নগরে চলে এসেছেন। সন্তানদের আর নিজের কাছে রাখতে চান না। পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে শিশুদের মা–বাবার বিয়ে হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। গতকাল সোমবার রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে দুই শিশু তাদের বাবার কাছে আছে। পুলিশ এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।

এক ছাদের নিচে থেকেও আলাদা? ‘ইন-হাউস সেপারেশন’ যখন বাস্তবতার নাম

সম্পর্ক ভাঙার গল্প মানেই আমরা সাধারণত বুঝি তুমুল ঝগড়া, বাক্সপেটরা গুছিয়ে ঘর ছে‍ড়ে চলে যাওয়া কিংবা আলাদা দুটি ঠিকানায় দুজনের নতুন জীবন শুরু করা। কিন্তু আধুনিক নাগরিক জীবনে এমন এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেক দম্পতি, যেখানে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক টিকে না থাকলেও তাঁরা একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর বসবাস করছেন। সম্পর্কের এই বিশেষ অবস্থাকে মনস্তত্ত্ব ও সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ইন-হাউস সেপারেশন বা লিভিং সেপারেশন আন্ডার ওয়ান রুফ। যেখানে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, তাঁরা একসঙ্গেই আছেন। কিন্তু ঘরের ভেতরের গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। সেখানে কোনো দাম্পত্য নেই, কোনো ভাগাভাগি নেই; আছে শুধু দুজন মানুষের নীরব সহাবস্থান। একটি মৃত সম্পর্ককে টেনে নিয়ে একই বাড়িতে থাকার পেছনে কোনো রোমান্টিকতা থাকে না, থাকে কিছু কঠিন সামাজিক ও বাস্তব কারণ। অধিকাংশ দম্পতির ক্ষেত্রে মূল কারণটি হলো সন্তান। বাবা-মা চান না, তাঁদের ডিভোর্স বা দূরত্বের কারণে সন্তানের পড়াশোনা ব্যাহত হোক কিংবা তারা কোনো সামাজিক ট্রমার শিকার হোক। সন্তানের সামনে তাঁরা একনিষ্ঠ বাবা-মা, কিন্তু নিজেদের ঘরে তাঁরা শুধুই অচেনা। বর্তমান সময়ে একটি সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে হুট করে আলাদা ফ্ল্যাট নেওয়া, দ্বিগুণ খরচ বহন করা অনেকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যৌথভাবে কেনা ফ্ল্যাটের ইএমআই বা লোন থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। দক্ষিণ এশীয় সমাজে ডিভোর্স বা সেপারেশন এখনো পুরোপুরি সহজভাবে নেওয়া হয় না। আত্মীয়স্বজন বা সমাজের কৌতূহলী চোখ এড়াতে অনেকে এই মধ্যপন্থা বেছে নেন। ইন-হাউস সেপারেশনে থাকা দম্পতিদের জীবনযাপন আর সাধারণ দম্পতিদের মতো হয় না। তাঁরা মূলত একই ফ্ল্যাটের দুজন রুমমেট হিসেবে বাস করেন। তাঁরা সাধারণত আলাদা শোয়ার ঘর ব্যবহার করেন। সংসারের খরচ, সন্তানের স্কুলের বেতন বা ইউটিলিটি বিলগুলো তাঁরা নিজেদের চুক্তি অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে নেন। একে অপরের ব্যক্তিগত জীবন, ফোন বা যাতায়াত নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেন না। প্রথম দিকে এই সিদ্ধান্তকে খুব বাস্তবসম্মত মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি বিশাল মানসিক বোঝায় পরিণত হতে পারে। একই ডাইনিং টেবিলে বসেও কথা না বলা, কিংবা ঘরের ভেতর থেকেও অন্য মানুষটির শূন্যতা অনুভব করা তীব্র একাকিত্বের জন্ম দেয়। বিশেষ করে সন্তানদের সামনে সারাক্ষণ ভালো থাকার অভিনয় করা চরম ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। এটি স্থায়ী বা চিরস্থায়ী সমাধান হয়ে উঠতে পারে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি একটি সাময়িক মধ্যপন্থা বা ট্রানজিশন পিরিয়ড হিসেবে কাজ করে। এই অবস্থা দম্পতিদের চূড়ান্ত বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। এর বাইরে এটি নানান জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। যেমন— মানুষ হিসেবে সবারই জীবনে নতুন করে ভালোবাসা পাওয়ার, নতুন সঙ্গী খোঁজার কিংবা স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার থাকে। একই ছাদের নিচে সাবেক বা সেপারেটেড পার্টনারের সঙ্গে থাকলে আইনগত বা সামাজিকভাবে নতুন কোনো সম্পর্কে জড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি নতুন কারও সঙ্গে ডেটিং করা বা কথা বলাও একই বাড়িতে থাকা অন্য মানুষটির জন্য অস্বস্তিকর ও মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে। সন্তান বা সমাজের সামনে প্রতিদিন ‘আমরা ভালো আছি’ কিংবা ‘আমরা শুধু রুমমেট’—এই অভিনয় করাটা চরম ক্লান্তিকর। একই ড্রয়িংরুম বা রান্নাঘর শেয়ার করার সময় অবচেতনভাবেই পুরোনো ক্ষোভ, দুঃখ বা অভিমান সামনে চলে আসে। এই নীরব মানসিক চাপ দিনের পর দিন বহন করা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেকে সন্তানের কথা চিন্তা করে এটিকে স্থায়ী সমাধান বানাতে চান। কিন্তু সন্তানেরা যখন একটু বড় হয়, তারা বাবা-মায়ের মধ্যকার এই অস্বাভাবিক নীরবতা, ভালোবাসাহীনতা এবং দূরত্ব ঠিকই টের পায়। একটি অসুখী, ভালোবাসাহীন ও কৃত্রিম পারিবারিক পরিবেশ সন্তানদের মনে সুস্থ সম্পর্কের ধারণা তৈরিতে বাধা দেয়। তারা দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতা বা সম্পর্কে জড়ানোর ভীতিতে ভুগতে পারে।

এক ছাদের নিচে থেকেও আলাদা? ‘ইন-হাউস সেপারেশন’ যখন বাস্তবতার নাম
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream