ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
ভারতে গঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে ১৩ শিশুর মৃত্যু

ভারতে গঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে ১৩ শিশুর মৃত্যু

ভারতের বিহার রাজ্যে গঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি উৎসবে যোগ দিতে নৌকায় করে যাচ্ছিল শিশুরা। নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী থাকায় সেটি উল্টে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পরপরই নদীতে উদ্ধারকাজ শুরু করেন স্থানীয় লোকজন। মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে অন্ধকারে নদীতে তলিয়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজতে থাকেন তারা। এ সময় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, নদী থেকে ১৩ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বিহারের পূর্বাঞ্চলীয় বৈশালী জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রামলক্ষণ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নৌকাটি আকারে ছোট ছিল এবং সেটির অবস্থাও ভালো ছিল না। তা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী গাদাগাদি করে নৌকাটিতে উঠেছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসক নির্মল কুমার বলেন, উদ্ধার হওয়া ছয়জনের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৈশালীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, নদী থেকে ১৩ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিহারের বৈশালীতে নৌকা উল্টে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।  

অভিযানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুচলেকায় ছাড়া—মা ইলিশ শিকারে শিশুরা

মা ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলাকালে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযান এড়াতে জেলেরা এ কৌশল নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে মাছ শিকার করছেন একশ্রেণির অসাধু জেলে। আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, দশমিনার তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বাঁবাড়িয়া, গোলখালী, সৈয়দজাফর, সোবাহান বাজার, আউলিয়াপুর, চরঘূর্ণী ও পাতারচর এলাকায় জাল ফেলে ৫০ থেকে ৬০টি নৌকায় জেলেরা মাছ ধরার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের সবাই ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশু। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে মাছ ধরার সময় প্রাপ্তবয়স্ক জেলেদের আটক করা হচ্ছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু জেলে শিশুদের দিয়ে নদীতে জাল ফেলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইলিশের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হলে ভবিষ্যতে এ মাছের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কিছু অসাধু জেলে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারে তৎপর হয়ে ওঠেন। প্রাপ্তবয়স্ক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শিশুদের ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাঁদের মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। দশমিনা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফেরদাউস জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের সময় ১১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযান চলছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে এ কাজে পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের ২২ দিন নদীতে মাছ ধরার সময় যাঁকে পাওয়া যাবে, তাঁকেই আইনের আওতায় আনা হবে। আজ বিভিন্ন স্থান থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের তথ্য পেয়েছি। অভিযান চলছে। বয়স বিবেচনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুচলেকায় ছাড়া—মা ইলিশ শিকারে শিশুরা

যৌনপল্লীতে বাড়ছে পাচারের শিকার হওয়া শিশু-কিশোরীর সংখ্যা: এনজিওর জরিপ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়াসহ ফরিদপুর ও ময়মনসিংহের চার যৌনপল্লীতে অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীর সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি সংস্থা শাপলা মহিলা সংস্থা। সংস্থাটির জরিপে বলা হয়েছে, এসব শিশু-কিশোরীর অধিকাংশই পাচারের শিকার হয়ে যৌনকর্মে নিয়োজিত হতে বাধ্য হচ্ছে। গত পাঁচ মাসে চার পল্লী থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। ফরিদপুর শহরের রথখোলায় শাপলা মহিলা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে আজ বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘প্রজন্ম সোপান প্রকল্প’-এর পাঁচ মাসের কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভার উদ্বোধন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল। সভায় যৌনপল্লীতে জন্ম নেওয়া শিশুকন্যা ও কিশোরীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থান থেকে পাচারের শিকার শিশু-কিশোরীদের উদ্ধারে সংস্থাটির কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে। সেখানে তাঁদের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। সংস্থাটির দাবি, গত পাঁচ মাসে পাচারের শিকার আট শিশু-কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ফরিদপুরের রথখোলা থেকে দুজন, দৌলতদিয়া থেকে চারজন এবং ময়মনসিংহ থেকে দুজনকে উদ্ধার করা হয়। চার যৌনপল্লীর ৮২৩ জন কর্মীর ওপর জরিপ চালিয়েছে সংস্থাটি। জরিপের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। ফরিদপুর ও ময়মনসিংহে এ সংখ্যা কম। তাঁদের দাবি, অধিকাংশ শিশু ও কিশোরী পাচারের শিকার হয়ে যৌনপল্লীতে পৌঁছেছে এবং যৌনকর্মে বাধ্য হচ্ছে। বাকিদের অনেকে যৌনপল্লীর নারী কর্মীদের সন্তান; তাদেরকে ১২ বছর বয়স থেকে যৌনকর্মে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংস্থাটির উপনির্বাহী পরিচালক শ্যামল প্রকাশ অধিকারী বলেন, পাচারের শিকার শিশু-কিশোরীদের উদ্ধারে গিয়ে তাঁরা নানা বাধার মুখে পড়ছেন। উদ্ধারকালে সংস্থাটির অন্তত চার সদস্যকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। শ্যামল প্রকাশ অধিকারী বলেন, ‘এসব পল্লীতে জন্ম নেওয়া শিশু-কিশোরী এবং পাচারের শিকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বয়স বাড়ানো হচ্ছে এবং যৌনকর্মে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা কোনো নিয়ম মানছেন না।’ সভায় প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রশান্ত সাহা, সমকালের ব্যুরোপ্রধান হাসানুজ্জামান, আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শ্রাবণ হাসান, সিটিজেন জার্নালের প্রতিনিধি রেজাউল করিম বিপুলসহ সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

যৌনপল্লীতে বাড়ছে পাচারের শিকার হওয়া শিশু-কিশোরীর সংখ্যা: এনজিওর জরিপ

বাজারে দুই মেয়েকে রেখে যান মা, পরে স্বজনদের জানান যে সঙ্গে রাখতে চান না

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিজের কাছে রেখেছিলেন মা। পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি থাকতেন। পরে তিনি বিয়ে করেন। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে দুই মেয়েকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে চলে যান ওই মা। পরে ওই শিশুদের চাচি তাদের বাড়ি নিয়ে যান। গত রোববার দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। দুই শিশুর বাবা পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক। তিনি কুমিল্লা নগরে অটোরিকশা চালান। শিশুদের মায়ের বাড়ি বরুড়া উপজেলায়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাজারে দুই শিশুকে ঘোরাফেরা ও কান্না করতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির কাছ থেকে জানতে পারেন, মা চিপস আনতে তাদের সেখানে রেখে গেছেন। পরে দুই শিশুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দুই শিশুর চাচি বাজারে গিয়ে তাদের দেখতে পান। তিনি শিশুদের চিনতে পেরে নিজের বাড়ি নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনে তাদের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মা তাঁকে বলেন, তিনি কুমিল্লা নগরে চলে এসেছেন। সন্তানদের আর নিজের কাছে রাখতে চান না। পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে শিশুদের মা–বাবার বিয়ে হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। গতকাল সোমবার রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে দুই শিশু তাদের বাবার কাছে আছে। পুলিশ এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।

বাজারে দুই মেয়েকে রেখে যান মা, পরে স্বজনদের জানান যে সঙ্গে রাখতে চান না

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ঘোচাতে হবে

আমাদের শিশুরা কতটা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে, তার একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ থেকে ২০২৬—এই ছয় বছরে দেশে ৩ হাজার ৪৮৭ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে ২ হাজার ৫৯৮ শিশুকে এবং পঙ্গুত্ব কিংবা গুরুতর আঘাত নিয়ে চরম ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছে ১১ হাজার ৪৫৮ শিশু। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার কেউই শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এর চেয়ে বড় অশনিসংকেত আর কী হতে পারে?  এইচআরএসএসের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ছয় বছরে দেশে ঘটে যাওয়া মোট ৬ হাজার ১৫৩টি ধর্ষণের ঘটনার অর্ধেকের বেশি শিকার হয়েছে নিষ্পাপ শিশুরা। চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, ধর্ষণের পর ১৩১ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ১ হাজার ২৫৫টি শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এই সংখ্যাগুলোর প্রতিটি একটি করে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জীবনের গল্প, একটি করে পরিবারের আজীবনের কান্না। আমাদের সংবিধানে এবং দেশে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশুদের সুরক্ষায় নানা কঠোর বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অপরাধীরা প্রায়ই আইনি ফাঁকফোকর, রাজনৈতিক প্রভাব বা সামাজিক নীরবতার সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে যায়। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মূলত শিশু নির্যাতনকারীদের দিনের পর দিন আরও বেপরোয়া করে তুলছে। শিশুদের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা বন্ধে এখনই রাষ্ট্র ও সমাজকে কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তপ্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের অবহেলা বা আপসকামিতা বন্ধ করে যথাযথ চার্জশিট দাখিল নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পাড়া–মহল্লা পর্যায়ে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সচেতনতামূলক জোরদার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার যাতে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে না পড়ে, তার আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একটি দেশ কতটা সভ্য বা উন্নত, তার অন্যতম মাপকাঠি হলো সেখানে শিশুরা কতটা নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারছে। আমরা যদি আমাদের শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপদ একটি সমাজ দিতে না পারি, তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে।  বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়ে তোলা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় তাগিদ।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ঘোচাতে হবে

সোনারগাঁয়ে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মোশাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর এলাকা থেকে এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর আগে বিকেলে শিশুটির মা বাদী হয়ে এ ঘটনায় অভিযোগ করেন। আজ সোমবার দুপুরে মোশাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার মোশাহিদুল ইসলাম হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার বড়াইল গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মোশাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোনারগাঁয়ে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

প্যারেন্টিং শিক্ষায় বিনিয়োগ প্রয়োজন

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করি বলে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হয়। তাঁদের অনেককেই সন্তান বড় করা নিয়ে সংকটে পড়তে দেখি। সম্প্রতি গাইবান্ধায় ১০-১২ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলছিলাম। একজন বললেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে মুঠোফোন কিনে দিয়েছেন। এখন পড়াশোনায় তার একেবারেই মনোযোগ নেই। জানতে চাইলাম, এত অল্প বয়সে মুঠোফোন দিলেন কেন? তিনি বললেন, মুঠোফোন না দিলে সে স্কুলে যাবে না বলে জেদ করছিল। এ ধরনের ঘটনা অনেক পরিবারেই ঘটছে।  সন্তান চাইলেই কি তাকে সবকিছু দিতে হবে? যেসব সিদ্ধান্ত শিশুর জীবনকে প্রভাবিত করে, সেসব বিষয়ে মতামত প্রকাশ করা তার অধিকার। কিন্তু তার কথা শোনার অর্থ সব চাওয়া মেনে নেওয়া নয়। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের একটি মূলনীতি হলো ‘শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ’। কোনো কাজে শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বড়দের দায়িত্ব তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। তার মতামত শোনার পরও কেন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না, তা বুঝিয়ে বলতে হবে।  এই ভারসাম্য বজায় রাখতেই অনেক মা-বাবা হিমশিম খান। কেউ সন্তানের জন্য কোনটি ভালো, তা বিবেচনা না করেই সব আবদারে ‘হ্যাঁ’ বলেন। আবার কেউ তার মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন এবং প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করতে চান। কোনোটিই কার্যকর প্যারেন্টিং নয়। সন্তান পালনের ওপর গত প্রায় ৪০ বছরে সম্পাদিত শতাধিক গবেষণার সারাংশ থেকে দুটি বিষয় উঠে আসে—শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন ভালোবাসা ও উষ্ণতায় ঘেরা পরিবেশ এবং শেখার যথাযথ কাঠামো। উষ্ণতা বলতে বোঝায় শিশুর প্রতি আস্থা ও সম্মান দেখানো এবং যোগাযোগ রাখা। আর শেখার কাঠামোর মধ্যে রয়েছে তথ্য, নির্দেশনা ও শিক্ষা দেওয়া। এটি শাস্তি বা নিয়ন্ত্রণনির্ভর কঠোর সন্তান পালনের পদ্ধতি থেকে আলাদা। এই দিকনির্দেশনা দিতে শিশুর বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। বয়সের সঙ্গে শিশুর চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি বদলায়। তাই সন্তানের মেজাজ ও আচরণ বোঝার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও মা-বাবার সচেতন হওয়া দরকার। যথাযথ যত্ন ও দিকনির্দেশনার অভাবে শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সম্ভাবনার বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়ে সমাজে। তবে প্রয়োজনীয় কৌশল শেখার সুযোগ পেলে মা-বাবা পরিবর্তন আনতে পারেন। বাংলাদেশ, লাইবেরিয়া ও পাপুয়া নিউগিনিতে কাজের সূত্রে দেখেছি, প্রশিক্ষণের পর অনেক মা-বাবা সন্তানের সঙ্গে নিজেদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। বয়সভিত্তিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজন বিশেষভাবে স্পষ্ট হয় কৈশোরে। এ সময় সন্তানকে নিয়ে অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন থাকেন এবং বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন অনুভব করেন। বাংলাদেশে বর্তমানে এই উদ্বেগ বেড়েছে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা স্বাধীনভাবে চলতে ও নিজের সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বন্ধু ও সমবয়সীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ তখনো সম্পূর্ণ হয় না। ফলে সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ঝুঁকি তারা সব সময় বুঝে উঠতে পারে না। এ অবস্থায় তত্ত্বাবধান প্রয়োজন, কিন্তু সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখলে তারা খোলামেলা আলোচনা করতে দ্বিধা বোধ করতে পারে। একে অতিরিক্ত খবরদারি মনে করে মা-বাবার পরামর্শও অগ্রাহ্য করতে পারে। তত্ত্বাবধান সম্মানজনক হলে সন্তান কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং পরামর্শকে গুরুত্ব দেয়। তাই কৈশোরে উষ্ণ, স্থিতিশীল ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখা জরুরি। এই আস্থার সম্পর্ক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন। অনেক মা-বাবা মনে করেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে সন্তানেরা তাঁদের চেয়ে বেশি জানে। ফলে দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে তাঁরা অসহায় বোধ করেন। কিন্তু সন্তানকে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রযুক্তিবিদ হতে হয় না। প্রয়োজন নিয়মিত কথা বলা, আগ্রহ নিয়ে তার জীবনের গল্প শোনা এবং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা। এসব অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সন্তান জন্ম দিলেই কার্যকর প্যারেন্টিংয়ের দক্ষতা তৈরি হয় না। শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রয়োজন বোঝা, তার কথা শোনা, শাস্তি ছাড়া সীমারেখা তৈরি, রাগ বা হতাশার সময়ে আচরণ সামলানো এবং কৈশোরে আস্থা ধরে রাখা—এসব শিখতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেই সুযোগ কতটুকু? প্যারেন্টিং শিক্ষাকে শুধু মা-বাবার ব্যক্তিগত আগ্রহ বা সামর্থ্যের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সঙ্গে এই শিক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। কাজাখস্তান ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে শিশুর বিকাশ, ইতিবাচক যোগাযোগ, খেলাধুলা, পুষ্টি ও নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও স্বাস্থ্যব্যবস্থা হতে পারে কার্যকর মাধ্যম। গর্ভকালীন সেবা, শিশুর টিকাদান, পুষ্টি ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের সময় মা-বাবার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগাযোগ হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবায় বয়সভিত্তিক প্যারেন্টিং পরামর্শ যুক্ত করলে পরিবারগুলোর কাছে এসব বার্তা পৌঁছানো সম্ভব। এ জন্য একেবারে নতুন করে শুরু করারও প্রয়োজন নেই। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে ২০২৩ সালে শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের মা-বাবা ও যত্নকারীদের জন্য সমন্বিত প্যারেন্টিং এডুকেশন প্যাকেজ তৈরি হয়। ২০২৪ সালে সরকার সেটি অনুমোদন করে। এর বহু খাতভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও তৈরি হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্যারেন্টিং সহায়তা দেওয়ার কিছু পরীক্ষিত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। এখন প্রয়োজন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিদ্যমান সরকারি সেবার মাধ্যমে প্যাকেজটির কার্যকর বাস্তবায়ন ও দেশব্যাপী সম্প্রসারণ। পাশাপাশি স্কুল, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকেও কাজে লাগাতে হবে। আমরা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কথা বলি। সেই ভবিষ্যতের ভিত তৈরি হয় পরিবারে—প্রতিদিনের আচরণ, কথোপকথন ও সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। তাই মা-বাবাকে কার্যকর প্যারেন্টিং শেখার সুযোগ দেওয়া বিলাসিতা নয়। শিশুর অধিকার ও পরিপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে, সহিংসতা প্রতিরোধে এবং সুস্থ সমাজ গঠনে এটি রাষ্ট্রের জরুরি বিনিয়োগ। ● লায়লা খন্দকার উন্নয়নকর্মী

প্যারেন্টিং শিক্ষায় বিনিয়োগ প্রয়োজন

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) এই হামলায় অন্তত ২৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশুও রয়েছে। চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা বাসিন্দারা আক্রান্ত হন। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনের জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পাঁচতলা ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও বিকৃত ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র ১২ মাস এবং একজনের বয়স আট বছর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের দপ্তরের আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যাও অনেক। জেলেনস্কি জানান, আহতদের মধ্যে আরও সাতজন শিশু রয়েছে। তিনি রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকা ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ করেন। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের এই অব্যাহত ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। প্রিলুকির বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন এএফপিকে বলেন, আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। বিস্ফোরণে জানালার কাচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমরা শরীর দিয়ে আমাদের শিশুকে আগলে রেখেছিলাম। স্বামীর পিঠে আর আমার শরীরেও কাটাছেঁড়া হয়েছে। সন্তানের প্রচণ্ড ভয় হয়েছিল, নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমে চলে যাই। চারপাশের সবকিছু তছনছ হয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা জানান, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু হয়। এর আগের দিন জেলেনস্কি রাশিয়ার ব্যাপক হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সেই সতর্কবার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। শীতকাল ঘনিয়ে আসায় রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রা বেড়েছে। প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সাইরেন বাজছে। অনেক বাসিন্দা ব্যাগ, মাদুর আর কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নিচ্ছেন। ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে বসে এএফপিকে বলেন, আমরা জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি। পুরো কিয়েভ এখন আতঙ্কে। আজ কর্মস্থলে আটকে পড়েছিলাম। গ্রুপ চ্যাট আর বস সবাই সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিল। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন ছুড়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ঘৃণ্য হামলা উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা গেলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। প্রিলুকির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছাকাছি থাকা ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই বলেন, এই হামলায় রাশিয়ার কোনো সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না। সূত্র: এএফপি      

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

নওগাঁয় পুকুরে ডুবে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

নওগাঁর নিয়ামতপুরে পুকুরে ডুবে রাব্বি (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রাব্বি ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদের ছোট ছেলে। চন্দননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজমুল হুদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সকালে রাব্বির মা বাড়ির গৃহস্থালির কাজ করছিলেন। এ সময় রাব্বি তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে খেলছিল। বেলা ১১টার দিকে বড় ভাই ছোট ভাইকে আইসক্রিম কিনে দেয়। আইসক্রিম খেতে খেতে একপর্যায়ে রাব্বি বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরের দিকে চলে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একপর্যায়ে পুকুরে রাব্বির মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাব্বিকে মৃত ঘোষণা করেন। নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, পুকুরে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর মৌখিকভাবে জানতে পেরেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

নওগাঁয় পুকুরে ডুবে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকে হারাল ৯ বছরের আরফা

আরিফিন ইসলাম আরফার বয়স ৯ বছর। জন্মের পর তিন দিনের মাথায় মা মারুফা আক্তার মারা গেছেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে মারা গেলেন বাবা তাজুল ইসলাম। হাতে থাকা মুঠোফোনে বাবার সঙ্গে তার ছবি দেখাল আরফা। মা–বাবার বিয়ের ছবিও দেখাল। একটি কবরের পাশে তার ছোটবেলার একটি ছবি বের করে বলে, এটি মায়ের কবর। তারপর আরেকটি কবরের ছবি বের করে বলে, এটি বাবার কবর। নিজে থেকেই বলে, বাবাকে বাবার বাড়ি আর মাকে মায়ের বাড়িতে কবর দেওয়া হয়েছে। মা–বাবার জন্য কথা বলতে বলতে প্রিয় বিড়াল ভুতুমকে কোলে নিয়ে একটু আগের মন খারাপের কথা ভুলে গেল আরফা। একটু পরেই রংপেনসিল নিয়ে বসল ছবি আঁকার জন্য। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় বাসায় বসে কথা হয় আরফার সঙ্গে। এ ভাড়া বাসায় তাজুল ইসলাম মেয়ে, এক ভাইয়ের পরিবার, বাবা ও মাকে নিয়ে থাকতেন। আর পাশেই বড় ভাই শফিকুল ইসলামের বাসা। তাজুল ইসলাম একটি মুদিদোকান চালানোর পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার ছিলেন। আরফা রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। বাবা ও দাদির সঙ্গে স্কুলে যেত। এখন যাচ্ছে দাদির সঙ্গে। আরফার দাদি সখিনা বেগম ও বড় চাচা মো. শফিকুল ইসলাম বারবার বলছিলেন, দাদা, দাদি বা চাচারা আছেন। তাঁরা আরফাকে দেখবেন। কিন্তু বাবা তো বাবাই। বাবা বেঁচে থাকলে মেয়েটা যেভাবে বড় হতো, এখন চাইলেও সেটা হয়তো হবে না। এত ছোট বয়সে আরফা মা–বাবা দুজনকেই হারিয়ে ফেলল। ভবিষ্যৎটাই তো এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল। শফিকুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই তাজুল ইসলাম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মেয়ের কথা চিন্তা করে আর বিয়ে করেননি। একই সঙ্গে তিনি আরফার মা ও বাবার ভূমিকা পালন করতেন। তবে নিজের শরীর–স্বাস্থ্য নিয়ে ছিলেন উদাসীন। নিয়ম মানতে চাইতেন না। যক্ষ্মা, করোনা, চিকুনগুনিয়া হয়েছিল। মারা গেলেন ডেঙ্গুতে। মেয়ের কথা চিন্তা করলেও মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য কোনো টাকাপয়সা জমাননি বা ব্যাংকে রেখে যাননি বলে জানান শফিকুল ইসলাম। মৃত্যুর পর পাওনাদারেরা এসে টাকা দাবি করছেন। দেনা শোধ করতে হচ্ছে। তাজুল নিজে কারও কাছে কোনো টাকা পেতেন কি না, সেসব নিয়েও কখনো কিছু বলতেন না বা বলে যাননি। একদিকে তাজুলের মেয়ের ভবিষ্যতের চিন্তা, অন্যদিকে দেনা শোধ—সব মিলে পরিবারটি দিশাহারা। তাজুল ও তাঁর স্ত্রী মারুফা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রেমের সম্পর্ক থেকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন ২০১৪ সালে। ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মেয়ের জন্মের পর শারীরিক জটিলতায় আরফার মাকে নড়াইল থেকে যশোরে নিতে নিতে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর শফিকুল ইসলামসহ অন্যরা আরফাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন। দাদি সখিনা বেগম মায়ের মতো আদর করেই বড় করছেন আরফাকে। সখিনা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমারও তো বয়স হইছে। কখন কী হয়। নাতনিটা আরেকটু বড় হইলে আমার ছেলেটা যদি মরত, চিন্তা একটু কম হইত। আমার ছেলেরা ভালো ভালো জায়গা থেইক্যা পড়াশোনা করছে। হালাল আয় করে। কিন্তু ছেলেদের আর্থিক অবস্থা তো ভালো না। সরকার বা অন্য কেউ আমার নাতনির পাশে দাঁড়াইতে চাইলে আপত্তি করব না।’ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিন ভাই, এক বোন ছিলাম। তাজুল ছিল ছোট। আমরা তো ভাবতেও পারিনি মশার কামড়ে আমাদের ভাইটা সবার আগে চলে যাবে। সরকার ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে, কিন্তু আমরা রেজাল্ট তো পাচ্ছি না।’ আরফার সঙ্গে তার স্কুল, স্কুলের বন্ধুসহ নানা বিষয়ে গল্প করার এক ফাঁকে বাবার কথা কখন বেশি মনে হয়, তা জানতে চাইলে বলতে থাকে, ‘বাবার দোকানে যাইতাম। বাবা মাঝেমধ্যে টাকা দিত। বাবা ঘুরতে নিয়া যাইত। মে মাসেও ঘুরতে নিছিল। বাবা হাসপাতালের আইসিইউতেও বলছিল, তার বেশি কিছু হয় নাই, বাসায় আইসা পড়ব। এখন বাবা ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না।’ কথা বলতে বলতেই আরফা দাদির কাছে ভাত খাওয়ার বায়না করল। দাদি সখিনা বেগম মুরগির মাংস–আলুর ঝোল দিয়ে ভাত মেখে পাশে বসিয়ে আরফাকে খাইয়ে দিচ্ছিলেন। বললেন, মুখে তুলে খাইয়ে দিলে একটু পেট ভরে খায়, নিজে হাতে খেলে নাতনির পেট ভরে না।

জন্মের তিন দিনের মাথায় মা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকে হারাল ৯ বছরের আরফা
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream