চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯.৯৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে পাওয়া ৮.৮৫৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১২.৯ শতাংশ বেশি। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশে ১.৪০৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সে এসেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১.২৭০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি। শুধু ১৩ অক্টোবর প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১১৫ মিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় শক্তিশালী করতে এবং চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে বৈদেশিক খাতকে সহায়তা করছে।
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১২ দিনেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। এই সময়ে মোট ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২.৩০ টাকা ধরে)।সোমবার (১৩ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, দৈনিক গড়ে প্রায় ১১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে প্রবেশ করেছে।গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছিল ১০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এবার প্রবৃদ্ধি স্পষ্টভাবে ইতিবাচক।এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৬৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২১.১০ শতাংশ বেশি।মাসভিত্তিক হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।