ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
জেলেনস্কির ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান রাশিয়ার

জেলেনস্কির ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান রাশিয়ার

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায় তারা। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়েও সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, মস্কো সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না; বরং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। পেসকভ বলেন, “ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না। আমরা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চাই এবং তা অর্জনের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত।” রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল, যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তৈরি করা। তবে রাশিয়া এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সাময়িকভাবে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে অবিশ্বাস অতীতেও দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতা হলেও রাশিয়া তা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে কিয়েভ। এ কারণে নতুন করে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে, মস্কো বলছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সমঝোতা প্রয়োজন, যা সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে। তবে সেই শান্তিচুক্তির শর্ত কী হবে, সে বিষয়ে পেসকভের বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ট্রাম্পের ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে নীরবতা এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়েও পেসকভকে প্রশ্ন করা হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। জ্বালানি স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এ ধরনের যুদ্ধবিরতির আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে ক্রেমলিনের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মস্কো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত বন্ধে নতুন কোনও সমঝোতা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, চিকিৎসাকর্মী নিহত

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। বুধবার হামলায় তিনি নিহত হন বলে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। নিহত ওই ব্যক্তি ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের হয়ে কাজ করছিলেন। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আনাদোলু এজেন্সিকে জানায়, উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে আহতদের সহায়তায় যাওয়ার সময় বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এক কিশোরও বুধবার মারা গেছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, উত্তর গাজার জাবালিয়ার আবু হোসেন স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ফিলিস্তিনি কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত মাসে খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের সময় সে আহত হয়েছিল। একই সূত্র জানায়, খান ইউনিসের আল-আমাল এলাকার ৫ নম্বর সড়কের পাশের একটি জলাশয়ের কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক কিশোরী আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আনাদোলুর এক সংবাদদাতা জানান, ইসরায়েলি রাবার বোটগুলো রাফাহ উপকূলের দিকে এগিয়ে এসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে বোটগুলো সেখান থেকে পিছু হটে। এ ছাড়া খান ইউনিসের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুটি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এ সময় শহরের পূর্বাঞ্চলে তীব্র গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। গাজা শহরের তুফাহ এলাকার পূর্বাঞ্চল এবং শহরটির পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি বাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। দীর্ঘ এই যুদ্ধে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/এমএল

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, চিকিৎসাকর্মী নিহত
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream