ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
কাঁটাতারের বাধা, শূন্যরেখায় শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখলেন মেয়ে

কাঁটাতারের বাধা, শূন্যরেখায় শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখলেন মেয়ে

মায়ের বাড়ি ভারতে। বাংলাদেশে বিয়ে হওয়ায় মেয়ে থাকেন মেহেরপুরের মুজিবনগরে। ভিসা জটিলতায় দীর্ঘদিন মাকে দেখতে ভারতে যেতে পারেননি। হঠাৎ গতকাল বুধবার রাতে মায়ের মৃত্যুর খবর পান। কিন্তু কাঁটাতারের বাধায় চাইলেও সহজে যাওয়ার সুযোগ নেই। শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) শরণাপন্ন হন মেয়ে। পরে বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় সীমান্তের শূন্যরেখায় মাকে দেখেন মেয়ে হাফিজা খাতুন ও তাঁর স্বামী ফিকির আলী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মুজিবনগরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১০৯ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে তাঁদের এই সুযোগ করে দেওয়া হয়। মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখে মেয়ে ও জামাতা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। হাফিজার শ্বশুরবাড়ি মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে। ২০২০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাফিজার মা মোছা. জায়রা খাতুনের (৭০) বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামে। বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে গতকাল রাতে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর জানার পর শেষবারের মতো মাকে দেখতে চেয়ে বিজিবির কাছে আবেদন করেন হাফিজা খাতুন। পরে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে। হাফিজা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বিয়ের পর ভিসা করে কয়েকবার ভারতে মাকে দেখতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। কয়েক বছর হলো ভিসা জটিলতায় আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। হঠাৎ গতকাল রাতে সংবাদ আসে মা মারা গেছেন। বিজিবির মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা বিওপির কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামসহ পাঁচজন সদস্য এবং বিএসএফের পরিদর্শক এস কে রায়সহ পাঁচজন সদস্যের উপস্থিতিতে মরদেহ দেখানো হয়। হাবিলদার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মানবিক আবেদনের পর আমরা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারাও সম্মতি দেওয়ায় শেষবারের মতো মায়ের মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।’ পরে নিজ গ্রামে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জায়রার দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream