ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

বগুড়ার শেরপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে মো. সিরাজ (৬৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের নাকুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪৩) বাদী হয়ে আজ শুক্রবার শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটক কাওসার আলী (২৬) ও তাঁর বাবা তোজাম সরকারকে (৫৫) আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি পাশের ধুনট উপজেলার গোয়ালভাগ গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোজাম সরকারের কাছ থেকে সিরাজের ছোট ভাই ছানোয়ার হোসেন (৫০) সুদে টাকা নিয়েছিলেন। সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছানোয়ারকে তাঁর ঘর থেকে বের করে বাড়ির আঙিনায় মারধর করতে থাকেন তোজাম ও তাঁর ছেলে কাওসার। এ সময় ছানোয়ারের চিৎকার শুনে বড় ভাই সিরাজ এগিয়ে আসেন। তখন তাঁকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত সিরাজ বাড়ির আঙিনায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মারধরে ছানোয়ারও আহত হন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে সিরাজের লাশ উদ্ধার করে। তাঁর বুকের ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে লাশটি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম: ‘স্পিকার মিরাজ’ গ্রেফতার

খুলনায় পুলিশের এক পরিদর্শককে চাপাতি দিয়ে কোপানোর ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি মিরাজ ওরফে স্পিকার মিরাজ ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬-এর একটি দল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সোনাডাঙ্গা থানার কলাবাগান ও খুলনা সদর থানার টুটপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এসআরবি-৬ স্পেশাল কোম্পানি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিরাজের (৩৯) সহযোগীর নাম ইব্রাহীম গাজী (৪২)। মিরাজের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) আড়ংঘাটা ও সদর থানায় গুরুতর আঘাত, চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। ইব্রাহীম গাজীর বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিরাজ ও ইব্রাহীম পুলিশ পরিদর্শকের ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানায়, গত ৯ অক্টোবর রাতে খুলনা নগরের কলেজিয়েট স্কুলের সামনে দিয়ে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন খুলনা জেলার সার্কেল অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম (৪৩)। এ সময় তিন জন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী তার পথ রোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় তারা। পরে শাহ আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে খুলনার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। তার হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় খুলনা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আওয়াল হোসেন বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনার পর খুলনা নগরে রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতার মিরাজ ও ইব্রাহীমকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। এসআরবি তাদের হস্তান্তর করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মামলায় আগেও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের একজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য একজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে ওই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে মিরাজ ওরফে স্পিকার মিরাজের নাম এসেছে। এর মধ্যে তাকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি।’

পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম: ‘স্পিকার মিরাজ’ গ্রেফতার

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৭৯৯ মামলা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৭৯৯টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সোমবার (১২ অক্টোবর) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করে। মঙ্গলবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৫টি বাস, ৭টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৩৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১২৮টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৫টি বাস, ১২টি ট্রাক, একটি ক্যার্ভাডভ্যান, ১৪টি সিএনজি ও ৮৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৫টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১৫টি বাস, দুইটি ট্রাক, ২৬টি কাভার্ডভ্যান, ৬০টি সিএনজি ও ১৯২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৬৪টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩৩টি বাস, ২৬টি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৬৩টি সিএনজি ও ১৩৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৮৬টি মামলা হয়েছে। অপরদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৬টি বাস, তিনটি ট্রাক, নয়টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৩১টি সিএনজি ও ৫৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৯টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৪টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ৩৬টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৮টি সিএনজি ও ১৬১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৫১টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৮টি বাস, ১২টি ট্রাক, ১৫টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৭৯টি সিএনজি ও ১৫৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪১২টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৯১টি বাস, ২৮টি ট্রাক, ৪৪টি কাভার্ডভ্যান, ৯২টি সিএনজি ও ২২৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৮১৪টি মামলা হয়েছে। এছাড়াও অভিযানকালে ৬৯২টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৪২৯টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিডি-প্রতিদিন/বিএম

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৭৯৯ মামলা

শাসন করায় রাস্তায় গাছের ডাল দিয়ে শিক্ষককে পেটাল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র

স্কুলে শাসন করায় ছুটির পর রাস্তায় শরীরচর্চা শিক্ষককে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এতে শিক্ষকের থুতনিতে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষকের নাম রায়হান ইসলাম। তিনি বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। আজ মঙ্গলবার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্কুল ছুটির পর মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন শিক্ষক রায়হান ইসলাম। পথে এপিবিএনের সামনে গাছের ডাল হাতে দাঁড়িয়ে ছিল ওই শিক্ষার্থী। শিক্ষক ওই স্থানে পৌঁছালে থামতে বলে। শিক্ষক থামার সঙ্গে সঙ্গে কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাছের ডাল দিয়ে তাঁর মুখ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীর আঘাতে শিক্ষক রায়হান ইসলামের থুতনিতে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ঘাড়েও গুরুতর আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন। অধ্যক্ষ আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আজ সকালে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

শাসন করায় রাস্তায় গাছের ডাল দিয়ে শিক্ষককে পেটাল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র

সিলেটে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সিলেটের গোয়াইনঘাটে কিশোরী ধর্ষণের মামলায় আব্দুল্লাহ মিয়া নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে সিলেট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আব্দুল্লাহ গোয়াইনঘাট উপজেলার ১ নম্বর পূর্ব রুস্তমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে বগাইয়া হাওর এলাকায় এক ব্যক্তির ছাপরা ঘরে কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন আব্দুল্লাহ। ঘটনার পাঁচ দিন পর ১৮ মার্চ, কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাছুম আলম আব্দুল্লাহকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সন্তুষ্ট।

সিলেটে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকায় ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকা দিয়ে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করা হয়। ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে লোক পাঠিয়ে প্রকল্পে হামলা করেন। হামলায় মিরপুরের মামুন বাহিনীর লোকজনকেও যুক্ত করা হয়েছিল। এই হামলা মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, ঘটনার দিন দুপুরে ১৩ জন মিলে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে হামলার পরিকল্পনা করেন। সেখানে শাহরিয়ার ও বিকাশ উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর শাহরিয়ার ও বিকাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শাহরিয়ারকে লোক ভাড়া করে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পেয়ে তিনি ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’। আবাসন প্রকল্পটির একটি ফটক ভেঙে দেওয়ার জন্য ইব্রাহিমকে এক কোটি দেওয়ার কথা ছিল শাহরিয়ারের। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, শাহরিয়ার জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন। ইব্রাহিম তাঁর অনুসারী যুবরাজকে এই হামলার জন্য লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেন। যুবরাজ লোক জোগাড় করেন। তাঁরা আবাসন প্রকল্পটিতে হামলা চালান। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়। রাতেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। হামলা–ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনার দিন দুপুরে বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়। বিকেলে দুই জায়গায় লোক জড়ো করা হয়। পাঁচটি পিকআপে করে ও হেঁটে ঘটনাস্থলে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবাসন প্রকল্পের মূল ফটকে গুলি ছুড়ে হামলা শুরু করে তারা। হামলায় অংশ নেন ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের একটি সূত্রের ভাষ্য, হামলায় ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু, বুকপোড়া সুমনও জড়িত ছিলেন। ভাষানটেক এলাকার নানা অপরাধের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। হামলায় পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন বাহিনীর লোকজনকেও যুক্ত করা হয়। খুন, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার আসামিদের ‘ডিভাইস’–এর ফরেনসিক করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া যে গাড়িগুলোতে করে হামলাকারীরা এসেছিল, সেগুলো শনাক্ত করে কারা তা ভাড়া করেছিল, সেই তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি হামলার তদন্তে উঠে এসেছে। এই জমি থেকে বের হওয়ার জন্য নিউগিনি প্রকল্পের রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ৩৫ কাঠার মধ্যে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীরও জমি আছে। তিনি এই জমিতে ‘কন্ডোমিনিয়াম’ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু জমি থেকে চলাচলের কোনো রাস্তা নেই। সেখানে আবাসিক ভবন করে কোনো লাভ হবে না যদি নিউগিনি প্রকল্পের মালিক চলাচলের জন্য রাস্তা না দেন। তাই নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মূল ফটক ভেঙে চলাচলের রাস্তা বের করতেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলা করে ফটক ভেঙে চলাচলের রাস্তা বের করে দেওয়ার দায়িত্ব শাহরিয়ারকে দেওয়া হয়। এ কাজের জন্য তাঁকে উপহার হিসেবে ওই জমিতে যে ভবন করার কথা, সেটির একটি ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল মহিউদ্দিন চৌধুরীর। এ ছাড়া ভবন তৈরিতে ইট–বালু সরবরাহের কাজও তাঁকে দেওয়ার কথা ছিল। এই হামলা মামলায় মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁকে রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিন পান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরের একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকায় ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া

কেমন আছেন মিন্নি?

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর প্রায় ছয় বছর পেরিয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামিদের আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে দিন কাটছে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির। কারাগারে তার সময় কাটছে মূলত ইবাদত-বন্দেগিতে। অন্যদিকে, দ্রুত শুনানি ও জামিনের অপেক্ষায় রয়েছেন তার আইনজীবীরা। আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে মামলাটির শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুতের প্রক্রিয়া চলছে। তবে শুনানি কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও সময় জানা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কনডেম সেলে অবস্থান এবং চূড়ান্ত বিচার শেষ হতে বিলম্বের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরে হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। রায়ের পর ওই বছরের ৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই বছর দণ্ডের বিরুদ্ধে মিন্নিসহ ছয় আসামি পৃথক আপিল করেন। পাশাপাশি অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণ দেখিয়ে মিন্নির পক্ষে ২০২২ সালে জামিনের আবেদন করা হয়। সেটিরও এখন পর্যন্ত শুনানি হয়নি। হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় বহু ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। বর্তমানে হাইকোর্টে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। কয়েক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ৮৪৩টি। ডেথ রেফারেন্স কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির বলেন, বর্তমানে ২০১৯ সালে হাইকোর্টে আসা ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি হচ্ছে। রিফাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিন্নির জামিন আবেদনও ঝুলে আছে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না যুগান্তরকে বলেন, মামলায় মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে সাক্ষীদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। এ ছাড়া কারাগারে তার অসুস্থতা এবং নারী বন্দি হিসেবে তার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অন্য একটি বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হলে আদালত শুনানি মুলতবি করেন। এরপর আবেদনটি আর শুনানির তালিকায় ওঠেনি। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জামিনের নজির নেই বলে তার জানা। আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা শুনানি করেন। তাদের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হলে আদালত শুনানি মুলতবি করেন। মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর অভিযোগ বাবার মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর হাত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ মাসে একবার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়। মিন্নির শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালতের কাছে তার জামিনের প্রত্যাশা করেন তিনি। তবে মিন্নির বাবার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। কনডেম সেলে একমাত্র নারী বন্দি মিন্নি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা এবং মামলা পরিচালনায় সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে মিন্নিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই কারাগারের কনডেম সেলে তিনিই একমাত্র নারী বন্দি। কারাবিধি অনুযায়ী, কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের নির্ধারিত পোশাক দেওয়া হয় এবং তাদের চলাফেরায় কঠোর বিধিনিষেধ থাকে। তারা সাধারণত মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। এ ছাড়া নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন। মিন্নির ক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ফোনে কথা বলার সুযোগ সীমিত। স্বজনেরা দেখা করতে গেলে তাদের সঙ্গেই কথা বলেন তিনি। কারা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের অধিকাংশ সময় তিনি নীরব থাকেন এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। কারাগারে তার আচরণ সন্তোষজনক বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষা রিফাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পরও উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় মিন্নিসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের চূড়ান্ত পরিণতি এখনও নির্ধারিত হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগলে বন্দিদের কনডেম সেলে বছরের পর বছর অবস্থানের বিষয়টি মানবাধিকার ও বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তাদের বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় কনডেম সেলে থাকার পর উচ্চ আদালতে আসামিরা খালাসও পান। এ কারণে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

কেমন আছেন মিন্নি?

দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ। এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী গাজী নজরুল ইসলামের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। জামিন আবেদনে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ নির্দোষ। এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় ডেকে নেওয়ার পর গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও আত্মহত্যার প্ররোচনার কোনও প্রমাণ পুলিশ উপস্থাপন করতে পারেনি। আবেদনে আরও বলা হয়, বাদীপক্ষ ও আসামিপক্ষ পূর্ব থেকেই আত্মীয়। বর্তমানে বাদীর উপস্থিতিতে এবং পারিবারিক পরামর্শে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম ৭৫ বছর বয়সী একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জটিল হৃদরোগে ভুগছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি আত্মগোপন বা এলাকা ত্যাগ করবেন না। এদিকে জামিন আবেদনের সঙ্গে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা একটি আপসনামা আদালতে দাখিল করেন। আপসনামায় বাদী উল্লেখ করেন, মেয়ের মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিক সন্দেহ থেকে তিনি গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পরে পারিবারিকভাবে আলোচনা ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি মনে করেন, গাজী নজরুল বা মাকছুদার প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তার কোনও আপত্তি নেই বলেও আপসনামায় উল্লেখ করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ  শুনানিতে বলেন, আপসনামা দেওয়া হলেও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি আপসযোগ্য নয়। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে, মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যার কোনও ঘটনা রয়েছে, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। আপসকারী আব্দুল হামিদ মোড়লকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও আদালতকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ওই রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেদিন রাতেই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলায় গ্রেফতার ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

আদালত ভবনে দুই নারীর মারামারি, মামলা করলেন বিচারক

পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের বারান্দায় দুই নারীর মারামারি ও কয়েকজনের ধস্তাধস্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন আদালত। সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর থানার আমলী আদালতের বিচারক মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি ক্রিমিনাল মিস কেস নম্বর ০১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(গ) ধারায় আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব চ্যানেলে ‘পটুয়াখালীতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে দুই পক্ষের মারামারি’ শিরোনামে ভিডিও প্রচার করা হয়। এতে আদালত ভবনের বারান্দায় দুই নারীর মারামারি এবং কয়েকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনাস্থলে একটি শিশুকেও দেখা গেছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচলের নিরাপদ স্থান আদালত ভবন ও চত্বর। সেখানে প্রকাশ্যে মারামারি আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী। এতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। ঘটনাস্থলে শিশুর উপস্থিতিও উদ্বেগজনক। তবে ভিডিও দেখে মারামারিতে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, ‘দুই পক্ষ’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তাঁরা কোনো বিচারাধীন মামলার পক্ষ কি না, ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে এবং কেউ আহত হয়েছেন কি না– এসব বিষয় স্পষ্ট নয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দণ্ডবিধির ১৫৯ ও ১৬০ ধারায় বর্ণিত মারামারি কিংবা পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩২৩, ৩২৪, ৫০৬ ধারাসহ অন্যান্য অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে যথাযথ তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও আদেশে বলা হয়েছে। সদর থানার ওসিকে নিজে অথবা তাঁর অধীন উপযুক্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তে ঘটনার তারিখ, সময়, সূত্রপাত ও প্রকৃত ঘটনাক্রম নির্ধারণ, জড়িত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত এবং তাঁরা কোনো বিচারাধীন মামলার পক্ষ কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। কেউ আহত হলে তাঁর চিকিৎসা সনদ সংগ্রহেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও জব্দ ও সংরক্ষণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা শিশুটির পরিচয় এবং সে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল কি না, তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে। নারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় প্রয়োজনে নারী পুলিশ সদস্যের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদেশের অনুলিপি পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার, সদর থানার ওসি ও কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পটুয়াখালী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, গত ৪ অক্টোবর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিগ্যাল এইডের একটি মামলা নিষ্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের নারীদেরসহ কয়েকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিচারাঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ কারণে আমলী আদালতের বিচারক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন।

আদালত ভবনে দুই নারীর মারামারি, মামলা করলেন বিচারক
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream