ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেলবে, ফেললে কী হবে

যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেলবে, ফেললে কী হবে

ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় নিজেদের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা দিয়ে হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসে এই বোমার কার্যকারিতা নিয়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনেই সংশয় রয়েছে। এমন হামলার জবাবে ইরানই–বা কী করতে পারে, তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি আবার সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন, তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক প্রকল্পগুলোয় নিজেদের অস্ত্রাগারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত থাকার এ সময়ে ‘মাদার অব অল বম্বস’ (শাব্দিক অর্থে ‘সব বোমার মা’) নামে পরিচিত ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি)’ বোমার ব্যবহার চলমান সংঘাতকে অনেক বড় আকারে উসকে দিতে পারে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামরিক পরিকল্পনা–সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা সিএনএন ও আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনে এ বোমার ব্যবহার সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, এ বোমা ব্যবহারেও ইরানের মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে এমন হামলা একধরনের ‘রাজনৈতিক নাটক’ মঞ্চস্থ করা ছাড়া আর কিছুই হবে না। কী এই ‘এমওএবি’ বোমা এমওএবি হলো সাড়ে ৮ হাজার কেজি (১৮ হাজার পাউন্ড বা সাড়ে ৮ টন) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক–সমৃদ্ধ এক বড় মারণাস্ত্র। ৯ হাজার ৮০০ কেজি (২১ হাজার ৬০৫ পাউন্ড বা প্রায় ১০ টন) ওজনের এ বোমা সাধারণ চারটি প্রাইভেট কারের সমান ভারী এবং এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের কিছু বেশি (প্রায় ৩০ ফুট), যা একটি ছোট ইয়টের আকৃতির সঙ্গে তুলনীয়। আকারে অত্যন্ত বড় হওয়ায় কোনো স্টিলথ বোমারু বিমানে এ বোমা ধরে না। ফলে সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস কার্গো বা মালবাহী বিমান থেকে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়। ২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রথম তৈরি হওয়া এ বোমার এ পর্যন্ত ১২ বার বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বোমাটির এ নামকরণের পেছনে একটি ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ‘মাদার অব অল ব্যাটেলস’ বা ‘সব যুদ্ধের মা’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। মূলত তাঁর সেই মন্তব্যের অনুকরণ করেই এ বোমার নাম রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আগে মাত্র একবারই এ বোমা ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’–এর (আইএসকেপি) গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সে সময় আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, হামলায় আইএসের ৯৪ জন যোদ্ধা নিহত হন। তবে স্থানীয় কিছু অসমর্থিত সূত্রে বেসামরিক লোকজনের হতাহত এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কেমন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে এ বোমা মাটি থেকে মাত্র কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই এমওএবি বোমা। ফলে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে এটি চারদিকে আগুনের মারাত্মক মরণঘাতী তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয় এবং যেকোনো ভবন, গুহার মুখ ও শক্ত পৃষ্ঠের অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, একটি নির্দিষ্ট ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরণ ঘটানোই এ বোমার মূল উদ্দেশ্য। আরেক সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল নিদাল আবু জাইদ আল-জাজিরাকে জানান, এ বোমা বিস্ফোরণের জন্য মাটিতে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। এর তীব্র বিস্ফোরণ তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের (দশমিক ৬ মাইল) মধ্যের সবকিছু ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। নিদাল আবু জাইদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হতে পারে, এ উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরক ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের স্থলবাহিনীর অবস্থানগুলো ধূলিসাৎ করে দেওয়া। একই সঙ্গে ট্রাম্প আগে যে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, সেখানকার ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোয় আঘাত হানার উদ্দেশ্যও যুক্তরাষ্ট্রের থাকতে পারে। অবশ্য বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার মনে করেন, এ বোমার ধ্বংসক্ষমতা ও বিস্তৃতি কোন ধরনের ভূপ্রকৃতি বা কতটা জনবহুল এলাকায় এটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। মাটির অনেক গভীরে লুকিয়ে থাকা লক্ষ্যের বিরুদ্ধে এটি খুব একটা কার্যকর না–ও হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চায়, তার মধ্যে ফোরদো প্রকল্প ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত। এলিজাহ বলেন, এ বোমার বিশাল বিস্ফোরক অংশটি উন্মুক্ত স্থানে থাকা সেনাদল, সামরিক সরঞ্জাম ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। আফগানিস্তানের অভিযানটি মূলত গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এ বোমার কার্যকারিতা প্রমাণ করে; তবে সব ধরনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার সক্ষমতা এর আছে কি না, তা নিশ্চিত করে না। এমওএবির বিস্ফোরণ মাটির নিচে পৌঁছাতে পারলেও, পাহাড়ি শিলা বা গভীর কংক্রিট ভেদ করার জন্য বোমাটি বিশেষভাবে তৈরি নয়, যা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা করে থাকে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাংকার বাস্টার হলো, জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর। ১৩ হাজার ৬০০ কেজির (৩০ হাজার পাউন্ড বা প্রায় সাড়ে ১৩ টন) এ নিখুঁত নিশানাযোগ্য বোমা তৈরিতে অত্যন্ত শক্তিশালী ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিস্ফোরণের আগে মাটির প্রায় ২০০ ফুট (৬১ মিটার) গভীর পর্যন্ত ভেদ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই এ বোমা ব্যবহার করবে আগেই বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে এ বোমার ব্যবহার করেছে। তবে এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যে সফলভাবে আঘাত হানার অনিশ্চয়তা ছাড়াও ইরানের যেসব অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে, সেখানে এ বোমা বহনের উপযোগী বিমান মোতায়েন করা বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ, ওই ধরনের ভৌগোলিক পরিবেশের জন্য উপযোগী স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো এত বড় আকৃতির বোমা বহন করতে পারে না। এ সামরিক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, বোমাটি ব্যবহার করে অবকাঠামো ধ্বংস করা হলেও ইরানকে কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করা না–ও যেতে পারে। তাঁর মতে, বোমাটি ব্যবহার করলে এমন একটি ‘দৃষ্টিনন্দন ঘটনা’ ঘটতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে খুব সামান্য ফলই বয়ে আনবে। এলিজাহ ম্যাগনিয়ার বলেন, ‘এ বোমা ব্যবহারের পক্ষে সওয়াল করা যেকোনো কমান্ডারের কাছে আমার প্রশ্ন হবে অত্যন্ত সহজ—অস্ত্রটি এমন কী অর্জন করবে, যা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে সম্ভব নয় এবং এ বোমা ব্যবহারের ফলাফল কীভাবে একটি রাজনৈতিক সমঝোতাকে এগিয়ে নেবে?’ এলিজাহ ম্যাগনিয়ার আরও বলেন, ‘যদি উত্তরটি শুধু বিস্ফোরণের ‘‘নাটকীয় দৃশ্যের’’ ওপরই কেন্দ্র করে হয়, তবে এ প্রস্তাব সামরিক কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক নাটকের জন্যই বেশি উপযুক্ত।’ এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগত আলোচনাগুলোয় চলমান যুদ্ধের একটি ‘চূড়ান্ত’ সমাপ্তি খুঁজছেন, যেটি প্রমাণ করবে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই রয়ে গেছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এমওএবি বোমা দিয়ে হামলা চালানো হলে ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এর জবাবে তেহরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, এমন প্রতিবেশী দেশগুলোও আক্রমণ করতে পারে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য বেশ কয়েক মাস ধরেই কুয়েতের মতো দেশগুলোয় সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করে আসছেন। এর মূল লক্ষ্য হবে মার্কিন সেনাদের বন্দী করে ওয়াশিংটনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। এর আগে গত মে মাসে সংঘাত সাময়িকভাবে থামার সময় কুয়েত অভিযোগ করেছিল, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ সেনারা তাদের বুবিয়ান দ্বীপে অনুপ্রবেশ করেছেন। সে সময় ইরানি ও কুয়েতি বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় এক কুয়েতি নাগরিক আহত ও ইরানের চার সেনাকে বন্দী করা হয়। অবশ্য ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নৌ সেনাদের নেভিগেশন বা দিকনির্ণয় ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ার ফলেই এ ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে গত মঙ্গলবার আইআরজিসির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাগদি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি স্থলপথে কোনো হামলা চালায়, তবে ইরান বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাকে বন্দী করতে পারে। যদিও ইরানের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে সামরিক বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের স্থল অভিযানের হুমকিকে বরাবরই নাকচ করে এসেছেন। রেজা নাগদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা শুরু করে, তবে তাদের এত সেনা বন্দী হবে যে তারা শেষ পর্যন্ত সাদা পতাকা ওড়াতে (আত্মসমর্পণ করতে) বাধ্য হবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান অস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে, গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলো আরও সুরক্ষিত করে এবং মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে পরবর্তী দফা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই হুমকি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যদি আবারও শুরু হয়, তবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এই অঞ্চলের ডিজিটাল অবকাঠামোগুলোয় আঘাত হানবে। এর মধ্যে যোগাযোগ কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত স্থাপনা মূল নিশানা হতে পারে।

তিন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করলো আমেরিকান এয়ারলাইন্স

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যাত্রী মন্দার কারণে এ বছর তিনটি প্রধান গন্তব্যে ফ্লাইট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ সংস্থা আমেরিকান এয়ারলাইন্স। এই তালিকার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম দীর্ঘতম দূরত্বের নন-স্টপ ফ্লাইটও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক এই এয়ারলাইন্সটি চলতি বছরে তাদের অভ্যন্তরীণ একটি এবং আন্তর্জাতিক দুটি রুটে সেবা বন্ধের ঘোষণা দেয়। বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়া (এসএমএক্স) এবং গত আগস্টে মেক্সিকোর টিজুয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালানো বন্ধ করে সংস্থাটি। তবে তাদের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল কাতারের দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেবা স্থগিত করা। মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং আশানুরূপ ব্যবসা না হওয়ায় গত মার্চে ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দোহার ১৪.৫ ঘণ্টার দীর্ঘ নন-স্টপ সেবাটি বাতিল করে সংস্থাটি। ৬ হাজার ৭৯৮ মাইলের এই রুটটি ফিলাডেলফিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া দীর্ঘতম ফ্লাইট ছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের জোট সঙ্গী কাতার এয়ারওয়েজ আগস্ট থেকে ফিলাডেলফিয়া-দোহা রুটে দৈনিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। মূলত ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক রুট বন্ধে একা আমেরিকান এয়ারলাইন্সই নয়; সেবা স্থগিত করেছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর থেকে তাবিভগামী ফ্লাইট বন্ধ করেছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্স, যা ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক অলাভজনকতার কারণে ফিনিক্স থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়ায় অভ্যন্তরীণ রুট দুটি বন্ধ করা হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত চলা সান্তা মারিয়া রুটটি পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে তিনটি রুট বন্ধ করলেও ২০২৭ সাল থেকে নতুন সাতটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট শুরুর কথা জানিয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে ফিলাডেলফিয়া থেকে পর্তুগালের পোর্তো, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক রুটে নতুন করে সেবা যুক্ত হতে যাচ্ছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

তিন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করলো আমেরিকান এয়ারলাইন্স

সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে?

বহু বছর ধরেই ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়ে আসছে। দেশটির তেল অবকাঠামো থেকে শুরু করে রাজধানী রিয়াদ—কোনো কিছুই তাদের হামলার বাইরে থাকেনি। তবে রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা সৌদি আরবের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ৬ অক্টোবর থেকে চালানো এসব হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানায় জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে ইয়েমেনের রাজধানী। প্রশ্ন হচ্ছে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলাগুলো বারবার কীভাবে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে পারছে? আর দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলো সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা সম্পর্কে এসব হামলা কী বার্তা দিচ্ছে? সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সম্ভাব্য এমন হামলা ঠেকানোর জন্যই এসব ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। এ ছাড়া সৌদি আরবের কাছে আরও উন্নত টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থাও রয়েছে। এই দুই ব্যবস্থাই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রেও এগুলো নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। সৌদি আরবের বিমানবাহিনীতেও রয়েছে উন্নত এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও ইউরোফাইটার টাইফুন। এগুলো ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম। তারপরও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বারবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে যাচ্ছে বা তা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এতে বিশাল ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখার কঠিন বাস্তবতা সামনে এসেছে। ‘পরিকল্পিতভাবে সংঘাত বাড়ানো’ প্রায় এক দশক ধরে দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে হুতিদের। ২০১৭ সালেও তারা রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। ইউরোপীয় নীতি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের (সিইপিএ) প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফেদেরিকো বোরসারি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, এরপর থেকে ইরানের সহায়তায় হুতিদের অস্ত্রভান্ডারে আরও উন্নত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হয়েছে। তবে নতুন কোনো সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ নেই। তাঁর মতে, আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত লক্ষ্যবস্তুতে বারবার এবং সমন্বিতভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা হুতিদের রয়েছে। বোরসারি আরও বলেন, হামলার সময় দেখে মনে হচ্ছে, ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে। হুতিরা দেখিয়েছে যে সৌদি রাজধানীর ওপর সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি ও চাপ তৈরির সক্ষমতা এবং সদিচ্ছা—দুটিই তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়াতে হুতিরা বহু বছর ধরে কাজ করছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে হুতিরা তাদের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা আরও উন্নত করেছে। যেসব হামলাকে ব্যর্থ বলে মনে হয়েছে, সেগুলো থেকেও তারা শিখেছে এবং নিজেদের কৌশল বদলেছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে হামলার অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে হুতিরা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা বাড়িয়ে থাকতে পারে। আল-বাশা বলেন, সৌদি আরব প্যাট্রিয়ট, থাডসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু দেশটির বিশাল ভূখণ্ডের সর্বত্র কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের পুরো প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়া হুতিদের জন্য জরুরি নয়। একটি সফল হামলাই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে। বারবার হামলার ঘটনা আরেকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চলতে থাকলে তা মোকাবিলার জন্য সৌদি আরবের হাতে পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে কি না। প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক এবং নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস হেরাস বলেন, সৌদি আরবের বড় একটি অংশ মরুভূমি। বিশাল দূরত্বের কারণে এই ভূখণ্ডের প্রতিটি জায়গায় কার্যকর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এমন এলাকায় আগাম সতর্কতাব্যবস্থা পরিচালনার জন্য কর্মী নিয়োগ ও তা সচল রাখতেও বেশি খরচ হয়। তবে এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে, ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সময় সৌদি আরবের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। ফলে মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। একই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বোরসারির মতে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালানোর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া। তবে একে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি গত মাসের কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। বোরসারি বলেন, এসব খবর সত্য হলে আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোন হামলা ঠেকানো হবে, কোন লক্ষ্যবস্তুর জন্য কতটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একসঙ্গে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে পারে হুতিরা। এর মধ্যে রয়েছে একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। অত্যাধুনিক ও বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও দীর্ঘ সময় ধরে চলা ব্যাপক হামলার ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র বা উড়ে আসা অস্ত্র ধ্বংস করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা দিতে পারে না। বোরসারি বলেন, রিয়াদে হামলার ঘটনা সৌদি আরবের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বারবার হামলার মুখে স্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব প্রশ্ন অস্বীকার করা হবে সরলীকরণ। ব্যয়বহুল পাল্টাপাল্টি কৌশল বোরসারি বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনো জানা যায়নি। একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের ওপর। তিনি বলেন, শুধু প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র কতটা উন্নত, তার ওপর প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে না। রাডার ও অন্যান্য সেন্সরের আওতা, বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দক্ষতা এবং পর্যাপ্ত গোলাবারুদের মজুতও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসবের যেকোনো একটির দুর্বলতা কিংবা একাধিক সমস্যার সম্মিলিত প্রভাবে হামলা ঠেকানো ব্যর্থ হতে পারে। সৌদি আরবের ভৌগোলিক অবস্থানও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। দেশটির বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর ও সামরিক ঘাঁটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব স্থাপনায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যয়বহুল এবং কঠিন। বোরসারি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শত্রুর হামলা শনাক্ত করা। এ জন্য আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এমন নজরদারি বজায় রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে সরঞ্জাম ও জনবলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ড্রোন মোকাবিলায় তুলনামূলক কম খরচের কিছু বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে আছে স্বয়ংক্রিয় অ্যান্টি-ড্রোন টারেট, যেখানে ভারী মেশিনগান ব্যবহার করা হয়। স্বল্পপাল্লার কম খরচের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি। বোরসারি বলেন, আশঙ্কা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ড্রোন প্রবেশের ঘটনা চলতে থাকবে। ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেনের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষক ফ্রেডি খুয়েরির মতে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে শুধু ভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে হামলাকারীরা নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে, এসব ঘটনা তারই ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ইরান ও তাদের সহযোগীরা বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে কীভাবে অভিযান চালাতে হয়, তা শিখছে বলে মনে হচ্ছে। হামলার পথ ও কৌশল পরিবর্তন করে তারা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হামলা ঠেকাতে প্রতিপক্ষের ব্যয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। খুয়েরির মতে, সৌদি আরবসহ পুরো অঞ্চলের জন্য শিক্ষা হলো—আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যত উন্নতই হোক, কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিস্তৃত নজরদারি, পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং পরিবর্তনশীল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলানো জরুরি। পল ইডন ইরাকি কুর্দিস্তানের একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস, রাজনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে লেখালিখি করেন। মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ

সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে?

গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ইসরায়েলের

গাজা ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়ার পূর্ব কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া ছাড়াই বেসামরিক বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ভারী বোমা ফেলার নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন চারজন ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সদস্য। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সামরিক গোয়েন্দা সদস্যদের প্রদত্ত জবানবন্দিতে দেখা গেছে, গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানো এবং সংঘাত চলাকালে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর হার বা পারপার্শ্বিক ক্ষতি বিবেচনা করার নীতিমালায় চরম শিথিলতা আনা হয়েছিল। হামাসের একজন মাঠপর্যায়ের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইব্রাহিম বায়ারিকে হত্যার উদ্দেশ্যে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে করা হামলায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন, যেখানে তাদের সরে যাওয়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6acdd372447a4" ) ); অন্য এক জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, হামাস কমান্ডার আলী কাদীকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একটি পরিবারের সব সদস্য মারা গেলেও সেই কমান্ডার অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এছাড়া ড্রোন দলের সেনা সদস্য ও অন্য গোয়েন্দা কর্মীরা জানান, প্রায় ২০ জন পর্যন্ত বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই ড্রোন আক্রমণের অবাধ অনুমোদন ছিল এবং ২৪ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডে সেনা নিরাপত্তার অজুহাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করা হয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক নাদাব ওয়েইম্যান সামরিক বাহিনীর এই আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বা ট্রাক চালককে মারার জন্য শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না এবং ঊর্ধ্বতনদের এই অপরাধের দায় নেওয়া উচিত। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6acdd372447ca" ) ); উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।  এই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলার শুনানি চলছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ইসরায়েলের

ঢাকা থেকে ৫১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৫১টি ফ্লাইটে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল। আজ সোমবার বিকেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ৫১টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট ১২টি। বাকি ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের তিনটি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি ফ্লাইট রয়েছে। বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব এখন শুধু সরাসরি ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এর আওতায় এসেছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলা হওয়ার পর এ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য দিয়ে রয়টার্স বলেছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থাও যাচাই করতে বলা হয়েছে। বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের নম্বর বিএস ৩৮১ ও বিএস ৩৮২। ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সৌদি আরবের যাত্রীদের আপাতত বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইউএস-বাংলা। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, পুনরায় টিকিট বুকিং ও অন্যান্য তথ্য জানতে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। আজ বেলা ২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল আবুল হোসেনের। সেই ফ্লাইট ধরতে নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তিনি। এসে জানতে পারেন তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করেন বলে জানালের আবুল হোসেন। রিয়াদে এখন টাইলস মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। তাই ছুটি অনুযায়ী তিন মাস আগেই ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন। এখন ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নিজের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন আবুল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছুটি শেষ হয়েছে। এখন যাইতে না পারলে চাকরি বাঁচানো যাবে না। সব কিছু অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।’ আবুল হোসেনের মতোই ফ্লাইট বাতিল হয়েছে মো. মোসলেম তালুকদারের। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর রিয়াদগামী ফ্লাইট ছিল। সেই ফ্লাইট ধরতে সকাল ১০টা থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানতে পারেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মোসলেম তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপুর ১২টায় ফ্লাইট ছিল, যেতে পারিনি, বিমান বন্ধ, ফ্লাইট ক্যান্সেল (বাতিল) হয়েছে। এখন দেখছি, অন্য কোনো ফ্লাইটে যেতে পারি কি-না। নইলে বাড়ি ফিরে যেতে হবে।’ রিয়াদের একটি দোকানে তাঁর কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি। আজ বেলা একটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য আসা ১৫ জনেরও বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাদের বেশিরভাগই জানতেন না ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয়টি। আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যেতে।

ঢাকা থেকে ৫১ ফ্লাইট বাতিল–স্থগিত, যেতে পারেননি ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী

সেনা নয়, সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে তুরস্ক

পাকিস্তানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষায় সহায়তার বিষয়টি তুরস্ক বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে আঙ্কারায় হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা অরবানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, আঙ্কারা কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে না।  বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে যেকোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সকলের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হয়। সোমবার দেশগুলো তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে একমত প্রকাশ করে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6ac88ae87c838" ) ); হাকান ফিদান জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি আত্মরক্ষা মূলক চুক্তি এবং তুরস্ক কোনো দেশের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানোর জন্য সেনা পাঠাবে না। তিনি জানান, বিমান প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রগুলোতে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে তা সামরিক প্রতিনিধি দল মূল্যায়ন করছে। তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এখনো তুর্কি সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত না হওয়ায় এই মুহূর্তে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, চুক্তিটি যত দ্রুত সম্ভব অনুমোদনের জন্য সংসদে পেশ করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নেটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী তুরস্ক হুথি হামলার নিন্দা জানিয়ে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে সম্মতি দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

সেনা নয়, সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে তুরস্ক

ইসরায়েলগামী বিমানের ককপিটে কুড়াল নিয়ে হামলা, সেই সহকারী পাইলটের পরিচয় কী

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ককপিটে কুড়াল নিয়ে হামলার অভিযোগে আলোচনায় আসা সহকারী পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানের নাগরিক। তবে তাঁর পরিচয় বা কথিত উগ্রপন্থী মতাদর্শের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড-১০৭৩ ফ্লাইটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এরপর আজ শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘটনাটিকে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি জানিয়েছেন, সহকারী পাইলট ককপিটে বিমানের জরুরি কুড়াল নিয়ে আরেক পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মছারের ওপর হামলা চালান এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তা এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এপিকে ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, হামাম আল-হামামি ওমানের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে একজন উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনীতিক এবং একজন পশ্চিমা কূটনীতিক রয়েছেন। পরিচয় প্রকাশের অনুমতি না থাকায় তাঁরা নাম প্রকাশ করেননি। উপসাগরীয় অঞ্চলের ওই কূটনীতিক জানিয়েছেন, হামামি একাই এই হামলা চালিয়েছেন কি না, নাকি কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামামি ওমানের নাগরিক হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা ছিলেন সিরিয়ার নাগরিক। প্রথম জীবনে কয়েক বছর তিনি আমিরাতেই কাটিয়েছেন। তাঁর আগের বিমান চলাচল-সংক্রান্ত কর্মজীবন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে তাঁর অতীত কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার অজ্ঞাতনামা একটি সূত্রের বরাত দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, কথিত উগ্রপন্থী মতাদর্শের কারণে ওমানের কর্তৃপক্ষ এক সময় হামামিকে দেশটিতে উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে তাঁর কথিত ওই মতাদর্শ কী ছিল বা ওমান অন্য কোনো দেশ কিংবা এয়ারলাইনকে এ বিষয়ে জানিয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। সিএনএন আরও জানিয়েছে, একই ধরনের উদ্বেগের কারণে হামামিকে বিমান প্রশিক্ষণ থেকেও সরিয়ে অন্য দায়িত্বে দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, হামামি নামে একটি লিংকডইন প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে চলে যান। এরপর ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল এয়ার মারকে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও চলে যান। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫ মিনিটে ফ্লাইট এফজেড-১০৭৩ দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পর ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠে হঠাৎ নিচে নামতে শুরু করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এরপর আবার ওপরে ওঠে এবং পুনরায় নিচে নামতে থাকে। এ সময় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মছারকে আক্রমণ করেন। হামলায় আহত মছার পরে হাসপাতালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটি যখন নিচে নামছিল, তখন তিনি ককপিটের মেঝেতে পড়ে যান। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ককপিটের দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন। দরজা খোলার পর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। পরে বিমানটি প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় স্থির হয়। ওই সময় উড়োজাহাজটির ট্রান্সপন্ডারে ৭৫০০ কোড দেওয়া হয়। এটি বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা হাইজ্যাকের সংকেত। বিমানে থাকা দুই অতিরিক্ত পাইলট তখন উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তাঁরা বিমানটি উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি অবতরণ করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই পাইলটকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁদের আবুধাবিতে নেওয়া হয়। আজ শনিবার আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি জানান, তদন্তকারীরা মনে করছেন সহকারী পাইলট একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ শুরু করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ককপিটে থাকা জরুরি কুড়াল দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। উল্লেখ্য, বিমানটির ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স বা জরুরি কুড়াল সাধারণত দুর্ঘটনার সময় উড়োজাহাজের কোনো অংশ কেটে বের হওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার আল-শামসি তদন্তকারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত কি না এবং এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা বা কারও নির্দেশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে। তবে হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা হামামি একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানায়নি আমিরাত। আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি—এই ঘটনা তার একটি নতুন সতর্কবার্তা। ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে আবুধাবি। হামলার পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কি না বিষয়গুলো তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি উড়োজাহাজটির কারিগরি পরীক্ষা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে। আল-শামসি জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক, উদ্দেশ্য, কারিগরি পরীক্ষা ও ডিজিটাল প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এদিকে ওই ঘটনার পর থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রয়েছে। সব মিলিয়ে হামামি সম্পর্কে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার একটি বড় অংশ এখনো সংবাদমাধ্যমের অজ্ঞাতনামা সূত্রের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর কথিত উগ্রপন্থী মতাদর্শ, হামলার উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ইসরায়েলগামী বিমানের ককপিটে কুড়াল নিয়ে হামলা, সেই সহকারী পাইলটের পরিচয় কী

মধ্যপ্রাচ্যের পথে রণতরী ও ১০ হাজার মার্কিন সেনা, ইরান যুদ্ধ কি আরও তীব্র হতে চলেছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অষ্টম মাসে পা দিয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে এমন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। চলমান এই যুদ্ধ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এরই মধ্যে তলানিতে ঠেকেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রোববার সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর এক দিন পরই মাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনরি ইউনিট (এমইইউ) যাত্রা শুরু করে, যার সঙ্গে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই রণতরী ও নৌবহর মোতায়েনের ফলে সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্ত হতে পারে। ওই মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি উভচর ল্যান্ডিং গ্রুপ অবস্থান করবে। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তার সামনে বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।  মধ্যপ্রাচ্যে ১২০টির বেশি বিমান মোতায়েন  যুক্তরাষ্ট্র বিগত দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে আসছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং সামরিক ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ১২০টির বেশি বিমান মোতায়েন করেছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।  সেনা মোতায়েন কি যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত  নতুন সেনা মোতায়েন যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গত বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানে বোমাবর্ষণ বাড়ানোকে সম্ভব বলে মনে করছেন।  কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ওই অঞ্চলে আরও সেনা পাঠানো ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি নতুন দরকষাকষির কৌশল হতে পারে। গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব পাঠালেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটন চায় কোনো শর্তে রাজি হওয়ার আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে।  ব্যাপক পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি ইরানের  যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার বড় পরিসরে সামরিক হামলা চালায়, তবে আরও ব্যাপক ও কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। তবে একই সঙ্গে তেহরান কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি এবং ইরানের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডাররা সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার বাইরেও যেসব দেশ মার্কিন সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে, সেসব দেশে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কিছু স্থানও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে।  সৌদি ও কাতারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরব এবং কাতারের তেল ও গ্যাস স্থাপনা রক্ষার জন্য আরও দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষা করবে– এই আশ্বাস দিতেই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পথে রণতরী ও ১০ হাজার মার্কিন সেনা, ইরান যুদ্ধ কি আরও তীব্র হতে চলেছে
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream