ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
এক সময় ছিল সিআইএ’র এয়ারফিল্ড, এখন চীনের সামরিক ঘাঁটি

এক সময় ছিল সিআইএ’র এয়ারফিল্ড, এখন চীনের সামরিক ঘাঁটি

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএর একটি বিমানঘাঁটিতে লাওসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন একটি সামরিক কেন্দ্র চালু করেছে চীনের সামরিক বাহিনী। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে। রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের প্রায় ৪০ মাইল উত্তরে এবং থাইল্যান্ডের নিকটতম সীমান্ত থেকে মাত্র ২৫ মাইল দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে রয়েছে বান কিউন বিমানবন্দরে চীন-লাওস যৌথ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং চীন-লাওস মৈত্রী বিমান একাডেমি। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যক্রম শুরু করেছে। গোয়েন্দা ও স্যাটেলাইট চিত্র প্ল্যাটফর্ম ভ্যান্টরের স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছে সিএনএন। ছবিতে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর থেকে ঘাঁটিতে ৬ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং ২২টি বিমান রাখার উপযোগী জায়গা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই স্থাপনা লাওসের বিমানবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারে সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি এবং দুই পক্ষ যৌথভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এটি কোনও তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে হুমকির জন্য নয় এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বাস্তব সহযোগিতা আরও জোরদার ও আঞ্চলিক শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক। এখন পর্যন্ত চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক বিদেশি ঘাঁটি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার জিবুতিতে, যা ২০১৭ সালে চালু হয়। এ ছাড়া থাইল্যান্ড উপসাগরে কম্বোডিয়ার রিয়াম নৌঘাঁটির বড় সম্প্রসারণেও অর্থায়ন করেছে চীন, যা তারা কম্বোডিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করে। সেখানে নতুন নির্মিত একটি জেটি এতটাই বড়, পিএলএ নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীও ভিড়তে পারবে। এতে এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের পকিল্পনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কম্বোডিয়া সরকার বলছে, রিয়াম অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত। জানুয়ারিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সেখানে নোঙর করেছিল। লাওসের বান কিউন ঘাঁটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সিআইএ পরিচালিত এয়ার আমেরিকা ব্যবহার করত। অঞ্চলটিতে গোপন অভিযানের জন্য এটি ছিল রসদ ও সহায়তা কেন্দ্র। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতীকী হলেও লাওসে চীনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-চীন ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো ড্রু থম্পসন বৃহস্পতিবার বলেন, এই ঘাঁটি থেকে অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর জন্য কোনও হুমকি দেখা কঠিন। তিনি বলেন, এই রানওয়ে কোনও কিছুর কেদ্র বরাবার তাক করা ছুরি নয়। এখান থেকে বিমান অভিযান চালানোর কোনও পরিস্থিতি আমি কল্পনা করতে পারছি না। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক র‍্যাচেল ভ্যান্ডেনব্রিংক রয়টার্সকে বলেন, বান কিউন বেছে নেওয়া সুস্পষ্ট কোনও অপারেশনাল প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে সুযোগকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য থেকেই বেশি হয়েছে বলে মনে হয়। তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে সীমান্ত ও রেলপথসহ অবকাঠামোগত সংযোগের কারণে মূল ভূখণ্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সহজে পৌঁছানো যায় এমন একটি ঘাঁটি হিসেবে লাওসের কিছু ভূকৌশলগত মূল্য রয়েছে।

Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream