ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাধা কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাধা কোথায়?

কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন চললেও কৌশলগত অংশীদার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছেন। সফরে দুই দেশের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, রুবিও ভারতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে আগামী সপ্তাহে তার এ সফরে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি বাদ পড়ছে। পরিবর্তে তিনি ভারতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাই এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র জামনগর সফর করবেন। জামনগরে রয়েছে ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স। বিশেষজ্ঞদের মতে, সফরে আলোচনার আড়ালে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে থাকবে দুই দেশের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে না পারার বিষয়টি। আরও পড়ুনআরও পড়ুনমাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপ, জ্বালানি আমদানি নিয়ে মতবিরোধ এবং ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উষ্ণতর সম্পর্কসহ বেশ কয়েকটি কারণে আলোচকদের পক্ষে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও শনিবার ছয় দিনের বিদেশ সফর শুরু করবেন। প্রথমে তিনি উজবেকিস্তান যাবেন, এরপর ভারত সফর করবেন। দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির পথে প্রধান বাধা এবং সামনে কী সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে এএফপির প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। শুল্ক নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। এর আওতায় ওয়াশিংটন ভারতের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার এবং ভারত বিভিন্ন শিল্পপণ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর কথা ছিল। তবে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং স্বাক্ষরিতও হয়নি। এর একটি কারণ হলো, ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনা নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা। আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পাল্টা শুল্কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রস্তাবিত চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাণিজ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অজয় শ্রীবাস্তব এক নোটে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির কাঠামোতে ভারতের জন্য পাল্টা শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার বিনিময়ে ভারতকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হতো। কিন্তু ওই শুল্কব্যবস্থা আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের মূল্য কতটা, তা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনস্বর্ণ নিয়ে বিশ্ববাজারে দুঃসংবাদ এ ছাড়া ওয়াশিংটনের নতুন কিছু বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশে কথিত অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে প্রণীত একটি নতুন আইন রয়েছে। তবে শুক্রবার ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে ওই হুমকির মুখে থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর না করার নির্দেশ দেন। আলোচনায় অগ্রগতি থমকে গেছে চলতি বছরের বেশির ভাগ সময় দুই দেশের সরকারই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছে। জুনে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছিলেন, আলোচকেরা চুক্তির ‘শেষ এক শতাংশ’ নিয়ে কাজ করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে সতর্কতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গত সপ্তাহে বলেন, আলোচনা ‘একটি পর্যায়ে এসে থেমে গেছে’ এবং আরও ছাড় দেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও বলেছিলেন, চুক্তি নিয়ে ঘোষণা ‘অবিলম্বে’ আসছে না।

নিজ বাসা থেকে আটক ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

ভারতের দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা ওড়াও) মিছিল শুরুর কয়েক মিনিট আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজ বাড়ি থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এনডিটিভি জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দীপকের দ্বিতীয়বার আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে আটক করা হয়েছিল। এবারের মিছিল আয়োজনের অন্যতম কারণ ছিল সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেপ্তার। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে তাঁরা দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। এর এক দিন আগে ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মিছিলের আগে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে কর্মসূচি পালন না করার বিষয়ে একটি নোটিশ দেয়। এরপর তাঁকে আটক করা হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারায় জারি করা নোটিশে বলা হয়—দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের আশপাশে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা যাত্রা’র জন্য নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় ককরোচ জনতা পার্টি মিছিল নিয়ে এগোলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। নোটিশে আরও বলা হয়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো আইনবিরুদ্ধ নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা এবং জনসমাগম ঘটানো নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে ‘ফ্ল্যাগ কোড’-এর বিধিনিষেধ সম্পর্কেও ৩১ বছর বয়সী এই নেতাকে অবহিত করা হয়। গায়ে গান্ধীর ছবি আঁকা সাদা টি-শার্ট ও জিনস পরা দীপকের কাঁধে ছিল ছোট একটি জাতীয় পতাকা। নিজের বসার ঘরে হলুদাভ রঙের সোফায় বসে পুলিশের দেওয়া নোটিশের কাগজপত্র পরীক্ষা করার সময় তিনি পুলিশের এক সদস্যকে প্রশ্ন করেন, ‘ক্যা আরোপ লাগা দিয়া হ্যায় আপনে মেরে ওপর?’ অর্থাৎ, ‘আপনারা আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এনেছেন?’ জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের এই পদক্ষেপের পর দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের স্বাধীনতা এবং জনসমাবেশের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিজ বাসা থেকে আটক ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

বাসায় গিয়ে অভিজিৎকে সতর্ক করল পুলিশ, ‘তেরঙ্গা মিছিলে’ অনড় ককরোচরা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থল কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রস্তাবিত ‘তেরঙ্গা মিছিল’ বাতিল করতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নোটিশ পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করার ঘোষণায় অনড় রয়েছেন তিনি। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় এই প্রতিবাদ মিছিলের সূচি রয়েছে। যন্তর মন্তরে ঢুকে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অভিযোগে দলটির দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার এবং কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। দিল্লি পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে কনট প্লেস ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তা সত্ত্বেও অভিজিৎ দীপকে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের মৌখিক পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশ ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল (ডি-নোটিফাই) ঘোষণা করে। বিক্ষোভের বিকল্প স্থান হিসেবে দিল্লির রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। সমালোচকদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন, সংসদ ভবন ও সুপ্রিম কোর্টের কাছাকাছি এলাকা থেকে গণবিক্ষোভ দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। পরবর্তীতে আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। আজ করোল বাগে এনসিপি (এসপি) নেতার বাসভবনে অবস্থানরত অভিজিৎ দীপকে এক পুলিশ কর্মকর্তা নোটিশটি হস্তান্তর করেন। নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মিছিল বাতিলের আরজি প্রত্যাখ্যান করেছেন সিজেপি প্রধান। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা যদি ১০০টি জায়গায় বিক্ষোভের ঘোষণা দিই, তবে কি নরেন্দ্র মোদী ১০০টি স্থানই বন্ধ করে দেবেন? জাতীয় পতাকা ওড়ানো নিয়ে দিল্লি পুলিশের সমস্যা কোথায়?’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ রাতে বা আগামীকাল সকালে দিল্লি পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য যদি জেলে যেতে হয়, তবে আমরা তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট স্থানে যথাযথ নিয়ম মেনে স্বল্প সংখ্যক মানুষকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে সংসদ মার্গ, জনপথ, বারাকাম্বা রোড, কস্তুরবা গান্ধী মার্গ, তিলক মার্গ, মান্ডি হাউস এবং অশোক রোডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এদিকে, দিল্লি পুলিশের যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পেশ করা আবেদনের ওপর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বাসায় গিয়ে অভিজিৎকে সতর্ক করল পুলিশ, ‘তেরঙ্গা মিছিলে’ অনড় ককরোচরা

তিরঙ্গা মার্চ ঘিরে দিল্লির সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ, ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন

ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক শুক্র ও শনিবারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পার্কটিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিরঙ্গা মার্চ বা পতাকা হাতে পদযাত্রা কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে সেন্ট্রাল পার্ক ও রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দলটি তিরঙ্গা মার্চের ডাক দিয়েছে। এ ছাড়া, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি কর আসছে সংগঠনটি। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেন্ট্রাল পার্ককে বেছে নিয়েছে সিজেপি। শুক্রবার সেখানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা ও আম আদমি পার্টির নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা। নতুন এই কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার জন্য জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে সেন্ট্রাল পার্ক শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকবে। সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে বৃহস্পতিবার পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আপাতত মেট্রো পরিষেবা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একেবারে শেষ পর্যায়ে মেট্রোর কথা ভাবা হবে। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, তারা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে উপযুক্ত স্থানে পতাকা বহন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 

তিরঙ্গা মার্চ ঘিরে দিল্লির সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ, ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন

ককরোচ পার্টির পক্ষে রায় দিল্লি হাইকোর্টের

ভারতের দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ বন্ধের আবেদন নাকচ করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেননি। তবে দিল্লি পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনের আওতায় ‘সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। অভিযোগ, নির্বাচনি জালিয়াতির প্রতিবাদে গত ১০ অক্টোবর সিজেপির ডাকা কর্মসূচিতে যোগ দিতে কনট প্লেসের কাছে যন্তর মন্তর রোডে যাওয়ার চেষ্টা করা শত শত মানুষকে আটক করেছিল পুলিশ। এর কয়েক দিন পর নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও একই ইস্যুতে কর্মসূচি পালন করছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দুই পক্ষের পৃথক আন্দোলন ক্রমেই কাছাকাছি আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া জোট থেকে বেশির ভাগ সময় দূরে থাকা আম আদমি পার্টি (আপ) জানিয়েছে, তারা সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেবে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা বহনের আহ্বান জানিয়েছেন দীপকে। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন ওয়াসুদেও সাম্ব্রে ও বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত একটি আবেদন শুনানি হয়। লাইসেন্সধারী এক পথবিক্রেতা আবেদনটি করেন। তার দাবি, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, উৎসবের মৌসুমে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে আরেকটি সপ্তাহান্তের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের রাস্তায় বসতে হবে। তিনি বলেন, ‘কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের একেবারে কেন্দ্রে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে, আমাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এটি বিক্ষোভের জায়গা নয়। ইতোমধ্যে দোকানপাট বন্ধ করা শুরু হয়েছে। এটি দশেরার সপ্তাহান্ত। এই বিক্ষোভ বন্ধ করতে হবে।’ কর্তৃপক্ষের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতে উপস্থিত হয়ে জানান, সিজেপির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ককরোচ পার্টির পক্ষে রায় দিল্লি হাইকোর্টের

দেশ ত্যাগের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছেন ইমরান

হিন্দি সিনেমার প্রখ্যাত অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইমরান খানের আইনজীবী জুলফিকার মেমন, পারভেজ মেমন ও চিরাগ নায়েক জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবারই তাঁরা হাইকোর্টে যাবেন। ইমরানের কাছে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। ওই কার্ড প্রাপকদের এমন কোনো শর্ত মানতে হয় না যে তাঁরা কোনো বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না। নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলে অতি দ্রুততার শুনানি শেষ করতে হবে। কারণ, দ্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ইমরানকে দেশ ত্যাগ করতে বলেছে। ইমরানের অপরাধ, বিদেশি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে ইমরানকে আটক করা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের ছেড়েও দেওয়া হয়। ইমরান খান (৪৩) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দ্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ইমরানকে নোটিস পাঠিয়ে বলেছে, বিদেশি নাগরিক আইন বা ফরেনার্স অ্যাক্ট লঙ্ঘন করার জন্য তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে। ইমরানের মা নুজহাত খান হলেন অভিনেতা আমির খানের আপন ফুফু বা পিসি। ১৯৮৩ সালের ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন প্রদেশে তাঁর জন্ম। জন্মসূত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ইমরান বলেন, তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক বা ‘ওভারসিজ ইন্ডিয়ান সিটিজেন’ (ওসিআই)। তাঁর ‘ওসিআই’ পরিচয়পত্র আছে। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়, তিনি বিদেশি আইন ভঙ্গ করেছেন। মু্ম্বাই পুলিশ সেই অভিযোগপত্র এফআরআরওর কাছে পাঠিয়ে দেয়। ওই সংস্থাই তাঁকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়। ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকেরা ‘ওসিআই’ পরিচিতিপত্র পাওয়ার অধিকারী। ওসিআই কার্ডধারীরা আজীবন ভারতে আসার ভিসা পেয়ে থাকেন। তবে তাঁরা ভারতে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। ভোটদানের অধিকারও তাঁদের নেই। ইমরানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মুম্বাই পুলিশকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্র বিজেপির সহসভাপতি কিরিট সোমাইয়া। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হয়ে ইমরান ‘বেআইনি রাজনৈতিক বিক্ষোভে’ অংশ নিয়ে ওসিআই ভিসা আইন ভঙ্গ করেছেন। ইমরানকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পরেই বিজেপি সরকারের ‘দ্বিমুখী নীতি’র বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘মেরি মিলবেন, আমেরিকান নাগরিক, বিজেপির পক্ষে কথা বলতে পারেন। অথচ ইমরান, যিনি একজন ওসিআই কার্ড হোল্ডার, বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেন না !’ আটক করার পর পুলিশ ভ্যানে চাপিয়ে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার এক ছবি ইমরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছিলেন। তাতে লেখা, ‘মনে হচ্ছে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি।’ একটা ভিডিও–ও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা যায় ইমরান ‘জয় হিন্দ’ বলছেন। আরও এক ক্লিপিংয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘সত্যিই বুঝতে পারছি না কেন আমাকে এখানে আনা হয়েছে। ওরা (পুলিশ) আমাদের রাস্তা থেকে তুলে নেয় ও ভ্যানে বসতে বলে।’ এরপর ইমরান গণমাধ্যমকে জানান, মুম্বাইয়ের নাগরিক হিসেবে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। কোনো নির্দিষ্ট দাবি তাঁরা জানাননি। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো দাবিদাওয়া নেই। একজন নাগরিক হিসেবে, এই শহরের বাসিন্দা হিসেবে এখানে এসেছি। দেখতে এসেছি কেন যাতায়াতের অধিকারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কেন মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। সিজেপির ডাকা সেদিনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মুম্বাই পুলিশ ৬০০ জনকে আটক করেছিল। তাঁদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও তাঁর সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’ ও সিপিএমের কর্মী–সমর্থকেরাও ছিলেন। আমির খানের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ (১৯৮৮) ও ‘জো জিতা ওহি সিকন্দর’–এ (১৯৯২) ইমরান শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন। বড় হওয়ার পর তাঁর প্রথম সিনেমা ‘জানে তু ইয়া জানে না’ প্রচণ্ড জনপ্রিয় হয়। তাঁর অভিনীত ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘দিল্লি বেলি’ ও ‘মেরে ব্রাদার্স কি দুলহন’ও বেশ জনপ্রিয় হয়। তার পর কয়েকটি সিনেমা ফ্লপ হওয়ায় অভিনয় থেকে ক্রমে দূরে সরে যান। ইমরান খান আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমালস’–এর (পেটা) সক্রিয় সমর্থক।

দেশ ত্যাগের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছেন ইমরান

১ নভেম্বর থেকে ভারতে মোবাইলের পর্দায় দেখা যাবে কলারের নাম-নম্বর

ভারতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ফোনকলের ক্ষেত্রে কলার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এ ব্যবস্থায় অপরিচিত নম্বর থেকে কল এলেও গ্রাহকের মোবাইলের পর্দায় কলারের নাম ও নম্বর দেখা যাবে। ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (সিএনএপি) নামে এ ব্যবস্থা চালু করতে টেলিকম সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি প্রতারণামূলক ফোনকল চিহ্নিত করতেও গ্রাহকেরা সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সিএনএপি হলো ভারতের নিজস্ব কলার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি। এ ব্যবস্থায় ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলারের নাম ও নম্বর দেখানোর ব্যবস্থা চালু হবে। তবে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কে এ পরিষেবা চালুর বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় ফোনের কন্ট্যাক্টসে কোনো নম্বর সংরক্ষিত থাকলে সেই নামই পর্দায় দেখা যাবে। নম্বরটি সংরক্ষিত না থাকলে দেশের ভেতর থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থার গ্রাহকতথ্যে নিবন্ধিত নাম দেখানো হবে। তবে বিদেশ থেকে কল এলে পর্দায় শুধু ‘আন্তর্জাতিক কল’ লেখা দেখা যাবে। এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে টেলিকম সংস্থাগুলোকে গ্রাহকদের নাম ও ফোন নম্বরের তথ্য নিয়ে ডেটাবেস তৈরি, পরিচালনা ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। কল গ্রহণকারী টেলিকম সংস্থা ওই ডেটাবেস থেকে কলারের নাম সংগ্রহ করে গ্রাহকের ফোনে দেখাবে। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাটি তৈরির ক্ষেত্রে ‘সিকিউরিটি-বাই-ডিজাইন’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কল শেষ হওয়ার পর কোয়ারি-রেসপন্স পদ্ধতিতে কলারের নাম সংরক্ষণ করা যাবে না। এ ছাড়া ‘কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রেস্ট্রিকশন’ (সিএলআইআর) সুবিধা ব্যবহারকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। অর্থাৎ, এ সুবিধা নেওয়া গ্রাহকদের নাম কল গ্রহণকারীর পর্দায় দেখানো হবে না। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও একাধিক মোবাইল সংযোগ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নামের পরিবর্তে পছন্দের নাম দেখানোর সুযোগও দিতে পারে টেলিকম সংস্থাগুলো। তবে সেই নাম ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রিতে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক অথবা পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) পোর্টালে নথিভুক্ত ব্যবসায়িক নাম হতে হবে। এ ক্ষেত্রে নামের সত্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করতে হবে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পর এ পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (ট্রাই) দেওয়া সুপারিশও ডিওটির নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সিএনএপি পরিষেবা চালু রাখার বিষয়ে ডিওটির প্রস্তাবে সম্মতি দেয় ট্রাই। নতুন এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো, ফোনে নম্বর সংরক্ষিত না থাকলেও টেলিকম সংস্থার গ্রাহকতথ্যে নিবন্ধিত নামের মাধ্যমে কলারকে শনাক্ত করা। এর ফলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল সম্পর্কে গ্রাহকেরা আরও সহজে ধারণা পাবেন বলে মনে করছে ভারত সরকার।

১ নভেম্বর থেকে ভারতে মোবাইলের পর্দায় দেখা যাবে কলারের নাম-নম্বর

বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন, নেহা বোরার ‘বাংলাদেশের আন্দোলন পথ দেখিয়েছে’ ভিডিও নিয়ে বিজেপি

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। শিক্ষার্থী আন্দোলনের সংগঠক নেহা বোরার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। তার দাবি, ভিডিওতে বাংলাদেশের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে নেহা বোরার বক্তব্য ভারতে ‘ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি’। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসে পিএইচডি শুরু করা ২৯ বছর বয়সি নেহা বোরার একটি তারিখবিহীন সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ভারতে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। ভিডিওতে নেহা বলেন, ‘এই দেশে আমরা সর্বত্র যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তা প্রথম শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানোর এবং এ দেশের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কয়েক সপ্তাহের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। ওই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়। নেহা বোরার বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠে এসেছে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কথিত নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ তুলে চলমান প্রতিবাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি। নেহা বলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ছিল গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ ভারতের তরুণরা যে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিও গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের দেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, আজ এ দেশের জেন-জি ও তরুণরাও একই ধরনের লড়াই করছেন।’ এই বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেন, বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার রাজনৈতিক বলয় কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং তাদের লক্ষ্য ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো। ভিডিওতে ভান্ডারিকে উচ্চকণ্ঠে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, নেহা বোরার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ভান্ডারি আরও অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রতিরোধ নয়, বরং ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করা। তার দাবি, কংগ্রেসের পুরো রাজনৈতিক বলয় বাংলাদেশে যা ঘটেছে, ভারতে সে ধরনের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর দিকে মনোযোগী। তবে এগুলো বিজেপি মুখপাত্রের রাজনৈতিক অভিযোগ; ভিডিওতে নেহা বোরার বক্তব্যে সরাসরি ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি। একই সাক্ষাৎকারে নেহা বোরাকে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের একসঙ্গে কাজ করে উন্নত দক্ষিণ এশিয়া এবং একটি ভালো বিশ্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশে আপনারা এবং ভারতে আমরা একসঙ্গে একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া ও আরও ভালো বিশ্বের জন্য লড়াই করতে পারব।’ চলতি সপ্তাহে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলে অংশ নেন নেহা বোরাও। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘সব প্রতিবাদই একটি প্রতিবাদ। এখানে সমান্তরাল কোনো প্রতিবাদ নেই। ভারত এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, যারা সংবিধান রক্ষার জন্য লড়াই করছেন, তারা যে রাজনৈতিক সংগঠন থেকেই আসুন না কেন, তাদের পাশে থাকবে তার দল। ভারতের মানুষের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও প্রতিবাদকে উল্লেখ করেন তিনি।

বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন, নেহা বোরার ‘বাংলাদেশের আন্দোলন পথ দেখিয়েছে’ ভিডিও নিয়ে বিজেপি

মৈনপাটের পথে, পাহাড়-ঝরনা আর বৌদ্ধমঠে ভরা অনন্য ঠিকানা

কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা ও হাতে পাঁচ-ছয় দিন সময় থাকলে বেরিয়ে পড়া যায় অচেনা কোনও গন্তব্যের উদ্দেশে। পাহাড়, ঝরনা, সবুজ অরণ্য আর বৌদ্ধ সংস্কৃতির স্বাদ একসঙ্গে পেতে চাইলে পাশের দেশ ভারতের ছত্তীসগঢ়ের মৈনপাট হতে পারে দারুণ পছন্দ। অনেকেই জায়গাটিকে ‘মিনি তিব্বত’ বলে চেনেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশের কারণে এই পাহাড়ি জনপদকে আবার ‘ছত্তীসগঢ়ের শিমলা’ও বলা হয়। ছত্তীসগঢ়ের সরগুজা জেলায় অবস্থিত মৈনপাটের বিশেষত্ব পাহাড়ি দৃশ্য আর এখানকার তিব্বতি সংস্কৃতি, বৌদ্ধমঠ, ঝরনা ও অদ্ভুত কিছু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকার মতো এখানেও পাহাড়ের গায়ে রঙিন প্রার্থনার পতাকা চোখে পড়ে। পথে পড়বে রাঁচী, ঘুরে নিতে পারেন চান্ডিল জলাধারও কলকাতা থেকে মৈনপাটের উদ্দেশে গাড়ি নিয়ে রওনা দিলে প্রথমে যেতে পারেন রাঁচীর দিকে। পথে পড়বে কোয়ালাঘাট, ডেবরা, খড়গপুর, বহরাগোড়া ও ঘাটশিলার মতো পরিচিত জায়গা। কলকাতা থেকে রাঁচীর দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। যাত্রাপথে একটু ঘুরে দেখতে চাইলে জামশেদপুরের কাছাকাছি চান্ডিল জলাধারে থামতে পারেন। পাহাড়ে ঘেরা বিশাল জলরাশি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সেখানে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে। জলাধারে নৌকাবিহারের ব্যবস্থাও থাকলে উপভোগ করতে পারেন সেই অভিজ্ঞতা। চান্ডিল ঘুরে রাঁচী পৌঁছোতে বিকেল গড়িয়ে যেতে পারে। তাই সেদিন আর বেশি ঘোরাঘুরি না করে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো। পরদিন রাঁচী ও তার আশপাশের জলপ্রপাতগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। হুন্ড্রু, জোনহা ও সীতা জলপ্রপাতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা এবং কিছুটা হাঁটার প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। চাইলে দশম জলপ্রপাত কিংবা পত্রাতু উপত্যকাও ঘুরে দেখতে পারেন। পাহাড়ি পথে মৈনপাটের দিকে রাঁচী থেকে মৈনপাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে পথের দৃশ্য ধীরে ধীরে বদলাতে থাকবে। জাতীয় সড়ক ধরে এগিয়ে নির্দিষ্ট সংযোগপথ দিয়ে মৈনপাটের দিকে যেতে হয়। রাঁচী থেকে গন্তব্যটির দূরত্ব আনুমানিক ৩০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি হতে পারে। তবে যাত্রার আগে মানচিত্রে নির্দিষ্ট পথ ও রাস্তার বর্তমান অবস্থা দেখে নেওয়া ভালো। পাহাড়ি রাস্তায় পৌঁছোনোর পর সবুজে ঢাকা ঢাল, অরণ্য আর খোলা আকাশের দৃশ্য পথের ক্লান্তি অনেকটাই ভুলিয়ে দিতে পারে। মৈনপাটে পৌঁছোতে বিকেল বা সন্ধ্যা হয়ে গেলে সেদিন আর দর্শনীয় স্থান ঘোরার পরিকল্পনা না করাই ভালো। পরদিন সকাল থেকে শুরু করা যেতে পারে বেড়ানো। এখানকার বেশ কিছু আকর্ষণ কাছাকাছি এলাকায় থাকলেও কোনও কোনও জায়গায় পৌঁছোতে হাঁটতে হতে পারে। ;উল্টোপথে বয়ে চলে জলধারা! মৈনপাটের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক জায়গাগুলির মধ্যে রয়েছে উল্টাপানি। ভিসারপানি গ্রামের কাছে এই জলধারাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এখানে জলপ্রবাহের দিক দেখে মনে হয় জল যেন উঁচুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জায়গাটি ঘুরে দেখার সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে এর প্রকৃতি ও ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। এরপর যেতে পারেন পরপটিয়া সূর্যাস্ত দেখার জায়গায়। পাহাড়ি পরিবেশে দিনের শেষ আলো উপভোগ করার জন্য এটি পরিচিত। আশপাশের ঝরনা ও পাহাড়ি পথও পর্যটকদের নজর কাড়ে। তবে সন্ধ্যার আগে ফেরার পথ ধরতে হবে, বিশেষত অপরিচিত পাহাড়ি এলাকায় নিজে গাড়ি চালালে। মৈনপাটের আরেকটি আকর্ষণ জলজলি পয়েন্ট, যা ‘বাউন্সিং গ্রাউন্ড’ নামেও পরিচিত। এখানকার ভূমিরূপের বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে পর্যটকদের কৌতূহল রয়েছে। জায়গাটি ঘুরে দেখার সময় নির্দিষ্ট পথ মেনে চলা এবং স্থানীয় নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। চাইলে মাছলি পয়েন্ট বা ফিশ পয়েন্টেও যেতে পারেন। বৌদ্ধমঠ, তিব্বতি খাবার ও ঝরনার হাতছানি মৈনপাটের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তিব্বতি সংস্কৃতি। স্থানীয় বাজারে খাবার ও দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গে সেই সংস্কৃতির ছাপ পাওয়া যায়। ঘুরে দেখতে পারেন ধাকপো শেপদুলিং বৌদ্ধমঠ। শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর পাশাপাশি এখানকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহ অনুভব করা যাবে। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে টাইগার পয়েন্ট জলপ্রপাত। সবুজ পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা জলধারা এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ। নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঘের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় লোককথা। তবে বন্যপ্রাণী দেখার নিশ্চয়তা নেই। আশপাশের পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি মৈনপাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যোগীমারা গুহাও ঘুরে দেখতে পারেন। কোথায় থাকবেন, কী ভাবে ফিরবেন? মৈনপাটে পর্যটকদের থাকার জন্য বিভিন্ন রিসর্ট ও আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। পূজার ছুটিতে ভিড়ের সম্ভাবনা থাকায় আগেভাগে ঘর বুক করে নেওয়া সুবিধাজনক। থাকার জায়গা বেছে নেওয়ার সময় খাবারের ব্যবস্থা, গাড়ি রাখার জায়গা এবং দর্শনীয় স্থানগুলিতে যাতায়াতের সুবিধা যাচাই করে নিন। মৈনপাটে এক দিন ও পরদিন সকালের সময় ঘোরাঘুরির জন্য রাখতে পারেন। দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে কলকাতার পথে রওনা দেওয়া যায়। ফেরার পথে চাইলে রাঁচী অথবা জামশেদপুরে রাত কাটিয়ে পরদিন বাকি পথ পাড়ি দিতে পারেন। নিজের গাড়িতে এই সফরের পরিকল্পনা করলে জ্বালানি, টোল, চালকের বিশ্রাম এবং পাহাড়ি পথে গাড়ি চালানোর বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি। কলকাতা থেকে রাঁচী হয়ে মৈনপাটের এই যাত্রায় যেমন থাকবে দীর্ঘ সড়কপথের অভিজ্ঞতা, তেমনই মিলবে পাহাড়, জলপ্রপাত, অরণ্য ও ভিন্ন সংস্কৃতির স্বাদ।

মৈনপাটের পথে, পাহাড়-ঝরনা আর বৌদ্ধমঠে ভরা অনন্য ঠিকানা

ভারতে গঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে ১৩ শিশুর মৃত্যু

ভারতের বিহার রাজ্যে গঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি উৎসবে যোগ দিতে নৌকায় করে যাচ্ছিল শিশুরা। নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী থাকায় সেটি উল্টে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পরপরই নদীতে উদ্ধারকাজ শুরু করেন স্থানীয় লোকজন। মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে অন্ধকারে নদীতে তলিয়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজতে থাকেন তারা। এ সময় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, নদী থেকে ১৩ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বিহারের পূর্বাঞ্চলীয় বৈশালী জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রামলক্ষণ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নৌকাটি আকারে ছোট ছিল এবং সেটির অবস্থাও ভালো ছিল না। তা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী গাদাগাদি করে নৌকাটিতে উঠেছিলেন। স্থানীয় চিকিৎসক নির্মল কুমার বলেন, উদ্ধার হওয়া ছয়জনের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৈশালীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, নদী থেকে ১৩ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিহারের বৈশালীতে নৌকা উল্টে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।  

ভারতে গঙ্গা নদীতে নৌকা ডুবে ১৩ শিশুর মৃত্যু

জার্মানি থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটে ‘হাইজ্যাক অ্যালার্ট’, জয়পুরে জরুরি অবতরণ

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ভারতগামী একটি ফ্লাইটে আকস্মিক ‘হাইজ্যাক অ্যালার্ট’-এর (উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের সংকেত) পর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের ফ্লাইটটি দিল্লিতে অবতরণের কথা থাকলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় সেটিকে রাজস্থানের জয়পুরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। পরে দীর্ঘ তল্লাশি ও সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে আজ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইটটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছায়। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজটিতে ২৯৩ জন যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক কোড ৭৫০০ (যা মূলত বিমান ছিনতাই বা অবৈধ নিয়ন্ত্রণের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়) ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে পাঠানো হলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পায়। এর পরপরই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রটোকলে উড়োজাহাজটিকে জয়পুর বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে সম্পূর্ণ আলাদা একটি (আইসোলেশন) বে-তে রাখা হয়। জয়পুর বিমানবন্দরে নামার পর প্রায় ২ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। পরবর্তীতে ভারতের বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড, সিআইএসএফ, স্থানীয় পুলিশ ও অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এসে সম্পূর্ণ বিমান ও যাত্রীদের পাসপোর্ট এবং মালামাল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্ক্যান করে। উড়োজাহাজের যাত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক গুরজিৎ সিং খালসা জানান, প্রথমে তাদের নিরাপত্তা পরীক্ষার কথা বলা হয়। তিনি বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমাদের নামানো হয়। ওই সময় বিমানবন্দরে আমরা অনেক নিরাপত্তা সদস্য দেখতে পাই। তাঁরা নাম ধরে ধরে কিছু যাত্রীর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে। ২৫ বছর বয়সী মেডিকেল শিক্ষার্থী জেনিস তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে ছুটি কাটাতে দিল্লি যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, বিমানটি যখন নিচে নামছিল, তখন ক্রুরা যাত্রীদের যাত্রাপথ পরিবর্তনের (ডাইভারশন) বিষয়টি জানান। জেনিস দ্য হিন্দুকে বলেন, ‘নিচে নামার সময় ক্রুরা জানান, নিরাপত্তার কারণে উড়োজাহাজটিকে জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবতরণের পর বাইরে বেরিয়ে আমরা ফায়ার সার্ভিসের অনেক কর্মীকে দেখতে পাই। তাদের দেখে ভেবেছিলাম, হয়তো ইঞ্জিনে কোনো গোলযোগ হয়েছে। এরপর অন্য ধরনের ইউনিফর্ম পরা লোকজনকে দেখে মনে হলো, আসলে হয়তো কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল।’ জেনিস জানান, পরে তাঁর সঙ্গীর মা তাঁদের বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার খবর সংক্রান্ত একটি ক্লিপ পাঠান। বিষয়টি তাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘তিনি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে আমরা তাঁকে জানাই, আমরা নিরাপদে আছি।’ কারিগরি ত্রুটি নাকি ভুল প্রাথমিক তদন্ত ও রাজস্থান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৈমানিকের ভুল বা কারিগরি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই ট্রান্সপন্ডার কোডটি গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া যাত্রীদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

জার্মানি থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটে ‘হাইজ্যাক অ্যালার্ট’, জয়পুরে জরুরি অবতরণ

দিল্লিতে আটক সিজেপি নেতারা কারাগারে

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির অনুমোদিত প্রতিবাদ স্থলের তালিকা থেকে সদ্য বাদ পড়া যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অপরাধে অনাধিকার প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআই ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, আটক হওয়া সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। তবে তাদের সঙ্গে আটক হওয়া আরেক সক্রিয়কর্মী অজিঙ্ক শিণ্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক ডিঙিয়ে ও ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের পর পুলিশ দাস, রঙ্কা ও শিণ্ডেকে গ্রেফতার করে। জেন-জি পরিচালিত এ আন্দোলনটি মূলত নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ এবং নির্বাচনি সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে রাজপথে সরব রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা ভোট জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ক্ষোভ তৈরি হয়, যদিও কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে কাপুরুষোচিত কাজ বলে অভিহিত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ রাহুল লিখেছেন, ছাত্র, যুবক, সাংবাদিক ও ‘ইন্ডিয়া’ জোট;  চিহ্ন ভিন্ন হলেও লক্ষ্য এক। সব প্রতিবাদই মূলত এক: নাগরিকরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও সিজেপি নেতাদের সমর্থনের হাত বাড়িয়ে এই গ্রেফতারের নিন্দা জানান। আটকের পর দিল্লি অভিমুখে রওয়ানা হওয়া সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার ভিন্নমত দমন করছে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার চ্যালেঞ্জ জানান। তার এই বক্তব্য ১৯৭০-এর দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলে আরোপিত জরুরি অবস্থার কথা মনে করিয়ে দেয়। সিজেপির আইনজীবী রত্না সিং অভিযোগ করেন, নেতাদের গ্রেফতারের পর কয়েক ঘণ্টা কোনও আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানির সময় কিছু বেকার যুবকদের ককরোচ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করলে ব্যঙ্গাত্মক এই ককরোচ জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আন্দোলন থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই প্রেসার গ্রুপটি বড় ধরনের ভূমিকা রেখে আসছে।

দিল্লিতে আটক সিজেপি নেতারা কারাগারে

ভাইরাল ছবির এসএফআইয়ের পতাকা হাতে কে এই পুঝাক্কাল পবিত্রা?

দিল্লিতে সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় হাতে এসএফআইয়ের পতাকা নিয়ে দৌড়াচ্ছেন এক তরুণী, আর পেছনে তাদের আটকাতে পুলিশ, একটি মাত্র আলোকচিত্র রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর মাধ্যমেই রাতারাতি লাইমলাইটে চলে আসেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত হাঁসরাজ কলেজের শিক্ষার্থী পুঝাক্কাল পবিত্রা। কেরালার পালক্কাদ জেলার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী এই তরুণী হাঁসরাজ কলেজে নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত প্রায় দুই বছর ধরে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দিল্লিতে এসএফআই আয়োজিত তিরঙ্গা উইমেন র‍্যালিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে। ১১ অক্টোবর র‍্যালিটি শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করতে শুরু করে। পবিত্রাও আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন। সেই সময় হাতে পতাকা নিয়ে তার দৌড়ানোর ছবিটি ভাইরাল হলে আন্দোলনের প্রধান পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পবিত্রা জানান, পুলিশ যখন নারী পুলিশ সদস্যদের ডাকছিল, তখন বিক্ষোভকারীরা দৌড়াতে শুরু করেন। তিনি বলেন, দৌড়ানোর সময় তার হাতে যে তখনও পতাকাটি ছিল, তা তিনি নিজেও অনুধাবন করতে পারেননি। পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং এখন এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করার সময় এসেছে। পবিত্রার রাজনৈতিক সক্রিয়তার পাশাপাশি তার পারিবারিক পটভূমিও সামনে এসেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, তার মা পালক্কাদে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর সদস্য এবং তার মাতামহ কেভি চন্দ্রন মানকারা এলাকার একজন প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা ও সাবেক পঞ্চায়েত প্রধান (সরপঞ্চ) ছিলেন।

ভাইরাল ছবির এসএফআইয়ের পতাকা হাতে কে এই পুঝাক্কাল পবিত্রা?

শেয়ারবাজারে ধস, তবু ভারতে মিউচুয়াল ফান্ডে রেকর্ড বিনিয়োগ

ভারতের শেয়ারবাজারে দরপতন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অর্থ প্রত্যাহারের মধ্যেও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীরা।  গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে নিট বিনিয়োগ পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ এবং নিয়মিত কিস্তিভিত্তিক বিনিয়োগেও (এসআইপি) নতুন রেকর্ড হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ ভারতীয় শেয়ারবাজারকে বৈশ্বিক অস্থিরতার ধাক্কা সামলাতে সহায়তা করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে অর্থ তুলে নিলেও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেশটির পুঁজিবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য তৈরি করছে। ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়ার (অ্যামফি) তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে। ইকুইটি ফান্ডে বিনিয়োগ ৪০০ কোটি ডলার সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোতে নিট বিনিয়োগ এসেছে ৩৮ হাজার ৩০৭ কোটি রুপি, যা প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সমান। আগের পাঁচ মাসের মধ্যে কোনও এক মাসে এত বেশি বিনিয়োগ আসেনি। এ নিয়ে টানা ৬৭ মাস ভারতীয় ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোতে নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক রয়েছে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব ফান্ডে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের তুলনায় নতুন বিনিয়োগের প্রবাহ বেশি থাকছে। বাজারে দরপতনের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণ ভারতের পুঁজিবাজারে দেশীয় অর্থের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরছে। সেপ্টেম্বরে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে ৩৭৫ কোটি ডলার প্রত্যাহার করেন। বিপরীতে, দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের প্রবাহ বাজারে অর্থের জোগান বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানির ফান্ডে রেকর্ড বিনিয়োগ সেপ্টেম্বরে ক্ষুদ্র মূলধনি বা স্মল-ক্যাপ ফান্ডে নিট বিনিয়োগ এসেছে ৯ হাজার ৩৯ কোটি রুপি। মাঝারি মূলধনি বা মিড-ক্যাপ ফান্ডে এসেছে ৭ হাজার ৮৪৫ কোটি রুপি। উভয় শ্রেণির ফান্ডেই এটি রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ। সাধারণত ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বেশি মুনাফার সম্ভাবনায় এসব ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিয়মিত কিস্তিতে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পদ্ধতি এসআইপিতেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৩২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। ডলারের হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩৩৯ কোটি। এসআইপির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট বিরতিতে নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ মিউচুয়াল ফান্ডে জমা দেন। এতে এককালীন বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিবর্তে নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে বাজারে অংশ নেওয়া যায়। অ্যামফির প্রধান নির্বাহী ভেঙ্কট চালাসানি বলেছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের উচ্চ সুদহার সত্ত্বেও দেশীয় বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে অর্থ বিনিয়োগ করছেন। বিশেষ করে এসআইপির মাধ্যমে বিনিয়োগে স্থিতিশীল প্রবাহ খুচরা বিনিয়োগকারী ও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন। নিফটি ৫০ সূচকে বড় পতন দেশীয় বিনিয়োগের প্রবাহ ইতিবাচক থাকলেও ভারতের শেয়ারবাজারে চাপ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির প্রধান শেয়ারসূচক নিফটি ৫০ কমেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৬ সালের শুরু থেকে সূচকটির পতনের পরিমাণ প্রায় ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বাজারের সব অংশে একই ধরনের দরপতন দেখা যায়নি। চলতি বছরে স্মল-ক্যাপ সূচক ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, মিড-ক্যাপ সূচক কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা নিফটি ৫০-এর পতনের তুলনায় অনেক কম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অর্থপ্রবাহ বাজারের পতন পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলেও দরপতনের চাপ সামলাতে সহায়তা করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসআইপির মাধ্যমে বিনিয়োগের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ভারতের বিনিয়োগব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে ফিরলে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সমর্থন বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বা ‘বুল রান’ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্বর্ণ ও রুপার ফান্ডেও বাড়ছে আগ্রহ শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতুভিত্তিক ফান্ডের প্রতিও আগ্রহ বাড়িয়েছেন। সেপ্টেম্বরে গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগ আগের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪৫১ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে সিলভার ইটিএফে বিনিয়োগ এসেছে ১ হাজার ৯৭৪ কোটি রুপি। সাধারণত বাজারে অস্থিরতা বাড়লে কিছু বিনিয়োগকারী ঝুঁকি সামলাতে স্বর্ণ ও রুপার মতো সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ান। মূল্যবান ধাতুভিত্তিক ফান্ডে অর্থপ্রবাহের এই বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের বিকল্প সম্পদের প্রতি আগ্রহেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং শেয়ারসূচকের পতনের মধ্যেও ভারতের মিউচুয়াল ফান্ডে দেশীয় বিনিয়োগের প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে। বিশেষ করে নিয়মিত কিস্তিভিত্তিক বিনিয়োগের বিস্তার দেশটির পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা বাড়াচ্ছে। তবে এই প্রবণতা ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা কতটা নিশ্চিত করতে পারবে, তা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক সুদের হার, জ্বালানির দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আচরণের ওপর। সূত্র: রয়টার্স

শেয়ারবাজারে ধস, তবু ভারতে মিউচুয়াল ফান্ডে রেকর্ড বিনিয়োগ

ফটক টপকে যন্তর মন্তরে গিয়ে আবার আটক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে আজ মঙ্গলবার সকালে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তালাবদ্ধ ফটক টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করার পর তাঁদের আটক করা হয়। আশুতোষ রাঙ্কা এ নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি, সৌরভ ও অজিঙ্ক শিন্ডে যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তাঁরা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন ও আটক করেন। ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কাউকে বিক্ষোভ সমাবেশ বা ধরনায় বসতে দেওয়া হবে না। গত রোববার দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্য অন্য তিনটি জায়গা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো, পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারির মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ‘সিবিডি’ ময়দান। এ নির্দেশিকা জারি করে দিল্লি পুলিশ বলেছে, এবার থেকে বিক্ষোভ দেখাতে হলে এ তিনটি জায়গার কোনো একটি বেছে নিতে হবে। অর্থাৎ সেন্ট্রাল বা মধ্য দিল্লির কোথাও আর বিক্ষোভের অনুমতি থাকল না।

ফটক টপকে যন্তর মন্তরে গিয়ে আবার আটক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা

সুবর্ণরেখার তীরে তুলিন, পাহাড়-অরণ্যের হাতছানিতে ঘুরে আসুন জাজাহাতু

পূজার ছুটিতে হাতে কয়েক দিন সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন ভারতের পুরুলিয়ার তুলিন ও জাজাহাতু থেকে। সুবর্ণরেখা নদী, ছোট ছোট পাহাড়, ঘন অরণ্য আর নির্জন প্রকৃতির রূপে এই দুই জায়গা হতে পারে শহরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতির আদর্শ ঠিকানা। পুরুলিয়া বলতেই অনেকের মনে পড়ে অযোধ্যা পাহাড় কিংবা গড়পঞ্চকোটের কথা। তবে ঝালদা মহকুমার তুলিনও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কোনও অংশে কম নয়। সুবর্ণরেখা নদীর তীরে অবস্থিত এই গ্রামটির ওপারেই ঝাড়খণ্ডের মুড়ি শহর। নদীর পাড়ে সময় কাটানো, সবুজের মাঝে ঘুরে বেড়ানো কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী। কলকাতা থেকে সড়কপথে তুলিনের দূরত্ব প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার। গাড়িতে যেতে সময় লাগতে পারে সাড়ে আট থেকে ৯ ঘণ্টা। পথে বর্ধমান, দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ, রঘুনাথপুর ও ঝালদা পেরিয়ে পৌঁছোনো যায়। মুড়ি রেলস্টেশন থেকেও তুলিনের দূরত্ব খুব বেশি নয়। তুলিনে গিয়ে ঘুরে নিতে পারেন বানসা পাহাড়। পাহাড়ের উপরে উঠলে দূরদূরান্তের দৃশ্য চোখে পড়ে। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরের মুরুগুমা জলাধার। পাহাড় ও অরণ্যে ঘেরা এই জলাধারের দৃশ্য মন ভরিয়ে দেয়। যাওয়ার পথে স্থানীয়দের পরিচিত লক্ষ্মীপুর জলপ্রপাতও দেখে নিতে পারেন। তুলিন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে জাজাহাতু। ছোট-বড় পাহাড়ে ঘেরা এই জায়গার সৌন্দর্য শরৎকালেও মন কাড়ে। রাস্তার দু’পাশের ঘন অরণ্য আর পাহাড়ি পরিবেশে সময় কাটানোর পাশাপাশি কোনও উঁচু জায়গায় উঠে চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখান থেকে ঘুরে নেওয়া সম্ভব নোরাহরা জলাধার, লায়েক বাঁধ ও পাঁড়রি বাঁধও। তুলিনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাংলো এবং সাধারণ অতিথিনিবাস। জাজাহাতুতে বেসরকারি পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্রেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে মুরুগুমা জলাধারের আশপাশেও থাকার জায়গা বেছে নিতে পারেন। পাহাড়, নদী ও অরণ্যের সান্নিধ্যে কয়েক দিন কাটাতে চাইলে তুলিন ও জাজাহাতু চলে যেতে পারেন। তবে রওনা হওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটনস্থলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিন।

সুবর্ণরেখার তীরে তুলিন, পাহাড়-অরণ্যের হাতছানিতে ঘুরে আসুন জাজাহাতু
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream