জার্মানি থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটে ‘হাইজ্যাক অ্যালার্ট’, জয়পুরে জরুরি অবতরণ
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ভারতগামী একটি ফ্লাইটে আকস্মিক ‘হাইজ্যাক অ্যালার্ট’-এর (উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের সংকেত) পর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের ফ্লাইটটি দিল্লিতে অবতরণের কথা থাকলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় সেটিকে রাজস্থানের জয়পুরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। পরে দীর্ঘ তল্লাশি ও সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে আজ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইটটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছায়।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজটিতে ২৯৩ জন যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক কোড ৭৫০০ (যা মূলত বিমান ছিনতাই বা অবৈধ নিয়ন্ত্রণের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়) ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে পাঠানো হলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পায়। এর পরপরই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রটোকলে উড়োজাহাজটিকে জয়পুর বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে সম্পূর্ণ আলাদা একটি (আইসোলেশন) বে-তে রাখা হয়।
জয়পুর বিমানবন্দরে নামার পর প্রায় ২ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। পরবর্তীতে ভারতের বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড, সিআইএসএফ, স্থানীয় পুলিশ ও অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এসে সম্পূর্ণ বিমান ও যাত্রীদের পাসপোর্ট এবং মালামাল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্ক্যান করে।
উড়োজাহাজের যাত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক গুরজিৎ সিং খালসা জানান, প্রথমে তাদের নিরাপত্তা পরীক্ষার কথা বলা হয়। তিনি বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমাদের নামানো হয়। ওই সময় বিমানবন্দরে আমরা অনেক নিরাপত্তা সদস্য দেখতে পাই। তাঁরা নাম ধরে ধরে কিছু যাত্রীর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে।
২৫ বছর বয়সী মেডিকেল শিক্ষার্থী জেনিস তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে ছুটি কাটাতে দিল্লি যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, বিমানটি যখন নিচে নামছিল, তখন ক্রুরা যাত্রীদের যাত্রাপথ পরিবর্তনের (ডাইভারশন) বিষয়টি জানান।
জেনিস দ্য হিন্দুকে বলেন, ‘নিচে নামার সময় ক্রুরা জানান, নিরাপত্তার কারণে উড়োজাহাজটিকে জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবতরণের পর বাইরে বেরিয়ে আমরা ফায়ার সার্ভিসের অনেক কর্মীকে দেখতে পাই। তাদের দেখে ভেবেছিলাম, হয়তো ইঞ্জিনে কোনো গোলযোগ হয়েছে। এরপর অন্য ধরনের ইউনিফর্ম পরা লোকজনকে দেখে মনে হলো, আসলে হয়তো কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল।’
জেনিস জানান, পরে তাঁর সঙ্গীর মা তাঁদের বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার খবর সংক্রান্ত একটি ক্লিপ পাঠান। বিষয়টি তাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘তিনি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে আমরা তাঁকে জানাই, আমরা নিরাপদে আছি।’
কারিগরি ত্রুটি নাকি ভুল
প্রাথমিক তদন্ত ও রাজস্থান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৈমানিকের ভুল বা কারিগরি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই ট্রান্সপন্ডার কোডটি গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
এয়ার ইন্ডিয়া যাত্রীদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।