ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
জার্মানি থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটে ‘হাইজ্যাক অ্যালার্ট’, জয়পুরে জরুরি অবতরণ

জার্মানি থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটে ‘হাইজ্যাক অ্যালার্ট’, জয়পুরে জরুরি অবতরণ

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ভারতগামী একটি ফ্লাইটে আকস্মিক ‘হাইজ্যাক অ্যালার্ট’-এর (উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের সংকেত) পর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের ফ্লাইটটি দিল্লিতে অবতরণের কথা থাকলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় সেটিকে রাজস্থানের জয়পুরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। পরে দীর্ঘ তল্লাশি ও সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে আজ বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইটটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছায়। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজটিতে ২৯৩ জন যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক কোড ৭৫০০ (যা মূলত বিমান ছিনতাই বা অবৈধ নিয়ন্ত্রণের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়) ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে পাঠানো হলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পায়। এর পরপরই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রটোকলে উড়োজাহাজটিকে জয়পুর বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে সম্পূর্ণ আলাদা একটি (আইসোলেশন) বে-তে রাখা হয়। জয়পুর বিমানবন্দরে নামার পর প্রায় ২ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। পরবর্তীতে ভারতের বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড, সিআইএসএফ, স্থানীয় পুলিশ ও অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এসে সম্পূর্ণ বিমান ও যাত্রীদের পাসপোর্ট এবং মালামাল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্ক্যান করে। উড়োজাহাজের যাত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক গুরজিৎ সিং খালসা জানান, প্রথমে তাদের নিরাপত্তা পরীক্ষার কথা বলা হয়। তিনি বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমাদের নামানো হয়। ওই সময় বিমানবন্দরে আমরা অনেক নিরাপত্তা সদস্য দেখতে পাই। তাঁরা নাম ধরে ধরে কিছু যাত্রীর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে। ২৫ বছর বয়সী মেডিকেল শিক্ষার্থী জেনিস তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে ছুটি কাটাতে দিল্লি যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, বিমানটি যখন নিচে নামছিল, তখন ক্রুরা যাত্রীদের যাত্রাপথ পরিবর্তনের (ডাইভারশন) বিষয়টি জানান। জেনিস দ্য হিন্দুকে বলেন, ‘নিচে নামার সময় ক্রুরা জানান, নিরাপত্তার কারণে উড়োজাহাজটিকে জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবতরণের পর বাইরে বেরিয়ে আমরা ফায়ার সার্ভিসের অনেক কর্মীকে দেখতে পাই। তাদের দেখে ভেবেছিলাম, হয়তো ইঞ্জিনে কোনো গোলযোগ হয়েছে। এরপর অন্য ধরনের ইউনিফর্ম পরা লোকজনকে দেখে মনে হলো, আসলে হয়তো কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল।’ জেনিস জানান, পরে তাঁর সঙ্গীর মা তাঁদের বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার খবর সংক্রান্ত একটি ক্লিপ পাঠান। বিষয়টি তাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘তিনি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে আমরা তাঁকে জানাই, আমরা নিরাপদে আছি।’ কারিগরি ত্রুটি নাকি ভুল প্রাথমিক তদন্ত ও রাজস্থান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৈমানিকের ভুল বা কারিগরি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই ট্রান্সপন্ডার কোডটি গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া যাত্রীদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েলের কথায় সৌদি আরবসহ ৩১ মুসলিম দেশের নাগরিকদের নিয়োগ বন্ধ করেছে এয়ার ফ্রান্স

সৌদি আরবসহ ৩১টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকদের ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটে ক্রু হিসেবে নিয়োগ সীমিত করছে এয়ার ফ্রান্স। ইসরায়েলের নতুন বিধিনিষেধ মেনে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনসটি। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই নীতির কারণে ফরাসি বিমান সংস্থাটি বৈষম্যের অভিযোগে মামলার মুখে পড়তে পারে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও ফরাসি অনুসন্ধানী প্রকাশনা মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও নাইজারসহ ৩১টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি আর নেই। এয়ার ফ্রান্স আল জাজিরাকে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এয়ার ফ্রান্স অন্য সব বিমান সংস্থার মতো যেসব দেশে সেবা দেয়, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশবিধি গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে মেনে চলতে বাধ্য।’ ইসরায়েলের এন১২ সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ১ অক্টোবর বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে জানায়, ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা চলবে না, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমিরাত ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজ ছিনতাই করে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে এক ওমানি সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে। ওই পাইলটের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজটির ভারতীয় পাইলটকে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এয়ার ফ্রান্স বলেছে, ‘তেল আবিবগামী ফ্লাইটের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের চালু করা নতুন বিধিবিধান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানানো হয়েছে।’ ইসরায়েলের এই নির্দেশনায় দেশটিতে যাতায়াতকারী বা দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী কয়েক ডজন বিমান সংস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনাকারী ১৫টি বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে আল জাজিরা জানতে চেয়েছিল, তারা নির্দেশনাটি পেয়েছে কি না এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্মী নিয়োগে পরিবর্তন এনেছে কি না। চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম বিমান সংস্থা স্মার্টউইংস জানিয়েছে, তারা নতুন নির্দেশনা পেয়েছে। বর্তমানে তাদের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েনি, তবে বিধিনিষেধ মেনে চলবে তারা। স্মার্টউইংসের মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনাটি পেয়েছি। আমরা এটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা প্রযোজ্য সব শর্ত পর্যবেক্ষণ ও মেনে চলছি। বর্তমানে এই নির্দেশনা আমাদের কার্যক্রম, ক্রু ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা ইসরায়েল থেকে ও ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে ক্রু মোতায়েনে কোনো প্রভাব ফেলেনি।’ মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনস শুধু বলেছে, এ বিষয়ে তাদের জানানোর কিছু নেই। মিডিয়াপার্টের দেখা এয়ার ফ্রান্সের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে সতর্ক করা হয়, ‘এই নির্দেশনা না মানলে এয়ার ফ্রান্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মী সম্ভাব্য শাস্তির মুখে পড়বেন।’ এদিকে প্যারিসভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গানদিন বলেন, এ বিধিনিষেধ ফরাসি শ্রম আইনের সঙ্গে এয়ার ফ্রান্সের সংঘাত তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, বিদেশি সরকারের নিরাপত্তা শর্ত মানতে গিয়ে কর্মীদের প্রতি আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা যায় কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। ক্লারা গানদিন আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই পদক্ষেপটি একটি সামষ্টিক অনুমানের ওপর দাঁড়ানো, যা বৈষম্যমূলক পক্ষপাতের শামিল। এই ৩১ দেশের প্রতিটি নাগরিককে, যাদের বেশির ভাগ আরব বা মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’ এয়ার ফ্রান্সের এ নির্দেশনা গ্রহণকে সরাসরি ‘বৈষম্যমূলক হয়রানি’ বলে মন্তব্য করেন ক্লারা গানদিন।

ইসরায়েলের কথায় সৌদি আরবসহ ৩১ মুসলিম দেশের নাগরিকদের নিয়োগ বন্ধ করেছে এয়ার ফ্রান্স

বিমানে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া যায়? যাত্রীদের যে নিয়মগুলো জানা জরুরি

ভ্রমণে বের হলে মুঠোফোনের চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা এড়াতে অনেকেই সঙ্গে রাখেন পাওয়ার ব্যাংক। দীর্ঘ যাত্রা, বিমানবন্দরে অপেক্ষা কিংবা ফ্লাইট দেরি হলে এই ছোট যন্ত্রটি বেশ কাজে আসে। কিন্তু বিমানে ওঠার সময় পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নেওয়া, সেটি কোথায় রাখা যাবে এবং উড়োজাহাজে বসে তা দিয়ে মুঠোফোনে চার্জ দেওয়া যাবে কি না এসব বিষয়ে অনেক যাত্রীরই স্পষ্ট ধারণা নেই। অথচ নিরাপত্তার স্বার্থে পাওয়ার ব্যাংক বহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নিয়ম। পাওয়ার ব্যাংকে থাকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, যা অল্প জায়গায় প্রচুর শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। বিমানে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার কতটা নিরাপদ? পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে দ্রুত তাপ ছড়াতে শুরু করলে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্যাটারির এই বিপজ্জনক অবস্থাকে বলা হয় ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বিমান সংস্থাগুলো পাওয়ার ব্যাংক বহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করে। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের কেএলএম রয়্যাল ডাচ এয়ারলাইনসের আমস্টারডাম থেকে কুরাসাওগামী একটি উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা এ বিষয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে। ডাচ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজনেস শ্রেণির কেবিনে এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাংক চার্জে থাকা অবস্থায় আগুন ধরে যায়। পরে উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন সেটিকে বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, ছোট একটি যন্ত্র থেকেও উড়োজাহাজে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উড়োজাহাজে বসে পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে চার্জ দেওয়া যাবে? পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি থাকলেও সেটি ব্যবহার করে মুঠোফোন বা অন্য কোনও যন্ত্রে চার্জ দেওয়ার অনুমতি সব বিমান সংস্থায় নেই। নিরাপত্তার কারণে অনেক সংস্থা উড়োজাহাজে থাকা অবস্থায় পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার নির্দেশনায় উড়োজাহাজ চলাচলের সময়, উড্ডয়ন ও অবতরণের পর্যায়ে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করে অন্য যন্ত্রে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। আবার কিছু বিমান সংস্থা আসনের পাশে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়ার অনুমতিও দেয় না। যেমন, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের নিয়ম অনুযায়ী, আসনের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের জন্য, পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়ার জন্য নয়। তাই বিমানে ওঠার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। অন্য যাত্রীর কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংস্থার নিজস্ব নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ। কোথায় রাখবেন পাওয়ার ব্যাংক? বিমানে ভ্রমণের সময় পাওয়ার ব্যাংক কখনোই চেক-ইন করা লাগেজে রাখা উচিত নয়। এটি হাতব্যাগে রাখতে হবে, যাতে প্রয়োজনে সহজেই নাগালে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত ব্যাটারি থাকলে সেগুলোও নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যেন ধাতব বস্তু বা অন্য কোনও সংযোগের কারণে শর্টসার্কিট না ঘটে। পাওয়ার ব্যাংক এমন জায়গায় রাখুন, যেখান থেকে সহজে বের করা যায় এবং ব্যাটারির তাপমাত্রা বা অবস্থার পরিবর্তন নজরে রাখা সম্ভব। এটি ক্ষতিগ্রস্ত, ফুলে যাওয়া বা অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার করবেন না। এমন অবস্থায় বিমানকর্মীদের দ্রুত জানানো উচিত। কতটি পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নেওয়া যাবে? পাওয়ার ব্যাংকের সংখ্যা ও ধারণক্ষমতার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। অনেক বিমান সংস্থায় একজন যাত্রী সর্বোচ্চ দুটি পাওয়ার ব্যাংক বহন করতে পারেন, তবে অনুমোদিত সংখ্যা ও ধারণক্ষমতার সীমা সংস্থাভেদে আলাদা হতে পারে। কিছু সংস্থা ১০০ ওয়াট-আওয়ার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক বহনের অনুমতি দেয়, আবার বেশি ধারণক্ষমতার ক্ষেত্রে আলাদা অনুমতি বা আরও কঠোর বিধিনিষেধ থাকতে পারে। পাওয়ার ব্যাংকের গায়ে সাধারণত এর ধারণক্ষমতা লেখা থাকে। শুধু মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের হিসাব দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনে নির্মাতার দেওয়া তথ্য থেকে ওয়াট-আওয়ারের পরিমাণ যাচাই করুন। ধারণক্ষমতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যা মনে রাখবেন পাওয়ার ব্যাংক নিরাপদে হাতব্যাগে রাখুন, এর গায়ে উল্লেখ করা ধারণক্ষমতা যাচাই করুন এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন। উড়োজাহাজে ওঠার পর পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার বা চার্জ দেওয়ার বিষয়ে বিমানকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনও ব্যাটারি অস্বাভাবিক গরম হয়ে গেলে, ধোঁয়া বের হলে বা পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে নিজে সেটি খোলার বা নাড়াচাড়া করার চেষ্টা না করে সঙ্গে সঙ্গে বিমানকর্মীদের জানান। ভ্রমণের সময় মুঠোফোন সচল রাখতে পাওয়ার ব্যাংক নিঃসন্দেহে উপকারী। তবে আকাশপথে নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে। তাই যাত্রার আগে নিয়ম জেনে নেওয়া এবং উড়োজাহাজে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারে সতর্ক থাকাই হতে পারে নির্বিঘ্ন ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।

বিমানে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া যায়? যাত্রীদের যে নিয়মগুলো জানা জরুরি

রিয়াদে বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ, যাত্রীদের সরিয়ে নিল কর্তৃপক্ষ

সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কিছু অংশ থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের দিকে এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যেতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদারের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। চলতি সপ্তাহে এর আগে দুই দফা হামলার শিকার হয়েছে বিমানবন্দরটি। এসব হামলায় চারজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন। একটি বিমানও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আজ শনিবারের বিস্ফোরণের বিষয়ে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দরের আকাশে শুধু একটি হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সরাসরি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে বলেছে। এদিকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজ তাদের নিজ নিজ হাব থেকে রিয়াদগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। কিছু ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত সোমবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এবং এর আগে চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলার পর সৌদি রাজধানীতে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস ইতিমধ্যে তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে। এ ঘটনার কারণে রিয়াদে অনুষ্ঠেয় বড় জ্বালানি ও বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব সম্মেলনের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। এর আগে হুতিরা সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার জন্য বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে। সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকার চলতি মাসের শুরুতে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর সংগঠনটি সৌদি আকাশসীমাকে ‘সামরিক অভিযানের এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

রিয়াদে বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ, যাত্রীদের সরিয়ে নিল কর্তৃপক্ষ

সবাই পুরুষ জেনেও উড়োজাহাজে সিজেপি নেতাদের ধরতে কেন নারী পুলিশ পাঠানো হলো

ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ শনিবার এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট অবতরণের পরপরই ভেতরে ঢুকে দলের শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে এই বিশেষ অভিযানে পুলিশের একটি বড় নারী দলকে উড়োজাহাজে পাঠায় স্থানীয় প্রশাসন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে আসছিলেন সিজেপি নেতারা। তবে কর্মসূচিটির কোনো অনুমতি না থাকলেও তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় শহরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে মোদি সরকার। পুলিশ সদস্যরা বিমানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই উইন্ডো সিটে বসে থাকা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। তাঁর পাশে মাঝের আসনে বসেছিলেন সৌরভ দাস এবং অন্য পাশে আশুতোষ রাঙ্কা। পুলিশ দেখেই তাঁরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অন্তত এক ডজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের ঘিরে রেখেছেন। বিমানেই এভাবে কেন আটক করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। বিমান থেকে সরাসরি আমাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছে পুলিশ। ইন্দিরা গান্ধীর আমলেও এমন ঘটনা ঘটেনি। এটা স্রেফ একনায়কতন্ত্র।’ তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘আমি এখানে গ্রেপ্তার হতেই এসেছি, আমাকে গ্রেপ্তার করুন।’ এ সময় নারী পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সংযতভাবে দীপকে ও তাঁর সঙ্গীদের শান্ত থাকার এবং সহযোগিতার অনুরোধ জানান। পরে তাঁদের আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। উড়োজাহাজের ভেতরে পুরুষ কর্মকর্তাদের বদলে নারী সদস্য পাঠানোর পদক্ষেপকে পুলিশের অত্যন্ত কৌশলগত একটি চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে ইন্ডিয়া টুডে। প্রথমত, সংকীর্ণ স্থানে সংঘর্ষ এড়ানো। বিমানের ভেতরের চলাচলের পথ বা আইল অত্যন্ত সংকীর্ণ। পুরুষ পুলিশ সদস্যরা গেলে হাতাহাতি বা সামান্য বাগ্‌বিতণ্ডাও দ্রুত বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারত। ধাক্কাধাক্কি বা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই নারী পুলিশ সদস্যদের সামনে রাখা হয়। দ্বিতীয়ত, জুলাইয়ের বিতর্কের নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটানো। গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর সিজেপির অভিযোগ ছিল—পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলনকারী তরুণী ও কিশোরীদের বেধড়ক মারধর করেছেন এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলেছেন। তৃতীয়ত, জেন-জিদের সহানুভূতি ঠেকানো। সিজেপির সমর্থকগোষ্ঠীর সিংহভাগই তরুণ ও জেন-জি প্রজন্মের। তাই পুরুষ পুলিশ দিয়ে তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগের নেতিবাচক ছবি ছড়াক, তা চায়নি প্রশাসন। নারী সদস্যদের দিয়ে অভিযান চালানোয় আন্দোলনকারীদের সেই প্রচারণার ধার অনেকটাই কমে গেছে। দিনের শুরুতে সিজেপির আইনি সেলের প্রধান রত্না সিং এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। রত্না সিং দাবি করেন, তিনি গাড়িতে ওঠার পরপরই পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি তাঁকে ঘিরে ফেলে। সব মিলিয়ে দিল্লিজুড়ে ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি মানুষকে প্রতিরোধমূলক হিসেবে আটক করা হয়েছে। এদিকে সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে গোটা দিল্লি রাতারাতি একটি সুরক্ষিত দুর্গে পরিণত হয়েছে। পুরো রাজধানীতে মেট্রো রেল ও ট্রেন চলাচলে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দিল্লির অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান গেট বন্ধ করা হয়েছে এবং নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যাতায়াত ব্যবস্থা ও ট্রেন বন্ধে সরকারের বিরুদ্ধে নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, সিজেপির এই বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে বেশ কয়েকজন দলীয় সংসদ সদস্যসহ আটক করা হয়। পুলিশের বাধার মুখে তিনি একটি বাস স্ট্যান্ডেই ধরনায় বসে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনসহ অন্য এমপিদের সঙ্গে তাঁকে একটি পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেন্ট্রাল সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৩ হাজারের বেশি সদস্য রাজধানী জুড়ে মোতায়েন রয়েছে। এর আগে সিজেপির জুলাই মাসের আন্দোলন কিংবা ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের চেয়েও এবার বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই আগাম আটকের কারণে এবার শহরে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি দিল্লি পুলিশের।

সবাই পুরুষ জেনেও উড়োজাহাজে সিজেপি নেতাদের ধরতে কেন নারী পুলিশ পাঠানো হলো
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream