ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ভারতীয় পাইলট, এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিমানের ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে।  টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে লিখেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন আহত পাইলট। পরে কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামিকে আটক করেন এবং বিমানটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল। ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে জানান, তিনি নামাজ পড়তে চান। এর চার-পাঁচ মিনিট পরই মাচ্ছারের মাথার পেছনে হঠাৎ প্রচণ্ড আঘাত আসে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ‘কুড়াল দিয়ে আঘাত করেছিলেন কো-পাইলট’ প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো বিমানে বড় কোনো বিস্ফোরণ বা যান্ত্রিক বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, হামামিই তাকে আক্রমণ করছেন। তখন তিনি ভাবেন, ‘আমি যদি এটা না করি, তাহলে আমি মারা যাব।’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, হামামি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে মাচ্ছারের ওপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ এর বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, আঘাতে মাচ্ছারের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে যায়। এর মধ্যেই তিনি অনুভব করেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামছে। প্রথমবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে হামামি তাকে বাধা দেন। ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান মাচ্ছার। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে তাকে নিজেকেই কিছু করতে হবে। শেষ শক্তি দিয়ে তিনি দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামামিকে সরিয়ে দেন। যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ককপিটে ঢুকে তিনি হামামিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেন। তিনি হামামিকে গলা ধরে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে বেঁধে ফেলেন। হামামিকে সরানোর পর হায়ুন দেখতে পান, বিমানটি মাটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি কন্ট্রোল ধরে বিমানটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে বিমানে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে সেদিন কী ঘটেছিল, জানাল আমিরাত এদিকে হামামির অতীত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় হামামিকে আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এই তথ্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না বলে জানা গেছে। ঘটনাটিকে ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন দেশটির কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা। হামামি এর আগে একই দুবাই-তেল আবিব রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে দেশটিতে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই নতুন করে খতিয়ে দেখছে।

ইয়েমেনে ফের বড় সংঘাত, হুতিদের লক্ষ্য করে ২০ দফা বিমান হামলা

ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির বিভিন্ন অবস্থান ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ২০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক মুখপাত্র শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তিন ঘণ্টার মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়। হুতিদের চলাচল, সদস্য, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জামকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সীমান্তপারের হামলা অনেকটাই কমে এসেছিল। সেই পরিস্থিতির পর সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনাকে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত তাইজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে গেলে দেশটির উত্তরাঞ্চলে তাদের কর্তৃত্ব আরও সুসংহত হতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। দক্ষিণাঞ্চল এবং ইয়েমেন সরকারের সদর দপ্তর থাকা বন্দরনগরী এডেনে যাতায়াতও তখন তুলনামূলক সহজ হতে পারে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলমান লড়াইয়ের ফলে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণের চিত্রও বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের নৌপথ এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, হুতিরা মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে সৌদি আরবের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবা। সংস্থাটির প্রতিবেদনে গোষ্ঠীটির এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, মক্কা নগরীতে হুতিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন এই দাবি করছে। এর আগে, দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছিল, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তবে মক্কা কিংবা অন্য কোনো ইসলামি পবিত্র স্থানে হামলার উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ তখন অস্বীকার করেছিল হুতিরা। রয়টার্স জানিয়েছে, তাইজের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বার্তা সংস্থাটিকে ছয়টি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তাইজে যাওয়ার সব সড়ক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এসব এলাকাকে সামরিক অভিযানের অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইয়েমেনে ফের বড় সংঘাত, হুতিদের লক্ষ্য করে ২০ দফা বিমান হামলা
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream