ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আবু কাউছার নামে এক যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মো. মাছুম মিয়া নামে আরও এক অটোরিকশাচালক। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাউছার নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সদস্য। তিনি ওই ওয়ার্ডের কাপ্তানবাজার এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কবির হোসেনের ছোট ভাই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর কাপ্তানবাজার এলাকার কাউছারের বন্ধু মো. শামীম এবং আদর্শ সদর উপজেলার নন্দিরবাজার এলাকার তানজিল ও তৌহিদের মধ্যে ছত্রখিল এলাকার একটি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। শুক্রবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে শামীম, তার বন্ধু কাউছার, হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব জানান, ‘হামলায় জড়িত তৌহিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিল। তারা স্থানীয়ভাবে জমির দালালি করেন। কেউ জমি বিক্রি করতে গেলে তারা চাঁদাবাজি করেন। এ নির্মম ঘটনায় আমরা শুধু একজন যুবদল নেতাকে হারালাম না, আমরা একটি নেতৃত্বকে হারিয়েছি।’ নিহত কাউছারের বন্ধু হেলাল উদ্দিন জানান, ওই জমি নিয়ে চলমান বিরোধ মীমাংসার জন্য আমাদেরকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়েছিল। আমরা শান্তির লক্ষ্যে সরল বিশ্বাসে সেখানে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তৌহিদের নেতৃত্বে তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কাউছারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক মো. মাছুম মিয়াকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, বিকেলে মরদেহ দেখতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত নিবেদিত পরিবার। জমি নিয়ে বিরোধে নিষ্ঠুরভাবে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

গোপনে শিবির, প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ করে বারুদ বজ্র কণ্ঠ অর্জন করা যায় না: রাশেদ খাঁন

গোপনে শিবির ও প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতার মতো তেজস্বী কণ্ঠ অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, বিরোধী রাজনীতির বক্তব্যে তেজস্বী ভাব থাকতে হয়। জামায়াত-শিবির ও এনসিপি মিলিয়েও এমন কোনো নেতা নেই, যার বক্তব্য জনতার মধ্যে শিহরণ ও উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, জেল-জুলুম ও ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একজন নেতার কণ্ঠে এমন দৃঢ়তা তৈরি হয়। গোপনে শিবির এবং প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতি করে সেই ‘বারুদ বজ্র কণ্ঠ’ অর্জন করা যায় না। একই পোস্টে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, বিরোধী রাজনীতিতে নুরের কণ্ঠে যে তেজ ছিল, সরকারে যাওয়ার পর তা অনেকটাই নমনীয় হয়ে পড়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার জামায়াত ও এনসিপির কথিত ভণ্ডামির বিরুদ্ধে আবারও সেই তেজস্বী নুরকে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ভিপি নুরকে ক্ষেপানোর পরিণতি জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে ভোগ করতে হবে। নুরের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা হিসেবে তাকে কাছ থেকে চেনেন উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘ভিপি নুর মানেই একটা বারুদ।’    

গোপনে শিবির, প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ করে বারুদ বজ্র কণ্ঠ অর্জন করা যায় না: রাশেদ খাঁন

সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

সাবেক উপমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, পাঁচবারের সাবেক এমপি, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মরহুম আব্দুল হাই ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং জনগণের সঙ্গে দলের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে মরহুম আব্দুল হাইয়ের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিএনপির রাজনীতিতে আব্দুল হাইয়ের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশে স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার দৃঢ় অবস্থান ও রাজনৈতিক অবদান বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তারেক রহমান বলেন, আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাকে হারাল। তার মৃত্যু দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। বুধবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল হাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। বিডি প্রতিদিন/কেএ

সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বিএনপির কর্মীরা বিষয়গুলো ভেবে দেখবেন কি 

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী কর্মী-সংগঠক বন্ধুদের অভিনন্দন। সরকারের সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে আপনারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। আগেও আপনাদের দল অন্তত চারবার নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৫০ ভাগ এবং দুই শতাধিক সংসদীয় আসন পেয়েছে। দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এখন আপনাদের সঠিক ভাবনা ও পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। নাগরিক হিসেবে স্বস্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আপনাদের মুখাপেক্ষী হওয়ার বিকল্প নেই। এই চিঠি তার বিনীত ব্যক্তিগত প্রকাশ। নির্বাচনে যাঁদের ভোট পেয়েছেন এবং যাঁদের পাননি—সবার অভিভাবক আপনারা। দল যার যার হলেও—সরকার সবার। অন্তত হওয়ার কথা। হওয়া প্রয়োজন। পণ্ডিতেরা না চাইলেও এ দেশে সরকার ও দল একাকার হয়ে যায়—সুতরাং আপনারাই নাগরিকদের একমাত্র পোস্ট অফিস। উপরন্তু এ দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা ও তার অনুশীলন এমন, কোনো দলের ১৫০-এর বেশি আসন পাওয়া মানে বিরোধী দল কাগুজে বাঘে পরিণত হওয়া। তখন সরকার যা চায়, যেভাবে চায় সংসদে সেভাবে ‘হ্যাঁ’-‘না’ জয়যুক্ত হয়। ইতিহাস বলছে, এর পরিণতি সুখকর নয়। অতীতে যখন এ দেশ বিরোধী দলশূন্য ছিল বা তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি—তখন সরকার বিপদে পড়েছে, দেশবাসীও মুশকিলে পড়েছে। পুরোনো শাসক দলের কর্মী-সংগঠক হিসেবে আপনাদের জানা, বাংলাদেশে প্রশাসনতন্ত্রের যা চরিত্র, তাতে এটা সত্যি যে তাঁরা মাঠের প্রকৃত বাস্তবতা জানানোর সাহস রাখেন না—হয়তোও চানও না। এ রকম অবস্থায় প্রান্ত থেকে হরেক বিষয়ে বিরোধী দলের চিৎকার-চেঁচামেচি সরকারের মেঠো বাস্তবতা জানা-বোঝার কাজ এগিয়ে দেয়। এভাবে গণতন্ত্রে বিরোধী দল সরকারের সুরক্ষার কাজ করে। আমাদের ‘ঐতিহ্য’ সে রকম নয়। বারবার যে এ দেশে সরকার অমর্যাদাকর ও সহিংস পথে বিদায় নেয়, তার কারণ সবল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের অভাব বা সেভাবে বিরোধীদের কাজ করতে না দেওয়া। আবার আমরা সেই ধরনের শঙ্কার মুখে পড়ছি কি না—আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখছি। এটা সত্য, ভোটে এককভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার রায় পেয়েছে বিএনপি। কিন্তু দলের নীতিনির্ধারকেরা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নিচ্ছেন কি না, সেটা মূল্যায়ন ও পুনর্ভাবনার দায়িত্ব আপনাদের। দলহীন নাগরিক সমাজের সেসব মূল্যায়ন শেষে সচিবালয় বা জাতীয় সংসদে পৌঁছানোর কার্যকর কোনো রাস্তা নেই। এ ক্ষেত্রে আপনাদেরই গঠনমূলক বিরোধী দলের হিম্মত দেখাতে হবে। এ দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত, পছন্দ, অপছন্দ—সবই ওপর থেকে আসে। ছোট একই গ্রুপ বা গোষ্ঠীই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জাতীয় সিদ্ধান্ত নেয়। এ রকমভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তে কোনো খারাপ ফল এলে অন্য সবার সঙ্গে বিপদে পড়েন শাসক দলের কর্মীরাও। ২০২৪-এ ক্ষমতাচ্যুত শাসকদের সব সিদ্ধান্তে নিশ্চয়ই তাদের মেঠো কর্মীদের মতামত রাখার সুযোগ ছিল না। কিন্তু নিদারুণভাবে সেই শাসন-সংস্কৃতির ভুক্তভোগী এখন তাঁরা। কবে তাঁদের এই ভোগান্তি কাটবে, কেউ জানে না। অথচ তাঁদের ‘নেতা’রা ইউরোপ-আমেরিকায় খারাপ নেই। এ থেকে পরবর্তীকালের জন্য শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে। আবার একই অবস্থা তৈরি হতে না দেওয়ার উপায় হলো শাসক দলের কর্মীদের প্রতিনিয়ত স্বাধীন মতামত তুলে ধরা। সরকারি কাজে ভুল হলে আগেভাগে নীতিকর্তাদের থামতে প্ররোচিত করা এবং পারলে থামানো। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে এমন এক বিপজ্জনক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়ে গেছে—শাসক দলের সিদ্ধান্তের জন্য কর্মীদের ভয়ংকরভাবে দায় মেটাতে হয়। সুতরাং দলের সবকিছুকে প্রশ্নহীনভাবে সমর্থন করে গেলে তা হবে আত্মঘাতী। নিশ্চয়ই আজ ও আগামী দিনের কোনো শাসক দলের কর্মীরা বিগত ক্ষমতাচ্যুত দলটির কর্মীদের মতো পালিয়ে বাঁচতে চাইবেন না। সে জন্য প্রয়োজন দলীয় নেতৃত্বকে জবাবদিহির চাপে রাখা। এটা নিজস্ব রাজনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থেও কর্তব্য হয়ে উঠেছে। ইতিহাস আমাদের সে রকম নতুন এক অধ্যায়ে নিয়ে এসেছে। কথাটা রূঢ় শোনাবে হয়তো, রাজনীতিবিদেরা রাজনীতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে ফেলেছেন। ফলে রাজনৈতিক কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এখন দলীয় ঊর্ধ্বতনদের কাজকর্ম নিয়ে স্বাধীন মূল্যায়ন থাকা ও প্রকাশ করা দরকার। আওয়ামী লীগ-উত্তর সময়ের বড় শিক্ষা হলো অন্ধ ‘সহমতে’র চেয়ে সৎ ভিন্নমত বেশি নিরাপত্তাদায়ী। বিএনপি সরাসরি ভোটে দুই শর বেশি আসন পেয়েছে। সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিপুল এমপি আপনাদের। কিন্তু সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্বে অনির্বাচিতরাও আছেন। বিদেশফেরত অনেকেও আছেন। এটা এ দেশে নতুন ঐতিহ্য নয়। যদি নীতিনির্ধারক কারও সমাজের সঙ্গে দীর্ঘকালের নিবিড় সম্পৃক্ততা না-ও থাকে, সেটা পুষিয়ে দিতে পারেন মাঠপর্যায়ের কর্মী-সংগঠক-সহযোগী আপনারা। তৃণমূলে সক্রিয় থাকার কারণে আপনারা জানেন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য কোন পদক্ষেপ আগে নেওয়া দরকার। বাংলাদেশের জন্য এ মুহূর্তে ডজন ডজন এয়ারবাস ও বোয়িং বিমান দরকার নাকি কৃষি, পোলট্রি, মৎস্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার—সেটা আপনাদেরই সবচেয়ে ভালো বোঝার কথা। এমপি-মন্ত্রীদের সেসব জানাতে পারেন আপনারা। এসব বিষয়ে নিজেদের কথা এখনই জেলা, উপজেলা কমিটির বৈঠকে জানান। নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সম্প্রতি বেশ নিম্নমুখী। খবরগুলো ছোট হলেও বৃহৎ বার্তা থাকে তাতে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্টে এ বছর বাংলাদেশ এক ধাক্কায় ৫৫ ধাপ পড়ে গেছে। নারীরা আমাদের জনসংখ্যার ৯-১০ কোটি। তাদের দুরবস্থা বাড়া মানে পুরো দেশের সমৃদ্ধি কমা। আপনাদের বহুল আলোচিত ‘৩১ দফা’র ২৩তম দফার সঙ্গে এই সংবাদ একদম মিলছে না। গেল সপ্তাহেই বিশ্বব্যাংক জানাল, দারিদ্র্যসীমার কাছে কোনোভাবে টিকে আছে ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ—যারা যেকোনো অর্থনৈতিক সমস্যায় নিচে পড়ে যেতে পারে। বাড়তি বিপদের কথা—চার বছর ধরে দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। বিশ্বব্যাংক সঙ্গে এ-ও বলছে, ২০২৬ সালে ২১ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়ে গেছেন। বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব প্রতিবেদন দেশের নীতিনির্ধারকেরা নিশ্চয়ই দেখছেন। বিরোধী দলের নেতারাও হয়তো দেখছেন। সংসদের আলাপ-আলোচনা-সিদ্ধান্তে তার ছাপ আছে কি? বিশ্বব্যাংক বলছে, বর্তমান দারিদ্র্য হার ও ভবিষ্যতের উদ্বেগজনক দারিদ্র্য-শঙ্কা কমাতে বাংলাদেশের দরকার বিপুল কর্মসংস্থান। কিন্তু সরকার গত আট মাসে খরচপাতির বড় খাতা খুলল মেট্রোরেল, রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের বেতন ও উড়োজাহাজ কেনায়। মাঠের চাহিদার সঙ্গে এসব বাস্তব অগ্রাধিকারের ঠিকঠাক মিলছে কি? শাসক দলের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের কর্মী হিসেবে আপনাদের কাছেই আমরা এসব জানতে চাইব! ৩ কোটি ৭৬ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন আপনাদের। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কর্মচারী কত, আর বেকার তরুণ-তরুণী, শ্রমিক-কৃষক কত—সেসব বিশ্লেষণ নিশ্চয়ই আপনারা করবেন। এ-ও আপনাদের সুচিন্তিত বিবেচনার জন্য পেশ করছি, রেল থেকে বন্দর—সব যদি বিদেশি ও বেসরকারি খাতে পরিচালনার জন্য দিতে হয়, তাহলে এত বৃহৎ মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর খরচপাতি কেন বইবে দেশবাসী। শুরুতে ছোট মন্ত্রিসভার কথা শোনা গেলেও ইতিমধ্যে সেটা ৫০ অতিক্রম করেছে। আছেন আরও অনেক উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী। নেপালে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেশে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ১৮-তে নামিয়ে ফেলেছিল। তাতে রাজস্ব খরচ কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাড়তি গতি এসেছে। এসব বিষয়ে না হোক, গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার আইন কিংবা সম্ভাব্য সাইবার আইন নিয়ে কি আপনারা আরেকবার ভাববেন না? এসব আইন ক্ষমতার পালাবদল হলেও থাকবে! যেভাবে আপনাদের অতীত সরকারের তৈরি র‍্যাব পরের আমলে থেকেছিল এবং তার পার্শ্বফল আপনারা ভালোভাবে টের পেয়েছেন। আমরা জানি, বুদ্ধিমানেরা অতীত থেকে শেখে আর জ্ঞানীরা অন্যের ভুল থেকে শেখে। আমাদের পেছনে ৫৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। সদ্য ক্ষমতাচ্যুতদের অতীতটুকুও আছে। আর রয়েছে শুভ ভবিষ্যতের ১৭ কোটি আশাবাদ। এ রকম সবকিছু সঁপে দেওয়া আছে আপনাদের হাতে। শুভকামনা। আলতাফ পারভেজ: গবেষক ও লেখক মতামত লেখকের নিজস্ব

বিএনপির কর্মীরা বিষয়গুলো ভেবে দেখবেন কি 

আসামি ছাড়াতে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে থানায় ‘মব' সৃষ্টির অভিযোগ ওসির

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় দুই আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে লোকজন নিয়ে থানার ফটকে অবস্থান ও হট্টগোলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের (রিপন) বিরুদ্ধে। আজ রোববার রুহিয়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, ৫০–৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে জহিরুল ইসলাম থানায় মব সৃষ্টি করেন। এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে জহিরুল ইসলাম বলেছেন, দলের নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তিনি স্থির থাকতে পারেননি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রুহিয়া উপজেলার কুজিশহর এলাকার বাসিন্দা নাজমিন আক্তারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রুহিয়া থানায় মামলা করেন নাজমিন আক্তার। মামলায় কুজিশহর (ঘুরণগাছ) এলাকার ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর রাত দুইটার দিকে পুলিশ বেলাল হোসেন (৩৫) ও মো. বদিউজ্জামানকে (৪০) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে তাঁদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানায় জড়ো হন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাঁরা থানার ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ দলটির কয়েকজন নেতা-কর্মীও সেখানে ছিলেন। থানার মূল ফটক বন্ধ থাকায় তাঁরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। বাইরে থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন নবী ফটকে আসেন। এ সময় জহিরুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে বলেন বলে জানান ওসি। জবাবে ওসি তাঁকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার থানায় যান। তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বড় ভাই রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে নাজমিন আক্তারের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিপনও জানেন। তিনি বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। রশিদুলের দাবি, মামলা হওয়ার আগেই পুলিশ তাঁর দুই ভাইকে টাকার বিনিময়ে গ্রেপ্তার করেছে। এ খবর জানার পর সকালে এলাকাবাসী থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেন। তবে মামলার আগে গ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে রুহিয়া থানার ওসি মিলাদুন নবী বলেন, একটি মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে ৫০–৬০ জনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম থানায় এসে মব সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন। পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। তিনি পুলিশের সঙ্গে থেকে আসামিদের আদালতে নিয়ে যান। অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন উপনির্বাচন চলছে। দুপুরে দলের প্রার্থী এলাকায় এসেছিলেন। আর সেই রাতেই দলের কর্মীদের নামে মামলা হলো। সেই মামলায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো। এটা আমি সহ্য করতে পারিনি।’ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, থানায় লোকজনের অবস্থানের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, লোকজন থানার ফটকে অবস্থান করছেন। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে থানার বাইরে যেতে আশঙ্কা করছিল। পরে তিনি লোকজনকে বুঝিয়ে পুলিশের সঙ্গে থেকে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে আদালতে নিয়ে যান। আসামিদের আদলেতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান ২৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করে সেই দিন পর্যন্ত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামি ছাড়াতে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে থানায় ‘মব' সৃষ্টির অভিযোগ ওসির

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক আজ

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির  দায়িত্বশীল নেতাদের তথ্যে জানা যায় সভায় দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।   জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠক ডেকেছেন। সাধারণত জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর এক বা দুই দিন আগে কিংবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়।  তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই এ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক আজ

ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খাঁন

জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শহীদ ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ‘ব্যবসায় নেমেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, জীবদ্দশায় ওসমান হাদীর সঙ্গে বিরোধ থাকলেও হত্যাকাণ্ডের পর তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরছে দল দুটি। শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি। স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসনে ওসমান হাদীর বিপরীতে এনসিপি রিকশাচালক সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের ওসমান হাদীকে ওই আসনে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জুবায়ের জানিয়েছিলেন, ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন। রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, ওসমান হাদী তখন বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদীর ভাই ওমর হাদীও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, জামায়াতের আমিরের পিএস জুবায়ের বর্তমানে দেশে আছেন কিনা। ওসমান হাদীর ভাইও তাকে সন্দেহ করে পোস্ট দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এনসিপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ওসমান হাদীর বিপরীতে সুজনকে প্রার্থী ঘোষণা এবং পরে তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী না রাখার ঘটনাকে তিনি হাদীকে অপমান করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার অভিযোগ, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের পর সুজনকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও এ ধারণাকে জোরালো করে। জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটি ওসমান হাদীকে নির্বাচন না করতে বা অন্য আসন থেকে নির্বাচন করতে চাপ দিয়েছিল। অথচ হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াত ও এনসিপি তাকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট ও জুলাইকে কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর প্রতি তাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী যখন জিয়াউর রহমানের চেয়ে হাদীর লড়াইকে বেশি শক্তিশালী বলেন, তখন জামায়াত-এনসিপি হাদীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে মনে হয় তার। বিএনপি নেতাকর্মীরা যেন এ ধরনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হাদীকে কটাক্ষ না করেন, সেই আহ্বান জানান তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, ওসমান হাদী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতিকে আদর্শ মেনেই সংগ্রাম করেছেন। তার দাবি, জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামকে ওসমান হাদী জীবদ্দশায় যেভাবে তুলে ধরেছিলেন, তা অতুলনীয়। তাই তাকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদীকে দাফন করা নিয়েও স্ট্যাটাসে কথা বলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরের একটি বক্তব্যের কারণে এ দাফন নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন মানুষের কবর দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, জীবদ্দশায় ওসমান হাদী যমুনা ঘেরাও কর্মসূচিতে বলেছিলেন, তার মৃত্যু হলে যেন বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামের বিপ্লবী চেতনা ওসমান হাদী ধারণ করতেন উল্লেখ করে তাকে জাতীয় কবির ‘যোগ্য শিষ্য’ বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ। স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াত ও এনসিপি নিজেদের স্বার্থে ওসমান হাদীকে যত কম টানাহেঁচড়া করবে, তিনি তত বেশি সার্বজনীন ও প্রাসঙ্গিক থাকবেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে ওসমান হাদীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নুর আক্রান্ত হলে হাদী বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। পরে হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নুরও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ওসমান হাদীকে বিতর্কিত করতে ব্যবসায় নেমেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খাঁন

স্থায়ী কমিটিকে নিয়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী, উপস্থিত রিজভী-সালাহউদ্দিনসহ শীর্ষ নেতারা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।  বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন- বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

স্থায়ী কমিটিকে নিয়ে বসলেন প্রধানমন্ত্রী, উপস্থিত রিজভী-সালাহউদ্দিনসহ শীর্ষ নেতারা

হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন তারেক রহমান, কী নিয়ে আলোচনা

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। এর মধ্যেই হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা হবে। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন। সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দু–এক দিন আগে বা অধিবেশনের মধে৵ সংসদীয় দলের সভা হয়; কিন্তু এবার সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ধারণা, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন, তিনি নিশ্চয়ই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দেবেন।’ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপির সংসদীয় দলের নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এই সভা ডাকার পেছনে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলোচনায় আসতে পারে। দলের সাংগঠনিক বিষয়েও দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনাটির পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংসদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে দলের অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ সামলানো, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই—সবই দলের জন্য চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা তৃণমূলের অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার পর সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। কমিটি পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।

হঠাৎ বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন তারেক রহমান, কী নিয়ে আলোচনা

চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের পর উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের একজন ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, প্রতিদিন একটি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ জন মিলে তাঁকে মারধর করেছে। পরে তাঁকে চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মুক্তি পেয়ে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। আজ শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইয়াকুব আলী। তিনি বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি। হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তিনি। ইয়াকুব আলী বলেন, গত ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর লেগুনার চালক গাড়িতে সমস্যার কথা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা প্রতি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে বলেন। এতে আপত্তি জানালে তাঁকেসহ নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামের আরও দুজন লেগুনার মালিককে মারধর করেন চাঁদা দাবিকারীরা। একপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরায় আগ্নেয়াস্ত্র বের করার দৃশ্য দেখা গেছে। নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ইয়াকুব আলী বলেন, মারধরের পর তাঁকেই চাঁদাবাজ সাজিয়ে দারুস সালাম থানা–পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু চাঁদাবাজির অভিযোগের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি হামলার ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও গ্রহণ করা হয়নি। পরে তিনি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মারধরের সময় ইয়াকুব আলীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। জামিনের পর থানায় অভিযোগ দিতে আসেন। তাঁর অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই বলে অভিযোগ নেওয়া হয়নি।’ পরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ইয়াকুব আলী। সেটা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান ওসি। লেগুনা মালিক–শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত একটি গোষ্ঠী মিরপুর–১ এলাকার পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের অভিযোগ, স্ট্যান্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে এবং চাঁদা দিতে মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। মাসে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, কানা পলাশ, রাসেল, শামীম, মজিবর রহমানসহ ৬০ থেকে ৭০ জন এই কাজের সঙ্গে জড়িত। নিজেকে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাইদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতা। তাঁদের মধ্যে সোলেমান দেওয়ান শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, মহব্বত আলী দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের বর্তমান সদস্যসচিব এবং মাভেল ভূঁইয়া শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। সাইদুর রহমানের অভিযোগ, লেগুনা স্ট্যান্ডের পাশাপাশি মিরপুর-১-এর কাঁচাবাজার, ফুটপাত, ভ্যানগাড়ি রাখার জায়গা এবং বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবসা থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সাইদুর রহমান আরও বলেন, ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডে অবস্থান করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁরা আক্রমণ করেন। এ কারণে সাধারণ মালিকেরা সেখানে যেতে পারছে না। তারা সরকার ও প্রশাসনের সহায়তা চান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোলেমান দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, মারধরের ঘটনায় তিনি জড়িত নন। রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। তিনি কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ বিষয়ে এস এ সিদ্দিক সাজু প্রথম আলোকে বলেন, লেগুনাশ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মারামারি সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তাঁরা কেউ সম্পৃক্ত নন বলেও জেনেছেন। তিনি যেহেতু রাজনীতি করেন, তাঁর অনুসারী থাকতেই পারে। তবে কেউ লেগুনা ব্যবসা বা ওই ঘটনায় জড়িত নন।

চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের পর উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ

সাইবার নিরাপত্তা আইনে সরকার হাসিনার পথেই হাঁটছে: হাসনাত কাইয়ূম

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের নতুন ব্যবস্থা বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নামে অতীতের নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামোই নতুনভাবে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই আইন করা হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পথেই হাঁটছে। তিনি আরও বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামো পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনী তার বিপরীত। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে ‘প্রস্তাবিত সাইবার আইন: জবান বন্ধের নয়া বন্দোবস্ত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম এ কথা বলেন। হাসনাত কাইয়ূম বলেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নামে ভিন্নমত দমনের যে ধারা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলে রাজনৈতিক স্বার্থে আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ে। বিএনপিকে গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে হাসনাত কাইয়ূম দলটিকে হাসিনার পথে না হাঁটার আহ্বান জানান। সরকার প্রস্তাবিত আইনের অবস্থান থেকে সরে না এলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। গোল টেবিলে গীতিকবি ও অ্যাক্টিভিস্ট শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, ‘এটা সাইবার সুরক্ষা আইন হচ্ছে না। এটা তারা সরকার সুরক্ষা আইন বানাচ্ছেন।’ ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার অভিযোগ করেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই ‘সাইবার পুলিশ’ করা হয়েছে। নাগরিকদের ওপর নিপীড়নের সুযোগ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব। গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, সরকার জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে দল-মত নির্বিশেষে আবারও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) স্থায়ী কমিটির সদস্য কে এম জাবির, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের সংগঠক বাকী বিল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বৈঠক সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।

সাইবার নিরাপত্তা আইনে সরকার হাসিনার পথেই হাঁটছে: হাসনাত কাইয়ূম

বিএন‌পি কার্যাল‌য়ে দুর্বৃত্তের আগুন, সকালে ছড়ালো উত্তেজনা

রাজবাড়ী জেলা বিএনপির দলীয় কার্যাল‌য়ে রা‌তের আঁধারে আগুন দি‌য়ে‌ছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পৌর শহরের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে জড়ো হন। এ সময় ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাতের কোনও একসময় দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের প্রবেশপথের কেঁচিগেটে আগুন ধরিয়ে দেয়। কার্যালয়ের ভেতরেও কেরোসিন ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন। আগুনে গেটের পাশাপাশি কার্যালয়ের কিছু ব্যানার ও লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, জেলা বিএনপির কার্যালয়টি পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের ছেলেরা ও কেয়ারটেকার রাত ১টা পর্যন্ত কার্যালয়ে ছিলেন। তারা চলে যাওয়ার পরই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পার্টি অফিসটি জ্বালিয়ে দেওয়া। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ব্যাপারে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম পিন্টু ও গাজী আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানান। জেলা বিএনপি কার্যালয়ের কেয়ারটেকার আতর আলী শেখ বলেন, আমি রাত ১টার দিকে কার্যালয়ের প্রতিটি তালা চেক করে বাড়িতে চলে যাই। তখন কাউকে দেখিনি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমার স্ত্রী এসে আমাকে জানান, কার্যালয়ের কেঁচিগেট পোড়া। এরপর আমি এসে ঘটনাটি দেখি এবং নেতাকর্মীদের খবর দিই। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে। যেই হোক না কেন, আমরা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনব। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগানোর কথা উঠে এসেছে। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

বিএন‌পি কার্যাল‌য়ে দুর্বৃত্তের আগুন, সকালে ছড়ালো উত্তেজনা

দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দেশের আর কোনো সরকার খাল খনন নিয়ে চিন্তা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন। আর কোনো সরকার এর প্রয়োজনীয়তা মনে করেনি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা (১ম অংশ) প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার অধীন বন্দরমনি ও বোয়ালমারী করতোয়া নদীর ১১৫০ মিটার নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনের পর এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দেশের বন্যা-ভূমিধস থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নদীপাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে নদীর পাড় রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা যদি এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করি, তাহলে বিরোধী দলের কোনো রাজনীতি থাকবে না। এজন্য তারা কথায় কথায় ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের উন্নয়নের যাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়। তিনি আরও বলেন, এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বারুণী স্নান ঘাট নির্মিত হচ্ছে। সেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

‘দলের নারী নেত্রীরা এমন হলে তাদের পুরুষ নেতাদের কী অবস্থা’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘রাড্ডা কাণ্ডের দায় শুধুমাত্র একজন নারী সংসদ সদস্যের ওপরে নয়, এর দায় প্রধানমন্ত্রীকে বহন করতে হবে। আপনাদের দলীয় ফোরামকে নিয়ন্ত্রণ করুন। গণভোটের গণ রায় কার্যকর করুন। তেল গ্যাস বিদ্যুৎসহ জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য জনগণের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা করুন। সিন্ডিকেট প্রথা বানচাল করুন। দলীয়করণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ব্যবস্থা করুন।’ শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ দিন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উদ্যোগে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মামুনুল হক বলেন, ‘মহিলা এমপি দখলদারি করেছে, সন্ত্রাসী করেছে। তার মহিলা এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে সরিয়ে দিয়ে দলকে শুদ্ধ করতে চায়।’ তারেক রহমানের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর বলতে চাই, এই ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য প্রধান দায়ী আপনি। বিরোধী দলের প্রত্যেকটি আসনে আপনার দলীয় মহিলা এমপিদের দায়িত্ব দিয়ে বিরোধী দলীয় এমপিদের অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র করেছেন। আর বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনে আপনার নারী এমপিরা সন্ত্রাসী করবে চাঁদাবাজি করবে ভাঙচুর করবে। যে দলের নারী নেত্রীদের এই অবস্থা হলে সে দলের পুরুষ চাঁদাবাজ দখলদারের কী অবস্থা।’ মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা রাজপথে নামতে ৬ মাস সময় নিয়েছি। আপনারা গণভোটের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে গাদ্দারি করতে ৬ মিনিট সময় বিলম্ব করেননি। সংসদ সদস্যের শপথ নিলেন; কারণ সংসদ সদস্যের শপথ নিলে সরকার গঠন করা যায় মন্ত্রী হওয়া যায়। চেয়ারের ভাগ-বাঁটোয়ারা, চাঁদাবাজি শুরু করে দিলেন।’ খেলাফত মজলিসের এ নেতা বলেন, ‘একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশজুড়ে দুটি ভোট হয়েছে। এক ভোটে আপনারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের নিশ্চিত আসনের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন; বাংলাদেশের মানুষ তা সাক্ষী। আমরা সংসদে গিয়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলবো- সে জন্য আমাদের নিশ্চিত বিজয় ছিনতাই করে নিয়েছেন। সব আমরা সহ্য করেছি।’ মামুনুল হক বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর নতুন চিন্তা করতেছেন। অনুরোধ করি বাঙালিরে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা কইরেন না; যদি বাঙালিরে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করেন- বাঙালি রাজপথ দেখিয়ে ছেড়ে দেবে। আপনারা শেখ হাসিনার মতো প্রতাপশালী জালিম স্বৈরাচারী হতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে তার বিদেশি প্রভুরা টিকিয়ে রাখতে পারে নাই।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল ও মাওলানা এনামুল হক মুসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা হোসাইন আহমদ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী, নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সহসভাপতি খন্দকার আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রাকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

‘দলের নারী নেত্রীরা এমন হলে তাদের পুরুষ নেতাদের কী অবস্থা’
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream