ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাধা কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাধা কোথায়?

কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন চললেও কৌশলগত অংশীদার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছেন। সফরে দুই দেশের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, রুবিও ভারতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে আগামী সপ্তাহে তার এ সফরে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি বাদ পড়ছে। পরিবর্তে তিনি ভারতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুম্বাই এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র জামনগর সফর করবেন। জামনগরে রয়েছে ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স। বিশেষজ্ঞদের মতে, সফরে আলোচনার আড়ালে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে থাকবে দুই দেশের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে না পারার বিষয়টি। আরও পড়ুনআরও পড়ুনমাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপ, জ্বালানি আমদানি নিয়ে মতবিরোধ এবং ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উষ্ণতর সম্পর্কসহ বেশ কয়েকটি কারণে আলোচকদের পক্ষে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রুবিও শনিবার ছয় দিনের বিদেশ সফর শুরু করবেন। প্রথমে তিনি উজবেকিস্তান যাবেন, এরপর ভারত সফর করবেন। দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির পথে প্রধান বাধা এবং সামনে কী সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে এএফপির প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। শুল্ক নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। এর আওতায় ওয়াশিংটন ভারতের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার এবং ভারত বিভিন্ন শিল্পপণ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর কথা ছিল। তবে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং স্বাক্ষরিতও হয়নি। এর একটি কারণ হলো, ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনা নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা। আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পাল্টা শুল্কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রস্তাবিত চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাণিজ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অজয় শ্রীবাস্তব এক নোটে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির কাঠামোতে ভারতের জন্য পাল্টা শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার বিনিময়ে ভারতকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হতো। কিন্তু ওই শুল্কব্যবস্থা আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের মূল্য কতটা, তা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনস্বর্ণ নিয়ে বিশ্ববাজারে দুঃসংবাদ এ ছাড়া ওয়াশিংটনের নতুন কিছু বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশে কথিত অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে প্রণীত একটি নতুন আইন রয়েছে। তবে শুক্রবার ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে ওই হুমকির মুখে থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর না করার নির্দেশ দেন। আলোচনায় অগ্রগতি থমকে গেছে চলতি বছরের বেশির ভাগ সময় দুই দেশের সরকারই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছে। জুনে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছিলেন, আলোচকেরা চুক্তির ‘শেষ এক শতাংশ’ নিয়ে কাজ করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে সতর্কতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গত সপ্তাহে বলেন, আলোচনা ‘একটি পর্যায়ে এসে থেমে গেছে’ এবং আরও ছাড় দেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও বলেছিলেন, চুক্তি নিয়ে ঘোষণা ‘অবিলম্বে’ আসছে না।

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু

অবশেষে ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত করা হলো চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যুক্তকারী বহুল প্রতীক্ষিত সড়ক সেতু ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে সেতুটি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) দীর্ঘ সেতুটি চালু হওয়ায় এটি দুই দেশের প্রধান স্থল বাণিজ্য রুটে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেতুটি প্রথম ২০১৪ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের সড়ক ও কাস্টমস অবকাঠামো নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এতে করে সেতুটির কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, ‘সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এক নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।’ সেতুটি মূলত ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপানি সাম্রাজ্যের সময়ে নির্মিত বহু পুরোনো ‘সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সীমান্ত বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গত বছর উত্তর কোরিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সেতু চালুর পরও সীমান্ত বাণিজ্যে আকস্মিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাউথ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটির চীনা বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বিবিসিকে জানান, বেইজিংয়ের পণ্য যেন নিজ দেশের বাজারে একচ্ছত্র প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়াও সতর্ক। তাই বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে গত এক দশকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াও তাদের প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছে। ফলে পিয়ংইয়ংকে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে ও নিজস্ব প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে গতি এনেছে। চলতি বছরের মার্চে বেইজিং-পিয়ংইয়ং ফ্লাইট ও যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালু করা হয় এবং গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফর করে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিফ-এরিক ইজলি বলেন, ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজের সূচনা এটিই প্রমাণ করে যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। জুন মাসে সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর কেবলই আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।’

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু

টিকে আছে তিন প্রজন্মের ব্যবসা

ছোট দোকান। জায়গার তুলনায় মাটির হাঁড়ি, পাতিল, ঢাকনা আর মটকা বেশি। সারিবদ্ধভাবে একটির পাশে আরেকটি সাজানো। পটিয়ার থানার হাটের পাশে এই দোকানে বসে আছেন মো. নাসির উদ্দিন। পরিবারের প্রায় এক শ বছরের ঐতিহ্যে ব্যবসার দায়িত্ব এখন তাঁর হাতে। দোকানের ঠিকানার গল্প বলতে গিয়ে নাসির ফিরে গেলেন পুরোনো থানার হাটে। একসময় পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বটগাছের নিচে বসত হাট। পাশেই ছিল তাঁদের দোকান। দাদা আবদুল হাকিম সেখানে নিজের হাতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বানাতেন, বিক্রিও করতেন। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসতেন তাঁর তৈরি জিনিস কিনতে। সময়ের সঙ্গে হাটের ঠিকানা বদলেছে। দোকানও এসেছে নতুন হাটের পাশে। দাদার পর ব্যবসার হাল ধরেন নাসিরের বাবা সগির আহমদ। ১৯৯৩ সালে আবদুল হাকিমের মৃত্যুর পর তিনি ব্যবসা চালিয়ে যান। ২০১৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেন নাসির। তিন প্রজন্মের ব্যবসা ধরে রেখেছেন নাসির, তবে কাজের ধরন আগের মতো নেই। দাদা নিজেই হাঁড়ি-পাতিল বানাতেন। নাসির এখন আর মাটি দিয়ে পাত্র তৈরি করেন না। গ্রামের কারিগরদের কাছ থেকে কিনে এনে দোকানে বিক্রি করেন। বললেন, মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। খরচ বাদে আয় ভালো থাকে। তাই যত দিন পারেন, এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান। নাসিরের বাড়ি পটিয়ার কেলিশহরের ফোরকানিয়া পাড়ায়। এলাকার পুরোনো নাম কুমারপাড়া। ৮ অক্টোবর সেখানে গিয়ে দেখলাম, তাঁর দোকানে সাজানো মাটির পাত্রগুলোর একটি অংশ তৈরি হয় এই গ্রামেই। গ্রামে ঢুকতেই দেখা হলো নোয়া মিয়ার সঙ্গে। বয়স ৭০ বছর। তিনি মাটি পোড়ানোর আয়োজন করছিলেন। পাশে ছিলেন স্ত্রী নেসা বেগম। নোয়া মিয়া কানে শুনতে পান না; নেসা বেগমই বললেন, কয়েক বছর আগেও মাটির হাঁড়ি-পাতিল বানিয়ে চাহিদা পূরণ করতে পারতেন না। এখন মেলামাইনের থালাবাসনের কারণে কাজ কমেছে। কোনো কোনো মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকার অর্ডার পান। খরচ বাদে হাতে থাকে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা। গ্রামের ভেতর হাঁটতে গিয়ে দেখা হলো পাখিজা বেগমের সঙ্গে। চার দশক ধরে মাটির পণ্য তৈরি করছেন তিনি। মাসে গড়ে আয় ১০ হাজার টাকা। তাঁর তৈরি পণ্যও যায় থানার হাটে। পাখিজার ভাষ্য, আগে গ্রামে শতাধিক ঘরে মাটির তৈজসপত্র তৈরি হতো। এখন এ কাজ করেন হাতে গোনা কয়েকজন। এই কারিগরদের কাছ থেকেই পণ্য সংগ্রহ করেন নাসির। তাঁর দোকানের বেচাকেনা তাই শুধু তাঁর পরিবারের পুরোনো ব্যবসার ধারাবাহিকতা নয়; কুমারপাড়ার কারিগরদের তৈরি পণ্যও পৌঁছে দেয় ক্রেতার কাছে। গ্রাম থেকে ফিরে আবারও হাজির হলাম মাটির পণ্যের ব্যবসায়ী নাসিরের দোকানে। ছোট জায়গাটিতে সাজানো হাঁড়ি-পাতিলের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, পরিবারের ব্যবসাটি বদলেছে দুইভাবে—হাটের সঙ্গে বদলেছে ঠিকানা, আর নিজে তৈরির কাজ থেকে নাসির এসেছেন কারিগরের কাছ থেকে পণ্য কেনাবেচায়। দাদার শুরু করা ব্যবসা এখন চলছে তাঁর হাতেই।

টিকে আছে তিন প্রজন্মের ব্যবসা
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream