ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে ৮ জেলায় সাড়ে ১৮ হাজার আবেদন

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে ৮ জেলায় সাড়ে ১৮ হাজার আবেদন

উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে তাঁদের অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির প্রথম ধাপে আট জেলায় ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আট বিভাগের আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে এসব আবেদন জমা পড়ে। এবার অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলায় আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। আজ শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র আওতায় আগ্রহী তরুণেরা সংশ্লিষ্ট উপজেলার তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন করেন। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে নেত্রকোনায়, ৫ হাজার ৩৫১টি। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে নেত্রকোনায়, ৫ হাজার ৩৫১টি। এরপর রয়েছে রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অবশিষ্ট ৫৬ জেলার তরুণেরা এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সার্কুলারের মাধ্যমে এই কর্মসূচির নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী, একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং ঋণের সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার বিধান রয়েছে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ এককালীন দেওয়া হবে। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদান হিসেবে পাওয়া অর্থও ঋণে রূপান্তরিত হবে। ফলে অনুদানের সুবিধা ধরে রাখতে উদ্যোক্তাকে ঋণের অংশ সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপসহ অন্যান্য বৈধ ব্যবসা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও বিদ্যমান উদ্যোগ সম্প্রসারণে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা এই কর্মসূচির লক্ষ্য। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে কতজন নির্বাচিত হবেন এবং কতজন অর্থায়ন পাবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বেক্সিমকোর দুই খেলাপি প্রতিষ্ঠান পেল বিশেষ সুবিধা

ঋণখেলাপি বেক্সিমকো গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোনালী ব্যাংকে শাইনপুকুর সিরামিকসের ১০৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন সীমা আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করতে বলা হয়েছে। আর ন্যাশনাল ব্যাংকে বেক্সিমকো এলপিজির অনুকূলে এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে আলাদা দু’টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাইনপুকুর সিরামিকস্ লিমিটেডের ঋণ খেলাপি হওয়ার পরও সোনালী ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির চলতি মূলধন সীমা ১০৫ কোটি টাকা নবায়নের ক্ষেত্রে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারা কার্যকর হবে না। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতা বলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৭ আগস্ট অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে শতভাগ মার্জিনে শাইনপুকুর সিরামিকসের ঋণপত্র খোলার অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবারের অপর এক প্রজ্ঞাপনে শতভাগ মার্জিনের বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংকে বেক্সিমকো এলপিজির এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ ব্যাংক উভয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দু’টি শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, এই সুবিধার বিপরীতে সরকারের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। আর সকল আয় একটি নির্দিষ্ট হিসাবে জমা রাখতে হবে। সেখান থেকে আনুপাতিক হারে পাওনা পরিশোধ হবে। কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারের সাথে পরামর্শ করে এই ধারা থেকে অব্যাহতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেক্সিমকো ছাড়াও সম্প্রতি আরও কয়েকটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে একই রকম সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বেক্সিমকোর দুই খেলাপি প্রতিষ্ঠান পেল বিশেষ সুবিধা
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream