বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মানসিকতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার উদ্যোগে এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা, পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বর্তমানে ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে, যা ডেঙ্গুর বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ পরিস্থিতিতে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের খোলা স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার সভাপতি এ এই এম ফাহিম হাসান, সহ সভাপতি সাদিয়া জাহান স্নেহা, মনজুরুল ইসলাম সাজিদ, খালিদ আহমেদ টিপু, সাধারণ সম্পাদক রায়হান আল সাকিব রোহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদুর রহমান ফারদিন, ফাইয়াজ রশিদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মশিউর রহমান, অর্থ সম্পাদক ফজলে রাব্বি, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. জিহাদ হোসেন, যুব বিষয়ক সম্পাদক দুর্জয় সরকার, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইমন মন্ডলসহ বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার কার্যকরী সদস্যরা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের উদ্যোগে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন, তখন তা অন্যদেরও সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবার চর্চা এবং সম্মিলিতভাবে সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার মানসিকতা জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ সামাজিক সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা আরও জোরদার করা সম্ভব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে এডিস মশার প্রজননস্থল কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি ডেঙ্গুর সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ইউআইটিএস শাখার সভাপতি এ ই এম ফাহিম হাসান বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে জনসচেতনতামূলক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা। একটি সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।”
সাধারণ সম্পাদক রায়হান আল সাকিব রোহান বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করি। তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি সচেতন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রত্যাশা।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ