ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

চিৎকার শুনে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

বগুড়ার শেরপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরে মো. সিরাজ (৬৪) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের নাকুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪৩) বাদী হয়ে আজ শুক্রবার শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আটক কাওসার আলী (২৬) ও তাঁর বাবা তোজাম সরকারকে (৫৫) আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি পাশের ধুনট উপজেলার গোয়ালভাগ গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোজাম সরকারের কাছ থেকে সিরাজের ছোট ভাই ছানোয়ার হোসেন (৫০) সুদে টাকা নিয়েছিলেন। সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছানোয়ারকে তাঁর ঘর থেকে বের করে বাড়ির আঙিনায় মারধর করতে থাকেন তোজাম ও তাঁর ছেলে কাওসার। এ সময় ছানোয়ারের চিৎকার শুনে বড় ভাই সিরাজ এগিয়ে আসেন। তখন তাঁকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত সিরাজ বাড়ির আঙিনায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মারধরে ছানোয়ারও আহত হন এবং তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে সিরাজের লাশ উদ্ধার করে। তাঁর বুকের ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে লাশটি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বগুড়ায় তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ, উৎসবের অপেক্ষা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে বগুড়ার বিভিন্ন মণ্ডপে অপরূপ সাজে ফুটে উঠছেন দেবী দুর্গা। কোথাও চলছে প্রতিমার শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, কোথাও প্যান্ডেল নির্মাণ, আবার কোথাও চলছে বর্ণিল আলোকসজ্জার কাজ। সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। এবার বগুড়ায় ৭৩২টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা। উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বগুড়া মহানগরের মণ্ডপগুলোতে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, জেলায় ৭৩২টি মন্ডপে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর ২০২৫ সালে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল ৬৮১টি মন্ডপে। গত বছরের চেয়ে এবার বগুড়ায় ৫১টি বেশি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ার বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কারখানা ও মণ্ডপে এখন শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর দেবীর মুখাবয়ব, পোশাক, অলংকার ও অন্যান্য সাজসজ্জায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে পূজার আরাধ্য দেবী দুর্গায়। প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপে রয়েছে শিল্পীদের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয়। বছরের এই সময়টিতে প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলোতে বাড়ে কর্মচাঞ্চল্য। শেষ মুহূর্তে দেবীর রূপ দেখতে কারখানাগুলোতেও ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। একই সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার নানা আয়োজন। প্রতিমাশিল্পীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। মাটি, খড়, বাঁশ, রং ও সাজসজ্জার উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতিমা তৈরির ব্যয়ও বেড়েছে। এতে পূজার আয়োজকদের বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে প্রতিমার দামেও। অন্যদিকে দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন অনেকে।  দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বগুড়া মহানগর শাখার সভাপতি শ্রী পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার জেলায় ৭৩২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর  সপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী ও ২০ আক্টোবর মহানবমী ও ২১ অক্টোবর দশমী অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে।  বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় পূজা মণ্ডপগুলোতে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা। প্রায় দেড় হাজার পুলিশের পাশাপাশি  ও আনসার বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। থাকবে গোয়েন্দা নজরদারিও। বিডি-প্রতিদিন/এআইডি

বগুড়ায় তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ, উৎসবের অপেক্ষা

রাতে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরলেন না সাজ্জাদ আলী

বগুড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে সাজ্জাদ আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বগুড়া সদর উপজেলার ছোট বেলাইল এলাকার একটি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাজ্জাদ আলী জেলার শাজাহানপুর উপজেলার আবেদ আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ আলী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে মাছ ধরার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই এলাকায় যান। বুধবার সকালে ছোট বেলাইল এলাকার একটি জমিতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি মাছ ধরার ফালি, একটি ব্যাগে কিছু মাছ ও একটি টর্চলাইট পাওয়া যায়। প্রাথমিক দৃশ্যমান আলামত ও পরিস্থিতি দেখে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। রাতে মাছ ধরতে গিয়েই আকস্মিকভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।  ওসি আর জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডি-প্রতিদিন/টিএ

রাতে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরলেন না সাজ্জাদ আলী

বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জিলা স্কুল এবং আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পি. এম. ইমরুল কায়েস, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান আলী এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/এম.এস

বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, বললেন ‘ক্ষমাও চাইতে পারিনি’ 

কারাবন্দি হওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সদ্যপ্রয়াত মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বগুড়া জেলা কমিটির যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি হিরো।  বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় সদর উপজেলার লাহিড়িপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ জাহানাবাদ গ্রামে এ জানাজাঅনুষ্ঠিত হয়। মায়ের মৃত্যুর পর তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলে তিনি হাতকড়া পরে পুলিশি পাহারায় জানাজায় অংশ নেন। জানাজার আগে মাশরাফি হিরো বলেন, ‘আমি জানি না আমার মা কখন মারা গেছেন। আমি হয়তো তাকে দেখতে পারলাম, কিন্তু তিনি তো আমাকে দেখত পারলেন না। সন্তান মাকে না ভালোবাসলেও মা কিন্তু সন্তানকে ঠিকই ভালোবাসে।’  তিনি বলেন, ‘আমি আমার দায়িত্ব হয়তো সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। এজন্য আমি আমার মার কাছে ক্ষমাও চাইতে পারলাম না। আমার মা অনেক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ওষুধ আর হাসপাতাল করতে করতে তার জীবনটা শেষ হয়ে গেছে। খুব কষ্টের জীবন তিনি পার করেছেন।’ মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে জানাজায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি মায়ের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।  জানাজা শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে নেয়া হয় বলে জানান বগুড়া জেলা কারাগারের সুপার আসাদুর রহমান। 

হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, বললেন ‘ক্ষমাও চাইতে পারিনি’ 
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream