ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
ওপেনএআইয়ে আড়ি পাতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সৌদি প্রকৌশলী

ওপেনএআইয়ে আড়ি পাতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সৌদি প্রকৌশলী

ওপেনএআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে গোপনে আড়ি পাতার অভিযোগে অভিযুক্ত সৌদি নাগরিক আবদুলরহমান আলফোজান গ্রেপ্তারের আগে সৌদি আরবে যাওয়ার একমুখী টিকিট কেটেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা আদালতে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার প্রকাশ করা আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল আলফোজানের। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ও পরিবারের আরেক সদস্যেরও যাওয়ার কথা ছিল। ৩৫ বছর বয়সী আলফোজান ওপেনএআইয়ের প্রকৌশলী ছিলেন। প্রায় ১৫ মাস কাজ করার পর গত সপ্তাহে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকোর প্রধান কার্যালয়ের একটি সম্মেলনকক্ষে গোপন শ্রবণযন্ত্র পাওয়া যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এরপর ৯ অক্টোবর আলফোজানকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। আলফোজানের বিরুদ্ধে গোপনে মানুষের কথোপকথন শোনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কাজে তিনি ইলেকট্রনিক, যান্ত্রিক বা অন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহার করেছেন কিংবা তা করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। ৮ অক্টোবর আলফোজানের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি অভিযোগটি গোপন রাখার আবেদন করেন কৌঁসুলিরা। এ সময় তাঁরা বিচারককে সৌদি আরবে যাওয়ার টিকিট কাটার বিষয়টি জানান। তাঁদের যুক্তি, আলফোজানের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালানোর ‘সামর্থ্য আছে এবং পালানোর প্রণোদনাও তৈরি হতে পারে’। আলফোজানের আইনজীবী উইলিয়াম পারনিক বলেছেন, তাঁর মক্কেল আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন। তাঁকে আটক রাখার সিদ্ধান্তও চ্যালেঞ্জ করবেন। পারনিক আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে নানা বয়ান সত্ত্বেও আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা আমাদের মক্কেলের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করবে। আমাদের মক্কেল একজন সম্মানিত পেশাজীবী। এই সমাজের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।’ পারনিক আরও বলেন, ‘আইন অনুযায়ী, আলফোজান নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ন্যায়সংগত আচরণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকারও তাঁর আছে।’ আইনজীবীর অভিযোগ, আলফোজানের জাতীয় পরিচয়কে সামনে রেখে তাঁকে অবিশ্বস্ত বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এ প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘অন্ধকার অধ্যায়গুলোর’ কথা মনে করিয়ে দেয়। এ ধরনের ধারণার বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতে লড়বেন। আলফোজানের গ্রেপ্তারের ঘটনা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান গুপ্তচরবৃত্তি ও শিল্পগুপ্তচরবৃত্তির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) এগিয়ে থাকার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে এ উদ্বেগ সামনে এসেছে। লিংকডইনে আলফোজানের নামে থাকা একটি প্রোফাইল অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মেটায় সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে মাইক্রোসফটেও ইন্টার্নশিপ করেছেন। রিয়াদভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান রায়েদ ভেঞ্চারসেও আলফোজানকে ভেঞ্চার পার্টনার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্য অংশীদারদের মধ্যে সৌদি রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স খালিদ বিন বাদার আল সৌদও রয়েছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলফোজানের নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল রায়েদ ভেঞ্চারস। তখন প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে প্রযুক্তি স্টার্টআপ খাতে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবী হিসেবে বর্ণনা করে। রায়েদ ভেঞ্চারস জানায়, সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বের করা হবে আলফোজানের কাজ। পাশাপাশি স্টার্টআপগুলোকে প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতেও সহায়তা করবেন তিনি।

অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ

অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান এবং উভয় বছরের তৃতীয় কোয়ার্টারের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।  উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দ্রুত বিচার, দাঙ্গা, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, সিঁধেল চুরি, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র উঠে আসে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এ উন্নতিতে বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্যবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেন। সারাদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমনে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনসহ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রম এবং এ সংক্রান্ত অগ্রগতি তুলে ধরেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নূরুল ইসলাম এবং আব্দুল বাতেন অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream