ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
‘ফ্যামিলি কার্ড তালাক বন্ধ করেছে, ভাত খাইতে হলে স্বামীকে ওই নারীর কাছে আসতে হবে’

‘ফ্যামিলি কার্ড তালাক বন্ধ করেছে, ভাত খাইতে হলে স্বামীকে ওই নারীর কাছে আসতে হবে’

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে তালাক বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সরকারের এ ধরনের ভালো কাজগুলো বারবার একটু মনে করিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন মায়েদের। মায়েদের শক্তিশালী করেছেন। মায়েদের নামে হবে (ফ্যামিলি কার্ড)। মায়েরাই এই সুফল ভোগ করবেন। মায়েদের দুইটা সন্তানসহ তালাক দিবা, সেই সুযোগ আর নাই। এই তালাক বন্ধ করেছে এই ফ্যামিলি কার্ড।’ চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘এখন জামাইয়ের (স্বামী) ভাত খাইতে হইলে ওই মহিলার কাছে আসতে হবে। সেই কাজটা করেছেন তারেক রহমান সাহেব। ভালো না মন্দ কাজ? যদি ভালো হয় আপনারা বড় করে লেখেন। ভালো কাজগুলো বারবার মনে করায়ে দিয়েন।’ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের আদানির কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সেই টাকা দিয়ে দেশে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যেত। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল।’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা—বাংলাদেশে কোনও সংখ্যালঘু নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এ নীতিতেই বর্তমানে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। গত দুই বছরে দেশে কোনও প্রতিমা বা মূর্তি ভাঙার রেকর্ড নেই।’ জেলা আইনশৃঙ্খলা–বিষয়ক সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার, পুলিশ সুপার কুদরত খুদা, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ। দুপুর ১টার দিকে বরগুনার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। এ সময় তিনি হাসপাতালের জনবলসংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে পৌর এলাকার কড়ইতলা খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।

সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।’ শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন কোনো কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করো, তখন খুব দ্রুত একটি জায়গা পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে এই কাজ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিজেদের উদ্যোগেও কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।’ পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পরিবার ও তার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সেই পরিবারের সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন। তাই আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষকে সুস্থ রাখা। আর মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হচ্ছে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। আরও পড়ুনআরও পড়ুনডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ময়লা জমে পরিবেশ দূষিত হয় এবং রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করবে, যাতে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। মনে রাখতে হবে, তোমরা শুধু নিজের জন্য নয়, সবার স্বার্থে কাজ করছ।’ ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন তোমাদের আমাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তোমরা আরও বেশি গাছ লাগাবে। ইনশাআল্লাহ, তোমরা পারবে।’ এ সময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাসও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় আরাফাতের ময়দান ছিল প্রায় বৃক্ষশূন্য। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী হিসেবে নিমগাছ নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে। সেটি এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।  পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে শুধু পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও পানির দূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ভবিষ্যৎ তোমাদের। এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে।

সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে জোরদার করতে হবে।’’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি মেয়ের নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে তার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার এ দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ রোববার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা বা বৈষম্যের কারণে থেমে না যায়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ হয়ে নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পায়, সেটিই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি মেয়ের নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে তার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ দেওয়া গেলে তারা আরও জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তারেক রহমান বলেন, এ দিবসে প্রতিটি কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আরও দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কন্যাশিশুদের স্বাধীন ও নিরাপদে বেড়ে ওঠার অন্যতম শর্ত হলো শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত করা এবং তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীদের জন্য বিনা বেতনে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ালেখার সুযোগ অবারিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করছে, যেখানে একটি মেয়ের জন্ম পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে এবং কোনো কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হবে না। প্রতিটি মেয়ে যেন নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আজকের একটি শিশুকন্যাকে উপযুক্ত শিক্ষা, স্নেহ, অধিকার ও সুযোগ দিয়ে গড়ে তোলার মাধ্যমেই আগামী দিনের সুস্থ, শিক্ষিত ও উন্নত সমাজ নির্মাণ সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। কন্যাশিশু ও নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ কন্যাশিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার পথ সুগম করবে। সরকার এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে প্রতিটি মেয়ে নির্ভয়ে চলতে, শিখতে, কথা বলতে ও মত প্রকাশ করতে পারে। বাস্তব ও ডিজিটাল-উভয় পরিসরে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তারেক রহমান বলেন, কন্যাশিশুর স্বপ্নকে শক্তিতে, শিক্ষাকে সক্ষমতায় এবং সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ, সমান ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হোক সবার অঙ্গীকার।

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী
Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream