ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
নগদ বার্তা
হাসিল দেওয়ার পরও কৃষককে মারধর, ইউএনও কার্যালয় ও হাট অফিস ঘেরাও

হাসিল দেওয়ার পরও কৃষককে মারধর, ইউএনও কার্যালয় ও হাট অফিস ঘেরাও

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নির্ধারিত হাসিল দেওয়ার পরও এক কৃষকের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা কলেজ বাজারের হাট ইজারাদারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আক্কেলপুর পৌর এলাকার কলেজ বাজারের দুই নম্বর গেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে।পণ্য বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে বাধাস্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজকান্দা গ্রামের কৃষক রনি হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান (১৯) কলেজ বাজারে প্রায় ৪৫ কেজি কচুর মুখি বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজারের দুই নম্বর গেটের কাছে পৌঁছালে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তাকে থামিয়ে ৪০ টাকা হাসিল দাবি করেন।রাকিবের দাবি, তিনি ২৫ টাকা হাসিল পরিশোধ করে সেখান থেকে চলে যান। কিছুদূর যাওয়ার পর প্লাবন তাকে আবার ধরে নিয়ে এসে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন মাটিতে পড়ে ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।ইউএনও কার্যালয়ের সামনে কৃষকদের অবস্থানঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজকান্দা এলাকার বাসিন্দা ও বাজারে আসা কয়েকজন কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ শোনেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।এরপর ক্ষুব্ধ কৃষকদের একটি দল কলেজ বাজারে গিয়ে হাট ইজারাদারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।ভুক্তভোগীর অভিযোগমারধরের শিকার রাকিব হাসান বলেন, তিনি পণ্য বিক্রি করে হাসিল বাবদ ২৫ টাকা পরিশোধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তার কাছে ৪০ টাকা দাবি করেন এবং পরে তাকে ধরে মারধর ও মোবাইল ফোন ভেঙে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।রাকিব বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।মারধরের অভিযোগ অস্বীকারঅভিযুক্ত হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, পণ্য বিক্রির পর রাকিব কম টাকা দিয়ে গালিগালাজ করে চলে যাচ্ছিলেন। টাকা চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, তবে মারধর করা হয়নি।অন্যদিকে কলেজ বাজার হাটের ইজারাদার বাবলু চৌধুরী দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন হাট অফিসে হামলা চালিয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং আদায়ের টাকার ব্যাগ নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন বলেও জানান।অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশেরআক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ জানান, হাটে হাসিল আদায়কে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধে নির্দেশউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ শোনা হয়েছে। হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় বা কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।তিনি হাট ইজারাদারকে বাজারের দৃশ্যমান সব স্থানে সরকার নির্ধারিত হাসিল আদায়ের মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে নিয়ে দ্রুত বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Radio Logo
নগদ বার্তা Live
Live Audio Stream